শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বন্ধ হচ্ছে উইকিপিডিয়ার ডেটা ছাড়া তথ্যসেবা | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বাজারে এলো সিউ কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ নেটওয়ার্ক লেবেল প্রিন্টার | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - জুতা পরে হাঁটলেই চার্জ হবে ফোন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - নতুন সংস্করণে আসুসের গেইমিং ল্যাপটপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - টাটা নিয়ে আসছে ড্রাইভারলেস গাড়ি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - চার মোবাইল অপারেটর পেল ফোরজি লাইসেন্স | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - স্যামসাংয়ের ক্ষতির কারন আইফোন ১০ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - নতুন কনফিগারেশনে আসছে নোকিয়া ৬ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - স্যামসাং গ্যালাক্সি জে২ এলো ফোর-জি রূপে | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - এখনই ফোরজি সেবা পাবেনা টেলিটক গ্রাহকরা |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / কোক বনাম পেপসি-প্রতি ম–হূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা
কোক  বনাম  পেপসি-প্রতি ম–হূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা

কোক বনাম পেপসি-প্রতি ম–হূর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা

বর্তমান বিশ্বে কোমল পানীয়ের বাজারে কোকাকোলা এবং পেপসি অপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটি নাম। জনপ্রিয়তার কথা বিচার করলে কেউ কারো চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তাইতো বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় এই দুটি ব্রান্ড প্রতিনিয়ত ব্যসত্ম রয়েছে।

25-coke

আপনি কি কখনো এটা ভেবে আশ্চার্যাম্বিত হননি যে কেন কোক এবং পেপসি বিগত বছর গুলোতে একে অন্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে? এই যুদ্ধের ব্যাপারে ম–ল কারণটা অনেক সময়ই ঢাকা পড়ে যায়। এটি শুধুমাত্র পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয় বরং প্রকৃত কারণটি হলো কার চেয়ে কে বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারে। কোম্পানীদ্বয় এই ব্যাপারটির ওপরেই সরাসরি কাজ করে এবং চাতুর্যতার সাথে ব্যবহার করে।

অধিকাংশ দেশেই এজেন্সীগুলো গঠন করা হয় ক্যাটাগরির উপর ভিত্তি করে। যারা হিসাব পরিকল্পনাকারী, সৃজনশীল এবং জনগণকে সেবা দেবেন তারাই শুধুমাত্র এই ক্যাটাগরিতে বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকবেন এবং এজেন্সি থেকে এজেন্সিতে ক্যাটাগরী লাইন অনুযায়ী মুভ করবেন। আসলে বিজ্ঞাপনের দরকারী জিনিষগুলোই নির্দিষ্ট করে দেয় কাজের জন্য কোন ক্যাটাগরীর অভিজ্ঞতা দরকার। ব্রান্ড ম্যানেজারও এই দৌড়ে শামিল হন। এই ব্যাপারটিই ক্রেতাদের আকৃস্ট করার জন্য গভীর চিন্ত্মা ভাবনার দিকে মোড় নেয় এবং জোর দেয় প্রচার কৌশল ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের দিকে।

ক্যাটাগরীর ব্যাপারটি আরও ভাল করে বুঝার জন্য যদি আমরা একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে ব্যাপারটি চিন্ত্মা করি তাহলে দেখব বাজার সর্বোচ্চ দুই থেকে চারটি কোম্পানী নিয়ন্¿ণ করছে এবং প্রতিযোগিতাও এদের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। সুতরাং মার্কেটিং করার জন্য কোন জিনিষগুলো সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন? তিনটি জিনিষ প্রয়োজন, আর সে গুলো হচ্ছেঃ সর্বোচ্চ দৃষ্টি আকর্ষণ করা, সহজলভ্যতা, সর্বোচ্চ ক্রেজ তৈরি করা।

সর্বোচ্চ দৃষ্টি আকর্ষণ করা ঃ এখানে দুটি বিষয় রয়েছে, একটি হচ্ছে মিডিয়ার মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা আর অপরটি ভোগ করা ও খরচ করার সাথে সম্পর্কযুক্ত। ১ম বিষয়টির মানে হলো বিজ্ঞাপনের পেছনে বিশাল বিনিয়োগ করা এবং সাধারণের কাছে একই বিষয় বা ম্যাসেজ বারবার তুলে ধরা। যেমন আপনি স্মরণ করতে পারেন ‘টেস্ট অফ থান্ডার বা অল ওয়েস কোকাকোলা বা দিল মাঙ্গে মোর। যা খুবই সাধারণ এবং মনে রাখার মত। এগুলোই হলো ম–ল কথা। যদি আপনি চার থেকে ৫টি শব্দের মধ্যে ম্যাসেজটি তৈরি করতে না পারেন তবে সেটি ভুলে যাওয়াই ভাল।

