শিরোনাম

শনিবার, নভেম্বর 18, 2017 - স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে একত্রে কাজ করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এটুআই | শনিবার, নভেম্বর 18, 2017 - চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রবি’র ক্যারিয়ার কার্নিভাল | শনিবার, নভেম্বর 18, 2017 - ‘শান্তি’র জন্য প্রযুক্তি পরিচয়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত | শনিবার, নভেম্বর 18, 2017 - নতুন ফিচার নিয়ে ফুডপান্ডা | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পরিচালিত হবে জীবন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - বিশবছর পূর্তি উদযাপন করলো এরিকসন বাংলাদেশ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - ফেসবুক হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচতে পারেন যে উপায়ে | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - স্মার্টফোনে আসছে আরও শক্তিশালী জুম ক্যামেরা | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - বাজারে এল স্যামসাং এর নতুন ফোন | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 16, 2017 - প্রথম“সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ– ২০১৭” শুরু হচ্ছে ৩০ নভেম্বর |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ডিজিটাল বৈষম্য দূর করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ-এসএম আলতাফ হোসেন
ডিজিটাল বৈষম্য দূর করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ-এসএম আলতাফ হোসেন

ডিজিটাল বৈষম্য দূর করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ-এসএম আলতাফ হোসেন

এসএম আলতাফ হোসেন। দৃক আইসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে দৃঢ় নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। অফলাইন ইমেইল থেকে শুরু করে এখন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মতো অত্যাধুনিক সেবাও প্রদান করছে দৃক আইসিটি। কর্পোরেট-এর পাঠকদের জন্য এই সংখ্যাতে তুলে ধরা হলো এসএম আলতাফ হোসেন ও দৃক আইসিটির কথা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরিকুর রহমান সজীব
উন্নত বিশ্বের মতো এখন আমাদের দেশও পিছিয়ে নেই প্রযুক্তির ব্যবহারে। উন্নত বিশ্বের মতো এখনও পর্যন্ত সর্বত্র প্রযুক্তি সহজলভ্য না হলেও প্রযুক্তির প্রসারের ধারবাহিকতাটা লক্ষণীয়। দেশব্যাপী উন্নত এই প্রযুক্তি অবশ্য এমনি এমনি ছড়িয়ে পড়ছে না। বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের অক্লান্ত প্রচেষ্টা প্রযুক্তির এই প্রসারকে সহায়তা করছে অবশ্যম্ভাবী হিসেবে। প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রেখে চলা এমন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দৃক আইসিটি। এই প্রতিষ্ঠানেরই সূচনালগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এসএম আলতাফ হোসেন। প্রযুক্তির সাথে পথচলার শুরুটা কীভাবে, এমনটি জানতে চাইলে এসএম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘কম্পিউটারের সাথে আমার পরিচয় ১৯৯০ সালেই। তখন থেকেই বলতে গেলে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহটা তৈরি হয়। আমাদের দেশে কম্পিউটার কিংবা প্রযুক্তির অন্যান্য মাধ্যম তখনও সহজলভ্য নয়। এগুলো নিয়ে কাজ করা মানুষের সংখ্যাও ছিল অত্যন্ত কম। যে কারণে কম্পিউটার, প্রযুক্তির অনেক বিষয়ই আমাকে নিজে নিজেই শিখে নিতে হয়েছে।’ আইসিটির সাথে এসএম আলতাফ হোসেনের যাত্রার শুরু মূলত ইমেইলের মাধ্যমে। ১৯৯৩ সালে অফলাইন ইমেইলের কাজ শুরু করেন তারা। ইমেইল সেবাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার প্রাথমিক কাজ নিয়ে আইসিটি একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠা করেন দৃকনেট। এ প্রসঙ্গে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘১৯৯৩ সালেই মূলত দৃকনেটের যাত্রা শুরু। তখন ডায়াল-আপ ইমেইল চালু ছিল। আমরা সেই ডায়াল-আপ ইমেইল সেবা দিয়েই অফলাইন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু করি আমাদের পথচলা। বাণিজ্যিকভাবে আমরা অফলাইন ইমেইল সেবা প্রদান করতে সক্ষম হই ১৯৯৪ সালে এসে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা আমাদের প্রথম গ্রাহক গ্রামীণ ব্যাংককে ইমেইল সেবা সফলভাবে প্রদান করি।’ আলতাফ হোসেন জানান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠান তখন দৃকনেটের ইমেইল সেবার গ্রাহক ছিল। সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এসে লাগে। সেইসাথে অফলাইন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার দৃকনেটেও আসে পরিবর্তন। সময়ের সাথে সাথে তাদের পণ্য আর সেবাতে যুক্ত হয় নতুন নতুন বিষয়। ২০০২ সালে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) লাইসেন্স লাভ করে দৃকনেট। ধীরে ধীরে তাদের পণ্য ও সেবা তালিকায় যুক্ত হয় ইন্টারনেট, ভিডিও স্ট্রিমিং, আইপি টেলিফোন সার্ভিস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সিকিউরিটি সলিউশন, কাস্টমাইজ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও মেইনটেন্যান্স, ই-কমার্স, বিজনেস প্রসেস অটোমেশন প্রভৃতি। প্রতিষ্ঠানের ব্যাপ্তিও বাড়তে থাকে। এসএম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের আকার বড় হওয়ার সাথে সাথেই আমরা দৃকনেট নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করি। ২০০৯ সালে এসে একে আমরা একটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই। ২০১০ সাল থেকে এটি যাত্রা শুরু করে নতুন রূপে, দৃক আইসিটি নামে। সেই হিসেবে দৃক আইসিটি তার পথচলার চার বছর সম্পন্ন করছে।’ এই চার বছরে দৃক আইসিটি কী অর্জন করেছে জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা দেশের ৩০টি জেলায় ৫০টিরও বেশি উপজেলায় আমাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছি। রাজধানীতেও আমাদের রয়েছে ২০টিরও বেশি অফিস। বড় বড় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা আমাদের গ্রাহক। এসব গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করেই আমরা সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থার সাথেও কাজ করেছি। সেক্ষেত্রে দৃক আইসিটি নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছে।’ দেশে এখন থ্রিজি প্রযুক্তি যাত্রা শুরু করেছে। উচ্চগতির এই ইন্টারনেট স্থানীয় কনটেন্ট ছাড়া কতটুকু প্রভাব রাখবে এবং স্থানীয় কনটেন্ট তৈরির বিষয়ে দৃক আইসিটির অবস্থান কী, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় কনটেন্ট ছাড়া আসলে উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রকৃত অর্থে খুব বেশি প্রভাব রাখতে পারবে না। ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে হলে স্থানীয় কনটেন্ট তৈরির বিকল্প নেই। দৃক আইসিটি সীমিত আকারে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় কনটেন্ট ডেভেলপকে উৎসাহিত করতে হলে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন একটি টেকসই বাণিজ্য মডেল, যাতে যে কেউ একটি কনটেন্ট তৈরি করে সেটি সহজে বিক্রি করতে পারে বা সেটা থেকে আয় করতে পারে। এই বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ দৃক আইসিটির ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে এসএম আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ সারা দেশে কিন্তু সকলের কাছে প্রযুক্তি এখনও পৌঁছেনি। এখনও ঢাকার বাইরে বেশিরভাগ জায়গাতেই মানুষের হাতে প্রযুক্তির সুবিধা নেই। এতে করে একটা ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ বা ‘ডিজিটাল বৈষম্য’ তৈরি হয়েছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। দৃক আইসিটি সেই লক্ষ্যেই কাজ করবে। তবে এটি একক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এই বৈষম্য দূর করতে। এটিই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মনে হয়। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই পারে এই বৈষম্য দূর করতে।’ জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেনÑএমন প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হোসেন বলেন, ‘সততা এবং নিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। আর প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। এর বাইওে আমি সবসময়ই নিজে যেটা শিখেছি, সেটাকে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। তথ্যপ্রযুক্তি বা যোগাযোগ প্রযুক্তির বিষয়গুলোতে হয়ত আমি খুব বেশি কিছু জানি না। তবে যেটাই জেনেছি, চেয়েছি অন্যদের জানাতে। সকলেই এভাবে নিজেদের জানাকে ছড়িয়ে দিলে একসাথে সকলে মিলে অনেক বড় কিছু তৈরি করা সম্ভব।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top