শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বন্ধ হচ্ছে উইকিপিডিয়ার ডেটা ছাড়া তথ্যসেবা | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বাজারে এলো সিউ কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ নেটওয়ার্ক লেবেল প্রিন্টার | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - জুতা পরে হাঁটলেই চার্জ হবে ফোন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - নতুন সংস্করণে আসুসের গেইমিং ল্যাপটপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - টাটা নিয়ে আসছে ড্রাইভারলেস গাড়ি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - চার মোবাইল অপারেটর পেল ফোরজি লাইসেন্স | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - স্যামসাংয়ের ক্ষতির কারন আইফোন ১০ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - নতুন কনফিগারেশনে আসছে নোকিয়া ৬ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - স্যামসাং গ্যালাক্সি জে২ এলো ফোর-জি রূপে | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - এখনই ফোরজি সেবা পাবেনা টেলিটক গ্রাহকরা |
প্রথম পাতা / ক্যারিয়ার / লাইফস্টাইল / ত্রিমাত্রিকের চেয়ে দ্বিমাত্রিক ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ছে
ত্রিমাত্রিকের চেয়ে দ্বিমাত্রিক ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

ত্রিমাত্রিকের চেয়ে দ্বিমাত্রিক ছবির জনপ্রিয়তা বাড়ছে

আরাফাতুল ইসলাম রানা:’অবতার’ থেকে ‘লাইফ অফ পাই’ হয়ে হালের ‘গ্র্যাভিটি’৷ থ্রি-ডি ছবিই যখন চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ বলে মনে হচ্ছে, তখনই গবেষণা বলছে দ্বিমাত্রিক ছবির জনপ্রিয়তা ত্রিমাত্রিকের চেয়ে বাড়ছে৷ কেন?’অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’, ‘ক্ল্যাশ অফ দ্য টাইটানস’ আর ‘হাউ টু ট্রেন ইওর ড্র্যাগন’- এই তিনটে ছবিরই ‘টু-ডি’ আর ‘থ্রি-ডি’ সংস্করণ পর-পর চারশো জন ছাত্রছাত্রীকে দেখিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক এল মার্ক ক্যারিয়ার এক বিস্ময়কর সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন সম্প্রতি৷

life-of-pi-1

এই সিদ্ধান্তটির ওয়ান-লাইনার এরকম: ‘আপাতদৃষ্টিতে দু’টি সংস্করণ প্রায় এক হলেও থ্রি-ডি অস্বস্তিকর৷’ মার্ক ক্যারিয়ারের এই সিদ্ধান্তে বিশদে যাওয়ার আগে ‘থ্রি-ডি’ বা ‘স্টিরিওস্কোপিক’ সিনেমার প্রাথমিক ব্যাপারটা একটু বুঝে নেয়া যাক৷ খুব সহজ করে বললে আমরা দু’চোখ দিয়ে কোbf কিছু যেভাবে দেখি সেটাই হলো স্টিরিওস্কোপিক ভিশনের মূল তত্ত্ব৷ ডান দিকের চোখ দিয়ে আমরা যা দেখি তা কিন্ত্ত বাঁ দিকের চোখ দিয়ে হুবহু দেখি না৷ একই বস্ত্ত একবার বাঁ চোখ বন্ধ করে, আর এক বার ডান চোখ বন্ধ করে দেখলেই তফাৎটা ধরা যায়৷ দু’টো ভিশনের মধ্যে একটু ‘সরে যাওয়া’-র ফারাক থাকে৷ এই দু’টি ভিশনই নার্ভ পাঠিয়ে দেয় মস্তিষ্কে৷ সুপারইমপোজড এই দু’টি দৃশ্য তখন জড়াজড়ি হয়ে একটা অস্পষ্ট, ব্লারড ইমেজ তৈরি করে৷ মস্তিষ্ক সেই ব্লারড ইমেজকে সাফসুতরো করে একটি ঠিকঠাক দৃশ্য হিসেবে পাঠিয়ে দেয়৷ এই ঘটনাটি ঘটে মাত্র সেকেন্ডের লক্ষ ভাগেরও কম সময়ে৷ তখন আমরা যে বস্ত্তটিকে দেখছি তার সঠিক অবস্থান (দূরত্ব বা ডেপথ) আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়৷ আমরা দু’চোখ দিয়ে সব বস্ত্তকেই এইভাবে ত্রি-মাত্রায় দেখি৷

থ্রি-ডি সিনেমা ঠিক এই তত্ত্বের উপরে তৈরি৷ একই রেখায় খুব কাছাকাছি (দু’টি চোখের দূরত্বে) থাকা দু’টি ক্যামেরায় একই দৃশ্যকে তোলা হয়৷ তারপর দৃশ্য দু’টি সুপারইমপোজ করা হয়৷ এখানে মস্তিষ্কের কাজটি করে থ্রি-ডি প্রোজেক্টার এবং একটি বিশেষভাবে ফিল্টার লাগানো চশমা, যাদের কাজ হল ব্লারড ইমেজকে একটি মাত্র স্পষ্ট ইমেজে রূপান্তরিত করা৷ এর ফলে ডেপথ বা দূরত্বের একটি ভ্রম তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ‘ইলিউশন অফ ডেপথ’৷

তাহলে দেখা যাচ্ছে, ‘থ্রি-ডি’ বা ‘স্টিরিওস্কোপিক’ সিনেমা আসলে আমাদের বাস্তবিক জীবনে চোখ দিয়ে দেখার মতোই একটি অভিজ্ঞতা৷ যেখানে ‘টু-ডি’ সিনেমা আদপেই তা নয়৷ কারণ, সেখানে ‘ডেপথ’টা অস্পষ্ট৷ তাই যদি হবে, তাহলে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির শ’চারেক ছাত্রছাত্রী সমস্বরে কেন জানালো, ‘থ্রি-ডি সিনেমা একটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা?’ এবারে দেখে নেয়া যাক সেই গবেষণা-লব্ধ তথ্যগুলি কী কী?

