শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বন্ধ হচ্ছে উইকিপিডিয়ার ডেটা ছাড়া তথ্যসেবা | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বাজারে এলো সিউ কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ নেটওয়ার্ক লেবেল প্রিন্টার | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - জুতা পরে হাঁটলেই চার্জ হবে ফোন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - নতুন সংস্করণে আসুসের গেইমিং ল্যাপটপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - টাটা নিয়ে আসছে ড্রাইভারলেস গাড়ি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - চার মোবাইল অপারেটর পেল ফোরজি লাইসেন্স | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - স্যামসাংয়ের ক্ষতির কারন আইফোন ১০ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - নতুন কনফিগারেশনে আসছে নোকিয়া ৬ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - স্যামসাং গ্যালাক্সি জে২ এলো ফোর-জি রূপে | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - এখনই ফোরজি সেবা পাবেনা টেলিটক গ্রাহকরা |
প্রথম পাতা / টেলিকম / গ্রামাঞ্চলে টেলিকম বিপ্লব

গ্রামাঞ্চলে টেলিকম বিপ্লব

সারাবিশ্বে টেলিকমিউনিকেশন খাতটি দ্রুত গতিতে বিস্তৃত হচ্ছে। একইভাবে বেড়ে চলেছে বাংলাদেশের টেলিকম খাত। ইতোমধ্যেই দেশের ৬টি মোবাইল অপারেটর সারাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তাদের ব্যবসার মূল জায়গা শহরগুলো হলেও এখন শহরাঞ্চলে আগ্রহ সংখ্যা সে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। কেননা দেশের মোট গ্রাহক সংখ্যার সিংহভাগই শহুরে। এমন অবস্থায় সরকার এবং দেশের মোবাইল অপারেটর এমনকি পিএসটিএন অপারেটরা ধীরে ধীরে গ্রামাঞ্চলে তাদের গ্রাহক সেবা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে এবং সরকারও কোম্পানিগুলোকে গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সেবা বিস্তৃত করার জন্য উত্সাহীত করছে। বিশ্বব্যাপীও টেলিকমগুলো গ্রামাঞ্চলে তাদের সেবা বিস্তৃত করছে কেনা তাদের পরবর্তী ব্যবসার জায়গা এই গ্রামাঞ্চলগুলো। সেই সাথে ডিজিটাল ডিভাইড কমিয়ে আনাও তাদের চিন্তায় রয়েছে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সেবা পুরো মাত্রায় পৌঁছে দেয়া খুবই জরুরি। নিরবে গ্রামাঞ্চলে ঘটে যাচ্ছে বিপ্লব। তাই নিয়ে এই প্রতিবেদন

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ঢাকা অঞ্চলের জন্য নতুন পিএসটিএন লাইসেন্স দিয়েছে ৪টি পিএসটিএন অপারেটরকে। বিটিআরসি এই কোম্পানিগুলোকে লাইসেন্স দেয়ার সময় যেসব বিষয় বিবেচনায় রেখেছিল তার মধ্যে রয়েছে মফস্বল এবং তত্সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তাদের সেবা মান কেমন? বিটিআরসি চাইছে বাংলাদেশের টেলিকম কোম্পানিগুলো গ্রামাঞ্চলে এবং মফস্বলে তাদের সেবার মান বৃদ্ধি করুক। সে জন্য বিটিআরসি থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে টেলিকম কোম্পানিগুলো যেন তাদের সেবা নিয়ে গ্রামঞ্চল বা মফস্বলে পৌঁছায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এখন টেলিকম কোম্পানি এবং সে দেশের সরকার টেলিকমিউনিকেশন সেবা গ্রামাঞ্চালে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা উন্নয়নের জন্য টেলিকমিউনিকেশন সেবাকে পুরোমাত্রায় ব্যবহার করতে আগ্রহী। কম্বোডিয়ার গ্রামাঞ্চলে উচ্চ ব্যান্ডউইডথ এর ওয়্যারলেস সার্ভিস এবং স্ট্রেমিং মোবাইল টিভি চ্যানেল দেয়ার জন্য একটি নতুন থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ায় গ্রামাঞ্চাল কৃষকেরা ব্রডব্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে গিয়ে ইলেকট্রোনিক্যালি দেখতে পারছে কোন খাদ্য শস্যের বাজার দাম কত। অর্থাত্ উন্নয়নের জন্য স্বল্প উন্নত দেশগুলো গ্রামাঞ্চলে টেলিকম খাতে এক নিরব বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছে। এই বিপ্লবে যে সব টেলিকম টেকনোলজি ব্যবহৃত হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ম্যাক্স এবং থ্রিজি। এই বিপ্লবের কল্যাণে স্বল্প উন্নত যেসব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে হাইস্পিড ইন্টারনেট এক্সেস এবং নেক্সট জেনারেশন টেলিফোনি আর যা ব্যবহার করছে কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারী। এই অঞ্চলগুলোতে টেলিকম সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডাররা বৃহত্ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি যেমন এলকাটেল-লুসেন্ট, ইন্টেল, নোকিয়া-সিমেন্স নেটওয়ার্ক প্রভৃতি কোম্পানির সাথে যুক্ত হচ্ছে। এমনকি তারা জাতীয় এবং আঞ্চলিক সরকারী কর্মকর্তাদের সাথেও কাজ করছে অর্থনীতির উন্নয়নে এবং আঞ্চলিক নাগরিকদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে।

