শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - যাত্রা শুরু করলো ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - নতুন স্মার্টফোন আনল হুয়াওয়ে অনার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্বল্প মূল্যের গ্যালাক্সি সিরিজের ফোন ‘অন৭ প্রাইম’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - একত্রে কাজ করবে এটুআই এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ল্যাপটপের সঙ্গে রাউটার ফ্রি! | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ‘অপো এশিয়ায় সর্বাধিক বিক্রীত স্মার্টফোন’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - চীনে চালু হচ্ছে গুগলের এআই ল্যাব | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - বৈদ্যুতিক গাড়িতে ১১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ফোর্ডের আগ্রহ প্রকাশ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - উইন্ডোজ ৮.১ এর বিদায় | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - স্যামসাংকে টপকে গেলো অ্যাপল |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / কার্যকর নেই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ই-সেবা
কার্যকর নেই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ই-সেবা

কার্যকর নেই সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের ই-সেবা

সরকারি বিভিন্ন সেবা সহজেই জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটালাইজেশনের কার্যক্রম শুরু হয় বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনাগ্রহ, দক্ষ জনবলের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সেবাই এখন অকার্যকর। শুধু তা-ই নয়, চালু থাকা সেবাগুলো পেতেও ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আবুল হাসনাতের অভিযোগ, সেবাদানের জন্য নির্ধারিত হটলাইনে ফোন করেও কাউকে পাওয়া যায় না এমন অভিজ্ঞতা যেমন আছে, তেমনি ওয়েবসাইটে দেয়া প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন কিংবা অভিযোগ জানানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায় না।

২০১০ সালের ৪ মার্চ অনলাইনে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সুবিধা চালু করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এ সেবার মাধ্যমে থানায় না গিয়েও জিডি করার সুবিধা পায় নাগরিকরা। এতে সময়ের পাশাপাশি ভোগান্তি কিছুটা কমে এলেও পরে বন্ধ হয়ে যায় এ সেবা। একইভাবে অনলাইন সেবা চালু হওয়ায় আগের তুলনায় অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে পাসপোর্ট করার কাজ। কিন্তু ছবি তোলা ও অর্থ জমাদান প্রক্রিয়া আগের মতো থাকায় পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক হয়ে ওঠেনি সেবাটি। এছাড়া ই-টিআইএন, অনলাইন সিআইবি, ই-রিটার্ন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ আরো বেশকিছু অনলাইনভিত্তিক সেবা চালু হলেও নিয়মিত হালনাগাদ না করা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এগুলোর অনেক সেবাই এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না।

e-services

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপের (বিডিনগ) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি সুমন আহমেদ সাবির বলেন, দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সেবা চালু করা হয় প্রকল্পের ভিত্তিতে। প্রকল্প শেষ হয়ে গেলে সেবার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আগ্রহ থাকে না। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।

যোগাযোগ করা হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, সরকারি সেবা জনগণের কাছে আরো সহজে পৌঁছে দিতে আগামীতে আইসিটির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। জনগণের আরো কাছে যাওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে সেলফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) উন্মুক্ত করা হয়েছে। আপাতত এসব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সেবার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যাবে। পরে অ্যাপের মাধ্যমেই আরো সেবা দেয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও সংস্থার নির্বাচিত সেবা সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে ১০০টি সেলফোন অ্যাপ তৈরি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৫টি অ্যাপ উন্মুক্ত করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। এগুলো হলো— ঢাকা চিড়িয়াখানা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), সরকারি সেবা, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশ (এফডিসি), তথ্য অধিকার আইন, হসপিটাল ফাইন্ডার, বিএইচবিএফসি লোন ক্যালকুলেটর, নজরুলগীতি, সঞ্চিতা, কপিরাইট আইন, আর্কিওলজি অব বাংলাদেশ, পাবলিক লাইব্রেরি, টেক্সটাইল ক্যালকুলেটর, প্রাইজ বন্ড, ই-জয়িতা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, অফিসের ব্যায়াম, ’৭২-এর সংবিধান, নদ-নদীর তথ্য, মাদকদ্রব্য ও কিশোর অপরাধ, ইমিউনাইজেশন অ্যালার্ট, ইনসেক্ট কন্ট্রোল অব ক্রপ, রুফ গার্ডেনিং এবং ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ। গুগল প্লে স্টোর ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ওয়েবসাইটে দেয়া হয়েছে এসব অ্যাপ। এসব অ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পাবেন ব্যবহারকারীরা।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক এসব সেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় ই-সেবা কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় ই-সেবা আইনের আওতায় গঠন করা হবে এ কর্তৃপক্ষ। আইনের খসড়াটি চূড়ান্তের কাজ করছে আইসিটি বিভাগ। ই-সেবা কার্যক্রম সমন্বয়ে এ আইনটির আওতায় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেবে সরকার। এ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ই-সেবার অনুমোদন দেবে। অনুমোদিত এসব সেবা নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা। আবেদনপত্র, লাইসেন্স, পারমিট, সার্টিফিকেট ও সরকারি সেবাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে ই-সেবার মাধ্যমে। ফলে দ্রুত ও ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পাবেন নাগরিকরা।

জাতীয় ই-সেবা আইনের খসড়া অনুযায়ী, ই-সেবা গ্রহণকারীর করণীয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বিধি তৈরি করবে কর্তৃপক্ষ। ই-সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া ও মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবে কর্তৃপক্ষ। বিধির আওতায় জাতীয় ই-সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে প্রত্যেক সংস্থা প্রধান কিংবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেয়া সেবার তালিকা প্রকাশ করবে। সেবার ধরন অনুয়ায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি নিতে পারবে। এছাড়া স্বীকৃত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠাগার ও সাইবার ক্যাফেসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধ করতে উপযুক্ত কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবে ই-সেবা কর্তৃপক্ষ।

২০১৩ সালে জাতীয় ই-সেবা বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় আইসিটি বিভাগ। একই বছরের অক্টোবরে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে বিধিমালাটি ভেটিং ছাড়াই ফেরত দেয় আইন মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিধিমালার পরিবর্তে জাতীয় ই-সেবা আইন প্রণয়ন করার পরামর্শ দেয় মন্ত্রণালয়। গত বছরের আগস্টে খসড়া চূড়ান্তকরণে গঠিত কমিটির বৈঠকে এর বিভিন্ন ধারা সংশোধনের বিষয়ে প্রস্তাব দেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা। খসড়ায় আইন লঙ্ঘনকারীর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলেও তার পরিবর্তে জরিমানার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, খসড়াটি সংশোধনে যেসব প্রস্তাব পাওয়া গেছে, সেগুলোর আলোকে এটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া আইনের খসড়াটিতে মূলত অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে মনে করেছে কমিটি। এটিকে নাগরিক সেবাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top