শিরোনাম

শুক্রবার, মে 26, 2017 - স্থগিত হয়ে গেছে বেসিস ২০১৭-১৮ টার্মের ৩ পদে নির্বাচন | শুক্রবার, মে 26, 2017 - রবি’র লোকসান ১৭০ কোটি টাকা | শুক্রবার, মে 26, 2017 - ডোমেইন এবং হোস্টিং এ বিশেষ অফার | শুক্রবার, মে 26, 2017 - তোশিবার অফিস ইকুপমেন্ট দিচ্ছে বিএমই | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - জিপি অ্যাক্সেলারেটরের চতুর্থ ব্যাচের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - বিসিএস-এ ‘ব্যবসা সাফল্যে প্রচার এবং প্রসার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দারাজের ফিউচার লিডারশীপ প্রোগ্রাম | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ফাঁস হল নকিয়া ৯ এর ফিচার | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ এর সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুই প্রকল্প | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - স্মার্টফোনে চার্জ না থাকার জন্য দায়ী যে সকল অ্যাপ |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, ক্যামেরা বিক্রি বন্ধ করেছে স্যামসাং
ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, ক্যামেরা বিক্রি বন্ধ করেছে স্যামসাং

ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ, ক্যামেরা বিক্রি বন্ধ করেছে স্যামসাং

চুন সু মুন। সিএস মুন নামেই পরিচিত তিনি। স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী স্যামসাংয়ের ব্যবসায়িক কৌশলে বেশকিছু পালাবদল ঘটে যাওয়ার রেশ বাংলাদেশের বাজারেও লেগেছে। আর সেই পালাবদলের সময়টিতেও দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করে যাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্টের এই প্রতিনিধি। বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজারে স্যামসাংয়ের নতুন ব্যবসায়িক কৌশল, বাংলাদেশে আইটি ও কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের বাজার, স্যামসাংয়ের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রভৃতি নিয়ে কথা হয় তার সাথে।

shon-soo

বিশ্বব্যাপী দ্রুত বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তির বাজার। নতুন নতুন প্রযুক্তির আগমনের কারণে এখন কয়েক বছর পরপরই বদলে যাচ্ছে প্রযুক্তিবিশ্বের চিত্র। তাতে করে নতুন প্রবণতার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশলে পরিবর্তন নিয়ে আসতে যাচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্সও ঠিক একই পথে হাঁটছে। সিএস মুন জানান, এরই মধ্যে ল্যাপটপ ও ডিজিটাল ক্যামেরার উত্পাদন বন্ধ করে দিয়েছে স্যামসাং। মেমোরি ও স্টোরেজের ইউনিটগুলোও স্যামসাং বিক্রি করে দিয়েছে অন্যদের কাছে। এসব পণ্যের বদলে এখন স্যামসাং বেশি মনোযোগী হয়েছে কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য এবং স্মার্টফোনে। মুন বলেন, ‘আজ থেকে ২০ বছর আগে প্রযুক্তি পণ্যের বাজার ছিল এক ধরনের। এখন চিত্র বদলে গেছে। এমনকি আজ থেকে ১০ বছর বা পাঁচ বছর আগের বাজারের সাথেও এখনকার চিত্র মিলবে না। একটা সময়ে আইটি ডিভাইস বলতে ডেস্কটপ পিসিকেই বুঝানো হতো। সময়ের সাথে সাথে ডেস্কটপের স্থানে নানা ধরনের বহনযোগ্য পিসি জায়গা নিতে শুরু করেছে। ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট পিসির মতো ডিভাইস এখন জনপ্রিয়। আর স্মার্টফোন বাজারে আসার পর থেকে এটিই পরিণত হয়েছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যে। এখন আবার ইন্টারনেট অব থিংস উঠে এসেছে আলোচনায়। সময়ের এই পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমরাও নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তাতে করে আমাদের যে ব্যবসায়িক কৌশল রয়েছে, তার কারণেই প্রচলিত আইটি পণ্যগুলোর চাইতে স্যামসাং স্মার্টফোন, ইন্টারনেট অব থিংসের সাথে ব্যবহারের উপযোগী কানেক্টেড ডিভাইস বা অন্যান্য পণ্যের প্রতি বেশি মনোযোগী হয়েছে। এটা সময়েরই দাবি।’
samsung-factতিনি জানান, দেশের বাজারে প্রচলিত আইটি পণ্যগুলোর মধ্যে এখনও প্রিন্টার এবং মনিটর বাজারজাত করে যাচ্ছে স্যামসাং। সিএস মুন বলেন, ‘অন্যান্য দেশে এককভাবে মনিটরের বাজার অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারে ক্লোন পিসির বিক্রি বেশি বলে এখনও এখানে মনিটরের চাহিদা খুব ভালো। বাংলাদেশসহ এমন কয়েকটি দেশের জন্যই স্যামসাং মনিটর বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া বাংলাদেশের বাজারে প্রিন্টারও রয়েছে স্যামসাংয়ের। অন্যদের চাইতে আমাদের হয়তো প্রিন্টারের মডেল সংখ্যা বাজারে কম। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে আমরা কেবল প্রিন্টারের জন্যই বিশেষায়িত কোম্পানি নই। আমাদের অন্যান্য পণ্যের দিকেও মনোযোগ দিতে হয়। এই কারণে যদি মনে করা হয় যে আইটি পণ্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা ঠিক হবে না। আসলে আমরা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী স্মার্টফোন বা অন্য কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যগুলোতে গুরুত্ব বেশি প্রদান করছি।’

