শিরোনাম

রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - উদ্বোধনের অপেক্ষায় শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্ক | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - আপনারই কিছু ভুল হয়তো অজান্তে ফোনের পারফরম্যান্স খারাপ করছে | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - খুলনায় দুইদিনের বেসিক আরডুইনো কর্মশালা অনুষ্ঠিত | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - ঢাকা মহিলা পলিটেকনিককে স্যামসাং এর পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক ল্যাব হস্তান্তর  | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - সিডস্টারস ঢাকায় দেশের সেরা স্টার্টআপ সিমেড হেলথ | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে মডেম হিসেবে ব্যবহারের উপায় | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - আসছে নকিয়ার আরও দুই ফোন | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - ফেসবুকের পাঁচ মজাদার অপশন যা জানেন না অনেকেই | রবিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2017 - প্যাটার্ন লকও নাকি অনিরাপদ! | শনিবার, সেপ্টেম্বর 23, 2017 - ৭-১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে অ্যাপিকটা অ্যাওয়ার্ডস ২০১৭ |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / গতানুগতিক ধারার বাইরে আধুনিক পলিটেকনিক বিএসডিআই
গতানুগতিক ধারার বাইরে আধুনিক পলিটেকনিক বিএসডিআই

গতানুগতিক ধারার বাইরে আধুনিক পলিটেকনিক বিএসডিআই

প্রকৌশলী হতে হলে শুধুমাত্র সরকারি- বেসরকারি কোন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তে হবে এমনটা নয়; বরং কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থাকা পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করে একজন সফল প্রকৌশলী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা যায়। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা।

এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে সর্বাত্মক সহায়তার অঙ্গীকারবদ্ধ ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন পরিচালিত বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন দেশের সর্বাধুনিক ও সম্পূর্ণ তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক বেসরকারি পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই)। যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ৪ বছরমেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করে একজন সফল প্রকৌশলী হতে পারেন।

bsdi-boby-corporateবাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পলিটেকনিকে পড়াশোনার খুঁটিনাটি দিক নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) এর সহকারী পরিচালক কেএম পারভেজ ববি।

ববি বলেন, ‘ড্যাফোডিল ফাইন্ডেশনের স্কুল থেকে শুরু করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রের একটি বড় অংশ তরুণ। আর তরুণরাই দেশের সবথেকে বড় শক্তি। তরুণ সমাজের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে পরে। তবে তাদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। যেখান থেকে তারা পড়াশোনা করে একজন সফল প্রকৌশলী হতে পারেন। এক্ষেত্রে পলিটেকনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট একটি গতানুগতিক ধারার বাইরে আধুনিক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।’

বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। এসময় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে ভোকেশনাল ট্রেনিং দিয়ে থাকত। এরপর ২০০৬ সাল থেকে বিএসডিআইয়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং চালু হয়। পরবর্তীতে এর সাথে যুক্ত করা হয় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল টেকনোলজির মতো বিভাগ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইলের মধ্যে আছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও গার্মেন্টস ডিজাইনের প্যাটার্ন মেকিং। অপর বিভাগ মেডিকেল টেকনোলজির মধ্যে আছে ডেন্টাল, ফার্মাসি ও প্যাথোলজি এই বিষয়গুলো আমরা পড়াই। আর এগুলো সবই ৪ বছরমেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং।’

গতানুগতিক ধারার বাইরে একটি আধুনিক পলিটেকনিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট একটি গতানুগতিক পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান নয়। এখানে আমাদের দায়িত্ব শুধুমাত্র একজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাকে আমরা কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে রোড ম্যাপ তৈরি করে দিয়ে থাকি। আর একজন শিক্ষার্থীকে আধুনিক শিক্ষাদানে আমাদের সব ব্যবস্থাই রয়েছে।’

নিজ উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে চায় এমন শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব আধুনিক ল্যাব এবং রোবটিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং নামের পৃথক দুটি ক্লাব। এই ল্যাবে শিক্ষার্থীরা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিজস্ব যেকোনো প্রজেক্ট নিয়ে গবেষণা করতে পারে।

