শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - গুগল ফটোসে যে ভাবে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও লুকাবেন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - মধ্যবিত্তের কথা ভেবে সস্তায় মাইক্রোম্যাক্সের নতুন ফোন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - নতুন ফিচারের ক্যামেরা নিয়ে উন্মুক্ত হলো নোকিয়া ৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - পেপালের ‘জুম’ উদ্বোধন করলেন সজীব ওয়াজেদ জয় | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - ম্যাক্সেল এর বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আইসিটি এক্সপোতে মেট্রো কভারেজ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - সিঙ্গাপুরের মাস্টারকার্ড গ্লোবাল রিস্ক লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - শুরু হলো এমসিসিআই অগ্রগামী ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - বিএমই দিচ্ছে আইসিটি এক্সপো উপলক্ষে তোশিবা পণ্যে বিশেষ অফার! | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপো তে আসুসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নোটবুক | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপোতে বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের অংশগ্রহন |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতছানি প্রতিবন্ধীদের সামনে
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতছানি প্রতিবন্ধীদের সামনে

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার হাতছানি প্রতিবন্ধীদের সামনে

tanzirul

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের মেধা সাধারণের চেয়েও বেশি। তাদেরকে যদি সঠিক দিক নির্দেশনা আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন  দেওয়া যায় তাহলে তারাও হতে পারে দক্ষ মানব সম্পদ। আর তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের এই সময়ে শিক্ষিত প্রতিবন্ধীরা কম্পিউটার শিখে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখতে পারে। তারা যথাযথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে আর দশজনের মতোই হতে পারে আত্মপ্রত্যয়ী। কাজের ক্ষেত্রে তারা যথেষ্ট মনোযোগী বলে বর্তমানে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করাসহ সম্ভাবনাময় ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিংয়েও ক্যারিয়ার গঠন করছে।

আর ঠিক এমন কাজ ই করে আসছে মাই আউটসোর্সি লিমিটেড। এখানে তাঁরা প্রতিবন্ধীদের বোঝা না ভেবে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরীর ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখানে কাজও করছেন আর দশটা স্বাভাবিক মানুষের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে।

cellমাই আউটসোর্সিং এর অফিসে গিয়ে প্রতিবন্ধী আর সাধারণ কর্মীদের মধ্যে পার্থক্য বের করা বেশ কঠিন। কারণ এখানে সবাই নিজ নিজ কাজ করছেন খুবই দক্ষতার সাথে।এখানকার প্রতিবন্ধী কর্মীরা এখন ডাটা এন্ট্রি আর কল সেন্টারের কাজই বেশী করছেন।

মাই আউটসোর্সিং লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. তানজিরুল বাসার বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের কে দেখে,তাদের দুর্দশার অবস্থা দেখে সব সময়ই চাইতাম তাদের জন্য কিছু করতে। কিছুদিনের মধ্যেই বুঝলাম একবার বা দুইবার তাদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করা যায় কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সাহায্য করতে চাইলে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে।সে চিন্তা থেকেই ২০১২ সালে সিএসআইডি’র সহযোগিতায় মাত্র দুইজন প্রতিবন্ধী কে মাই আউটসোর্সিং এ কাজ দেয়ার মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের কে স্বাবলম্বী করার এই প্রক্রিয়া শুরু করি।এখন আমার এখানে প্রায় ২৫ জনের মত প্রতিবন্ধী কাজ করছেন। আরো আনন্দের বিষয় জাতীয় হেল্প লাইনের কাজও আমরা করে থাকি আর সেখানেও কল সেন্টারে কাজ করছেন অনেক প্রতিবন্ধী।‘

সকল প্রতিবন্ধীর কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকে –আর ঠিক এ কারণে শাপে বরের মত সে অন্যান্য কাজে হয়ে ওঠে আরো ফোকাসড আরো মনযোগী। আত্মকর্মসংস্থানে শিক্ষিত প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে তাদের প্রফেশনাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া যায়। আর তাদেরকে যদি গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা যায় তাহলে অন্যের আশায় বসে না থেকে তারা নিজেরাই হতে পারবে স্বাবলম্বী।

সেন্টার ফর সার্ভিস এন্ড ইনফরমেশন অন ডিজাবিলিটি (সিএসআইডি) এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. আক্তার হোসেন বলেন, ‘সিএসআইডি ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করছে। শুধু তাই নয় এ পর্যন্ত ১৩০০ এর অধিক প্রতিবন্ধীকে বিভিন্ন সেক্টরে চাকুরীর ব্যবস্থা করেছে যার মধ্যে ৩৫০ এর মতো কাজ করছে আইটি সেক্টরে। আমাদের এখানে প্রতিবন্ধীরা যোগাযোগ করলেই আমরা তদেরকে স্ব স্ব চাহিদা বুঝে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলি।‘

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ায় অনেক কাজই কম্পিউটারের সামনে বসে সুন্দরভাবে অল্প সময়ে করে ফেলা যায়। আর প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতা প্রতিবন্ধীদের সামনে খুলে দিয়েছে অপার সম্ভাবনা। মোটামুটি কাজে দক্ষ প্রতিবন্ধীরা কাজের শুরুতেই ৮-১২ হাজার টাকা বেতনের চাকরী পেতে পারেন। যা তার দক্ষতার সাথে বাড়তে থাকবে।

