শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং নিয়ে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সংবাদ সম্মেলন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - বাংলাদেশে ডেলইএমসি এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার চালু | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - চীনে স্কাইপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - আসছে দুই সিমের আইফোন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য অসাধারণ অ্যাপ ফেসবুক-এর | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশের এক নম্বর মিউজিক অ্যাপ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - উদিয়মান ব্রান্ড হিসেবে লিনেক্স পেল ‘গ্লোবাল ব্রান্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - ইউনিক বিজনেস সিস্টেমস লিমিটেড ডিলার সেলিব্রেশন ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - এলো ডেলের নতুন ইন্সপাইরন এন৭৩৭০ ল্যাপটপ | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - আবার স্মার্টফোনে ফিরছে ইন্টেল |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / ট্যাবলেট পিসি’র যুদ্ধে মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’
ট্যাবলেট পিসি’র যুদ্ধে মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’

ট্যাবলেট পিসি’র যুদ্ধে মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’

সারা বিশ্ব যখন ট্যাবলেট পিসি নিয়ে মেতে রয়েছে, তখন অনেক দেরিতে হলেও সেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে মাইক্রোসফট তাদের প্রথম ট্যাবলেট পিসি ‘সারফেস’ নিয়ে। অ্যাপল’র আইপ্যাডের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্যামসাং, আসুস, মটোরোলা, অ্যামাজন, এসারসহ সব প্রতিষ্ঠানই নিয়ে এসেছে ট্যাবলেট পিসি। তবে আইপ্যাডের স্থান টলেনি তাতে। মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’ কি হুমকি হতে পারবে আইপ্যাডের?
MICROSOFT-SURFACE_510
ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ছাড়িয়ে এখন ট্যাবলেট পিসি’র দিকেই মনোযোগ প্রযুক্তি বিশ্বের। টেক জায়ান্ট অ্যাপল তাদের আইপ্যাড দিয়ে বাজারমাত করে দেয়। অ্যাপলের সাফল্যের অণুপ্রেরণায় স্যামসাং থেকে শুরু করে মটোরোলা, এইচপি, তোশিবা, আসুস, এসারসহ বড় বড় সব টেক জায়ান্টই তৈরি করেছে ট্যাবলেট পিসি। তবে জনপ্রিয়তায় আইপ্যাডকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি কেউই। আইপ্যাডের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতেই এবার মাইক্রোসফট বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তাদের নতুন ট্যাবলেট পিসিকে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সারফেস’।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার সারফেস
অ্যাপল’র আইপ্যাড প্রথমে বাজারে আসার দুই বছর পরে মাইক্রোসফট তাদের ‘সারফেস’ নামের এই ট্যাবলেট পিসি বাজারে নিয়ে আসলেও ট্যাবলেট পিসি নিয়ে মাইক্রোসফট কাজ শুরু করেছে অনেক আগেই। গত শতাব্দীর শেষ দশক থেকেই তারা উইন্ডোজ এক্সপিনির্ভর ট্যাবলেট পিসি নিয়ে আসার চেষ্টা করে। তবে সেসব প্রচেষ্টায় সফল হতে পারেনি মাইক্রোসফট। পরবর্তীতে তারা পেনটাচ ট্যাবলেট বা স্টাইলাসনির্ভর ট্যাবলেট পিসি তৈরিরও উদ্যোগ নেয়। ২০০৬ সালের দিকে তারা প্রজেক্ট ওরিগ্যামি’র আওতায় এমন ধরনের ডিভাইস তৈরির উদ্যোগ নেয়, যা কেবল পেন বা স্টাইলাস নয়, আঙুলের স্পর্শেও কাজ করতে সক্ষম। তবে এসকল উদ্যোগের সবই ছিলো মূলত পিসি নির্ভর। তাদের বিদ্যমান অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেই তৈরি করা এসব ডিভাইস আসলে বর্তমানের পরিচিত ট্যাবলেট পিসি’র সুবিধা দিতে সক্ষম ছিল না। সেসব ডিভাইসে উইন্ডোজের সব ফিচার যেমন স্টাইলাসের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরী ছিলো না, তেমনি থার্ডপার্টি অ্যাপ্লিকেশনেরও অভাব ছিল। তাই আর মাইক্রোসফট তাদের ট্যাবলেট পিসির কোনো উদ্যোগেই সফল হতে পারেনি।
