শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - গুগল ফটোসে যে ভাবে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও লুকাবেন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - মধ্যবিত্তের কথা ভেবে সস্তায় মাইক্রোম্যাক্সের নতুন ফোন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - নতুন ফিচারের ক্যামেরা নিয়ে উন্মুক্ত হলো নোকিয়া ৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - পেপালের ‘জুম’ উদ্বোধন করলেন সজীব ওয়াজেদ জয় | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - ম্যাক্সেল এর বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আইসিটি এক্সপোতে মেট্রো কভারেজ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - সিঙ্গাপুরের মাস্টারকার্ড গ্লোবাল রিস্ক লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - শুরু হলো এমসিসিআই অগ্রগামী ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - বিএমই দিচ্ছে আইসিটি এক্সপো উপলক্ষে তোশিবা পণ্যে বিশেষ অফার! | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপো তে আসুসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নোটবুক | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপোতে বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের অংশগ্রহন |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল থেকে নজর দিলেই উন্নয়ন হবে পর্যটন শিল্পের
সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল থেকে নজর দিলেই উন্নয়ন হবে পর্যটন শিল্পের

সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল থেকে নজর দিলেই উন্নয়ন হবে পর্যটন শিল্পের

mojibদেশের পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রকে কাজে লাগিয়ে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা যেমন অর্জন করা সম্ভব, তেমনি বিদেশেও অনেক কর্মসংস্থান করা সম্ভব ও এই শিল্প দেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারবে। এ জন্য দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ উদ্যোগে এই খাতের দায়িত্ব নিলে আরও বেশি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে এই খাত যেমনটি ঘটেছে আমাদের বিদ্যুৎ খাতে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও এ খাতে কর্মসংস্থান নিয়ে এমনই বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ও ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমেদ

মানুষের কাছে ভ্রমণ সবসময়ই আকর্ষণীয় একটি বিষয়। আর এ বিষয়টিকে ঘিরে পর্যটন শিল্প নিয়ে অনেক দেশই হয়েছে অনেক উন্নত। এ খাতে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণে বর্তমানে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে অর্থাৎ ট্যুরিজম ও হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের অবস্থা ও এ খাতে পড়ালেখা নিয়ে মজিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সারা বিশ্বে পর্যটন শিল্প স্বীকৃতি পেয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। যদিও পর্যটন বিষয়টি অনেক পুরনো। আর তাই এই বিষয়ে পড়ালেখার বিষয়টিও এখনও খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারেনি, বেশি হলে ১৫ বছর হবে এ বিষয়ের উপর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। আর সেদিক থেকে হিসেব করলে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। আমাদের এখানে এই বিষয়ে পড়ার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও খুব একটা বেশি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে যদি আমাদের এগুতে হয়, তাহলে আমাদের কিছু বিষয় জানতে হবে। প্রথমেই জানতে হবে, এই বিষয়টি কী। ট্যুরিজম বলতে কী বোঝায়, এ বিষয়টি জানতে হবে সবার আগে। এই ক্ষেত্রটি আসলে অনেক আসলে অনেক কিছু নিয়ে একটি বিস্তৃত খাত। আমাদের দেশে পর্যটনের ক্ষেত্রটি অনেক বিস্তৃত।’ পর্যটন বা ঘোরাঘুরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘১৫ বছর আগেও এ দেশে ভ্রমণের ব্যাপারটি অনেক সীমিত ছিল। কিন্তু এখন মানুষ দেশের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পটে ঘুরতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের বাইরের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে মানুষের ঘুরতে যাওয়ার পরিমাণও বাড়ছে। সব মিলিয়ে মানুষের মাঝে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির প্রবণতা প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের দেশে কতজন বিদেশি ঘুরতে এলো, শুধু সে হিসেব করলেই চলবে না। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