মেলবোর্নের ওভাম কোম্পানির বিশ্লেষক নাথান বুর্লি এর মতে, ‘গ্রাম এবং শহরের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে ব্যাপক ডিজিটাল ডিভাইড রয়েছে। সরকার চাইছে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং অবকাঠামো তৈরি করে দিয়ে এই ডিজটাল ডিভাইড কমিয়ে আনতে। সেই সাথে অনেক কোম্পানি দেখছে শহর-অঞ্চলে তাদের ক্রেতার বাজার আর বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সুতরাং নতুন সুযোগ সন্ধানের জন্য তারা গ্রামগুলোতে নিজেদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে। আর সেখানে তাদের ব্যবসা করার সুযোগও রয়েছে পুরোমাত্রায়’। এই প্রসঙ্গে ইয়াংকি গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফিলিপ মার্শেল এর মতো, ‘আমরা দেখছি গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সেবা বিস্তৃত হতে শুরু করেছে। এই কর্মকান্ডে স্থানীয় সরকার প্রশাসন দেশের উন্নয়নে জন্য সহযোগিতা করছে এবং সে সাথে এগিয়ে এসেছে বিশ্ব ব্যাংক ও ইউএস ট্রেড এন্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি’।

ইন্টেল কর্পোরেশন ইউএসএইড এবং ভিয়েতনাম ডাটা টেলিকমিউনিকেশন্স যৌথভাবে ভিয়েতনামের গ্রামাঞ্চলে ২৫টি খন্ডে প্রায় ৬ লক্ষ গ্রাহকের জন্য ওয়াই-ম্যাক্স সেবা দেয়ার কাজ করছে। এ সব অঞ্চলে আগে সামান্য কিছু ফিক্সড ল্যান্ডলাইন টেলিফোন সার্ভিস এবং ডিএসএল ব্রডব্যান্ড সেবা ছিল, কিন্তু তা পর্যাপ্ত ছিল না। এই খাতটি এখন পুষিয়ে যাবে বলে তারা মনে করছে। ইন্টেলে নিজস্ব গ্রামাঞ্চল উন্নয়নে উদ্যোগ রয়েছে এবং তারা তা তাদের ওয়ার্ল্ড এ্যাহেড প্রোগ্রামের মাধ্যমে করে থাকে। উন্নয়নশীল দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করার জন্য চার বছরে তারা এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে এক বিলিয়ন ডলার বিলি করেছে। এই কোম্পানি ওয়াইম্যাক্স নিয়ে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে সরকারের সাথে কাজ করছে। বিশ্বের ৪টি অঞ্চলে এই বিষয়ে তাদের রিসার্চ এবং ডিজাইন সেন্টার রয়েছে। এই চারটি অঞ্চল হল- সাংহাই, মুম্বাই, কায়রো এবং সাউপাওলো। সম্ভবত ইন্টেল একমাত্র কোম্পানি যারা সক্রিয়ভাবে স্বল্পউন্নত এবং গ্রামাঞ্চলে আঞ্চলিক ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য টেলিকম খাত নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করছে। এই প্রসঙ্গে নোকিয়া সিমেন্স ব্রডব্যান্ড এক্সেস এর স্ট্র্যাটেজি ম্যানেজার ডিক বলেন, ‘নোকিয়া-সিমেন্স নেটওয়ার্ক বিশ্বাস করে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৫ বিলিয়ন লোক টেলিকম সেবার সাথে সংযুক্ত হবে এবং এটিই হবে উন্নয়নের হাতিয়ার’। তিনি আরো যোগ করেন, এই সেবার সাথে নতুন যুক্ত হওয়া ৫০ শতাংশ জনগন হবে চীন এবং ভারতের। এই জুন মাসে নোকিয়া সিমেন্স নেটওয়ার্ক বিএসএনএল এর সাথে একটি চুক্তি করেছে। নেটওয়ার্কের ক্যারিয়ারের আধুনিকায়ন করার জন্য।