তানজিরুল জানান, বর্তমানে দেশি বিদেশি মিলিয়ে ৭০টি প্রতিষ্ঠানকে বিপিও সেবা দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। এসব কল সেন্টার পরিচালনার জন্য বিদেশি কোনো সফটওয়্যার সল্যুশনের পরিবর্তে নিজেদের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ‘সাধারণত কল সেন্টার পরিচালনার জন্য বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারের ব্যবহার বেশি হলেও আমরা এ কাজের জন্য নিজেদের তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি হাসপাতাল তাদের হোস্টেড কল সেন্টার পরিচালনা করছে।’ ন্যাশনাল হেল্পলাইনের জন্যও এ সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। দেশের বাইরে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠানকে এখান থেকে কন্টাক্ট সেন্টার সেবা প্রদান করছে মাই আউটসোর্সিং।
প্রতিবন্ধীদের কি দক্ষতা থাকতে হবে চাকরীর জন্য সে বিষয়ে তানজিরুল বাসার বলেন, ‘অন্তত আমার এখানে চাকরীর সময় তাকে আমরা প্রতিবন্ধী হিসাবে দেখি না,দেখি তিনি যোগ্য কিনা। হতে পারে তিনি চোখে দেখতে পান না কিন্তু দারুণ কণ্ঠের অধিকারী –আমরা তাকে তখন কল সেন্টারে কাজের জন্য সুযোগ দিবো। মূল কথা কিছু দক্ষতা থাকলেই হবে-চাকরীর জন্য শারিরীক প্রতিবন্ধকতা কোন বিষয় না-বিষয় মনের প্রতিবন্ধকতা।আমি পারবো না,আমার দ্বারা হবে না-এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারলেই তিনি জীবনে সফল হওয়ার পথে পথচলা শুরু করবেন’।
যেসব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ আছে
*কল সেন্টার
*ডাটা এন্ট্রি
*কাস্টমার কেয়ার
*গ্রাফিকস
*ডিজাইনিং
*অনলাইন সেলিং
outsourcing-disable1ভোক্তা যখন ফোনে কল সেন্টারে কথা বলেন কিংবা কম্পিউটারের ওপারে কারো কাছে কোন কাজ চান-তিনি কিন্তু জানেন না ঐ ব্যক্তি প্রতিবন্ধী কিনা। কিংবা তার জানার প্রয়োজনও নেই-তাকে তার চাহিদামত কাজ দিতে পারলেই তিনি সন্তুষ্ট। আর ঠিক এ সম্ভাবনাকে কাযে লাগিয়েই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজ দক্ষতা কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল বিবেচনা করলে দেশে প্রতিবন্ধীদের সুযোগ এখনও অনেক কম। সিংগাপুরের মত জায়গায় এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি চেক থেকে লাগেজ হ্যান্ডলিং পর্যন্ত কাজ প্রতিবন্ধীরাই করে থাকেন-আর সে কথা মাথায় নিলে আমাদের এখানে সুযোগ এখনও অনেক কম। তবে আশার কথা হলো আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীদের কাজের সুযোগ রয়েছে অনেক।
এ প্রসংগে তানজিরুল বাসার বলেন, ‘আমাদের দেশে অর্ধশতাধিকের বেশী ব্যাংক রয়েছে,রয়েছে অসংখ্য হাসপাতাল আর ডায়গনস্টিক সেন্টার-এসব জায়গায় ডাটা এন্ট্রির কাজে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। বিশেষ করে আমি দাবি জানাবো অন্তত ‘কর্পোরেট সোশাল রেসপনসিবিলিটির’ জায়গা থেকে হলেও তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া। কারণ এতে তারা তাদের দক্ষতা প্রকাশের জায়গা পাবে । পরবর্তীতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আগ্রহী হবে তাদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায়।

এখানে কর্মরত প্রতিবন্ধীদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া ও সমন্বয়ের জন্য সর্বক্ষণ একজন সুপারভাইজার থাকেন। তিনিই তাদেরকে কাজ বুঝিয়ে দেন ও যাবতীয় সাহায্য করেন। এখানে কর্মরত প্রতিবন্ধীদের সাথে সুপারভাইজারের সাহায্যে কথা বলি। তাদের মধ্যে একজন রেহানা। তিনি মিরপুর কলেজে পড়াশোনাও করছেন ।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় এক বছর হলো এখানে কাজ করছি। ভালো লাগছে অনেকনিজেই উপার্জন করতে পারায়।আমি এখানে আরো উন্নতি করতে চাই-যাতে অন্যরাও উৎসাহিত হয়।‘
ডাটা এন্ট্রি করতে কীবোর্ডের ওপর ঝড় তোলায় ব্যস্ত মঞ্জু বলেন, দেড়মাস হলো এখানে কাজ করছি। ৮ পাশ হলেও সিএসআইডির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি এখানে দারুণ ভাবে কাজ করে পারছি। কাজ করার সময় সুপারভাইজার সহ সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেন। তাদের জন্যই আমি কাজ করতে পারছি।‘

যেভাবে হবে কর্মসংস্থান

মাই আউট সোর্সি এ সাধারণত দুভাবে প্রতিবন্ধী কর্মী নেওয়া হয়।
* সরাসরি ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে।
* সিএসআইডি’র মাধ্যমে।

সিএসাইডি’তে যোগাযোগের মাধ্যম
সিএসাইডি র অফিস বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটি,আদাবরে। সেখানে যোগাযোগ করলেই তারা চাহিদা বুঝে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতিবন্ধীদেরকে দক্ষ করে তুলতে সহায়তা করেন।

প্রতিবন্ধীরা নিজ ইচ্ছায় প্রতিবন্ধী না। তবে যে চেষ্টা করে না তার এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে,জীবনে সফল হতে- সেই প্রতিবন্ধী। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তি বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের কাজের সুযোগ অনেক। প্রয়োজন সবার একটু সহযোগিতা আর সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গী। তবেই তো সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তাঁরা নিজেরা দেশের বোঝা থেকে সম্পদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি –দেশকেও এগিয়ে নিবে উন্নতির পথে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top