বরাবরই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি উদ্ভাবনী প্রজেক্ট প্রদর্শনীর আয়োজন করে বিএসডিআই। যেখানে শিক্ষার্থীরা দলগত ভাবে অংশগহণ করে এবং রোবটিক্সয়ের উপর উদ্ভাবনী ৪৭টি প্রজেক্ট তুলে ধরে। এই প্রদর্শনীতে অংশ নেয় প্রায় ২০০’র অধিক শিক্ষার্থী। প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত প্রজেক্টের মধ্যে পাঁচটি প্রজেক্ট বাজারে আসার উপযোগী এবং একটি প্রজেক্ট বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে।

এ প্রসঙ্গে ববি বলেন, ‘সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের তুলনায় কোন অংশেই পিছিয়ে নেই পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা। তাদেরও উদ্ভাবনী কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা রয়েছে। শুধু প্রয়োজন সঠিক তত্ত্বাবধান এবং চর্চার সুযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) শিক্ষার্থীদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য সুযোগ দিচ্ছে এবং উৎসাহিত করছে উদ্ভাবনী কিছু করে দেখাতে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও এই ব্যাপারে খুবই আন্তরিক এবং সবসময়ই শিক্ষার্থীদের তত্ত¡াবধান করে থাকে।’

এ ছাড়াও যেসকল শিক্ষার্থী একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে চায় তাদের সহায়তায় রয়েছে ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল’ নামের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা। যেখানে শিক্ষার্থীকে নিজের উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে সহায়তার পাশাপাশি আর্থিকভাবে সাবলম্বি করতে সর্বাত্মক সহায়তা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকের ভেতরই রয়েছে উদ্ভাবনী ধারনা এবং নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট তৈরির ইচ্ছা এবং ক্ষমতা। নিজেই উদ্যোক্তা হতে চান। তাদের সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। আর এমন শিক্ষার্থীর জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সঠিক পরিচর্যা এবং দিক নির্দেশনা। আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী এ ব্যাপারে তাদের বরাবরই সহায়তা করে আসছেন।’

শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানের করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রায়ই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজিন করা হয়। যেখানে দেশ- বিদেশের উদ্ভাবকরা তাদের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সাথে ভাগাভাগি করে।

এ প্রসঙ্গে ববি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে করে শিক্ষার্থীরা আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছে। পাশাপাশি তারা যেসকল বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করবে বলে স্বপ্ন দেখছে সেই প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের একটি ধারনা হচ্ছে। এতে করে তাদের চাকরি পাওয়া এবং সে অনুযায়ী নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার দিকনিদের্শনা পাচ্ছে।’

শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাকরি পাওয়ার অনুপাত ৯৮ শতাংশ। অনেকেই বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে এবং বেশ ভাল করছে। অনেকে আবার হয়েছেন সফল উদ্যোক্তা। তবে আমাদের চেষ্টা থাকে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের কর্মস্থলে চাকরি পাওয়ার জন্য তাকে যোগ্য করে গড়ে তোলার।’

সম্প্রতি চাঁদপুরে বিএসডিআই এর নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন ক্যাম্পাসটিতে বর্তমানে শুধুমাত্র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। ধীরে ধীরে অন্যান্য বিভাগগুলোও চালু করা হবে। তবে গ্রামের মতো জায়গাতেও শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নিয়ে পড়তে আগ্রহের কমতি নেই। এমনকি আমাদের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ঢাকার শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে।’

ববি আরও বলেন, ‘তবে উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশে এখনও টেকনিক্যাল বিষয়ে পড়াশোনা গুরুত্ব পায়নি। তার কারণ হচ্ছে এই বিভাগ থেকে কি করা সম্ভব তা অধিকাংশ অভিভাবকেরই জানা নেই। তাই প্রয়োজন সামাজিক সচেতনা।’

তবে পূর্বের তুলনায় গত দুই বছরে এই ধারনা পাল্টাতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ববি বলেন, ‘প্রকৌশলী হতে চাওয়া একজন শিক্ষার্থীর উচিত এসএসসি শেষে সরাসরি ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করা। এসময় সে তার পছন্দের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয় বেছে নিয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে। এরপর সে বিএসসি এবং এমএসসি ডিগ্রি সহ উচ্চশিক্ষা নিতে পারে।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top