শিরোনাম

শনিবার, মার্চ 25, 2017 - ঢাকায় রোজেন বারগার টেকনোলজিষ্টের পার্টনার্স নাইট | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - উভয় পাশ স্ক্যান সুবিধার স্ক্যানার আনলো ইপসন | বৃহস্পতিবার, মার্চ 23, 2017 - প্রপার্টি ভাড়া ও কেনা-বেচায় বিপ্রপার্টি ডটকম | বুধবার, মার্চ 22, 2017 - স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপ কিনতে সাবধান ! | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - বাংলাদেশে ইউসিসিকে একমাত্র পরিবেশক ঘোষনা করলো ট্রান্সসেন্ড | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - এসএসডি-টেক এবং প্যাভিলিয়নের মধ্যে কন্টেন্ট পার্টনারশিপ সম্পন্ন | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - মোবাইল অ্যাপস চালু করলো উরি ব্যাংক | শুক্রবার, মার্চ 17, 2017 - গার্ডিয়ান লাইফ এর জন্য মোবাইল অ্যাপ তৈরি করবে এসএসএল ওয়্যারলেস | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - মাইক্রোম্যাক্সের নতুন দুইটি মডেলের স্মার্টফোন | বুধবার, মার্চ 15, 2017 - ডুয়াল ব্যাক ক্যামেরার হ্যালিও স্মার্টফোন আনল এডিসন গ্রুপ |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / দক্ষ আইনজীবী হতে হলে করনীয়
দক্ষ আইনজীবী হতে হলে করনীয়

দক্ষ আইনজীবী হতে হলে করনীয়

সবাই স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে একটি সন্মানজনক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে ক্যারিয়ারকে উজ্জল করবে। মানুষ ভেদে স্বপ্নও থাকে আলাদা আলাদা। তদুপরি যতোগুলো সন্মানজনক পেশা আছে তার মধ্যে আইজীবী হলো একটি । এই পেশায় আসলে যেমন নিজের স্বপ্নপূরন হয় তেমনি দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার সর্বোচ্চ সুযোগ পাওয় যায়। দক্ষ আইনজীবী হতে চাইলে করনীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয় ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমিনের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব শরীফ।

farzana-advফারজানা শারমিন । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকেও আইনের উপরে আবারও এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে প্রাকটিস করছেন। তার সাথে আলাপ হয় দক্ষ আইনজীবী হতে চাইলে করনীয় বিষয় নিয়ে। আইন বিষয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ আছে যে সব যায়গায় সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্চ ও চালু করেছে। শুধু দেশেই না দেশের বাইরেও এ বিষয়ে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে।’

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ প্রাপ্তিতে যে সমস্ত যোগ্যতার প্রয়োজন আছে সে ব্যপারে তিনি বলেন, ‘ বার কাউন্সিলের সনদ পেতে প্রথমে আপনাকে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন করতে হবে। এর পর আপনাকে এলএলবি কোর্স করতে হবে। অথবা আইনে অনার্স কোর্স করতে পারেন।

আইনে পাস করার পরেই আইজীবী হওয়া যায় না। আইনজীবী হতে হলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পেতে হয়।এই প্রসঙ্গে ফারজানা শারমিন জানান, যারা আইনজীবী হতে চায় তদের পাস করার পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ গ্রহন করতে হবে। কমপক্ষে ৬ মাস কোনো সিনিয়র আইনজীবীর সাথে প্রাকটিস করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী যে সকল মামলা পরিচালনা ও নিস্পত্তিতে অংশগ্রহরন করবে সেই মামলাগুলোর উপর ভিত্তিকরে নতুুনদের কাছে প্রশ্ন করা হয়। মৌখিক ও লিখিত ২ ধরনের পরিক্ষায়ই তাকে অংশগ্রহন করতে হয় । এই ২ বিয়য়ে উর্ত্তীনদের কে বার কাউন্সিল থেকে সনদ প্রদান করা হয়।

আইন বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করলে বাংলাদেশে কাজের যে ক্ষেত্র রয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ আইন নিয়ে পড়লে যে সবাই আইনজীবী বা উকিল হবে আসলে তা না। বিভিন্ন কোম্পানির লিগ্যাল এ্যাডভাইজার ও ব্যাংকিং সেক্টরে আইনে পাস করা শিক্ষার্থীদের বেশ কদর রয়েছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও ছোট-বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থায় কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে কাজেরও সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, উকিল হলেই তাকে আমরা আইনজীবী বলি আসলে কেউ যদি আইন সম্পর্কিত কোন পেশায় নিয়োজিত থাকে তবে সে আইনজীবী পরিচয় দিতে পারবে।