অবশেষে ‘সারফেস’
ট্যাবলেট পিসি নিয়ে মাইক্রোসফটের উদ্যোগগুলো একের পর এক ব্যর্থ হলেও ২০১০ সালে অ্যাপল বাজিমাত করে তাদের আইপ্যাড দিয়ে। বাজারের অন্যান্য ট্যাবলেট পিসিগুলো আইপ্যাডের মতো জনপ্রিয়তা না পেলেও বেশ সফলভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের হাতে হাতে। এসব ট্যাবলেট পিসিগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই এগুলোর কম্পিউটিং সিস্টেম। পূর্ণাঙ্গ কমিপউটার কিংবা হাই এন্ড স্মার্টফোন-এ দুইয়ের মাঝামাঝি সক্ষমতার ডিভাইস বলা যায় ট্যাবলেট পিসিকে। এই দিকটাতে মনোযোগ দিয়েই এবার মাইক্রোসফট নিয়ে এসেছে তাদের নিজস্ব ট্যাবলেট ‘সারফেস’। এটি চলবে তাদের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণ উইন্ডোজ ৮-এ। দুই ধরনের ‘সারফেস’ ট্যাবলেট পিসির একটিতে প্রসেসর চিপ হিসেবে থাকবে ‘এআরএম’-এর চিপসেট; আর অন্যটিতে থাকবে ইন্টেলের ৮৬ সিরিজের চিপসেট। উভয় ধরনের ডিভাইসের জন্য আই উইন্ডোজ ৮-এরও ভিন্ন দুইটি সংস্করণ থাকবে। এআরএম-এর জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকবে ‘উইন্ডোজ আরটি’ এবং ইন্টেলের জন্য থাকবে ‘উইন্ডোজ ৮ প্রো’।
দুই ধরনের ‘সারফেস’
এআরএম চিপসেট এবং ইন্টেল চিপসেটের উপর ভিত্তি করে দুই ধরনের ‘সারফেস’ ট্যাবলেট তৈরি করছে মাইক্রোসফট। আর তাতে করে কেবল কেবল অপারেটিং সিস্টেমই নয়, ডিভাইসগুলোর আকৃতিতেও থাকবে পরিবর্তন। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, উইন্ডোজ আরটি চালিত এআরএম সারফেসের পুরুত্ব ৯.৩ মিলিমিটার এবং ওজন ৬৭৬ গ্রাম। অন্যদিকে উইন্ডোজ ৮ প্রো চালিত ইন্টলনির্ভর সারফেসের পুরুত্ব বেড়ে হবে ১৩.৬ মিলিমিটার এবং ওজন বেড়ে হবে ৯০৩ গ্রাম। ডিসপ্লে’র আকার অবশ্য উভয় ডিভাইসের জন্য একই ১০.৬- ইঞ্চি। তবে এআরএম সারফেসের ডিসপ্লেটি হবে ক্লিয়ার টাইপ এইচডি ডিসপ্লে, যার রেজ্যুলেশন ১২৮০ বাই ৭২০। অন্যদিকে ইন্টেল সারফেসের ডিসপ্লেটি হবে ক্লিয়ার টাইপ ফুল এইচডি ডিসপ্লে, যার রেজ্যুলেশন সর্বোচ্চ ১৯২০ বাই ১০৮০ পিক্সেল। স্টোরেজের দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে উইন্ডোজ ৮ প্রো সারফেস। ৬৪ গিগাবাইট এবং ১২৮ গিগাবাইট মডেলে পাওয়া যাবে এটি। অন্যদিকে উইন্ডোজ আরটি সারফেসের দুইটি মডেলের স্টোরেজ হবে ৩২ জিবি এবং ৬৪ জিবি। উইন্ডোজ আরটি সারফেসে আবার বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিল্ট-ইন থাকবে মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় অফিস স্যুটের বিশেষ সংস্করণ ‘অফিস হোম অ্যান্ড স্টুডেন্ট ২০১৩ আরটি’।
এদিকে আরটি এবং প্রো ট্যাবলেটে থাকবে যথাক্রমে মাইক্রোএসডি সমর্থন, ইউএসবি ২.০ ও মাইক্রোএইচডি ভিডিও এবং মাইক্রোএসডিএক্সসি, ইউএসবি ৩.০ ও মিনি ডিসপ্লে পোর্ট ভিডিও। অন্যান্য কানেক্টিভিটি অবশ্য উভয় ডিভাইসেই থাকছে সমানতালেই।
বিশেষ কিবোর্ড ও পেন ইনপুট
সারফেস ট্যাবলেট পিসি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এতে যুক্ত হয়েছে বাড়তি দুইটি ফিচার, যা এর প্রতি সকলকে মনোযোগী করে তুলবে বলেই আশা করেছে মাইক্রোসফট। একটি হয়েছে এর কিবোর্ডসহ কভার এবং অন্যটি হচ্ছে পেন ইনপুটের সুবিধা। সাধারণভাবে আইপ্যাডসহ বাজারের কোনো ট্যাবলেট পিসিতেই নেই সাধারণ কিবোর্ড। এর মাঝে আসুসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ কিবোর্ডসহ ট্যাবলেট পিসি বাজারে এনেছে, যেগুলোকে বলা হয়েছে ট্যাবলেট পিসি এবং নোটবুকের হাইব্রিড সংস্করণ। তবে মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’ ট্যাবলেটটিতে থাকছে বিশেষ ম্যাগনেটিক কভার, যাতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ‘কোয়ার্ট’ কিবোর্ড। সারফেসকে ডক স্টেশনের সাথে সংযুক্ত করে ৩ মিলিমিটার পুরুত্বর এই কভারটি সামর্থন বিছিয়ে দিলে নোটবুকের মতো আকৃতিই গ্রহণ করবে। টাচ এই কভারের পাশাপাশি রয়েছে ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের আরও একটি ‘টাইপকভার’।
