শিরোনাম

মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস ইউপের যাত্রা শুরু | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হুয়াওয়ে মেট ১০ এ যা আছে | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - শাওমির নতুন ফোন রেডমি ৫এ | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ফাঁস হয়ে গেল নোকিয়া ৯ এর গোপন সমস্ত তথ্য | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হ্যাকারদের লক্ষ্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাংকগুলো | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - এডিএন ইডু সার্ভিসেস এর উদ্দেগে এজাইল বিষয়ক কর্মশলা অনুষ্ঠিত | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - প্রথম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডসে গ্রামীণফোনের ব্যাপক সাফল্য | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - গুগলের এই এয়ারপড হেডফোন যখন ট্রান্সলেটর | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - কম্পিউটার গেমের আসক্তিতে হতে পারে ভয়াবহ পরিণতি | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ওটিসি ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ফিফোটেক থেকে ৫ হাজারের বেশি কর্মী দক্ষতা অর্জন করেছে
ফিফোটেক থেকে ৫ হাজারের বেশি কর্মী দক্ষতা অর্জন করেছে

ফিফোটেক থেকে ৫ হাজারের বেশি কর্মী দক্ষতা অর্জন করেছে

towhid

বর্তমানে তরুণদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কলসেন্টারের চাকরি। প্রতিনিয়ত এ কাজের চাহিদা বাড়ছেই। কলসেন্টারগুলোতে স্থায়ী ও খন্ডকালীন এই দুই উপায়ে কাজের সুযোগ থাকায় তরুণরা এ কাজের প্রতি একটু বেশিই আসক্ত। ক্যারিয়ারে এই চাকরির অভিজ্ঞতা বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে কাজ করে। কলসেন্টারে চাকরির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন মাহবুব শরীফ

কলসেন্টার সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। কলসেন্টারগুলোর কাজ হচ্ছে ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা প্রদান করা। গ্রাহকের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে তাকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রদান ও সেবাদানই হচ্ছে কলসেন্টারগুলোর কাজ। আমাদের দেশে কলসেন্টারে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। এর মাধ্যমে প্রচুর বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানীর চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহককে ২৪ ঘন্টা সেবাদান করতেই কলসেন্টারের প্রয়োজন ও এর সৃষ্টি। দিন-রাত কাজের সুযোগ থাকায় তরুণরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী সময় বেছে নিয়ে কাজ করতে পারেন। কোনো একটি বড় প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে গ্রাহকের আসা ফোন কল তারা নিজেরা রিসিভ না করে তা অন্য একটি কোম্পানির মাধ্যমে রিসিভ করায় এবং গ্রাহক সেবার যাবতীয় বিষয় ঐ কোম্পানিকে দিয়েই সমাধান করায়।

বর্তমানে পৃথিবীর যেকোনো যায়গা থেকে কল করলে তা তাদের কাছে না গিয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে চলে আসে কলসেন্টারগুলোতে। এই যে ফোন রিসিভ করার কাজটি যে প্রতিষ্ঠান করল, সেটাই হলো কলসেন্টার। কলসেন্টারের বিভিন্ন তথ্যের জন্য কথা হয় ফিফোটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শতাধিক বিপিও কোম্পানি গড়ে উঠেছে। এই খাতে ৩০ হাজার কর্মী কাজ করছে। আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার নতুন কর্মী যুক্ত হবে।’ এই খাতে প্রতিনিয়ত কাজের চাহিদা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
fifoকলসেন্টারগুলোতে কাজের ধরন সম্পর্কে তৌহিদ হোসেন জানান, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এই দুই ধরনেরই সেবা প্রদান করা হয় আমাদের দেশের কলসেন্টারগুলো থেকে। স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি এই সেবা দেয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো। কলসেন্টারে কর্মরত সকলের একমাত্র কাজ হচ্ছে গ্রাহককে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা। গ্রাহকরা ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফোন করে থাকে যে কারণে যারা এই সেবা দিয়ে থাকে তাদের কাজের প্রতি একঘেয়ে ভাব আসে না।

আমাদের দেশের কলসেন্টারে দুই ধরনের কাজ হয়। একটি হলো ‘ইনকলিং সার্ভিস’ বা ‘ইনবাউন্ড’, আরেকটি ‘আউটকলিং সার্ভিস’ বা ‘আউটবাউন্ড’। ইনবাউন্ড হচ্ছে পুরোটাই কাস্টমার সার্ভিস আর আউটবাউন্ড কিছুটা টেলিমার্কেটিংয়ের মতো, অর্থাৎ কলসেন্টার থেকে স্ব-উদ্যোগে ফোন করে কিংবা ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নানা তথ্য পৌঁছে দিবে। কলসেন্টারে কাজ করতে চাইলে কেমন যোগ্যতা থাকা দরকার এমনটি জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, বিভিন্ন কলসেন্টারে যাদেরকে কাজে নিয়োগ দেওয়া হয় তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