আইনজীবী হিসেবে সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখা হয় কি না ? এমন প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, ‘ সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ভাবেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাকরে দেখা হয় না। এখানে পূর্বের কোনো অভিজ্ঞতাই কাজে লাগে না। সিনিয়রের সাথে প্রাকটিস করে কি শিখলো তার উপরে ভিত্তিকরেই মৌখিক ও লিখিত পরিক্ষা হয়। অতএব আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকেই উকিল হিসেবে দেখা যায় না। প্রায় সবাই বিসিএস করে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত হয়ে যায়। বিসিএস এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময়ই এগিয়ে থাকে এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটু বেশিই গুরুত্ব দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
অনেকেই আইনের উপরে বিদেশে গিয়ে ডিগ্রী অর্জন করে আসে। বিদেশি এই ডিগ্রী অর্জনের জন্য কেমন যোগ্যতা থাকা দরকার এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফারজানা শারমিন জানান, বাংলাদেশে ‘বার এ্যাট ল’ ডিগ্রীধারী অনেক । তবে বাংলাদেশের এলএলবি ও ‘বার এ্যাট ল’ এর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। ইনল্যান্ডের এই ডিগ্রী অর্জনের জন্য আপনাকে প্রথমে বাংলাদেশ থেকে আইনে ¯œাতক ডিগ্রী নিতে হবে। এর পর ইনল্যান্ডের আইনের ওপর পড়াশুনা করতে হবে। এ জন্য ইংল্যান্ডে নয় মাসের একটি বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স করতে হবে। এই কোর্সের সফল সমাপ্তি শেষে পাওয়া যায় ইংল্যান্ড বার কাউন্সিলের স্বীকৃতি ও সনদ। বাংলাদেশের আইনজীবীদের বলা হয় অ্যাডভোকেট। তেমনি করে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার আইনজীবীকে বলা হয় ব্যারিস্টার। এই ধরনের কোর্স করতে কেমন খরচ লাগতে পারে এ ব্যপারে তিনি বলেন, ‘বার এ্যাট ল কোর্স দুই পদ্ধতিতে করা যায় । বাংলাদেশে থেকে বার অ্যাট-লর ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা। আর ইংল্যান্ডে গিয়ে পড়তে চাইলে পড়বে ৬০ লাখ থেকে এক কোটি টাকার মতো। কেউ যদি ব্যারিস্টারি ডিগ্রী অর্জন করে বাংলাদেশে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে চায় সেক্ষেত্রে তাকে আবার বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় পাশ করে সনদ নিতে হবে। কারণ এর আগে যদি কেউ ব্যারিস্টারি ডিগ্রী অর্জন করত, সে সরাসরি বাংলাদেশে আইন পেশায় নিয়োজিত হতে পারত। তাকে আর বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় পাশ করে সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু এখন সেই নিয়ম আর নেই।’

10314009_10152029761392181_4694598411498966658_nতরুণদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, ‘মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারনা রয়েছে যে, উকিলরা মনেহয় সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য বানাতে পরে। তারা মনে করে যে উকিল সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানাতে বেশি পারদর্শী সে তত খ্যাত। এবং যারা গ্রাজুয়েশন করার পর কোথাও চাকরি পায় না তারা শেষ পর্যন্ত কোনমতে একটা এলএলবি কোর্স করে ওকালতি করে। মেধাবি তরুণরাই পারে এই ভ্রান্ত ধারনাগুলো দূর করতে। তারা বুঝিয়ে দিতে পারে আলালতে একমাত্র তথ্য- উপাথ্য ছাড়া অন্য কিছু গ্রহনযোগ্য হয় না । এ জন্য প্রয়োজন এক ঝাঁক তরুণ মেধাবি একণিষ্ঠ আইনজীবী।’
এই পেশায় সফল হতে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সকল পেশাতেই সফলতার মুখ দেখতে আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ইচ্ছা, আগ্রহের সাথে ধৈর্য্যও থাকা চাই। আপনি যদি কোন কাজে এনজয় না করে ঝামেলা মনে করেন তাহলে সফলতার আশা করবেন না এবং সফলতাও আপনাকে দেখা দিবে না।’ আর আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন বা সফলতা পেতে হলে এই বিষয়গুলো ছাড়াও খেয়াল রাখতে হবে , আপনি যা কোর্টের অনুকূলে দাখিল করবেন তা যেনো স্বচ্ছ হয় । যুক্তি তর্কে যা ই বলেন তা যেনো ষ্পষ্ট হয় । আপনি কিভাবে আপনার ড্রাফট সাবমিট করবেন তার উপরেও মামলার অনেক কিছু নির্ভর করে এমনই জানিয়েছেন তিনি।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top