শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - বাংলাদেশেই তৈরি হবে সকল ডিজিটাল ডিভাইস : মোস্তাফা জব্বার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - যে কারণে অনলাইন অ্যাকাউন্টে কঠিন পাসওয়ার্ড দিবেন | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - ফিশিং জালিয়াতির শিকার হচ্ছেন জিমেইল ব্যবহারকারীরা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - দেশের বাজারে লেনোভোর এইচডি ডিসপ্লের ল্যাপটপ | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - হিটাচি প্রজেক্টরে ম্যাজিক অফার | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - বাংলাদেশে ডি-লিংক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অংশীদার কম্পিউটার সোর্স | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - অপ্পোর নতুন ২ স্মার্টফোনে গ্রামীণফোনের ফ্রি ইন্টারনেট | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল এর পার্টনার মিট | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে পর্নগ্রাফি ভিডিও | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - আসছে স্বল্প মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোন |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০১৫: নানা সফলতা ও কিছু ব্যর্থতা
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০১৫: নানা সফলতা ও কিছু ব্যর্থতা

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০১৫: নানা সফলতা ও কিছু ব্যর্থতা

সময়ের পরিক্রমায় এসেছে নতুন বছর। চোখ বন্ধ করলেই স্মৃতিতে ভেসে উঠে পুরনো বছরের নানা ঘটনাপ্রবাহ। উঠে আসে সফলতা ও ব্যর্থতা। তেমনিভাবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নানা সফলতা ও কিছু ব্যর্থতার ঘটনা ঘটেছে। এই খাতের উন্নয়নে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, দেশব্যাপী ইন্টারনেট সপ্তাহ আয়োজন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পলিসি, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মতো যেমন অনেক অর্জন রয়েছে, তেমনি সাময়িকভাবে ইন্টারনেটসহ সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের মতো অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতাও রয়েছে।

shamim-ahsan-corporate

নানা সফলতায় ২০১৫

একাধিক সম্মেলন আয়োজন :গত বছরের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে অন্তত ৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, প্রদর্শনী কিংবা উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে আইসিটি বিভাগ ও বেসিসের আয়োজনে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৫’, মে মাসে আইসিটি ডিভিশন, বেসিস, টেলিনর ও অ্যাকসেন্সার যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রথম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ‘ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট’, সেপ্টেম্বরে বেসিস, আইসিটি ডিভিশন ও গ্রামীণফোন মিলে দেশের সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট উত্সব- ‘বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক ২০১৫’, ডিসেম্বরে আইসিটি ডিভিশন ও বাক্য মিলে ‘বিপিও সামিট’ এর আয়োজন করা হয়। এগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা, দেশে সফটওয়্যার ও ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, এক কোটির বেশি মানুষের কাছে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। সবগুলো আয়োজনেই বেসিসসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অন্যান্য সংগঠনগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে। এ চারটি আয়োজন দেখলেই মনে হয় বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হতে বেশি দেরি নেই!

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

তথ্য প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির স্বীকৃতিস্বরুপ গত বছর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমত, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখায় আন্তর্জাতিক সংগঠন এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্স (অ্যাপিকটা)-এর সদস্যপদ লাভ করে বেসিস। দ্বিতীয়ত, গত মে মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডাব্লিউএসআইএস) পুরস্কার লাভ করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে যে বড় অর্জন ছিল আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছ থেকে এ পুরস্কার পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্থানীয় বাজার উন্নয়ন

গত বছর তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্থানীয় বাজার উন্নয়নে আইসিটি ডিভিশন, বেসিসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে। এর মধ্যে সর্বপ্রথমেই আসে হাইটেক পার্কের উদ্বোধন। এর মূল অবকাঠামো উদ্বোধন করার মাধ্যমে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে। হাইটেক পার্কের মূল অবকাঠামো উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ ছাড়া দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত ১৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে অবস্থিত সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক যার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

দক্ষ জনবল তৈরি

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে গত বছর বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে ও চলমান রয়েছে। প্রথমত, বেসিসের উদ্যোগে আগামী ৩ বছরে বিনামূল্যে ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চালু হয় স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্প, যা এখনও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগেই বিআইটিএমের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও ইন্ডাস্ট্রি উপযোগী করে গড়ে তুলতে গঠন করা হয়েছে ‘বেসিস স্টুডেন্টস ফোরাম’।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের কাজের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে গত বছর বেশ কয়েকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর একটি হলো স্টার্টআপ ইনকিউবেটরে যাতে সঠিক স্টার্টআপগুলো জায়গা বরাদ্দ পায় সে উদ্দেশ্যে ‘Connecting Startup Bangladesh’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয়ত, দেশে আউটসোর্সিংয়ে সেরা প্রায় একশ আউটসোর্সিং প্রফেশনালস ও প্রতিষ্ঠানকে। বেসিসের উদ্যোগে পঞ্চমবারের মতো এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। তৃতীয়ত, তরুণ উদ্যোক্তাদের সিলিকন ভ্যালিসহ গ্লোবাল টেকনোলজি ইনোভেশন এবং কোম্পানিকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রসার করার একটা প্লাটফর্ম দেওয়ার জন্য আয়োজন করা হয় ‘সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা। চতুর্থত, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যাকাথন ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০১৫’।