দেশের বাজারে স্যামসাংয়ের স্মার্টফোনের অবস্থান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিএস মুন বলেন, ‘বাংলাদেশের স্মার্টফোনের বাজার এখনও ক্রমবর্ধমান। এখানে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে। তাদের মধ্যে আবার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। বছর দুয়েক হলো থ্রিজি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ায় স্মার্টফোনের ব্যবহার বাংলাদেশে বাড়তে থাকবে আরও কয়েক বছর। তাই বাংলাদেশের স্মার্টফোনের বাজারকে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মনে করে স্যামসাং। এই বাজারে ফোনের সংখ্যায় সিম্ফনি এগিয়ে থাকলেও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে স্যামসাংই শীর্ষস্থানে রয়েছে। এখানকার প্রথমবারের মতো স্মার্টফোনের ক্রেতারা এখনও স্বল্পমূল্যের স্মার্টফোনকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফলে সংখ্যায় স্যামসাং পাল্লা দিতে পারে না। কিন্তু আমাদের বাজার গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন বদলের ক্ষেত্রে স্যামসাংকে অনেকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাছাড়া স্যামসাংয়ের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির স্মার্টফোনের সংখ্যাও কম নয়। সে কারণেই বাজারের হিসেবে স্যামসাং বাংলাদেশে শীর্ষে রয়েছে।’

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল, বিশেষ করে বাংলাদেশের বাজারে স্যামসাংয়ের পণ্য ও এগুলোর মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্যামসাং সবসময় ক্রেতাদের হাতে সর্বোচ্চ মানের পণ্য তুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।  ২০১৪ সালে আমরা বাংলাদেশে লার্জ ফরম্যাট ডিসপ্লে, হসপিটালিটি টিভি, ভ্যারিয়েবল রেফ্রিজারেন্ট সিস্টেম নিয়ে এসেছি। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে স্যামসাংয়ের সর্বশেষ চমক গ্যালাক্সি এস৬ বা গ্যালাক্সি এস৬ এজও রয়েছে বাংলাদেশের বাজারে। বিশেষায়িত ‘ট্রায়াংগল এসি’ও আমরা এনেছি। আমরা সবসময় ক্রেতাদের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য বাজারজাত করে থাকি।’

