শিরোনাম

মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে ১৫০০কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্ষমতায়নে একসাথে কাজ করবে গ্রামীণফোন ও ব্র্যাক | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - স্যামসাং মোবাইল নিয়ে এলো ‘স্যামসাং টুইন উইন’ অফার | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - পাঠাওয়ের নতুন সার্ভিস ‘পাঠাও ফুড’ এর উদ্বোধন | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - আড্ডা টিভির “হোক কলরব”- ডিজিটাল যুগের তরুণদের ওপেন মাইক শো | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - দেশজুড়ে এখন বন্ধুদের এক নম্বর নেটওয়ার্ক | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - প্লে স্টোর থেকে আরও ৬০টি অ্যাপ সরিয়েছে গুগল | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - হ্যাকিংয়ের কবলে ব্ল্যাকওয়ালেটের ওয়েবসাইট | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - শাওমি এমআই৬ পেল ওরিও আপডেট | মঙ্গলবার, জানুয়ারী 16, 2018 - বাণিজ্য মেলায় লিনেক্সে ১০%-২০% পর্যন্ত ছাড়! |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / অবকাঠামো সমস্যা দূর হলে পেইন্টে বড় বিনিয়োগ আসবে
অবকাঠামো সমস্যা দূর হলে পেইন্টে বড় বিনিয়োগ আসবে

অবকাঠামো সমস্যা দূর হলে পেইন্টে বড় বিনিয়োগ আসবে

পেইন্টের বাজারের ৫০ শতাংশ নিয়ন্¿ণ করছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। গত ২০ বছর আগেও এ অবস্থানে ছিল না প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিযোগিতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এখন শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার বার্জার পেইন্টস। সাফল্যের অন্তরালে যিনি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী। কর্মপরিকল্পনায় মেধার স্বাক্ষর আর নেতৃত্ব দেওয়ার অসাধারণ গুণাবলি তাঁকে এখানে নিয়ে এসেছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিতে পারেন সঠিক সিদ্ধান্ত। তাই তো ২০ বছর আগে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড এ সাধারণ একজন কর্মকর্তা পদে যোগ দিয়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এক দুপুরে উত্তরার নিজের অফিস কামরায় রূপালী চৌধুরীর সঙ্গে কালের কণ্ঠের ফারজানা লাবনীর আলাপ হয় বিভিন্ন বিষয়ে। এ সময় তিনি জানান, নিজের ব্যক্তি ও কর্মজীবন এবং পেইন্টের বাজার সম্পর্কে নানান কথা।

228-image_638_186529

চট্টগ্রাম সরকারি স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ণে অনার্স করেন রূপালী চৌধুরী। চাকরির বাজারে এমবিএ, বিবিএ ডিগ্রিধারীদের রাজত্ব। তাই পাড়ি জমান রাজধানীতে। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে এমবিএ ডিগ্রি নিতে। সেখানে পরিচয় হয় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল হকের সঙ্গে। পড়ালেখার পাঠ শেষে কর্মজীবনে যোগ দেন দুজনেই। এ সর্ম্পক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনকে নিয়মের অঙ্কে বেঁধে ফেলেন রূপালী চৌধুরী। ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে থাকে। সময় বয়ে যায়। প্রায় বছরচারেক পর ১৯৯০ সালে সিবা গেইগি ছেড়ে নতুন কর্মক্ষেত্র বার্জার পেইন্টস্ এ যোগ দেন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ৮০ জন।

রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকে উন্নত দেশগুলোর শিল্প-কারখানা অফিস আদালত উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমুল বদলে যেতে থাকে। সারা পৃথিবীতে যন্¿ ব্যবহারে সে সময় একটা বিপ্লব ঘটছে। অথচ বার্জার পেইন্টে তখনো আমরা কাজ চলত ম্যানুয়াল পদ্ধতি। অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিই, প্রতিযোগিতায় অন্যান্য সমজাতীয় প্রতিষ্ঠান থেকে সবার প্রথমে থাকতে হলে অল্প সময়ে অধিক কাজ করতে হবে। তাই প্রযুক্তিনিভর্রতার কোনো বিকল্প নেই।’ কম্পানির বিভিন্ন বৈঠকে সহকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন রূপালী চৌধুরী। দিনে দিনে এগিয়ে যান তাঁর লক্ষে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় কাজ করার সুযোগ হয়। এতে কাজের অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। বেতনের বিনিময়ে কাজ করি, বিষয়টি এমন আর থাকে না। ভালোবাসা জড়িয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে। অনেক আপন মনে হয় বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। দিন-রাত ভাবতে থাকি, কিভাবে আর একটু সামনে এগিয়ে যাবে বার্জার পেইন্টস।’

১৯৫০ সালে বিশ্ববাজারে বার্জার পেইন্টসের জন্ম হলেও বাংলাদেশে এ প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭০ সালে। জার্মানির লুইস বার্জার এই প্রতিষ্ঠানটির গড়ে তোলে। পরবর্তী সময়ে তার ছেলেরা তা গতিশীল রাখেন। পৃথিবীর ৩০টির বেশি দেশে বার্জার পেইন্টসের শাখা রয়েছে। বর্তমানে জেরাল্ড কে অ্যাডামস চেয়ারম্যান হিসেবে কমর্রত রয়েছেন।

