শিরোনাম

শনিবার, জুলাই 22, 2017 - আগামী মাসে স্যামসাং আনছে নতুন ডিভাইস | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - আইটি খাতে কর্মসংস্থান আগামী বছর আরও কমবে:নাসকম | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - সনির ২৩ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরার স্মার্টফোন | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো সিগেট ডিলার মিট | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - অনলাইন কর্মসংস্থানে দ্বিতীয় বাংলাদেশ | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - অলেফিন্সে পাওয়া যাচ্ছে ফুল হাইট টার্নস্টাইল গেট | শনিবার, জুলাই 22, 2017 - নিরাপত্তা বিষয়ক পণ্য ও সেবা নিয়ে এসেছে অলেফিন্স ট্রেড কর্পোরেশন | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - উইপ্রোর সঙ্গে চুক্তির কথা স্বীকার করল গ্রামীণফোন | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - লেনোভোর নতুন আর্কষন – আইডিয়াপ্যাড ৩২০ | বৃহস্পতিবার, জুলাই 20, 2017 - হজ্ব রোমিং প্যাকেজ চালু করল রবি |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / অনলাইন বিকিকিনির জন্য সাকেবের দ্য জেড বয়
অনলাইন বিকিকিনির জন্য সাকেবের দ্য জেড বয়

অনলাইন বিকিকিনির জন্য সাকেবের দ্য জেড বয়

বছর দশেক আগের কোনো এক রাতের ঘটনা। এক মোবাইল কমিউনিটি পোর্টালে মাত্র নিবন্ধন করেছি। অনলাইনে শুধু একজন—ঊর্মি। তাঁকেই বার্তা পাঠালাম। খানিকক্ষণ কথোপকথন চলার পর বুঝলাম কোথাও একটা গোলমাল আছে। উত্তর দিতে সময় নিচ্ছে না মোটেও, টাইপ করতেও তো একটা সময় লাগে। দ্বিতীয়ত, ঘুরেফিরে একই ধাঁচে একই কথা চলছে। পরে জানলাম, সেই ‘ঊর্মি’ হলো চ্যাট বট। মানে অনলাইনে চ্যাটিং চালিয়ে নেওয়ার স্বয়ংক্রিয় এক প্রোগ্রাম। আপনি যার সঙ্গে কথা চালিয়ে যেতে পারবেন।
zedএক দশক পর আরেক চ্যাট বটের সঙ্গে পরিচয়, নাম ‘দ্য জেড বয়’। ফেসবুক মেসেঞ্জারে তার বসবাস। আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন এই চ্যাট বট মেলানোর সুযোগ নেই। বদলে গেছে অনেকটাই। দ্য জেড বয় (www.thezboy.com) হলো ফেসবুক-কমার্স বা এফ-কমার্সের জন্য গ্রাহকসেবা সমাধান। সহজভাবে বললে ফেসবুকের মাধ্যমে পণ্য কেনায় গ্রাহককে পুরো প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে এটি।

চ্যাট বটটির নির্মাতা জার্স সলিউশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকেব নাঈম  দ্য জেড বয়-এর মাধ্যমে পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে মূল্য প্রদান পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দেখালেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের এই যুগে চ্যাট বট যে কতটা উন্নত হয়েছে, তার খানিকটা নমুনা দেখা গেল।
মার্কিন সাময়িকী অন্ট্রাপ্রেনার এবং ফোর্বস-এ সাকেব নাঈম ও তাঁর দ্য জেড বয় নিয়ে সম্প্রতি খবর ও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।

