শিরোনাম

মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস ইউপের যাত্রা শুরু | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হুয়াওয়ে মেট ১০ এ যা আছে | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - শাওমির নতুন ফোন রেডমি ৫এ | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ফাঁস হয়ে গেল নোকিয়া ৯ এর গোপন সমস্ত তথ্য | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হ্যাকারদের লক্ষ্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাংকগুলো | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - এডিএন ইডু সার্ভিসেস এর উদ্দেগে এজাইল বিষয়ক কর্মশলা অনুষ্ঠিত | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - প্রথম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডসে গ্রামীণফোনের ব্যাপক সাফল্য | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - গুগলের এই এয়ারপড হেডফোন যখন ট্রান্সলেটর | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - কম্পিউটার গেমের আসক্তিতে হতে পারে ভয়াবহ পরিণতি | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ওটিসি ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে বাংলাদেশী গবেষকের বিস্ময়কর উদ্ভাবন
ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে বাংলাদেশী গবেষকের বিস্ময়কর উদ্ভাবন

ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে বাংলাদেশী গবেষকের বিস্ময়কর উদ্ভাবন

cloudবর্তমান সময়ে প্রযুক্তি বিশ্বে যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে, ক্লাউড কম্পিউটিং তার মধ্যে অন্যতম। নিত্যনতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে ক্লাউড কম্পিউটিংকে জনপ্রিয় করতে কাজ করে যাচ্ছেন গবেষকরা। এ তালিকায় এবার যুক্ত হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা বার্মিংহামের বাংলাদেশী গবেষক রাগিব হাসান এবং তারই অধীনে সদ্যপিএইচডি করা অপর গবেষক রাসিব খান। তারা এমন একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করেছেন যা অনায়াসেই জুড়ে দেওয়া যাবে পোশাকের সাথে। অর্থাৎ একে বলা যেতে পারে পরিধেয় ক্লাউড কম্পিউটার।
সম্প্রতি এই দুই গবেষক তাদের উদ্ভাবনের একটি প্রোটোটাইপ‘ক্লাউড জ্যাকেট’ প্রদর্শন করেছেন ‘আইইইই কম্পিউটার সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কম্পিউটারস, সফটওয়্যার অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস’ শীর্ষক একটি সম্মেলনের ৪০তম আসরে।
এই জ্যাকেটে থাকা ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেমটি তৈরিতে তারা ব্যবহার করেছেন ১০টি রাষ্পবেরি পাই কম্পিউটার বোর্ড, একটি পুরনো জ্যাকেট, তিনটি পাওয়ার ব্যাংক এবং একটি ছোট রিমোট টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে।
এই উদ্ভাবন সম্পর্কে রাগিব হাসান বলেন, ‘আপনি যদি একটি স্মার্টওয়াচ, স্মার্টফোন, এক্সারসাইজ ট্র্যাকার এবং স্মার্টগ্লাস একসাথে ব্যবহার করতে চান, তাহলে প্রতিটি মূল্যবান ডিভাইস আপনাকে আলাদাভাবে কিনতে হবে যেগুলো আবার একসাথে কাজ করতে সক্ষম নয়।‘ তিনি আরও বলেন,‘এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে একটি কম্পিউটেশনাল প্ল্যাটফর্ম যা বিভিšক্ষ্ম মোবাইল এবং পরিধেয় ডিভাইস সমর্থন করবে। আর সেইসাথে পুরো সিস্টেমের জন্য খরচও হবে অনেক কম।‘
