শিরোনাম

শনিবার, মার্চ 25, 2017 - ঢাকায় রোজেন বারগার টেকনোলজিষ্টের পার্টনার্স নাইট | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - উভয় পাশ স্ক্যান সুবিধার স্ক্যানার আনলো ইপসন | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - প্রপার্টি ভাড়া ও কেনা-বেচায় বিপ্রপার্টি ডটকম | বুধবার, মার্চ 22, 2017 - স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ কিনতে সাবধান ! | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - বাংলাদেশে ইউসিসিকে একমাত্র পরিবেশক ঘোষনা করলো ট্রান্সসেন্ড | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - এসএসডি-টেক এবং প্যাভিলিয়নের মধ্যে কন্টেন্ট পার্টনারশিপ সম্পন্ন | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - মোবাইল অ্যাপস চালু করলো উরি ব্যাংক | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - গার্ডিয়ান লাইফ এর জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবে এসএসএল ওয়্যারলেস | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - মাইক্রোম্যাক্সের নতুন দুইটি মডেলের স্মার্টফোন | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরার হ্যালিও স্মার্টফোন আনল এডিসন গ্রুপ |
প্রথম পাতা / ক্যারিয়ার / চার্টার্ড ইউনিভার্সিটির কলেজের আড়ালে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার
চার্টার্ড ইউনিভার্সিটির কলেজের আড়ালে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার

চার্টার্ড ইউনিভার্সিটির কলেজের আড়ালে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার

আনিসুর রহমান খান। রাজধানী ঢাকার সাত মসজিদ রোডের চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের (Chartered University College) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি। মালয়েশিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় শিক্ষার্থী পাঠান আনিস।

তার উইংস গ্লোবাল কনসালট্যান্টের (Wings Global Consultant) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেন ঢাকার খিলগাওঁয়ের ছেলে আরিফুল হাসান। ইচ্ছে ছিল পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকুরির। সেই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন আনিস। আরিফুলকে ভর্তি করা হয় মেলভার্ন ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে।

তবে, মালয়েশিয়ার পাসার সেনিতে মেলভার্নের ক্যাম্পাসে এসে দুরবস্থা দেখে আরিফ যোগাযোগ করেন আনিসের সঙ্গে। আনিস চরম দুর্ব্যহার করেন তার সঙ্গে। আরিফ বুঝে যান তিনি কার খপ্পরে পড়ে পাড়ি জমিয়েছেন মালয়েশিয়ায়।

আরিফের মতোই খপ্পরে পড়ে মেলভার্নে ভর্তি হওয়া আরেক বাংলাদেশি ছাত্র রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, প্রথম দিন এখানে আসার পর বুঝতে পারিনি এটা কী ধরনের কলেজ! এখানে ক্লাস হয় সপ্তাহে একদিন। তবে এখানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আলাদা রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণও করা হয় শ্রমিকদের মতোই।

anisur

খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল, ঢাকার সাত মসজিদ রোডের ৫১ নং বাড়িতে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের আড়ালে আনিস মূলত আদম ব্যবসাই করেন। একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার উইংস গ্লোবাল কনসালট্যান্ট। এর মাধ্যমেই তিনি স্টুডেন্ট ভিসায় মানবপাচারের ব্যবসা করেন।
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে মেলভার্ন একাডেমির সোল এজেন্ট আনিস। এর আগে, প্রিমিয়াম কলেজের এজেন্ট ছিলেন তিনি। সেই প্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা ছিল। এছাড়াও বাংলাদেশে টিএমসি, এফটিএমএস, ভিক্টোরিয়ার মতো মানবপাচারকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও পরিচিত করান আনিস ও তার প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সোলায়মান বলেন, গত এক বছরে হাজারের ওপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় ভর্তি করিয়েছেন আনিস। শুধু কলেজ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে ৩-৪ হাজার রিঙ্গিত কমিশন নিয়েই আনিস ক্ষ্যান্ত থাকেন না। উপরন্তু শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র টাকাও মেরে দেন। আবার অনেক শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট আটকে রেখেও অর্থ আদায় করেন তিনি।

সোলায়মান বলেন, বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের পার্টটাইম চাকরি আর ভাল পড়াশোনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালয়েশিয়ায় আনছেন আনিস। তবে এখানে এলে আর তার খোঁজ পাওয়া যায় না। আবার খোঁজ পেয়ে তার হাতে পাসপোর্ট গেলে আরেক বিপদ। ২ হাজার রিঙ্গিত না দিলে সেই পাসপোর্টও ফেরত দেন না আদম ব্যবসায়ী আনিস।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলভার্ন একাডেমি মূলত ভিসা ব্যবসাই করে থাকে। এখানে কোনো ক্লাস হয় না। মালয়েশিয়ায় টিএমসি, লিংকন, এডাম, এলিটসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় এখন মেলভার্ন কলেজে স্টুডেন্ট ভিসায় মানবপাচার করছে দালালেরা।

তারা বলেন, আনিস এখানে স্টুডেন্ট ভিসায় এমনও লোকজন পাঠিয়েছে, যারা নিজের নামটি পর্যন্ত লিখতে পারে না। মালয়েশিয়া এয়ারপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনকে ম্যানেজ করেই এসব ছাত্র আনার কাজ করেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকায় চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের নামেও চলছে প্রতারণা। এখান থেকে কৃতকার্য হয়ে বের হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হাতে গোনা। মূলত মালয়েশিয়ায় স্টুডেন্ট ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করতেই সাইনবোর্ড হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন আনিস।

কুয়ালালামপুরে একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে নামার পরেই আনিসের লোক তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে যান। এর তিন মাস পর ২ হাজার রিঙ্গিত দিলে পাসপোর্ট হাতে পাই আমি।

ভিসা স্টিকারের জন্য মেলভার্ন একাডেমিতে পাসপোর্ট জমা দিলেও বিপাকে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। কারণ ৩-৫ মাসের আগে কারও পাসপোর্ট পাওয়া যায় না।

এসব অভিযোগ সর্ম্পকে জানতে উইংস গ্লোবাল কনসালট্যান্টে ফোন দিলে জানানো হয়, তারা এখন মেলভার্নে শিক্ষার্থী প্রেরণ করছে। এখানে পার্টটাইম চাকরি করে ভাল আয়ের জন্যে ডিপ্লোমা ইন হোটেল ম্যানেজমেন্টেরও ব্যবস্থা আছে।

আনিসুর রহমান খানের মোবাইল নাম্বার পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বস্ত্র সূত্রমতে, তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন এবং সেখানেই বেশি সময় থাকেন।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top