এতেও রয়েছে সম্পূর্ণ স্পর্শকাতর পূর্ণাঙ্গ ‘কোয়ার্ট কিবোর্ড’।
এর বাইরে রয়েছে বিশেষ টাচ ইনপুট পেন ব্যবহারের সুবিধা। এসব ট্যাবলেটের ডিসপ্লে পুরোপুরি স্পর্শকাতর হলেও এসব টাচ ইনপুট পেন এতে বাড়তি সুবিধা যোগ করবে বলেই মনে করছে মাইক্রোসফট।
আইপ্যাডের সাথে তুলনা
ট্যাবলেট পিসি’র মানদ- পরিণত হয়েছে আইপ্যাড মাইক্রোসফটের ‘সারফেস’ উšে§াচন হওয়ার পর থেকেই তাই চলছে আইপ্যাডের সাথে এর তুলনা। আকার, আকৃতি থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রেই চলছে এই তুলনা। তাতে দেখা যাচ্ছে পুরুত্বের দিক থেকে আইপ্যাডের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে উইন্ডোজ আরটি সারফেস। অন্যদিকে ওজনে দুই ধরনের সারফেসের চাইতেই এগিয়ে রয়েছে আইপ্যাড। ডিসপ্লেতেও আইপ্যাড অনেক এগিয়ে। সারফেসের সর্বোচ্চ ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন পাওয়া যাবে উইন্ডোজ ৮ প্রো গরিলা গ্লাসের ডিসপ্লেতে, যা সর্বোচ্চ ১৯২০ বাই ১০৮০ এইচডি। অন্যদিকে আইপ্যাডের রেটিনা ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন পাওয়া যাবে ২০৪৮ বাই ১৫৩৬। ফলে সারফেসের ১০.৬ ইঞ্চির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম ৯.৭ ইঞ্চি আকৃতির ডিসপ্লে নিয়েও আইপ্যাডের ডিসপ্লে’র মান অনেক উন্নত। আবার ১৬, ৩২ ও ৬৪ জিবি স্টোরেজের আইপ্যাডের তুলনায় উইন্ডোজ প্রোতে স্টোরেজ পাওয়া যাবে বেশি; ১২৮ জিবি পর্যন্ত। ইন্টরফেসের দিক থেকেও সারফেসে ইউএসবি বা মাইক্রোএসডি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
সারফেসের ঘোষণা নিঃসন্দেহে সাড়া ফেলেছে প্রযুক্তি বিশ্বে। একে নিয়ে চলছে নানান জল্পনা-কল্পনা। প্রযুক্তি বিষয়ক অন্যতম নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট সিনেট-এর ড্যানি ফারবারের মতে, ডেস্কটপের বাজারে মাইক্রোসফটের একাধিপত্য থাকলেও মোবাইল ডিভাইসে রাজত্ব করছে অ্যাপল। তবে সারফেসের মাধ্যমে মাইক্রোসফট অ্যাপল’র সেই রাজত্বে ভাগ বসাতে চলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিন পিসি ওয়ার্ল্ডের মেলিসা জে পিটারসন বলেছেন, ‘সারফেস মাইক্রোসফটের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ একটি ধামাকা। আমার মনে হয় একে ঘিরে যে প্রত্যাশা সকলের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা পূরণ হবে। বিশেষ করে এর ইউএসবি সমর্থন একে বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। আমি এটা দেখে মুগ্ধ হয়েছি।’ এদিকে সিবিএস নিউজের এরিক শেরম্যান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘এই প্রথম মাইক্রোসফট তাদের অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রথম ডিভাইস নিয়ে আসছে যা তাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এই ডিভাইসের পূর্ণাঙ্গ সব তথ্য এখনো পর্যন্ত জানা না গেলেও যতদূর জানা যায় এর ডিসপ্লেটি আইপ্যাডের মানের হবে না। তবুও প্রাথমিকভাবে ‘সারফেস’ বেশ সম্ভাবনাময় বলেই আমার মনে হয়েছে।’
আইপ্যাডের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ‘সারফেস’ কতটা সফল হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। তখনই বাজারে আসবে এই নতুন ট্যাবলেট পিসি।

 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top