শিরোনাম

শুক্রবার, মে 26, 2017 - স্থগিত হয়ে গেছে বেসিস ২০১৭-১৮ টার্মের ৩ পদে নির্বাচন | শুক্রবার, মে 26, 2017 - রবি’র লোকসান ১৭০ কোটি টাকা | শুক্রবার, মে 26, 2017 - ডোমেইন এবং হোস্টিং এ বিশেষ অফার | শুক্রবার, মে 26, 2017 - তোশিবার অফিস ইকুপমেন্ট দিচ্ছে বিএমই | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - জিপি অ্যাক্সেলারেটরের চতুর্থ ব্যাচের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - বিসিএস-এ ‘ব্যবসা সাফল্যে প্রচার এবং প্রসার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দারাজের ফিউচার লিডারশীপ প্রোগ্রাম | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ফাঁস হল নকিয়া ৯ এর ফিচার | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ এর সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুই প্রকল্প | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - স্মার্টফোনে চার্জ না থাকার জন্য দায়ী যে সকল অ্যাপ |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / কার্ড স্কিমিং কী এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন?
কার্ড স্কিমিং কী এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন?

কার্ড স্কিমিং কী এবং কীভাবে রক্ষা পাবেন?

card-skimming

ডঃ রাগিব হাসান: ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নিয়ে ঘুরছেন? এটিএম থেকে আরামে টাকা তুলছেন? কিংবা দোকানে খেয়ে দেয়ে বা জিনিষ কিনে কার্ডে দাম দিচ্ছেন? সাবধান!!! অভিনব কায়দায় আপনার কার্ড এবং টাকা পয়সা লোপাট করতে মাঠে নেমেছে সাইবার ক্রিমিনালেরা! বাংলাদেশেও তারা হাজির। সাবধান! বাংলাদেশে সাইবার ক্রাইম খুব জোরেসোরে শুরু হবে, বছর দুয়েক আগে ভবিষ্যতবাণী করেছিলাম। এটাও বলেছিলাম যে, সরকারী নানা সংস্থা এসব সাইবার ক্রাইমের ব্যাপারে একেবারেই প্রস্তুত না। এমনকি সরকারী পর্যায়ে ওয়েবসাইট ডিফেস করা ছিঁচকে লোকজনকে ধন্য ধন্য করা হয়, আর অন্য দিকে ব্যাংকের হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়।

আমার আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে সম্প্রতি দেশে ডেবিট কার্ড স্কিমিং জালিয়াতির বড় বেশ কিছু ঘটনা শুরু হয়েছে এবং এক বিদেশী বাটপার ধরা পড়লেও শান্তিতে থাকার কিছু নাই। এভাবে সহজে পয়সা কামানো যায় সেই ব্যাপারটা আরো অনেক চোট্টাবাটপারের নজরে এসে গেছে, কাজেই এই ঘটনা ঘটবেই। তো, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড স্কিমিং কাকে বলে? আসুন দেখা যাক।

ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের পিছনে একটা ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ থাকে কালো বা খয়েরি রঙের। সেখানে কার্ডের নম্বর থেকে শুরু করে অন্যান্য তথ্য ভরা থাকে। আপনি যখন এটিএম-এ কার্ড ঢোকান কিংবা দোকানে সোয়াইপ করেন, তখন কার্ড রিডার সেই স্ট্রিপ থেকে কার্ডের তথ্য পায়। এই তথ্যটুকু যদি কারো হাতে চলে যায়, সে কিন্তু চাইলেই আপনার কার্ডের একটা ক্লোন বা কপি বানিয়ে ফেলতে পারবে, তার পর সেটা দিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ডে চার্জ করতে পারবে। অপরাধীরা এই সুযোগটাই নেয়।

এটিএম এর কার্ড ঢোকানোর জায়গাটায় তারা অতিরিক্ত একটা যন্ত্রাংশ লাগিয়ে দেয়। সেটার কাজ হলো কার্ড ঢোকার সময়ে মেশিনে ঢোকার আগে আগে কার্ডের ম্যাগনেটিক স্ট্রিপটা পড়ে নেয়া, আর সেই তথ্য অপরাধীর কাছে পাঠানো। এই যন্ত্রটাকে বলা হয় স্কিমার (skimmer)। আবার অনেক সময়ে পোর্টেবল স্কিমার পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টে খেয়ে ওয়েটারের হাতে কার্ড দিলে আড়ালে গিয়ে এক সেকেণ্ডের মধ্যেই কিন্তু আপনার কার্ড স্কিমার দিয়ে কপি করে নিতে পারে। এর পর কার্ডের তথ্যগুলাকে ব্ল্যাংক একটা কার্ডে ঢোকানো হয়, ফলে সেটা কার্যত আপনার কার্ডের কপি হয়ে যায়।

ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে পিন সংখ্যাটি পেতে হলে আরেক ধাপ বেশি করতে হয়, অনেক সময়ে এটিএম এর কীবোর্ডের উপরে আলগা নকল কীবোর্ড লাগানো হয়। অথবা কীবোর্ডের জায়গাটা দেখা যায় এভাবে একটা গোপন ক্যামেরা বসিয়ে যায় অপরাধীরা। সেভাবেই আপনার পিন সংখ্যাটি পড়ে ফেলতে পারে। স্কিমিং এর বাটপারিটা পশ্চিমা দুনিয়াতে বহুদিন ধরেই হয়ে আসছে। আপনি একটু সাবধান থাকলে এটা এড়াতে পারেন। যেমন –

  • এটিএম বুথে কার্ড ঢোকাবার আগে দেখে নেন, কার্ড ঢোকানোর জায়গাটা কি আলগা বা আলাদা লাগছে নাকি। সেটা কি অস্বাভাবিক বা বেঢপ ধরনের, মনে হচ্ছে কি এটা পরে লাগানো হয়েছে? দরকার হলে হালকা টান দিয়ে দেখেন ঐটা আলগা নাকি।
  • পিন এন্টার করার সময়ে কীবোর্ডটা আলগা নাকি দেখে নেন।
  • পিন এন্টার করার সময়ে কোন কী চাপছেন সেটা অন্য হাত দিয়ে ঢেকে রাখেন।
  •  রেস্টুরেন্টে বা অন্যত্র ওয়েটারের হাতে নিশ্চিন্তে কার্ড দিয়ে ফেলবেন না। সম্ভব হলে কাউন্টারে গিয়ে নিজের চোখের সামনে থাকা অবস্থায় বিল দিন। রেস্টুরেন্ট যত নামিদামিই হোক না কেন, বিশ্বাস করবেন না। (আমি ভুক্তভোগী। আমেরিকার এক নামকরা জায়গায় রেস্টুরেন্টের ওয়েটার আমার ক্রেডিট কার্ড কপি করে নিয়েছিলো। ভাগ্য ভালো ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি সন্দেহজনক চার্জ দেখে আমাকে ফোন করেছিলো।)

স্কিমিং এখন বেশ লো-টেক সাইবার ক্রাইম। তবে বাংলাদেশে এটা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষসহ কারো ধারণা নাই বলে পিটার নামের ঐ বিদেশী প্রতারক তার সুযোগ নিয়েছে। এবার নামবে মাঠে দেশি প্রতারকেরাও। কাজেই সময় থাকতে সাবধান হন।

লেখক: ডঃ রাগিব হাসান, কম্পিউটার বিজ্ঞানী, সহকারী অধ্যাপক, ইউনিভার্সিট অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top