সিনেমাটিকে আরও ভালোভাবে বুঝতে বা অর্থবহ করে তুলতে কোনোভাবেই থ্রি-ডি টেকনোলজি সাহায্য করে না৷

থ্রি-ডি পদ্ধতি ছবির ‘ইমোশন’ বা আবেগকে কোনোভাবে আরও গভীর তো করেই না, বরং ব্যাহত করে৷

থ্রি-ডি টেকনোলজি দৃশ্যের ‘ডিটেল’ বা অনুপূঙ্খকে কোনোভাবেই আরও বেশি সমৃদ্ধ করে না৷

থ্রি-ডি ছবি দেখলে মাথার যন্ত্রণা, চোখ জ্বালা করার সম্ভাবনা তৈরি হয়৷

টু-ডি’র তুলনায় এমন বেশি কিছু প্রাপ্তি থ্রি-ডি ছবিতে হয় না, যে টিকিটের দাম প্রায় দ্বিগুণ দিতে হবে৷

শেষ তথ্যটি খুবই প্রণিধানযোগ্য, এবং একারণেই ‘দ্য অ্যাডভেঞ্চার অফ টিনটিন’-এর স্রষ্টা স্টিভেন স্পিলবার্গ পর্যন্ত মেনে নিয়েছেন ‘টু-ডি’ আর ‘থ্রি-ডি’ সংস্করণের প্রবেশমূল্য এক হওয়া উচিত৷

যারা ‘অবতার’, ‘লাইফ অফ পাই’ কিংবা হালের ‘গ্র্যাভিটি’-র দু’টি সংস্করণই পাশাপাশি দেখেছেন, তাঁরাই ক্যালিফোর্নিয়ার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সহমত হবেন৷ কিন্ত্ত কেন, ‘টু-ডি’ আর ‘থ্রি-ডি’-র মধ্যে ‘টু-ডি’-কেই বেশি পছন্দ করছেন দর্শকেরা? যদিও রোজই নিত্য-নতুন টেকনোলজি নিয়ে বাজারে হাজির হচ্ছে নানা ব্র্যান্ডের থ্রি-ডি ক্যামেরা (আদতে একটি ক্যামেরা বডির মধ্যে গায়ে গায়ে লাগানো দু’টি আলাদা লেন্স), তবু বাস্তবে দু’চোখ দিয়ে আমরা ঠিক যে ভাবে দেখি, তা কিছুতেই দেখা সম্ভব হচ্ছে না অত্যাধুনিক এই ক্যামকর্ডারগুলির পক্ষে৷ আসলে ‘ইলিউশন অফ ডেপথ’ তৈরি হলেও, আদতে দু’টি ‘টু-ডি’ ইমেজকেই দেখছি আমরা৷ ফলে, ব্যাকগ্রাউন্ড আর ফোরগ্রাউন্ডের মধ্যে যান্ত্রিকভাবে তৈরি হওয়া ত্রি-মাত্রিক ডেপথটা তেল আর জল হয়েই থাকছে ইমেজের সঙ্গে৷ এটা অস্বস্তির একটা কারণ হতে পারে৷

অস্বস্তির দ্বিতীয় কারণ হলো ঠিক যে-দূরত্ব থেকে কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া ডেপথ-এর মজাটা পাওয়া যেতে পারে, সেটি প্রয়োগ করা হচ্ছে না৷ যে কারণে মাথা ধরে যাচ্ছে, চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে৷ এর সমাধান হতে পারে প্রেক্ষাগৃহের অন্তত প্রথম পাঁচ-ছ’টি রো বাদ রেখে দর্শকদের বসার বন্দোবস্ত করা৷ তৃতীয় কারণ, অবশ্যই ‘থ্রি-ডি’ ছবির গ্র্যাঞ্জার, যা আবার এই কিসিমের ছবির ইউএসপি৷ নৌকা থেকে জলে বাঘের ঝাঁপ দেয়া কিংবা উড়ুক্কু মাছের লাফ অথবা মহাকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অ্যাস্টরয়েডের তেড়ে আসা কিংবা অদ্ভূত প্রাণীর পিঠে চেপে শূন্যে উড়ে বেড়ানো- এই সব কিছু দৃশ্য হিসেবে এত চমৎকার, যে ছবির মূল ভাবনা থেকে দর্শককে সরিয়ে দেয়৷ ‘লাইফ অফ পাই’-এর দর্শন নিমেষে মাথা থেকে উধাও হয়ে যায় যখন ‘থ্রি-ডি’ সংস্করণে রিচার্ড পার্কারের ত্রি-মাত্রিক কাণ্ডকারখানা চাক্ষুষ করি আমরা৷

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top