শিরোনাম

রবিবার, জানুয়ারী 21, 2018 - গ্লোবাল ব্র্যান্ড নিয়ে এসেছে লেনোভো আউডিয়াপ্যাড ৩২০ ল্যাপটপ | রবিবার, জানুয়ারী 21, 2018 - ব্যবসায়ীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেস | রবিবার, জানুয়ারী 21, 2018 - হ্যাকিংয়ের কাবলে ওয়ানপ্লাস | রবিবার, জানুয়ারী 21, 2018 - আসছে ইন্টেল কোর আই৯ প্রসেসর এর ল্যাপটপ | রবিবার, জানুয়ারী 21, 2018 - বাণিজ্য মেলায় অপো এফ৫ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা | শনিবার, জানুয়ারী 20, 2018 - আরও কঠিন হচ্ছে ইউটিউব থেকে উপার্জন | শনিবার, জানুয়ারী 20, 2018 - ফেসবুক হ্যাকড হলে করনীয় | শনিবার, জানুয়ারী 20, 2018 - কর্মজীবি নারীদের মানহানি বন্ধে আহব্বান | শনিবার, জানুয়ারী 20, 2018 - ফেসবুকে মিলবে না নিউজ আপডেট | শনিবার, জানুয়ারী 20, 2018 - ফেস আনলক ফিচার নিয়ে এল ‘অনর ভিউ-১০’ |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / ‘নবাবী কলরেট’ অফার দিয়ে গ্রাহকের ৯২ কোটি টাকা খেল বাংলালিংক
‘নবাবী কলরেট’ অফার দিয়ে গ্রাহকের ৯২ কোটি টাকা খেল বাংলালিংক

‘নবাবী কলরেট’ অফার দিয়ে গ্রাহকের ৯২ কোটি টাকা খেল বাংলালিংক

অনুমোদনহীন সেবার মাধ্যমে নেয়া অর্থ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিতে সেলফোন অপারেটর বাংলালিংককে ২০১২ সালের আগস্টে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ওই নির্দেশের এক মাসের মধ্যে এ বাবদ ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। এর পর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়নি বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন্স লিমিটেড।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের শুরুর দিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই ‘নবাবী কলরেট’ নামে একটি অফার চালু করে বাংলালিংক। এর আওতায় দিনে ৪ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করে মিনিটপ্রতি ৬৫ পয়সায় কথা বলার সুযোগ দেয়া হয় গ্রাহকদের। পরবর্তীতে অফারটির বিষয়ে বাংলালিংকের কাছে জানতে চায় বিটিআরসি। তখন প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একই বছরের ডিসেম্বরে সেবাটি বন্ধ করে দেয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন ৪ টাকা হারে এ অফারের আওতায় গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে।

nababi-blink

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৩ আগস্ট বাংলালিংককে চিঠি দেয় বিটিআরসি। এতে এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে দিতে বলা হয়। এ অর্থ প্রি-পেইডের ক্ষেত্রে আই-টপ-আপ হিসেবে এবং পোস্ট-পেইড গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে ফেরত দিতে বলে বিটিআরসি। তবে এর পর কমিশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো এ অর্থ ফেরত দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

অর্থ আদায় প্রক্রিয়া অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হয়েছে উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, কমিশনের বৈঠকেও এ অর্থ আদায়ের বিষয়ে তাগাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ চায়। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়, যেখানে নিজেদের দাবির সপক্ষে বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করেছে তারা। শিগগিরই বিষয়টির সমাধান হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাকেজ চালুর আগে অনুমোদন নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী প্যাকেজ কিংবা অফারের সুবিধা দিতে কোনো ধরনের ফি নিতে পারে না অপারেটররা। সে হিসেবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে এ অর্থ নেয়া হয়েছে। এছাড়া বিটিআরসির জারি করা এক নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, কোনো প্রমোশনাল প্যাকেজ দুই মাসের বেশি চালু রাখা যাবে না। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের প্যাকেজ দুই মাসের বেশি চালানো হলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী প্যাকেজ বলে গণ্য হবে।

কমিশন সূত্র বলছে, অনুমোদনহীনভাবে আয় করা এ অর্থ অবৈধ। তাই এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের তা ফিরিয়ে দিতে বাংলালিংককে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া এ সেবা চালুর কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

তবে এ বিষয়ে ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, সেবাটির মাধ্যমে স্বল্পব্যয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন বাংলালিংকের গ্রাহকরা। আর নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রচলিত নিয়ম মেনেই এ সেবার অনুমোদন নেয়া হয়। বিষয়টি কমিশনকে এরই মধ্যে লিখিতভাবে জানিয়েছে বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ। এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার সুবিধা দেয়া হয়েছে। আর এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে কোনো সুবিধা পায়নি বাংলালিংক। বর্তমানে বিটিআরসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি।

জানা গেছে, অপারেটরদের অনেক সেবা রয়েছে। সেগুলোর সময়সীমা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে গ্রাহক এর পুরো সুবিধা ভোগ করতে না পারেন। এসব ক্ষেত্রে অব্যবহূত অংশ পুনর্ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয় না। অথচ এজন্য পুরো টাকা দিতে হয় গ্রাহককে। ফ্রি টক টাইম, ফ্রি এসএমএস ও ইন্টারনেট বান্ডল অফারের ক্ষেত্রেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

অপারেটরদের সেবার মান নিশ্চিত করতে ২০০৭-১২ সাল পর্যন্ত সাতটি ভিন্ন নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি। জারি করা এসব নির্দেশনা সঠিকভাবে পরিপালন না করার পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করারও অভিযোগ ওঠে অপারেটরদের বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের এপ্রিলে গ্রাহক স্বার্থে দেশের সেলফোন অপারেটদের প্রতি একসঙ্গে নয়টি নির্দেশনা জারি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর একটিতে বলা হয়েছে, সেলফোন অপারেটরদের বিভিন্ন সেবা নিবন্ধনের পাশাপাশি তা বন্ধের বিষয়েও গ্রাহককে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

উল্লেখ্য, মিসরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল টেলিকম হোল্ডিংয়ের (জিটিএইচ) শতভাগ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গ্রুপ ভিম্পেলকম লিমিটেড জিটিএইচের মূল প্রতিষ্ঠান। গ্রাহক সংখ্যার ভিত্তিতে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ সেলফোন অপারেটর বাংলালিংকের গ্রাহক চলতি বছরের নভেম্বর শেষে ৩ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।

সুত্রঃবনিক বার্তা

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top