শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - উভয় পাশ স্ক্যান সুবিধার স্ক্যানার আনলো ইপসন | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - প্রপার্টি ভাড়া ও কেনা-বেচায় বিপ্রপার্টি ডটকম | বুধবার, মার্চ 22, 2017 - স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ কিনতে সাবধান ! | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - বাংলাদেশে ইউসিসিকে একমাত্র পরিবেশক ঘোষনা করলো ট্রান্সসেন্ড | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - এসএসডি-টেক এবং প্যাভিলিয়নের মধ্যে কন্টেন্ট পার্টনারশিপ সম্পন্ন | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - মোবাইল অ্যাপস চালু করলো উরি ব্যাংক | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - গার্ডিয়ান লাইফ এর জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবে এসএসএল ওয়্যারলেস | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - মাইক্রোম্যাক্সের নতুন দুইটি মডেলের স্মার্টফোন | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরার হ্যালিও স্মার্টফোন আনল এডিসন গ্রুপ | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - জিপি মিউজিকে ‘ভালোবাসার বাংলাদেশ’ |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / ঈদকে সামনে রেখে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি থানায় জিডির হিড়িক
ঈদকে সামনে রেখে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি থানায় জিডির হিড়িক

ঈদকে সামনে রেখে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি থানায় জিডির হিড়িক

বিশিষ্ট শিল্পপতি যশোদা জীবন দেবনাথ। থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দুটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। তাঁকে বলা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে, নয়তো তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই রকম অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি করেছেন গুলশানের ব্যবসায়ী মো. হামিদুর রহমান। তাঁকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। এ দুই ব্যবসায়ীর মতো আরো অনেকেই এমন হুমকির মুখে পড়েছেন। তাঁরা বলছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল ফোন পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের পর মনে করা হয়েছিল মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি হয়তো এবার বন্ধ হবে। কিন্তু তা হয়নি।

গত দুই মাসে শুধু ঢাকা শহরেই মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবিসহ নানাভাবে চাঁদাবাজদের হুমকি পেয়ে অন্তত ১০০ ব্যক্তি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। অনেকে আবার ভয়ে থানায় অভিযোগও করেন না। ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকে গা ঢাকা এমনকি বিদেশেও চলে গেছেন। যদিও পুলিশ বলছে, ‘আমরা তৎপর আছি। চাঁদাবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না। মোবাইল ট্র্যাকিং আর মোবাইল ফোন অপারেটরদের সহযোগিতা নিয়ে ফোনে হুমকিদাতাদের ধরা হবে। স্থানীয় চাঁদাবাজদেরও ধরা হবে। ভয়ের কিছু নেই।’

শিল্পপতি যশোদা জীবন দেবনাথ টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক। গত ১৭ জুন দুুটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে  (০১৮৭৪৩০৬৬২৪ ও ০১৯৫৫৯৮২৭৩৭) তাঁর নম্বরে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘আমরা আন্ডারওয়ার্ল্ডের জিসান গ্রুপের সদস্য। ঈদ আসছে, তাই ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আর না হয় তুইসহ তোর পরিবারের সদস্যদের জানে মেরে ফেলা হবে।’ এমন হুমকিতে তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তিনি বাসায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। ধানমণ্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন (জিডি নম্বর-১৩৭৯)।

এ প্রসঙ্গে ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আজম মিয়া  বলেন, ‘ব্যবসায়ীকে যে নম্বরগুলো থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার মালিককে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। নম্বরগুলো সচল আছে। এ থেকে বোঝা যায়, এগুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত। আমরা বিটিআরসির (টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারাও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। হুমকিদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করছি। সইে সঙ্গে পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে।’ গুলশান এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. হামিদুর রহমান। গত ৪ জুন তাঁর মোবাইলে ফোন আসে। বলা হয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। আর না হয় পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। এই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী থানায় জিডি করেছেন। চাঁদা পরিশোধের জন্য অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, হুমকিদাতাকে শনাক্ত করার কাজ চলছে। বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা আশা করছি, ওই চক্রকে ধরতে পারব।’ ঈদ সামনে রেখে মোবাইল সন্ত্রাসীরা অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সেই সঙ্গে সশরীরে এসেও চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করছে। মোবাইল সিম নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার পর মনে করা হয়েছিল, মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। দোকান, বাসা এমনকি ফুটপাতেও দেদার চলছে চাঁদাবাজি। সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ এসেছে। গত দুই মাসে শুধু ঢাকাতেই ১০০-এর বেশি ব্যক্তি হুমকি পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

