শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বন্ধ হচ্ছে উইকিপিডিয়ার ডেটা ছাড়া তথ্যসেবা | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বাজারে এলো সিউ কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ নেটওয়ার্ক লেবেল প্রিন্টার | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - জুতা পরে হাঁটলেই চার্জ হবে ফোন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - নতুন সংস্করণে আসুসের গেইমিং ল্যাপটপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - টাটা নিয়ে আসছে ড্রাইভারলেস গাড়ি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - চার মোবাইল অপারেটর পেল ফোরজি লাইসেন্স | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - স্যামসাংয়ের ক্ষতির কারন আইফোন ১০ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - নতুন কনফিগারেশনে আসছে নোকিয়া ৬ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - স্যামসাং গ্যালাক্সি জে২ এলো ফোর-জি রূপে | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - এখনই ফোরজি সেবা পাবেনা টেলিটক গ্রাহকরা |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / টেলিযোগাযোগ খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ
টেলিযোগাযোগ খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

টেলিযোগাযোগ খাতে ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

টেলিযোগাযোগ খাত হচ্ছে বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির অন্যতম উপাদান। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল সোসাইটি তৈরির কাজও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার টেলিকম এ্যাক্ট-এর সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে।তাই সরকার ২০০১ সালের টেলিযোগাযোগ আইনের কয়েকটি ধারা ও উপধারার পরিবর্তন এনে আগের আইনের পরিবর্তন সাধনের জন্য একটি খসড়া তৈরি করে।

telecom

খসড়াটি প্রথমে গত ১৩ জুন এই বিল আকারে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর ১৫ দিনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের পর সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্¿ী। এ সময় জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। মন্¿িসভায় এবং পরে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়ে পাস হয়ে টেলিযোগাযোগ আইন-২০১০ (সংশোধিত) বলে পরিচিতি লাভ করবে। আইনটি পাস হওয়ার আগে বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক আলোচনা-সমাৃলাচনার পর অবশেষে ‘টেলিযোগাযোগ নিয়ন্¿ন আইন ২০১০’ পাস হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত লাইসেন্সের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করতে হবে। বিটিআরসি সরকারের অনুমোদন নিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করবে। এই আইনে টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের ট্যারিফ, কলচার্জ ও অন্যান্য চার্জের হার অনুমোদন করবে। এর আগে বিটিআরসির কাছেই ছিল টেলিযোগযোগ বিষয়ের সব ধরণের কাজ পরিচালনার দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান আইন পাস হওয়ার পর টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্¿ণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছ থেকে সরকারের কাছে চলে যাবে। আগের নীতিমালা অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়া, নবায়ন, স্থগিত ও বাতিল, লাইসেন্স ফি ও ট্যারিফ নির্ধারণ, জরিমানা, শাস্তি এসবের জন্য নীতিমালা তৈরির ক্ষমতা ছিল বিটিআরসির হাতে। এ সম্পর্কে কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটি সুপারিশ চ্থড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে পাস হওয়া আইনে সরকার এবং বিটিআরসির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হয়েছে।  আবার টেলিকম সেক্টরে বিনিয়োগকারীরা বলছেন এই আইন টেলিকম সেক্টরের জন্য হুমকিস্বরূপ।

টেলিযোগাযোগ আইন-২০১০

এই আইনে বলা হয়েছে, টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত লাইসেন্সের জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করতে হবে। বিটিআরসি সরকারের অনুমোদন নিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করবে। এই আইনে টেলিযোগাযোগ অপারেটরদেও ট্যারিফ, কল চার্জ এবং অন্যান্য চার্জের হার সরকার অনুমোদন করবে। এখানে উল্লেখ্য যে, আগে অপারেটরদের বিভিন্ন ট্যারিফ, কলচার্জ ও অন্যান্য কল চার্জ বিটিআরসি অনুমোদন করতো। কিন্তু বর্তমান আইন পাস হওয়ার পর সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে অনুনোমদন নিতে হবে। নতুন প্যাকেজ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমোদন নিতে হবে। সরকার প্রয়োজন মনে করলে দুই মাসের সময় নিয়ে এ বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়া, বৈধ পথে আন্তর্জাতিক টেলিফোন কল আদান প্রদান না করলে, রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোন কাজে টেলিযোগাযোগ যন্¿াংশ ব্যবহার করলে বা যন্¿পাতির মালিকানা হস্তান্তর করলে সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি টাকার জরিমানা অথবা উভয়দ্লে দ্লিত করার বিধান রয়েছে।