যেকোনো বিষয়ে লেখাপড়া করলেই হবে তবে এইচএসসি পাস হলে ভালো হয়। প্রার্থীকে কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। স্থানীয় হলে বাংলা ও আন্তর্জাতিক হলে ইংরেজিতে শুদ্ধ উচ্চারণ আবশ্যক। বাড়তি কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র গান শোনার সফটওয়্যার চালু করতে জানলেই হবে। যোগদানের পরে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে কাজের যোগ্য করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ থেকে ৮ ঘন্টার শিফট ব্যবস্থা রয়েছে। যে কারণে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়টা কাজে লাগাতে পারছে এবং বাড়তি আয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞতা নিচ্ছে। এ কাজের প্রধান দক্ষতা হচ্ছে গ্রাহকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।

towhid-1কলসেন্টারে কাজ করার জন্য কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, ইতিবাচক মানসিকতা, সহযোগিতা করার মানসিকতা এবং একসাথে বিভিন্ন কাজ করার সামর্থ্য থাকতে হবে। এখানে কাজের যোগ্যতা হলো যোগাযোগের ভালো দক্ষতা। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই পেশায় যারা আগ্রহী তাদের ধৈর্যশীল হতে হবে। গ্রাহকের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করতে হবে। একজন কলসেন্টারের কর্মী চাকরিতে যোগদান করলে সে শুরুতেই আয় করতে পারে ১০ হাজার টাকার মতো, জানান তৌহিদ। তবে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ৩০ হাজার টাকার মতো আয় করতে পারে বলেও জানান তিনি। রিপন আদাত নামের এক কলসেন্টার কর্মী জানান, তিনি বর্তমানে ফিফোটেকে কর্মরত আছেন এবং তিনি ১৫ হাজার টাকা আয় করছেন। কলসেন্টারের সাথে ডাটা এন্ট্রির কাজ করে তিনি সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা আয় করেছেন।

আমাদের দেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ আরও বাড়ছে না কেন? এ জন্য কী দরকার? এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদেশি কাজ পেতে গেলে প্রথমেই দরকার সেই দেশের মার্কেটিং অভিজ্ঞতা। বিদেশে সরকারি অর্থায়ন না পেলে এই খাতে বিদেশি কাজ যুক্ত করা কঠিন কারণ আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের লিগ্যাল সাপোর্ট দরকার যা আমাদের যথেষ্ট নেই। বিদেশি কাজ আনতে আমাদের সেটআপ দরকার হয় যা আমাদের নেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই এই সুযোগ সুবিধা অনেক। ফিলিপাইনের প্রতি বছর ১৪ লক্ষ কর্মী ২২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে শুধুমাত্র কলসেন্টার কার্যক্রম থেকে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে পাচ্ছে।’ তৌহিদ হোসেন তার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বলেন, ‘ফিফোটেক নামক আমার বর্তমান অফিস রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে। এখানে আমি আমার কলসেন্টারটি সাজিয়েছি।

fifo1দুঃখের বিষয় হলো এই ভবনে আমার প্রতিষ্ঠান ও আর দুই-একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এতো বড় ভবনে দুই একটি অফিসের কারণে আমরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছি না। কারওয়ান বাজারের কাঁচা বাজার এখানে হওয়াতে রাস্তার কোনো শ্রী থাকে না। জনতা টাওয়ারে যদি সবগুলো ফ্লোর চালু হয়ে যায়, তাহলে সামনের রাস্তা পরিস্কার রাখা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ পর্যন্ত ফিফোটেক থেকে ৫ হাজারের বেশি কর্মী দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। আমাদের দেশে আরও কল সেন্টার হওয়া জরুরী।’ কেউ যদি কলসেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাতে ফিফোটেকের পক্ষ থেকে ফ্রি কলসেন্টারের সফটওয়্যার সেটআপ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও জানান, কোনো কল সেন্টারের যদি কাজ কম থাকে তাহলে যেন কম খরচে কাজ না করেন। কারণ কোনো কারণে কম মূল্যে কাজ করতে গিয়ে হোচট খেলে বিশ্বব্যাপী এই খাতের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হবে। যার ফলে এ ইন্ডাষ্ট্রি হুমকির মুখে পড়বে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top