mobile-chadabaziএ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মোবাইল ফোন কম্পানির সিম বায়োমেট্রিক করার পর অপরাধ প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তার পরও কিছু অপরাধ হচ্ছে, তা সত্য। যারা মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি করছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। হুমকি পাওয়ার পর যারা থানায় জিডি করেছেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই কথা বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজদের রুখতে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে আগের চেয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা কমেছে, তা বলতে পারি। বিদেশ থেকেও ফোন করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, তা সত্য। মোবাইল ফোনে যাতে চাঁদাবাজি না হয়, সে জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে গেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই চাঁদা আদায় করছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ঢাকার মূল সড়কের বেশির ভাগ ফুটপাতই চাঁদাবাজদের দখলে চলে যাচ্ছে। চাঁদার টাকা না মিললে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তাদের। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার মাস্তান, রাজনৈতিক দলের নেতা এমনকি পুলিশও চাঁদার ভাগ পাচ্ছে। ফলে পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ করেও সুফল মিলছে না। পল্টন, উত্তরা, সদরঘাট, নিউ মার্কেট, মিরপুর, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকাশ্যেই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। চাঁদা তুলছে লাইনম্যান বা সোর্সরা। তারা পুলিশ, স্থানীয় রাজনীতিক ও সন্ত্রাসীদের নির্দিষ্ট ভাগ বুঝিয়ে দিচ্ছে। আবার নিজেরাও একটি অংশের ভাগ পাচ্ছে। কিছু স্থানে চাঁদাবাজি হচ্ছে গোপনে।

চাঁদাবাজদের ভয়ে ব্যবসায়ীর বিদেশ পাড়ি :

সূত্র মতে, গত ২০ জুন খিলক্ষেত নিকুঞ্জে ব্যবসায়ী হাসান উদ্দিনের কাছে মোবাইল ফোনে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদতের নামে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি ওই নম্বর বদলে আরেকটি নম্বর ব্যবহার শুরু করেন। চাঁদাবাজরা বদল করা নম্বরও সংগ্রহ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। হুমকির বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ীর এক আত্মীয়। পরে তিনি গোপনে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে কাফরুলে লোডস্টার ফ্যাক্টরির মালিকের কাছে মোবাইল ফোনে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় চাঁদাবাজরা নিজেকে সরকারের একজন প্রভাবশালী লোক বলে পরিচয় দেয়। পুরো টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ীকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। কাফরুল থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ফাঁদ পেতে মুন্নি আক্তার নিপা, সেলিম, আসাদুজ্জামান ও মোস্তফা হাসান নামের চারজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। মুন্নি আক্তার নিপা নামের ওই নারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ কাফরুল এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মুন্নির কাছ থেকে এ সময় পাঁচটি সিম পাওয়া যায়। সিমগুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত বলে নিশ্চিত হন থানার সাব-ইন্সপেক্টর। উত্তরা এলাকার ঠিকাদার রোহান শাইককে সপ্তাহখানেক আগে নবি পরিচয়ে এক যুবক ফোন করে ঈদ ‘সালামি’ চায়। ওই ঠিকাদার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গত রবিবার রাতেও পুনরায় ফোন করে ৪০ লাখ টাকা দাবি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিদেশ থেকেও আসছে ফোন :

সূত্র জানায়, নকল আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল স্টেশন ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি) ব্যবহার করেও সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। এসব কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেলিফোন ও মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজিসংক্রান্ত তদন্ত কমিটি মোবাইল ফোন ক্রয় ও বিক্রয়ে একটি নতুন নীতিমালার প্রস্তাব করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন করে সিমগুলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করার পরও মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল ফোনে হুমকি আসার পর প্রায়ই দেখা যায়, ভুয়া নাম-ঠিকানার বিষয়টি প্রমাণিত হচ্ছে। গত এক মাসে ১০০-এর বেশি অভিযোগ এসেছে। চাঁদা দাবি করে বেশি ফোন আসছে ভারত থেকে। তারপর সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে কিছু ফোনকল আসছে বলে তথ্য এসেছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করার পরও মোবাইল ফোনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা সত্য।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গত এক মাসে অন্তত ২০টি বিদেশি নম্বর শনাক্ত করেছেন। নম্বরগুলো হচ্ছে +৯১৯৮৩৬৪৪৬৭৬২, +৯১৯৮৭৪১৫১১০৬, +৩০৯০৬১৫৬, +৯১৮৩৩৪৮৮৯৫৩৩, +০০০০৬৬১২৬২৬০১, +৩৪৮৮৯৩৩, +৯১৯৮৩০৯০৬১৫৬, +৯৯০৩৭৫৪৭৭৯, +৯১৯৯০৩৭৫৪৭৭৯, +৯০৮৮৭৬২০৩৩, +৯১৯০৮৮৩৯৮৫২৫, +৯১৮৬৯৭৯২৮০৪৩, +৯১৮৫৮৩৮৯০৩২৮, +৯১৭০৫৯২১১৯৩১, +৯৯০৩৭৫৪৭৭৯, +৯১৯০৮৮৭৬২০৩৩, +৯১৯৯০৩৭৫৪৭৭৯, +৯১৯৮৩০৯০৬১৮, +৯১৮৪২০৯২৪৬৫৬ ও +৯১৮৫৮৩৮৯০৩২৮। এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, চাঁদাবাজরা ভিওআইপির মাধ্যমেও অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। আবার দেশের বাইরে থেকে যেসব কল আসে তার মধ্যে কিছু কল দেশের ভেতর থেকেই করা হয়। এই ক্ষেত্রে স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব সন্ত্রাসী বিদেশ থেকে ফোন করে চাঁদা আদায় বা দাবি করে আসছে তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তা ছাড়া চাঁদাবাজদের মোকাবিলা করতে আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও রয়েছে।