পলিসি উন্নয়ন

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বেসিস নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রথমত, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি আনতে বেসিস ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া আইটি কোম্পানি যাতে আইপিওতে অংশগ্রহণ করতে পারে তার জন্য স্মল-ক্যাপস পলিসি তৈরিতে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ত, বেসিসের অনুরোধে সরকার এ খাতের ট্যাক্স রহিতকরণ আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সম্ভাবনাময় ই-কমার্স খাতে ভ্যাট আরোপ হলেও বেসিসের অনুরোধে ভ্যাট তুলে নেওয়া হয়। তৃতীয়ত, আইসিটি কোম্পানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ফান্ড প্রাপ্তি সহজীকরণ করতে বেসিস বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা দেয়।

কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং

বিদেশে বাংলাদেশের কান্ট্রি ব্রান্ডিং, বিদেশি বিনিয়োগ আনা ও বিদেশে বাংলাদেশি কোম্পানির ব্যবসায় প্রসারে গতবছর বেসিসের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ড, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক, কাতার, ইউকে, জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক বিটুবি বৈঠকসহ টাই সিলিকন ভ্যালি কনফারেন্স, সিবিট জার্মানী, সিবিট অস্ট্রেলিয়া, দুবাইতে জাইটেক্স টেকনোলজি উইক, ভারতে জিইএস, নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স ও জাপান আইটি উইকে অংশ নেয় বেসিসের সদস্য কোম্পানিরা।

ভিডিও কনফারেন্স সুবিধায় সবগুলো চেম্বার

দেশের ৬৪ জেলা চেম্বারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স নেটওয়ার্কিং চালু করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট বাগডুম ডটকম-এর পৃষ্ঠপোষকতায় গত আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভিডিও কনফারেন্স নেটওয়ার্কিং চালু করা হয়।

ব্যর্থতার ২০১৫

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ বছরের শেষের দিকে দুটি ঘটনা জন্ম দিয়েছে এই খাতের সবচেয়ে বড় সমালোচনার। একটি ইন্টারনেট বন্ধ। আরেকটি বেশকিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া। ১৮ নভেম্বর দেশে প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ইন্টারনেট সরবরাহও বন্ধ ছিল। অথচ প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের অনুমতি ছাড়াই দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া মোটেই সমীচীন নয়। একই দিনে জননিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিটিআরসিকে নির্দেশনা দেয় দেশে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ, ভাইবার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার। দীর্ঘ ২২ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে ১০ ডিসেম্বর জনপ্রিয় এই মাধ্যমগুলো খুলে দেওয়া হয়।

ইন্টারনেটের দামের বৈষম্য

বছরের শুরু থেকে আলোচিত ছিল দেশে ইন্টারনেটের দাম কমানোর প্রসঙ্গটি। গতবছর আবারও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হলে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়টি সামনে এলেও বছর শেষে ইন্টারনেটের দাম সেই আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে। ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নিতে বললেও সে প্রক্রিয়ারও কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এছাড়া ইন্টারনেট স্পিডেরও নাজুক অবস্থা।

মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ

সফটওয়্যার পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও প্যাটেন্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের তরুণ ডেভেলপাররা কিংবা বেসিসের সহস্রাধিক সদস্য কোম্পানি নানা রকম অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার তৈরি করছে। কিন্তু মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ বা কপিরাইট আইনের জোরালো প্রয়োগ না থাকার কারণে দেখা যাচ্ছে কিছুদিন পরেই সেটির সোর্সকোড চুরি করে আরেকটি অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার তৈরি করছে। ফলে মূল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকসহ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে, তারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারের সঙ্গে আমাদের অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডাস্ট্রি তথাপি সবারই সদিচ্ছা রয়েছে। আশাকরি এ বছর এই ধারাবাহিকতা আরও গতিশীল হবে। আমরা আশা করতেই পারি যে, কাঙ্ক্ষিত সময়ের আগেই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে তথ্যপ্রযুক্তিকে সমৃদ্ধ ও উন্নত এক নাম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’।

লেখক: সভাপতি, বেসিস ও জেনারেল পার্টনার, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল

পরিচালক, এফবিসিসিআই

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top