শিরোনাম

সোমবার, সেপ্টেম্বর 25, 2017 - রংতা ব্র্যান্ডের নতুন পিওএস প্রিন্টার | সোমবার, সেপ্টেম্বর 25, 2017 - নারীর নিরাপত্তা ও শরনার্থীদের শিক্ষা বিষয়ক ধারণা যাচ্ছে ওসলোর টেলিনর ইয়ুথ ফোরামে | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - উদ্বোধনের অপেক্ষায় শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - আপনারই কিছু ভুল হয়তো অজান্তে ফোনের পারফরম্যান্স খারাপ করছে | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - খুলনায় দুইদিনের বেসিক আরডুইনো কর্মশালা অনুষ্ঠিত | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - ঢাকা মহিলা পলিটেকনিককে স্যামসাং এর পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক ল্যাব হস্তান্তর  | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - সিডস্টারস ঢাকায় দেশের সেরা স্টার্টআপ সিমেড হেলথ | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহারের উপায় | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - আসছে নকিয়ার আরও দুই ফোন | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - ফেসবুকের পাঁচ মজাদার অপশন যা জানেন না অনেকেই |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিক্রি কমেছে ৯০ শতাংশ!
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিক্রি কমেছে ৯০ শতাংশ!

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিক্রি কমেছে ৯০ শতাংশ!

হিটলার এ. হালিমঃদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ব্যাপক সহিংসতার প্রভাব পড়েছে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের বাজারেও। বিক্রি কমে গেছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। ব্যবসায়ীদের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ৫০ শতাংশেরও বেশি। চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে মার্কেট বা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেও হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবসায়ীরা ক্রেতা সংকটে ভুগছেন। নিরাপত্তার অভাবই ক্রেতা সংকটের বড় কারণ।

It-market

 

দেশের হার্ডওয়্যার পণ্যের মাসিক বাজার ২০০ কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রতি মাসে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে ১৮০ কোটি টাকার বেশি। বিক্রি না থাকায় অনেকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বাজারের এ অবস্থাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে অভিহিত করলেন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বিক্রেতাদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। তিনি বললেন, আমাদের কোনো ব্যবসা নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেকেই বাজার ছেড়ে যাবে।

জেএএন অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কবীর হোসেন

জেএএন অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কবীর হোসেন

দীর্ঘমেয়াদে এখাতে তা বড় আকারের সংকট তৈরি করবে। এদিকে দেড় হাজার কোটি টাকার স্থানীয় সফটওয়্যারের বাজার এখন প্রায় শূন্য। দেশে হার্ডওয়্যার পণ্যের বাজারে মন্দা অনেকদিন ধরেই চলছিল। এক বছরের বেশি সময় ধরে বাজারে পণ্য বিক্রি নেমে এসেছিল অর্ধেকে। হালে পণ্য বিক্রি একেবারে শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। ফলে চরম মন্দা বিরাজ করছে এ খাতে। এদিকে প্রযুক্তি পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ায় পণ্য উৎপাদক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এ দেশের প্রযুক্তি পণ্যের আমদানিকারক বা পরিবেশকদের মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এমডিএফ) কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে স্পন্সর, রোড-শো, বাজার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি সচেতনতা কর্মসূচি, বিজ্ঞাপনের বাজেট কাটছাঁট হচ্ছে। এসব কারণে ব্যবসায়ীরা বাজার প্রসার কার্যক্রম এবং প্রচারে যেতে পারছেন না। স্যামসাং, আইবিএম, আসুস, ডেল, ইন্টেল, মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি পণ্য ও সেবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশে সরাসরি অফিস খুলেও বাজারের ধস ঠেকাতে পারছে না। এদিকে ঢাকার বাইরে পণ্য পাঠানোর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ঢাকার প্রযুক্তি বাজারগুলো হরতাল-অবরোধে খোলা থাকলেও বিভাগীয় বা জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বেশি হওয়ায় বিরোধী দলের কর্মসূচি চলাকালীন বন্ধ থাকছে। এদিকে পরিবেশক বা ডিলাররা ধারে পণ্য বিক্রি করেও বিপাকে পড়েছেন। খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে না পারায় পুরো প্রক্রিয়া থমকে আছে।
এ প্রসঙ্গে জেএএন অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক কবীর হোসেন জানান, পণ্য বিক্রি দূরে থাক, যে বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন তা কিভাবে পুষিয়ে নেয়া হবে, ব্যবসায়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যাবে সেটা নিয়েই আমরা এখন চিন্তিত।
সফটওয়্যার ও সেবাপণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কা: দেশের সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের বাজারেও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজার বড় হওয়ার বদলে দিন দিন ছোট হচ্ছে। এসব কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের বাজার নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশীয় সফটওয়্যারের বিক্রি ৮০-৯০ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের রফতানিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। এসব পণ্যের রফতানি ইন্টারনেটের মাধ্যমে হওয়ায় সফটওয়্যার ও সেবা পণ্যের বাজার হার্ডওয়্যারের মতো এতটা করুণ নয়। গত অর্থ বছরে (২০১২-২০১৩) এ খাত থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা এবার রফতানি আয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সফটওয়্যারের স্থানীয় বাজার দেড় হাজার কোটি টাকার। তৈরি পোশাক শিল্প, টেক্সটাইল, ঔষধশিল্প ও আবাসন খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে ইআরপি, এইচআর ইনফরমেশন সিস্টেম, উৎপাদন ও অর্থ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার ব্যবহার হচ্ছে যার বেশিরভাগই দেশে তৈরি। এ ছাড়াও ওয়েবসাইট ডিজাইন, ডোমেইন ও হোস্টিং ব্যবসাও দিন দিন বড় হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সময়ে মন্দায় আক্রান্ত হওয়ায় সফটওয়্যারের একাধিক ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় সংকটে পড়েছেন সফটওয়্যার নির্মাতারা। অনেকে আবার সফটওয়্যার কিনে বিল পরিশোধ করতে পারছে না। কাজ না পেয়ে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর করুণ অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন

বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন

বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক সংকটে সফটওয়্যারের দেশীয় বাজারের পাশাপাশি তা আন্তর্জাতিক বাজারেও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলবে।
এদিকে বেসিসের আয়োজনে গত মার্চ মাসে বার্ষিক সফটওয়্যার মেলা আয়োজিত হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক সংকটে তা পিছিয়ে যায়। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে মেলার তারিখ চূড়ান্ত হলেও বেসিস তা আয়োজন করতে পারেনি। দেশে রাজনৈতিক সংকট প্রলম্বিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাতিলই করা হয় চলতি বছরের সফটওয়্যার মেলা। মেলায় বিদেশি ক্রেতারা আসলে দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো আরো বেশি বেশি সফটওয়্যারে অর্ডার পেত। রফতানির পরিমাণ বাড়ত। এর প্রভাবে চলতি অর্থবছরে বেসিসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top