টেলিফোনে চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে যেসব নম্বর দিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে সেগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কিছু নম্বর আছে যার প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যায় না।’ তবে নাম প্রকাশে অনচ্ছুিক ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বায়োমেট্রিকেও মোবাইল ফোন সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না, তা সত্য। রেজিস্ট্রেশনের সময় কিছু ঘাপলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোকে আরো সতর্ক হতে হবে। কেউ যদি সিমকার্ডে ভুয়া তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৭৭, ১৮২, ৪১৭, ৪১৯, ৪৬৫ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা যেতে পারে। আর না হয় সরকারের কোনো কৌশলই কাজে আসবে না।

যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে মোবাইল সন্ত্রাস হচ্ছে :

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার এব কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, কিছু সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে অনেক দিন থেকেই রাজধানীতে চাঁদাবাজি হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে মোবাইল ফোন সন্ত্রাস আগের চেয়ে বেড়েছে বলে তথ্য আসছে। চাঁদাবাজদের মধ্যে মিরপুরের শাহাদত, মগবাজারের সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, জুরাইনের কাইল্লা আমির, গেণ্ডারিয়ার ইমন, রামপুরার ঈশান ও জিসান, মগবাজারের রনি, বাড্ডার শাহজাদা, বিজয়নগর-পল্টনের মোহাম্মদ, কোতোয়ালিতে ইমু বাহিনীর নামে বেশি চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।

ফুটপাতে চলছ দেদার চাঁদাবাজি : উত্তরার আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফুটপাতে দোকান আছে এক হাজারের বেশি। প্রতি দোকান থেকে গড়ে ১০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। উত্তরা ১১, ১২, ৭, ৩, ৪ ও ৬ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও ফুটপাতের দোকান থেকে নিয়মিত নির্দিষ্ট হারে ওই চাঁদা তোলা হচ্ছে। উত্তরা পশ্চিম ও উত্তরা মডেল থানার ওসি থেকে শুরু করে কনস্টেবল—সবাই চাঁদার ভাগ পাচ্ছেন বলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তা ছাড়া স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের লোকজনকেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক, শান্তিনগর, মালিবাগ মোড়, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও রেলগেট ও মালিবাগ রেলগেট এলাকায় ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীরা চাঁদা আদায় করছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ফুটপাত থেকে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের মধ্যে তেজগাঁও ও কারওয়ান বাজার এলাকায় র‌্যাবের প্রথম ক্রসফায়ারে নিহত পিচ্চি হান্নানের ক্যাশিয়ার বলে খ্যাত বাবুল, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় বাবু ও কাশেম গ্রুপ, কাফরুলে ভাগিনা লিটন, যুবায়ের হেলাল, গফুর, শাহীন ও ল্যাংড়া মনির, রমনা, মগবাজার, ইস্কাটন, বাংলামোটর, মৌচাক ও মধুবাগে মুরাদ, কাটা দিদার, সোর্স দেলোয়ার, কালা শাহীন, ফরহাদ, মিন্টু, দেলু, সুমন, মাসুদ, বাবুল ও খালেক, গাবতলীতে রাসেল, কাশেম ও হানিফ, মিরপুরে দেলোয়ার, ইজাব, মামুন রাসেল, হুমায়ুন, খোকন, পল্লবীতে বিহারি চাঁন, মুন্না গ্রুপ অন্যতম।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top