উল্লেখ্য যে আগে ইন্টারন্যাশনাল লং ডিস্ট্রেন্স সার্ভিসেস টেলিকমিউনিকেশন্স সার্ভিসেস (আইএলডিটিএস) নীতিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। কিন্তু আইন পরিবর্তন না হওয়ায় এই নীতির কোন কার্যকারিতাই ছিল না। আইন পরিবর্তনের পরই ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) উন্মুক্ত করা বা এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত মন্¿ণালয়ে চলে যাবে।

সংশোধিত আইনে টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত অপরাধের তদন্ত, মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তি করার পদ্ধতি স্পষ্ট করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় সব অপরাধকে মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এই আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধের তদন্ত ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে। তাছাড়া তাত্ক্ষণিক অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার করা সম্ভব হবে। আইনে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এ জন্য সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত দু’জন সদস্যের সমন্বয়ে আপিল কর্তৃপক্ষ গঠা করা হবে। এই আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দায়ের করার পর তা নির্ধারিত বিধির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে।


জরিমানার বিধান

টেলিযোগাযোগ আইন ২০১০-এ অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য জরিমানা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। আইনের ১৮ ধারায় পরিবর্তন করে যে কোন অপারেটরের ক্ষেত্রে ৩০০ কোটি টাকার প্রশাসনিক জরিমানা এবং আদেশের পরেও আইনের লঙ্ঘন চলতে থাকলে প্রতিদিনের জন্য আরও ১ কোটি টাকার প্রশাসনিক জরিমানা আরোপের বিধান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকার প্রশাসনিক জরিমানা এবং অনধিক ৫ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অশ্লীল, ভীতি প্রদর্শনমূলক এসএমএস প্রেরণ বা প্রেরণে সহায়তা করলে ২ বছরের কারাদন্ড বা ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে এই আইনে। বেসরকারী উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, ১০ লাখ থেকে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান দেশি-বিদেশী উদ্যোক্তাদের এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবে।

অপরাধমূলক কর্মকান্ড

চারটি অবরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে উক্ত আইনে। এগুলো হলো- কেউ নিবন্ধন ছাড়া বেতার যন্¿পাতি স্থাপন করে ফ্রিকোয়েন্সি (তরঙ্গ) ব্যবহার করলে, নিবন্ধন শর্ত ভঙ্গ করলে এবং ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সংগ্রহ করলে, চার্জ এড়ানোর জন্য কোন ধরণের কৌশল অবলম্বন করলে, নিবন্ধিত কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোন বার্তা পরিবর্তন বা বিকৃত করলে এবং টেলিযোগাযোগ ও বেতারযন্¿ ব্যবহার কওে কেউ জাতীয় ঐক্য বা নিরাপত্তা বিনষ্ট করার কাজে লিপ্ত হলে। এ ছাড়া টেলিফোনে আড়িপাতার জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান প্রস্তাব বহাল রাখা হয়েছে।

এ খাতে বিনিয়োগ

বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় যেসব সেক্টর রয়েছে তার মধ্যে টেলিকম হচ্ছে অন্যতম। গত ১১ বছরে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ৩২ হাজার কোটিরও বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬টি মোবাইল অপারেটর  মোবাইল সেবা প্রদান করছে এবং অপারেটর ২২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ৬০ কোটি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে। যা দেশের ৩০%-এর মতো টেলিঘনত্ব। কিন্তু ৭০% টেলিঘনত্বে পৌঁছাতে হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও ব্যবহারকারী বাড়াতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করতে হলে মোবাইল কানেক্টিভিটি আরও বাড়াতে হবে  বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। আর এতে আরও বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এ সেক্টরে। টেলিকম সেক্টরের উদ্যোক্তারা মনে করেন সিমট্যাক্স কমানো গেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৭০% টেলিঘনত্বেও দেশে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ। এ সেক্টরে বিনিয়োগকারীরা মনে করেন সরকার যে ডিজিটাল বাংলাদেশ দেশের ঘোষণা দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে নুি আয়ের মানুষ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের কাছে মোবাইল প্রযুক্তি পৌঁছানো প্রয়োজন। এ খাতে আরও বিদেশী বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া ভিওআইপি উন্মুক্ত হলে এ খাতে বিনিয়োগ যেমন বাড়বে তেমনি এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও বেড়ে যাবে। টেলিযোগাযোগ খাতের সঙ্গে আরও কয়েকটি উপ-খাত রয়েছে: বিশেষ করে বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং), কল সেন্টারের মতো সম্ভাবনাময় খাত। এসব খাতে বৈদেশিক মূদ্রা আয়সহ দেশি-বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়বে। আর এতে কর্মসংস্থান তৈরির পথও সুগম হবে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল

