শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - পাকিস্তানের টাওয়ার কোম্পানি অধিগ্রহণ করছে ইডটকো | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - নোকিয়া ৯ স্মার্টফোনে ৬জিবি এবং ৮জিবি র‌্যাম | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - চীন বানাল বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটার | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - পদত্যাগ করলেন উবার প্রধান | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - আসছে উড়ন্ত গাড়ি | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - রাজধানীতে ভিক্ষাতে প্রযুক্তির ছোয়া | বৃহস্পতিবার, জুন 22, 2017 - স্মার্টফোন থেকে মুছে যাওয়া ছবি ফিরে পেতে করনীয় | বুধবার, জুন 21, 2017 - সাকিব আল হাসান ও হুয়াওয়ে ভক্তদের চীন সফর | বুধবার, জুন 21, 2017 - নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের উন্নততর মানের সূচনা | বুধবার, জুন 21, 2017 - জিপিহাউজে টেলিনর ইয়ুথ ফোরাম নিয়ে রোড শো অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / দক্ষ লোকবল তৈরিতে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে-হাফিজুর রহমান খান
দক্ষ লোকবল তৈরিতে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে-হাফিজুর রহমান খান

দক্ষ লোকবল তৈরিতে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে-হাফিজুর রহমান খান

runnerসফল রহস্য আর সফল গল্প যা-ই বলেন না কেনো মানুষ অনেক আগ্রহ নিয়ে এগুলো জানতে চায়। তেমনই একটি সফল গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের এবারের ধারাবাহিকতা। আমাদের এবারের আয়োজনে থাকছে দেশের খ্যাতিমান ও সফল ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমার খানের (চেয়ারম্যান, রানার গ্রুপ) বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ তার দেওয়া কিছু পরামর্শ।

বর্তমান সময়ে অনেকের-ই স্বপ্ন সে একজন সফল ব্যবসায়ী হবে। হাফিজুর রহমান খান সে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার ছাত্রজীবনে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন লেখাপড়া করি তখনকার সময়ে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ছিল সে হয়তো ডাক্তার হবে অথবা ইঞ্জিনিয়ার। এর পরবর্তী পছন্দ ছিল তারা সরকারি চাকরি করবে। কিন্তু বর্তমান সময়ের চিত্র আলাদা। এখন কেউ ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় না, হতে চায় ব্যবসায়ী। পৃথিবীতে যতো ধনবান ব্যক্তিরা রয়েছেন তারা প্রায় সবাই-ই ব্যবসায়ী। হয়তো এ কারণেই বর্তমান প্রজন্মকে ব্যবসায়ী হতে আগ্রহ বাড়াচ্ছে।’

হাফিজুর রহমান তার ব্যবসা শুরু সম্পর্কে বলেন, ‘আমি যখন ব্যবসা শুরু করি তখন আসলে সমাজে টিকে থাকার জন্য কিছু একটা করা দরকার, কিছু টাকা রোজগার করা দরকার এই চিন্তা নিয়েই আসলে কিছু একটা করার চেষ্টা চালিয়েছিলাম। অনেক কিছু ভেবে বা চিন্তা করে এটা শুরু করিনি। এখনকার সময়ের উদ্যোক্তারা এই বিষয়ে ট্রেনিং নিচ্ছে, লেখাপড়া করছে তারপর ব্যবসায় নামছে। এইতো কয়েক দিন আগে আমার কাছে সরকার থেকে চিঠি এসেছে যে, আমি এন্টারপ্রেনারদের ডেভেলপমেন্টে মেন্টর হতে চাই কি-না। আমি আমার কনসেপ্ট জমা দিয়েছি। আমার অভিজ্ঞতা শেয়ারের মাধ্যমে কারও যদি বিন্দু মাত্র উপকার হয় বা সে যদি কিছু অর্জন করতে পারে তাতেই আমি খুশি হবো। কখনো কেউ এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। কারণ, বাস্তবে এ অভিজ্ঞতা পেতে হলে তাকে কমপক্ষে পঞ্চাশ বছর অপেক্ষা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন পার করে এই অবস্থানে পৌঁছে ওই সময়টাকে আমি যেভাবে দেখছি বর্তমানে যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আছে তারা তো তা দেখতে পারছে না।’