বিশ্বখ্যাত টেলিকম জায়ান্ট এলকাটেল-লুসেন্ট গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৩০টি দেশে কাজ করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া তাদের একটি বড় আগ্রহের জায়গা। তাদের বার্ষিক গ্লোবাল ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীদের উপর এক জরিপে দেখা গেছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল ব্রডব্যান্ড সার্ভিস এর বাজার হল দক্ষিণপূর্ব এশিয়া। এই জরিপে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপিনে ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন এর হার ০ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে। কোরিয়ায় তা ৩০ শতাংশ এবং জাপানে ২১ শতাংশ। অন্যান্য ভেন্ডরদের মতো এলকাটেল লুসেন্ট এই সব অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে জিএসএম এবং এজ্ নেটওয়ার্ক এর বিস্তারে কাজ ইন্দোনেশিয়া লোকাল সার্ভিস প্রোভাইডার ইন্দোসেট এর সাথে কাজ করছে। একই তারা তারা করছে কম্বোডিয়ার ক্যামজিএসএম এর সাথে। কম্বোডিয়ার এই কোম্পানির সাথে তাদের চুক্তির আওতায় রয়েছে তাদের ভিডিও টেলিফোনি এবং স্ট্রেমিং এপ্লিকেশন এর প্রয়োগের জন্য নেটওয়ার্ক করতে হবে। সেই সাথে তারা মোবাইল টিভি চ্যানেল নিয়েও ক্যাম জিএসএমএর সাথে কাজ করবে। এই উন্নত টেলিকম সেবা গ্রামাঞ্চলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টেলিকমের বিপ্লবকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে এবং এতে কয়েক মিলিয়ন জনগন উপকৃত হবে। বিশ্বের মোবাইল সাবস্ক্রাইবার গ্রোথ রেটের অর্ধেকই আসে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। ২০০৬ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের নতুন ১৮৫ মিলিয়ন ভোক্তা এসেছে শীর্ষ ১০টি নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে। এক হিসেবে দেখা গেছে কোন অঞ্চলে দশ শতাংশ মোবাইল ফোন পেনিট্রেশন বৃদ্ধি পেলে জাতীয় জিডিপিতে ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটে। গত বছর ইন্ডিয়া থেকে নতুন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৭৩ মিলিয়ন, চীন থেকে ৬৮ মিলিয়ন এবং পাকিস্তান থেকে ২৯ মিলিয়ন।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় পৌনে তিন কোটি মোবাইল ফোন এবং ফিক্সড ল্যান্ডলাইনফোন ব্যবহারকারী রয়েছে। ১৫ কোটি জনগনের এই দেশে আরো প্রায় ৪ কোটি জনগন আগামী এক দশকে টেলিকম সেবা নিবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বর্তমানে টেলিকম খাতের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে মোবাইল অপারেটররা। তাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ শহুরে জনতা। যদিও দেশের অর্ধেকের বেশি জনগন গ্রামাঞ্চলে বসবাস করে। অর্থাত্ মোবাইল ফোন অপারেটরদের শহরাঞ্চলে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ এবং সম্ভাবনা কমে আসছে। সুতরাং তাদের নতুন গ্রাহক বৃদ্ধির জন্য গ্রামাঞ্চলের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এই বিষয়টি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছে এবং তাদের অদূর ভাবিষ্যতে ঐ সব অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেয়া বৃহত্ পরিকল্পনা রয়েছে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top