টেলিযোগাযোগ আইন ২০১০-এ ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’ গঠনের ধারা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে অপারেটরদের কাছ থেকে সরকার একটি নির্দিষ্ট অংক অর্থ সংগ্রহ করবে এবং রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক অনুদানে তহবিল তৈরি করবে। এ অর্থ দিয়ে দেশের পিছিয়ে পড়া এলাকার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো তৈরি করা হবে। দেশে ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ দূর করতেই বিদ্যমান আইনটি আধুনিক করার প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচীর বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। ইতোমধ্যে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির কাজ শুরু করেছে। এখানে উল্লেখ্য যে, টেলিযোগাযোগের মাধ্যমেই ডিজিটাল ডিভাইড কমানো সম্ভব। মোবাইল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ইন্টারনেট ব্যবস্থা সবার কাছে পৌঁছানো এসব যত দ্রুত করা সম্ভব হবে ততই ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির কাজ ত্বরান্বিত হবে।

দেশের টেলিকম খাত নিয়ে গোলটেবিল

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বায়নের এই যুগে টেলিকম খাত দেশে দেশে উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তিকে গণমানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে টেলিকম খাতের রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নানা ক্ষেত্রে আমাদের দেশ পিছিয়ে থাকলে ও টেলিযোগাযোগ খাতে উন্নয়ন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। দেশে দ্রুতহারে বাড়ছে এই খাতে বিনিয়োগ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা। টেলিযোগাযোগ খাতে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন টেলিযোগাযোগ আইন পাশ হবার ফলে এই খাতে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। সমস্যা-সম্ভাবনার আবর্তে ঘুরপাক খাওয়া দেশের টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিনেট (ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ নেটওয়ার্ক) টেলিকম খাত বিকাশে সহায়ক পরিবেশ সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্¿ণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। প্রধানমন্¿ীর কার্যালয়ের আওতাধীন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের পলিসি বিশেষজ্ঞ আসিফ সালেহ’র সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক ড. অনন্য রায়হান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার তানজিব-উল-আলম। ড. অনন্য রায়হান তাঁর মূল প্রবন্ধে গত দুই দশকে বাংলাদেশের টেলিকম খাতের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং ব্যারিস্টার তানজিব-উল-আলম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন এ্যাক্ট ২০১০-এর আইনগত সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট খাতের উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি বর্গরা বিষয়ের উপর তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণা বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০১০ বাস্তবায়নের অন্যতম একটি স্তম্ভ। তাই এ ধারণার বাস্তব প্রয়োগের জন্য আমাদের সবার লক্ষ্য সবার জন্য, বিশেষ করে তৃণমূল জনগণের উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক তথ্য, যা জনগণের জীবন জীবিকার মান উন্নয়নে সহায়ক। তাই তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের বিকাশের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও জোরালো করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যথাযথ ও উপযুক্ত নীতি ও আইনি কাঠামো তৈরি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরকার কিছুটা অগ্রসর হলেও টেলিকম খাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের আইন কানুন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজকে শ্লথ করে দিচ্ছে। এই খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে আইনি কাঠামো তৈরি করে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে সরকার। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেশের টেলিকম বিশেষজ্ঞদের বিনিয়োগকারী, সুবিধাভোগী ও বিশেষজ্ঞদের মতকে উপেক্ষা করে সংসদে পাস হয়েছে নতুন টেলিযোগাযোগ আইন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন আইন দেশের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্টসহ কি ধরনের প্রবাব ফেলে তা দেখার বিষয়। সন্দেহ নেই নতুন এই আইন নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে  বিস্তর মতবিরোধ রয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্¿ী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এক বক্তব্যে বলেছেন, টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহার উত্সাহিত করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই আইন। বর্তমানে দেশে টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে পেনিট্রেশনের হার ৩৪ ভাগ। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। যেখানে মাত্র ১০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট সেবা পাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং দেশের টেলিকম খাতের বিনিয়োগকারীরা এমন একটি আইন চেয়েছিলেন, যা দেশের টেলিকম পেনিট্রেশন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু তারা আইনে কঠোর শাস্তির বিধান বাতিলের পক্ষে মত প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে দ্রুতহারে বেড়ে চলছে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে নতুন মোবাইল ফোন গ্রাহক বেড়েছে ১৩.২৯ মিলিয়ন। ফলে বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটিতে পৌঁছেছে। তবে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর মতে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো বাড়তে সরকার যদি সিমের উপর থেকে ট্যাক্স বাতিল করে। সরকার সিম প্রতি ৮০০ টাকা হারে ট্যাক্স আরোপ করায় শুরুতেই অপারেটরগুলোকে বড় ধরনের ভূর্তুকি গুণতে হচ্ছে। দেশের টেলিকমখাত বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। এর মধ্যে পিএসটিএন (পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক) ছিল অন্যতম। সরকার কিছুদিন আগে অবৈধ ভিওআইপি পরিচালনার অভিযোগে দেশের পাঁচটি পিএসটিএএ অপারেটরের লাইসেন্স বাতিল করে, এর মধ্যে হচ্ছে- র্যাংগসটেল, ঢাকা ফোন, ন্যাশনাল টেলিকম, পিপলস টেল এবং ওয়ার্ল্ড টেল। পিএসটিএন খাতে বিনিয়োগ এবং জনবলও ছিল অনেক। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের টেলিকম খাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেটরদের কার্যক্রম চালু রেখে জরিমানার মতো বিকল্প ব্যবস্থা করা গেলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির জন্য অনেক ভালো হতো।


ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক

সরকার দেশব্যাপী সমৃদ্ধ নেটওয়ার্ক তৈরিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিটিআরসি ইতিমধ্যেই ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) লাইসেন্স প্রদান করেছে। সরকার রাস্তার উপর ঝুলন্ত সকল প্রকার ক্যাবল মাটির নিচ দিয়ে দিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এনটিটিএন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান ফাইবার এট হোম এক্ষেত্রে কাজ করছে। ফাইবার এট হোম এই কাজে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফাইবার এট হোম ইতিমধ্যেই আইএসপিএবি এবং ক্যাবল অপারেটরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর মধ্যে ভূগর্ভস্থ ক্যাবল ব্যবহারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

কম বয়সীদের নিকট সিম বিক্রি বন্ধ

দেশে মোবাইল ফোনসহ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সরকার মোবাইল ফোনের সাহায্যে বিভিন্ন অপরাধ কমাতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে মোবাইল সিম বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। তরুণদের মোবাইল ফোন আসক্তি অনেকাংশে তাদেরকে মোবাইলের সিম ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে ফেলতে পারে। তাই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়াও সিম কেনার সময় ছবিসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদানে নিয়ম করেছে। বিটিআরসির মতে দেশে সাড়ে পাঁচ কোটি সক্রিয় মোবাইল ফোন গ্রাহক রয়েছে। মোবাইল ফোন কেন্দ্রিক নানা অপরাধ প্রতিরোধেও যথাযথভাবে কাজ করছে সরকারসহ অপারেটররা। সরকার সিম ক্রমে জাতীয় পরিচয় পত্র পদানেও নির্দেশ দিয়েছে অপারেটরদের। সরাষ্ট্রমন্¿ণালয়ের এক বিবৃত্তি অনুযায়ী দেশের সন্¿াসী চাঁদা বাজদের মধ্যে অনেকেই যেসব সিম ব্যবহার করছেন তার যথাযথ নিবন্ধ নেই।

শরীফ নিজাম

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top