‘কিছুদিন আগে আমাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করলেন। সেখানে আমি আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম এভাবে—যখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, তখন অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম এই ভেবে—এখন তো শাসন করার কেউ নেই। কেউ দেখছে না, বাবা মাসে মাসে টাকা পাঠাচ্ছে আমি তা মনের আনন্দে খরচ করছি। বাড়িতে থাকা অবস্থায় সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে বাসার ঢুকতে হবে নইলে রেহাই নেই, এমন অবস্থা থেকে আসলে কে না খুশি হয়। যখন মাসখানেক পার হলো তখন মনটা কাঁদতে লাগল, কখন বাড়ি যাব। আমাদের ডিপার্টমেন্টের প্রায় সকলের একই অবস্থা, সবাই বাড়িতে যেতে আগ্রহী কিন্তু কোনো সামনে কোনো ছুটি ছিল না। বাড়ি যাওয়ার জন্য আমাদের কৌশল অবলম্বন করতে হলো। সবাই যার যার বাড়ি চলে গেলাম। এরপর যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম তখন আমাদেরকে ডেকে শাসন করা হলো। তা যাই হোক কিন্তু আমরা সবাই গেলাম কেন? কারণ আমরা যখন আমাদের সমাজ ও সামাজিক বন্ধন থেকে দূরে চলে এলাম তখন বুঝলাম এই শাসনের জীবন আমার কত প্রিয়। আমি যে ভাই, বন্ধুদের সাথে দুষ্টমি-মারামারি করতাম তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল এবং আমার প্রতিও তাদের ভালোবাসা ছিল। কাছে থাকতে তা বুঝতে পারিনি, দূরে এসে কিছু হলেও তা উপলব্ধি করতে পেরেছি। ভালোবাসার যে একটা বন্ধন আছে তা অনুভব করতে পেরেছিলাম তখন যা তোমরা এখন বুঝতে পারছ না বা তোমাদের মধ্যে তা নেই। তোমরা হয়তো মনে করছ তোমাদের কাঁধে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তোমাদের কাছে এখন এগুলো ভালো লাগছে না। আমি আমার যে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম তা বিশাল শিক্ষার বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার জীবনের প্রথম উপার্যনের টাকা যখন আমি আমার বাবা-মাকে দিলাম তখন কিযে আনন্দ লাগছিল তা বলে বুঝাতে পারব না। যখন আমরা কোনো উপহার পেতাম তখন অনেক খুশি হতাম কিন্তু বুঝতাম না যে দিয়েছে তার অনুভূতি কি? আমি যখন এই পর্যায়ে চলে এসেছি তখন বুঝতে পারলাম যে দেয় তার মধ্যেও একটা আনন্দ কাজ করে। যতদিন আমি এই পর্যায় পৌঁছতে পারিনি তখন তা বুঝতেও পারিনি। সমাজ তো আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে এই সমাজের জন্য কিছু করতে পারাটাও নিশ্চয়ই অনেক আনন্দের।