বার্জার পেইন্টেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘বার্জার মানে নতুন কিছু, বার্জার মানের স্বপ্নের মতো কিছুথবাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চেয়েছি ভোক্তার কাছে।’ তিনি বলেন, ছোট-বড় ইমারত, শিল্প-কারখানা, ঘরের দেয়ালসহ ইট-বালি-সুরকির যেকোনো কাঠামো দীর্ঘস্থায়ীত্বে পেইন্টের ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পেইন্টকে আমাদের দেশে বিলাসজাত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ আধুনিক দেশগুলোতে পেইন্ট অতি জরুরি পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, জানান এই কর্মকর্তা। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক মানুষই জানেন না পেইন্ট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কতখানি। এ ক্ষেত্রে আরো জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। এতে পেইন্টের বাজার অতি দ্রুত সমপ্রসারণ হবে বলে মনে করেন তিনি। রূপালী বলেন, ‘আমদানীকৃত কাঁচামালের ওপর নিভর্রশীল পেইন্টের উত্পাদন। এ নিভর্রশীলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিষ্ঠানের কারখানায় কাঁচামাল তৈরির উদ্যোগ নিই। ইমালসন, রেজিন এখানেই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি পেইন্টে ব্যবহৃত ক্যানটিও আমাদের কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। আরো নতুন আবিষ্কারের চেষ্টায় আছে প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা। সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পেইন্ট তৈরি করা হয়। তাই গবেষণার ওপর জোর দিয়েছি সবচেয়ে বেশি। এ খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ থাকে প্রতিষ্ঠানটির বাজেটে।’ রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘এ দেশে চাহিদার তুলনায় পেইন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক কম। অনেক উদোক্তা আছে, যারা এ খাতে বিনিয়োগে আহগ্রী। কিন্তু জ্বালানি সংকট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শিল্প খাতে সমৃদ্ধি আনতে প্রয়োজন সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুত্ ও গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ। জেনারেটর দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব নয়!’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশে অবকাঠামো সমস্যা দূর হলে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ আসবে।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার বা প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণের মধ্যে সমন্বয়ের সুপারিশ করেন রূপালী চৌধুরী। বিশেষভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিনিয়োগ বোর্ড এবং এনবিআরের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজে গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মকর্তা বলেন, আমলাতান্¿িক জটিলতায় সুষ্ঠুভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চলমান সমস্যার সমাধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘এতে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। পুরনো প্রতিষ্ঠানগুলোও স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘”কম দামে উন্নত মানের পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হয় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে। কারণ ব্যবসা এক দিনের জন্য নয়। বাজারে যেকোনো পণ্যের ‘গুড উইল’ তৈরিতে পার হয় দীর্ঘদিন, খরচ হয় বহু মেধার, দিতে হয় অনেক শ্রম। তাই নিম্নমানের পণ্য দিয়ে ভোক্তাকে প্রতারিত করা মানে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা ক্ষেত্র নষ্ট করা।’

তিনি জানান, বার্জারের অনেক রকমের পেইন্ট আছে। এসব পেইন্টের দাম প্রতি লিটার ১০০ টাকা থেকে ৩৭৫ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে জনবল ৫০০ জন। সারা দেশে ছড়িয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটির অসংখ্যা বিক্রয় কেন্দ্র। প্রতি মাসেই যা বাড়ছে। এ ছাড়া ১৭টি অফিস রয়েছে রার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের। স্থানীয় বাজারে প্রতিষ্ঠানটির উত্পাদিত পণ্য বিক্রি হলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভোক্তার হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সারা বিশ্বেই আজ পেইন্টের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

রূপালী চীেধুরী বলেন, চলার পথ কখনো মসৃণ হয় না। কেউ কাউকে দয়া করে ছেড়ে দেয় নাথএতটুকুু জায়গা। সে ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি হতে হলে কমর্রত প্রতিষ্ঠানের সব বিষয় সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে, নেতৃত্ব দানের মতো গুণাবলি অর্জন করতে হবে এবং সহকর্মীদের প্রতি থাকতে হবে শ্রদ্ধাবোধ। সহকর্মীদের কাছ থেকে মেয়ে হিসাবে দয়া পাওয়ার সুযোগ না নিলে সমস্যা তৈরি হয় না কর্মক্ষেত্রে। একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে হলে মেধার স্বাক্ষর রাখতে হয় প্রতি মুহূর্তে। এখানে সিদ্ধান্ত কে দিচ্ছে, মেয়ে না ছেলে তা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ থাকে কম। কাজ জানার বিকল্প কিছু নেই।’ তবে একটি নারীকে বাড়তি কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয় বলে জানান তিনি। রূপালী চৌধুরী বলেন, একজন নারী একজন কর্মকর্তা, একজন মা ও স¿ী। তাঁকে স্বামীর ও বাবার বাড়ির লোকজনের প্রতি যত্নশীল হতে হয়। এখানে স্বামী বা পরিবারের সহযোগিতা ছাড়া কোনো নারীর পক্ষে কাজ করা সম্ভব হয় নয় বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে গিয়ে কর্মজীবনে সময় দিতে হয়েছে অনেক বেশি। এতে সন্তানদের মাতৃত্বের স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেছি। ঠিক যতটা সময় দেওয়া উচিত ছিল ততটা দিতে পারেনি।’

তবে সন্তানরা এখন বুঝতে পারেন, কী কঠিন পরিশ্রম করেছেন তাঁদের মা। মেয়ে পূর্ণা ও ছেলে রাহুল এখন পড়াশোনা করছেন আমেরিকার টরন্টোতে। মায়ের আজকের এই অবস্থানে তাঁরা গর্বিত।

কর্মজীবনের সাফল্যের জন্য স্বামীর অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন তিনি। স্বামী তাঁর মতো আরেকটি বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তাব্যক্তি। যিনি কর্মজীবী রূপালী চৌধুরীর সঙ্গে থেকেছেন বন্ধুর মতো।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top