বাংলাদেশ সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ বা ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পকে মাথায় নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে স্যামসাং। দেশের মানুষ যাতে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন সে কারণে বৈচিত্র্যময় স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসির সম্ভার রয়েছে স্যামসাংয়ের। মুন বলেন, ‘ইন্টারনেটের সুফল যাতে মানুষ পেতে পারে, তার জন্য আমরা বিভিন্ন দামের স্মার্টফোন বাজারে রাখার চেষ্টা করছি। তাছাড়া টেলিকম অপারেটরদের সাথে সাশ্রয়ী সব স্মার্টফোনের সাথে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজও তৈরি করে যাচ্ছি। সরকার সকলের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে চায়, আমরাও সেটা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে কাজ করছি। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ডিজিটাইজেশনের সহায়তায় আমরা লার্জ ফরম্যাট ডিসপ্লেও বাজারে আনছি। আশা করছি এগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।’

বাংলাদেশের বাজারে নিজেদের কর্মপরিধি বিস্তৃতি নিয়েও কাজ করে যাচ্ছে স্যামসাং। মুন বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও নানা ধরনের উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমাদের সেবার পরিধিও বেড়েছে এবং আমরা এর পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলতে চাই যাতে করে আমরা গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারি। তাছাড়া এই বিশ্বায়নের যুগে এখন সব মানুষই সবসময় ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকতে চায়। বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিলে এর জন্য পিসির চাইতে স্মার্টফোন অনেক বেশি কার্যকর একটি ডিভাইস। এ কারণে শহরাঞ্চলের বাইরেও এখন স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে এবং তাদের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন স্মার্টফোনের চাহিদা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জনগণের এমন চাহিদা নিয়ে আমাদের আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং আমাদের সেবাকে বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।’
shon-soo-2
কেবল ব্যবসায় ক্ষেত্রেই মনোযোগী নয় স্যামসাং, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটিও তারা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রচারের তুলনায় কাজ করে যাওয়ার ক্ষেত্রেই স্যামসাং বেশি মনোযোগী জানিয়ে সিএস মুন বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা নিয়মিতই নানা ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছি। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় সাম্প্রতিক সময়ের দুইটি কর্মকাণ্ডের কথা। বাংলাদেশের অনেকেই জীবিকার সন্ধানে প্রবাসে রয়েছেন। এমন চারটি পরিবারের ঈদের চাওয়া স্যামসাং পূরণ করেছে এনআরবি ক্যাম্পেইনে। এর বাইরে পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের একটি কর্মসূচি নিয়েও কাজ করছে স্যামসাং। ‘পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অ্যাপ্রেন্টিশ প্রোগ্রাম’ শিরোনামের এই কর্মসূচিতে পলিটেকনিকের চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাদের মধ্য থেকে নয় জনকে স্যামসাংয়ের সার্ভিস সেন্টারে চাকরিও প্রদান করা হয়েছে। এই কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
বিশ্ববাজারে স্যামসাংয়ের নতুন চমক কী হতে পারে জানতে চাইলে মুন বলেন, ‘স্যামসাং সবসময়ই নতুন নতুন উদ্ভাবনের জন্য মুখিয়ে থাকে। এদিক থেকে স্যামসাংয়ের নতুন চমকের মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস গ্যালাক্সি নোট৫ এবং ডিজাইনের দিক থেকে চমক দিতে আসছে গ্যালাক্সি এ৮। চলতি বছরে আমরা টেলিভিশনের নতুন সিরিজও অবমুক্ত করেছি, যার মধ্যে রয়েছে এসইউএইচডি টিভি। ন্যানো-ক্রিস্টাল প্রযুক্তির এই টিভিকেই সময়ের সেরা টিভি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাঁকানো ডিসপ্লেবিশিষ্ট টিভিও স্যামসাং আনছে বাজারে। এর আগে স্যামসাং জয় প্লাস টিভি দিয়ে সাফল্য লাভ করার পর এর নতুন সংস্করণ হিসেবে আরও উন্নত ফিচার নিয়ে হাজির হচ্ছে জয় স্মার্ট টিভি।’
সবমিলিয়ে আসছে দিনে স্যামসাং বিশ্ববাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও নিজেদের অবস্থানকে আরও পোক্ত করে তুলতে পারবে, এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিএস মুন।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top