আর এই কথাগুলো আপনার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে আপনারই প্রিয় অভিনেতা অভিনেত্রীর গান। যেমন সম্প্রতি পেপসির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ও প্রিয়াংকা চোপড়া একই সাথে এর কিছুদিন যেতে না যেতেই কোক বিজ্ঞাপন বানিয়েছে আরেক বিখ্যাত অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাইকে দিয়ে। দুই কোম্পানীরই উদ্দেশ্যই পরিষ্কার, আর তা হলো যেকোনভাবেই হোক না কেন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে।

সহজলভ্যতা ঃ যদি আপনি দেখেন যে আপনি ১টি কোম্পানীর পানি পান করছেন তবে তখনই আপনি ঐ কোম্পানীটির মার্কেট শেয়ার এর একটি ক্যাটাগরিতে পরে যাচ্ছেন। আর সহজলভ্যতা এখানে খুবই গুরুত্বপ–র্ণ ভূমিকা পালন করে। অধিকাংশ সময়ই ব্রান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং ক্লায়েন্ট সার্ভিসিং টিম মনোযোগ দেয় নতুন প্যাকেজ এবং উত্সবের দিকে। এ সময় তারা নিত্য নতুন এবং আকর্ষণীয় অফার প্রদান করে।

সর্বোচ্চ ক্রেজ তৈরি করা ঃ এই ক্যাটাগরীর ম–ল পার্থক্যই হলো ক্রেজ সৃষ্টি করা। এছাড়া আর কিভাবে এই রঙিন মিষ্টি পানীয়টি মাল্টি বিলিয়ন ডলার ব্যবসার উপাত্ত হতে পারল? ব্রান্ড পারসনালিটিই তৈরি করতে পারে অথবা ভাঙতে পারে একটি ব্রান্ড ক্যাটাগরি। ম–ল কৌশলটাই বিদ্যমান থাকে সম্পর্কযুক্ত একটি অভিজাত ধারা খুঁজে বের করার জন্য। ইন্ডিয়াতে কোকের অধিকাংশ সমস্যাই এই ব্যাপারে। তারা সৃজনশীল কিছু একটার অভাব বোধ করছে। কোম্পানীর এখন এটা মনে রাখা উচিত্ এটা কোথায় বৃদ্ধি পেতে চায় অথবা আন্ত্মর্জাতিক এজেন্সির সাথে একটা সম্পর্ক। মনে রাখা দরকার ‘থামস আপ’ প্রথম তৈরি হয়েছিলো ‘টেস্ট অফ থান্ডার’ কমার্শিয়ালে। কিছু জায়গায় যদিও এটা নিচে নেমে গিয়েছিলো কিন্তু দারুণ ভাবে এই পয়েন্টটি ব্যবহার করে ব্রান্ডটি একটি দারুণ ক্রেজ তৈরি করেছে। সুতরাং, একটি ব্রান্ড কিভাবে সঠিক ক্রেজ তৈরি করতে পারে? এ ব্যাপারে কোম্পানীগুলো প্রতিনিয়ত রিসার্চ করছে বেশি করে এবং বিভিন্ন জিনিষে কাষ্টমারদের এটিচুড ফলো করছে কারণ ব্রান্ড সর্বদাই টিকে থাকে বৃহত্ কনটেক্সট এ।

যে কোন নতুন, মন কাড়া এবং আকর্ষণীয় আইডিয়াই বিজ্ঞাপন তৈরিতে মুল প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া মডেল নির্বাচন, ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক আর আকর্ষণীয় ডায়ালগ অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে। ব্রান্ড ম্যানেজারস এবং একাউন্ট হ্যান্ডেলার্সরা প্রতিনিয়ত এই ধারণাটাই প্রয়োগ করছেন তাদের টার্গেট ক্রেতাদের উপর।

কোক বনাম পেপসি ঃ লড়াই চলছে, চলছে বিদেশী বাজার দখলের জন্য

কোমল পানীয় যুদ্ধক্ষেত্র এখন মোড় নিয়েছে নতুন বাজার দখলের দিকে। একটা সময় আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং পশ্চিম ইউরোপ ছিলো কোমল পানীয়র ম–ল বাজার। কিন্তু তাদের ব্যবসার বৃদ্ধি হঠাত্ নাটকীয়ভাবে কমে যায়। তারপরও এ দেশগুলো কোকাকোলা ও পেপসির জন্য গুরুত্বপ–র্ণ বাজার। যাই হোক প–র্ব ইউরোপ, মেক্সিকো, চায়না, সৌদি আরব এবং ইন্ডিয়া হলো এদের নতুন ‘হট স্টর্স। কোক এবং পেপসি এই দুই কোম্পানীই চাচ্ছে এ সমসত্ম দেশে তাদের আধিপত্য বিসত্মার করতে এবং অন্যান্য যেখানে তাদের ব্যবসা বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। ইতিপ–র্বে আমরা যা দেখলাম আন্ত্মর্জাতিক বাজার খুবই জটিল। একটি কোম্পানী যদি বিদেশী বাজারে প্রবেশ করতে চায় তবে অনেক ইস্যুই অন্ত্মর্ভুক্ত করতে হয়। আর এই ব্যাপারটি খুবই সহজবোধ্য করবে যদি কেউ আন্ত্মর্জাতিক কোলা যুদ্ধ অধ্যয়ন শুরু করতে চান। কোকাকোলা এবং পেপসির ঘরোয়া ‘কোলা যুদ্ধ’ এখনও চলছে। যাই হোক এই দুই কোম্পানীই বুঝতে পেরেছে যে বিভিন্ন মার্কেটে তাদের বাজার বৃদ্ধির সুবিধা হ্রাস পেয়েছে।