tour-bdট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স এখানে কবে শুরু হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে এ বিষয়ে পড়ালেখা শুরু হয়েছে প্রায় ৭ বছর আগে, প্রথমে মাস্টার্স দিয়ে শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ইভিনিং এমবিএ এবং  স্নাতক লেভেলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে এ বিষয়ে পড়ালেখা খুব বেশি এগুতে পারেনি, এর কারণ হলো এ বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। এর পাশাপাশি এ বিষয়ের অ্যাপ্লিকেশন হোটেলেরও প্রয়োজন রয়েছে যা আমাদের এখানে নেই। এ জন্য কিন্তু শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে। অ্যাপ্লিকেশন হোটেলটি তৈরি হলে এখান থেকে শর্ট কোর্স করেও অনেক দক্ষ পেশাজীবী শ্রমবাজার ও বিদেশের দক্ষ শ্রমিক হিসেবে তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, এ কারণে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহও অনেক কম। এখন যদি এখানে একটি অ্যাপ্লিকেশন হোটেল পাওয়া যায়, তাহলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে এ বিষয়ের চাহিদা ব্যাপক আকারে বাড়বে। আমাদের এখানে বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয় থেকে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী পড়ালেখা সম্পন্ন করে বের হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকেই আবার এ বিষয়ের বাইরে অন্য খাতে কাজ করছে, অর্থাৎ এ খাতে থাকছে না। বর্তমানে ছেলেদের বাইরে মেয়েরাও এ খাতে কাজ করছে। এর কারণে সামাজিকভাবে এ বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মজার বিষয় হলো এ বিষয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরাসরি দেশের বাইরেও চাকরি নিয়ে চলে যেতে পারে। বর্তমানে অনেকেই এ বিষয়ে পিএইচডি করার জন্য নিউজিল্যান্ড, চীনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানকার পর্যটন খাতের সম্ভাবনা বিপুল। এর সাথে কিন্তু শুধু হোটেল নয়, এর বাইরে আরও কিছু ক্ষেত্র রয়েছে। যার মধ্যে আছে ট্যুর অপারেশন, এয়ারলাইন্স বা ট্রান্সপোর্টেশন, অ্যাকোমোডেশন প্রভৃতি। এই জায়গাগুলোতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি যে শুধু সরকারিভাবেই হতে হবে তা নয়। সরকারি বেসরকারি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতেও হতে পারে। আমরা সরকারি পর্যায়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশে অনেক উদ্যোগ লক্ষ্য করি, এ ক্ষেত্রে দেশের পর্যটন শিল্পের ব্র্যান্ডিং করার জন্য দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলে আরও বেশি পর্যটকদের নজর কাড়া সম্ভব হবে।’
tour-bd1দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে কী করা যেতে পারে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মজিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ একটাই, তা হলো স্থানীয় পর্যটন খাতকে ফোকাস করে এ খাতের উন্নয়নে কাজ করা। বিদেশি পর্যটকরা আমাদের দেশের কোনো পর্যটন স্পটে যাওয়ার আগে খোঁজ নেয় এখানকার মানুষ সেসকল স্পটে কতবার গিয়েছে। এ জন্য আমাদের পর্যটন স্পটগুলোকে সবার সামনে তুলে ধরতে হবে। এসব জায়গায় হোটেলগুলোকে আরও সহজলভ্য এবং এগুলোর খরচ কমাতে হবে। কারণ একজন পর্যটক কোথাও গেলে সে তো খুব বেশি সময় হোটেলে অবস্থান করে না বা সে হোটেলে থাকার জন্যও সেখানে যায় না। এই এক জায়গাতেই যদি আমার মোট খরচের বড় অংশ দিয়ে দিতে হয়, তাহলে আমি খুব বেশি ঘোরার প্রতি আগ্রহী হবো না। এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বাজেট হোটেলগুলো। এর সাথে একটু ভালোমানের সেবা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি এর সাথে অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোরও উন্নতি ঘটবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ খাতের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটিকে যদি এক জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়, তাহলে এই খাত আরও এগিয়ে যাবে। এ ছাড়া এই খাতের জন্য দরকার অভিজ্ঞ জনবল যারা পর্যটন খাতকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাত হবে দেশের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top