ব্যবসা জীবনে প্রবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বিজনেস ম্যানেজমেন্টের ছাত্র। লেখাপড়াটা যখন এই সাবজেক্টে তো আমাকে এ পথে আসতেই হবে এই ভেবেআমি ব্যবসা শুরু করি। একসময় একটি হাদীসে পড়েছিলাম, পৃথিবীর যত সম্পদশালী তার ৯০ শতাংশই হলো ব্যবসায়ী আর বাকী ১০ হলো যত ধরনের পেশা আছে। ওই হাদীসটিই আমাকে ব্যবসায়ী হওয়ার মানসিকতা তৈরি করেছে। এছাড়াও সামাজে কিছু করতে হলে অবশ্যই তাকে অনেক টাকার মালিক হতে হবে। সত্পথে আয় করে তা সত্পথে খরচ করাটা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং আনন্দের।’ সফল ব্যবসায়ী হওয়া সম্পর্কে রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘যে কোনো পেশার সফল ব্যক্তিদের আমি মানুষের মধ্যে আলাদা কোনো প্রাণী বলব কারণ, সবাইতো আর সফল হতে পারে না। সবাই তো টেন্ডুলকার হতে পারবে না, সাকিব আল হাসান হতে পারবে না, জাকারবার্গ বা বিল গেটস হতে পারবে না। তাদেরকে আদর্শ মনে করতে হবে। তাদের মধ্যে অবশ্যই আলাদা কিছু আছে যে কারণে তাদের এই সফলতা। এ পর্যন্ত যত সফল এন্টারপ্রেনারদের সাথে কথা বলেছি প্রত্যেকের কাছেই শুনেছি ব্যবসা শুরুতে তাদের মূলধন ছিল খুবই সামান্য। এখনকার উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বললে তারা বলে তাদের মূলধন নেই, মূলধন ছাড়াকি কিছু করা যায়? যারা অনেক পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছে তার বেশি সংখ্যকই হারিয়ে গেছে। ব্যবসা করতে টাকা লাগে এটা সত্যি। সফল ব্যবসায়ী হতে হলে তার প্রথম গুণ থাকতে হবে সে যেকোনো পরিবেশে টাকা জোগাড় করতে পারবে। প্রত্যেক সফল ব্যবসায়ী জানে তাকে কীভাবে টাকা বা মূলধন জোগাড় করতে হবে। আমাদের কাছে এখনো বড় বড় চ্যালেঞ্জ আসে, অনেক টাকা জোগার করতে হয়। আমরা তা বুদ্ধি করে তা ব্যবস্থা করি।’

সফল ব্যবসায়ী হতে হলে তাকে যে গুণগুলো অর্জন করতে হবে সে সম্পর্কে হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘সফল ব্যবসায়ী হতে হলে তার মধ্যে সঠিক আইডিয়া থাকতে হবে। আর সঠিক আইডিয়ার পিছনে যে মূল জিনিসটি রয়েছে তা হলো অতীতকে যাচাই করে ভবিষ্যতকে দেখতে পাওয়া। যেমন হতে পারে—এই সময়ে যে সমস্ত জিনিস নিয়ে আমাদের সমস্যা হচ্ছে তার একটা সমাধান বের করে জনপ্রিয়তা অর্জন বা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। আমাদের জীবনযাত্রারকে সহজ করতে যা কিছুই করা হয়েছে তা কোনো না কোনো সমস্যার সমাধান। যিনি এই সমস্যার সমাধান করেছেন তিনি তখন ভবিষ্যেক সামনে দেখতে পেরেছেন এবং তারাই সফল হয়েছেন। আর একটি জিনিস হলো সফল ব্যবসায়ী হতে হলে তার জীবনে যে সুযোগটা আসবে বা সামনে আছে তা তাকে দেখতে পেতে হবে। সবার জীবনেই সুযোগ আসে, চোখের সামনে দিয়ে পর্দার মতো ভাসতে থাকে। যে সেটাকে চিনে ধরতে পারে সে-ই সফল। হাত-পা গুটিয়ে ব্যবসা করা কখনোই সম্ভব হয়নি, হবেও না।

বর্তমানে তার কোম্পানিতে ১৮০০ লোক কাজ করছে। তিনি তার ব্যবসাকে প্রসারিত করার জন্য সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘এ মাসেই নেপালে আমাদের মটরসাইকেল যাচ্ছে। আস্তে আস্তে অন্য পণ্যগুলোকেও রপ্তানির চেষ্টা করবো। খুব দ্রুত আমাদের দেশে ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠিত করব। একটি মটর সাইকেল তৈরি করতে প্রায় ২০০০-এর মতো যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫১টি আমাদের দেশেই তৈরি হচ্ছে। একটা সময় আসবে যখন আমরা সবকিছুই এ দেশে তৈরি করতে পারবো। আর সেদিন বেশি দূরে নয়। রানার গ্রুপ নতুন নতুন অনেক ব্যবসা নিয়ে হাজির হবে। অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। দক্ষ লোকবল তৈরিতে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। আশা করি ২০২০ সালে এই খাত একটি ভালো অবস্থানে চলে যাবে। এই টার্গেটকেই সামনে রেখে আমরা কাজ করছি।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top