এর মূল কারণ, দ্য জেড বয় এরই মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে অনলাইনে বিকিকিনির জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো ফেসবুকের ওপর নির্ভর করে।
সাকেব বলেন, ‘এখন আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই আমাদের দেশীয় বাজারে। আর বাংলাদেশের সিংহভাগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা হয় ফেসবুকে। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য সমস্যা হলো, গ্রাহকসেবার জন্য মানবসম্পদে যে পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার, আমাদের তা থাকে না।’ ঠিক এই জায়গাতেই সাহায্য করবে দ্য জেড বয়।
zboyএখন পণ্যের ফরমাশ নেওয়া থেকে শুরু করে গ্রাহকসেবা দিয়ে সাহায্য করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক চ্যাট বট। এতে সাধারণত আগে থেকে দেওয়া তথ্য প্রয়োজন কিংবা প্রশ্ন অনুযায়ী গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে থেকে দেওয়া থাকে না, চ্যাট বট সে প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে না। তবে দ্য জেড বট তথ্য সংগ্রহ করে ফেসবুক পোস্ট থেকে। যখন কোনো পণ্য বিক্রির জন্য প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পাতায় ছবিসহ তথ্য দেওয়া হয়, সাকেবের চ্যাট বটটি সেই পোস্ট, এমনকি কমেন্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকে। এতে অন্যান্য বটের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরভাবে কাজ করে দ্য জেড বট।
সাকেব বলেন, ‘আমাদের দেশীয় ই-কমার্স কিংবা এফ-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর ফেসবুক পাতায় একটা সমস্যা হলো, সব তথ্য দেওয়া থাকলেও ব্যবহারকারী প্রশ্ন করে এটার দাম কত, কীভাবে কাজ করে, কী কী সুবিধা আছে ইত্যাদি। বিক্রেতা ধরেই নেয় যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া আছে। এদিকে নিজের প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে সম্ভাব্য ক্রেতারা চলে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে দ্য জেড বট খুব কার্যকর।’
সাকেব চান ফরমাশ দেওয়া থেকে দাম পরিশোধ, এমনকি পরিবহনে কোথায় পণ্য আছে তা গ্রাহককে জানানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে। এ জন্য গ্রাহকের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সে অনুযায়ী চ্যাট বটের নকশা করতে চান তিনি। সাকেব বলেন, ‘মানুষ এখন আর নতুন অ্যাপ নামিয়ে বাড়তি ঝামেলা নিতে চায় না। মেসেঞ্জার অ্যাপ ব্যবহার করেই এই বটে প্রশ্ন করা যাবে। বাড়তি অ্যাপের দরকার নেই।’

ভবিষ্য লক্ষ্য
সাকেব বলেন, ‘মানুষ আজ যা পছন্দ করছে, কাল তা না-ও করতে পারে। গ্রাহকের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আরেকটা ব্যাপার হলো আমি যখন বাংলাদেশে ব্যবসা করছি, তখন গুরুত্ব থাকবে দেশীয় গ্রাহকদের ওপর। আমরা তাই এমন সিস্টেম তৈরি করতে চাই, যা যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতে কাজ করবে।’ সাকেবের প্রতিষ্ঠান তাই তারহীন স্বয়ংক্রিয় প্রিন্টিং ইঞ্জিন তৈরি করছে। একটা উদাহরণ দিয়ে এই প্রিন্টারের কাজ বোঝানোর চেষ্টা করলেন সাকেব। তিনি বলেন, ‘নিচে মুদির দোকানে গিয়ে আমি যে কেনাকাটা সারতে পারছি, সেটির জন্য ই-কমার্সে ওয়েবসাইটে ফরমাশ দেওয়ার দরকার কী? তার বদলে ব্যাপারটা যদি এমন হয় যে মেসেঞ্জারেই আমার প্রয়োজন জানিয়ে দিলাম। মেসেঞ্জারের বট দোকানের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে সেই প্রিন্টারে আমার চাহিদার পণ্য তালিকা প্রিন্ট করে রাখবে। দোকানদার সে অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত রাখবে। তিনি চাইলে আমার পণ্য পৌঁছে দিতে পারে, আবার সারা দিন যত ফরমাশ জানিয়েছি, দিন শেষে ফেরার সময় দোকান থেকে তা নিয়েও আসতে পারব।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top