প–র্ব ইউরোপে কোক ও পেপসির বাণিজ্য

কোক ও পেপসি উভয়েই চেষ্টা করছে প–র্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এমন দামে তাদের পণ্য সরবরাহ করতে যাতে কনজ্যুমাররা সহজে কিনতে পারে। প–র্ব ইউরোপে যে জিনিষগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপ–র্ণ হয়ে উঠেছে তা হলো রং, পণ্যের আকর্ষণীয় ডিসিবিলিটি এবং ডিসপে– কোয়ালিটি। এতে থাকবে সহজলভ্যতা (স্থানীয় উত্পাদন বৃদ্ধি করে চাহিদা মেটানো), গ্রহণযোগ্যতা (ব্রান্ড ইকুইটি তৈরি করা) এবং সামর্থ্য (স্থানীয় ব্রান্ড থেকে দাম বেশি কিন্তু সামর্থের মধ্যে)। আর এগুলোই হলো ম–ল চাবিকাঠি। উভয় কোম্পানীই আশা করছে তাদের পশ্চিমা ইমেজ এবং ব্রান্ড পণ্য তাদের বিক্রি বাড়াতে সাহায্য করবে। প–র্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৯২ সালে ফোর টু ওয়ান লিড নিয়েছিলো। এই জায়গাটা ছাড়া পেপসির ১২% শেয়ারের কোকের শেয়ার দাড়িয়েছিলো ১৭% কোমল পানীয়র বাজারে। যদিও এই ২ কোম্পানীই অনেকদিন ধরে প–র্ব ইউরোপে আছে তাই তাদের এখন ম–ল কাজ হলো বাজার উন্নত করা। কোক, পেপসি উভয়েই ড্যাকাইটে লিপ্ত কিন্তু শেষে দুজনেই জয়ী। সবশেষে প–র্ব ইউরোপের বিজয়ীই পারবে বিশ্বের ১টি সেরা সফট ড্রিংক কোম্পানী হতে।

বাংলাদেশে এর প্রভাব

ইন্ডিয়ার নিকটতম প্রতিবেশী হবার কারণে এবং কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপনের প্রভাবে বাংলাদেশেও মাঝে মাঝে এর প্রভাব পড়ে। তবে পেপসির তুলনায় কোকের প্রভাবটা একটু বেশিই লক্ষ্য করা যায় বাংলাদেশের বাজারে।

কোলা যুদ্ধের নতুন বাজার উন্মোচন হয়েছে ইস্টার্ন ইউরোপে (রাশিয়া, রোমানিয়া, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরী এবং পোল্যান্ড)। এছাড়া রয়েছে মেক্সিকো, চীন, ইন্ডিয়া ও সৌদি আরব। এই সমসত্ম দেশে কোক এবং পেপসির বিজ্ঞাপন শুধুই বিশ্বব্যাপী তাদের বাণিজ্য বিসত্মার করছে না বরং তারা সাহায্য করছে অর্থনীতি ডেভেলপ করতে।

একটি কোম্পানীকে বিদেশের মাটিতে স্থান করে নেবার জন্য অনেক কিছুই দেখতে হয়। যেমন রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, অপারেশনাল এবং পারিপার্শ্বিক ব্যবস্থা। যখন কোক ও পেপসির মত কোম্পানীগুলোর মতে কোন কোম্পানী এ সমসত্ম ব্যাপার সমাধা করতে পারে তখন তারা বিদেশের বাণিজ্য অনেকদ–র যেতে পারে। কোক ও পেপসির এই যুদ্ধ কবে থামবে তা কেউ জানে না। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কোমল পানীয়ের বাজারে এই দুটি দেশ অনেকদিন ধরেই প্রাধান্য বিসত্মার করে আসছে এবং নিকট ভবিষ্যতেও বোধ হয় করবে। কারণ তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এখনও তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

ড় মোঃ জহির উদ্দিন ও মোঃ আব্দুল মোমেন

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top