শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে রপ্তানি খাত

উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে রপ্তানি খাত

রপ্তানি আয়ে শীর্ষস্থানটি বরাবরের মতোই তৈরি পোশাকশিল্পের দখলে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে হিমায়িত খাদ্য, পাটজাত ও চামড়ার তৈরি পণ্য। জাহাজশিল্পও দেখিয়েছে নজরকাড়া সাফল্য। আর রপ্তানি পণ্যের তালিকা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে এককালের অন্যতম মৌলিক রপ্তানি পণ্য চা। যে কম্পিউটার নিয়ে চারপাশে এত হৈচৈ, রপ্তানির ক্ষেত্রে তার দৃশ্যমান কোনো সাফল্য নেই। অথচ সবার অলক্ষ্যে থাকা রাবার শিল্প থেকে গত আট মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২২ শতাংশ।
সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশেরও বেশি রপ্তানি আয় হয়েছে। এই সময়ে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৯ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি খাত থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে এক হাজার ৪০৭ কোটি দুই লাখ ডলার। গত অর্থবছরে একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১০০৩ কোটি দুই লাখ ডলারের কিছু বেশি। শুধু গত ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৮৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৪৩.৩৩ শতাংশ বেশি।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমন একসময়ে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ছে যখন রেমিট্যান্স কমে গেছে। তৈরি পোশাকের সঙ্গে পাট ও চামড়া রপ্তানি বাড়ছে। এটা আমাদের রপ্তানির জন্য একটি ভালো দিক। তবে রপ্তানির এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিতে হবে।’ রপ্তানি আয় আরো বাড়ানোর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এ বিশ্লেষক।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রপ্তানি আয় বাড়লেও কাঁচামাল আমদানির পরিমাণ বাড়ায় প্রকৃত আয় খুব বেশি হয়নি। আর তুলাসহ কাঁচামালের দাম বাড়ায় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’ তবে রপ্তানি আয়ের এই উচ্চ ধারা আমাদের অর্থনীতির জন্য সার্বিক মঙ্গল বয়ে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকেই সর্বোচ্চ পরিমাণে রপ্তানি আয় হয়েছে। এর মধ্যে নিট পোশাকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৭৯ কোটি ১৪ লাখ ডলারেরও বেশি। গত বছরের এই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪০২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। এই খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪৪ শতাংশ। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ।
ওভেন গার্মেন্ট খাত থেকে অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর একই সময়ে এই খাতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আর এবছর রপ্তানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ কোটি ৩৫ লাখ ডলারেরও বেশি।
ইপিবির তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মাসে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৪ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্যে ৫৯ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি হয়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে কৃষিজাত পণ্য থেকে রপ্তানিতে আয় হয়েছে প্রায় ২১ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয়ের ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরের আট মাসেও অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এবার ৫১ শতাংশের বেশি হয়ে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এই সময়ে এই খাতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৬২ লাখের ওপরে।
জুলাই-ফেব্রুয়ারি মাসে প্লাস্টিক পণ্য (৩৪.৮৪ শতাংশ), রাবার (১২২.৭১), কাঁচাচামড়া (৩৩.৮৬) চামড়ার পণ্য (১৫২.৬০), হস্তশিল্প (২.১৭), কাগজ ও কাগজের তৈরি পণ্য (৪১.২৩), সিল্ক (২০০), তুলা ও তুলার পণ্য (৩৯.১৭), জুতা (৪৮.০৫), টুপি (৫৯.৭০), জাহাজ (১০২২.৩৬) এবং কম্পিউটার সার্ভিস (১২.৩৩) থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। যেসব খাত গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কম আয় করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : চা (-৬৩.৯৩), কেমিক্যাল প্রোডাক্টস (-২২.০৮), বাইসাইকেল (৫.৩১), ইঞ্জিনিয়ারিং প্রডাক্টস (-২.৩০), পেট্রোলিয়াম বাই প্রডাক্টস (-৮.৪৯), টেরি টাওয়েল (-৩.২৫), প্রিন্টেড ম্যাটিরিয়ালস (-২.৪৪) এবং কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার (-৪৩.১৮) অন্যতম।
বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে পোশাক তৈরি ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজেএমইএ সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘এই হারে যদি রপ্তানি বাড়তে থাকে, তাহলে এই বছরের সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হবে। আর যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে আগামী তিন বছরের মধ্যে রপ্তানি আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বৃদ্ধি পাবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুরনো বাজারের পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণ হওয়ায় রপ্তানি আয় বাড়ছে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top