শক্তিশালী প্রসেসরের প্রয়োজনীয়তা এবং গ্রাহকদের অধিকপারফর্মেন্স প্রত্যাশার কারণে পরিধেয় এবং মোবাইল ডিভাইসগুলো যেমন জটিল হচ্ছে, তেমনি দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি স্মার্টওয়াচম স্মার্টগ্লাস, স্মার্টফোন এবং ফিটনেস ট্র্যাকারের জন্য একজন ব্যবহারকারীকে দুই থেকে তিন হাজার ডলার খরচ করতে হয়। অন্যদিকে এই স্মার্ট জ্যাকেটে থাকবে মোটামুটি ১০ গিগাবাইট র‌্যাম, যেখানে একটি স্মার্টফোনে থাকে এক থেকে তিন গিগাবাইট র‌্যাম। আর মেমোরি? প্রতিটি রাষ্পবেরি পাইতে আছে ৩২ গিগাবাইট মেমোরি। সে হিসেবে ১০টি রাষ্পবেরি পাই মিলে মেমোরি দাঁড়াচ্ছে ৩২০ গিগাবাইট।
সাধারণত বেশিরভাগ মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহƒত প্রসেসর ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপের প্রসেসরের তুলনায় ১০গুন ধীরগতির যার কারণে এসব ডিভাইসে অনেক কাজই করা যায় না। এর পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপও দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে যার সাথে পাল্লা দিতে নতুন নতুন মোবাইল এবং পরিধেয় ডিভাইস বাজারে আনতে হচ্ছে। আর এ কারণে বাড়ছে এসব ডিভাইসের দাম।
রাগিব হাসান তাদের এই স্মার্ট ক্লাউড সম্পর্কে আরও বলেন, ‘এই ক্লাউড কম্পিউটারটির মাধ্যমে করা যাবে অনেক কাজ। প্রথমত, যিনি এটি পরে থাকবেন, তার সাথে থাকবে একটি শক্তিশালী ডেটা সেন্টার যার মাধ্যমে তিনি অনেক কাজই করতে পারবেন খুবই দ্রুততার সাথে। দ্বিতীয়ত, বিভিšক্ষ্ম স্মার্ট ডিভাইস যেমন- স্মার্টফোন, স্মার্টগ্লাস কিংবা স্মার্টওয়াচ আলাদাভাবে কেনার জন্য প্রতিটির পেছনে খরচ করতে হবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি। কিন্তু এই ক্লাউড জ্যাকেট তৈরিতে খরচ হচ্ছে এর তুলনায় অনেক কম। এই খরচের পরিমাণ ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকাতেও নামিয়ে আনা সম্ভব।‘
এই ক্লাউড কম্পিউটারটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ফিটনেস ট্র্যাকিং ডিভাইসের একত্রিত একটি বিকল্প হতে পারে এটি। এর সাথে আছে একটি রিমোট টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে যা ক্লাউড কম্পিউটারটির বিভিšক্ষ্ম তথ্য প্রদর্শন করবে। আর তাই একে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস হিসেবে, আবার ভালো না লাগলে আইফোন হিসেবে।‘
তবে এই ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেমটি কি শুধু জ্যাকেটেই সীমাবদ্ধ থাকবে? দুই গবেষক এ বিষয়ে জানান, দৈনন্দিন জীবনেবহণ করে নিয়ে চলা যায়, এমন যেকোনো কিছু যেমন- ব্রিফকেস, পার্স কিংবা ব্যাকপ্যাক, সবকিছুতেই একে যুক্ত করে নিয়ে কাজ করা যাবে। তাদের মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেকভাবে উপকৃত হওয়া সম্ভব। দুর্যোগের সময় এটি ব্যবহার করে দ্রুত যোগাযোগ এবং তথ্য আদানপ্রদান থেকে শুরু করে যুদ্ধক্ষেত্রে একজন সৈনিকের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই প্রযুক্তিটি। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও এর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন এই দুই গবেষক। তাদের মতে, রোগীর শরীরে ছোট আকারে এই ক্লাউড কম্পিউটিং সিস্টেমটি স্থাপন করার মাধ্যমে সহজেই তার শরীরের বিভিšক্ষ্ম তথ্য পাওয়া যাবে।
রাগিব হাসান বলেন, ‘সাত থেকে দশজন মানুষ যদি এই ক্লাউড জ্যাকেট পরিধান করে, তাহলে একসাথে তারা একটি হাইপার ক্লাউড তৈরি করতে পারবেন যা অনেক শক্তিশালী একটি ব্যবস্থা। এই জ্যাকেট একইসাথে মাইক্রো কিংবা পিকওসেল টাওয়ার হিসেবেও কাজ করতে পারবে। আর ওয়াইফাই কিংবা ব্লুটুথ ব্যবহারের মাধ্যমে এই ক্লাউড জ্যাকেটের বিভিšক্ষ্ম ক্ষমতা একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্কের মধ্যে শেয়ারও করে নেওয়া যাবে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top