শিরোনাম

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - ই-গভর্নেন্স প্লাটফর্ম বাংলাদেশ এর যাত্রা শুরু | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - দুবাইয়ে ড্রোন ট্যাক্সি সার্ভিস নিয়ে চালানো হয়েছে পরীক্ষা | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - ডোজ ইন্টারনেট নিয়ে এলো “ডোজ ফর বিজনেস” প্যাকেজ! | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - মাইক্রোসফটে স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগ চালু | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - চীন সরকারের ব্লক লিস্টে যুক্ত হলো হোয়াটসঅ্যাপ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - ফেসবুকে আসছে ‘স্নুজ’ বাটন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - যে ভাবে বন্ধ করবেন স্মার্টফোনের ফ্রি বিজ্ঞাপন | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর 26, 2017 - কম রেঞ্জের অসাধারণ ফোন আনল জিওনি | সোমবার, সেপ্টেম্বর 25, 2017 - টেকনো আনলো নতুন সেলফি ফোন | সোমবার, সেপ্টেম্বর 25, 2017 - ড্যাফোডিলে এসিএম আইপিসি অনলাইন প্রিলিমিনারি প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / নিজস্ব কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে ছয় সেলফোন অপারেটর
নিজস্ব কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে ছয় সেলফোন অপারেটর

নিজস্ব কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে ছয় সেলফোন অপারেটর

দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ছয় সেলফোন অপারেটরের নিজস্ব কর্মী সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজারের মতো। স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন তারা। এর বাইরেও বিপুল সংখ্যক কর্মী রয়েছেন, যাদের নিয়োগ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজ করা এ জনবল অপারেটরদের নিয়মিত কর্মীর চেয়েও বেশি; সংখ্যায় যা প্রায় ১৫ হাজার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেবা সম্প্রসারণে গত দেড় দশকে বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ দিয়েছে অপারেটররা। এতে তাদের ব্যয়ও বেড়েছে। এ ব্যয় কমিয়ে আনতে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সেলফোন অপারেটররা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সংগ্রহ করছে। অপারেটরদের মধ্যে এ প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে।

btrc-operator

গ্রাহক সংখ্যার ভিত্তিতে দেশের সবচেয়ে বড় সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। অপারেটরটির নেটওয়ার্কে যুক্ত ৫ কোটি ১৫ লাখ ৯৯ হাজার গ্রাহক। নিজস্ব ৪ হাজার ৭০০ জনবল নিয়ে কাজ করছে গ্রামীণফোন। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা, কল সেন্টার, গ্রাহক সেবা কেন্দ্র এবং পণ্য ও সেবা পরিবেশনার দায়িত্ব পালন করছেন তারা। তবে এর বাইরে আউটসোর্সিং বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অপারেটরটির হয়ে কাজ করছেন প্রায় ৩ হাজার ৭০০ জন। মূলত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো, কল সেন্টার, যানবাহন, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, ডে-কেয়ার সেন্টার, আইটি হেল্প ডেস্ক, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্যাকেজিংয়ের মতো কাজে নিয়োজিত রয়েছেন তারা।

জানতে চাইলে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কোম্পানিগুলো ক্রমেই নিজেদের মূল দক্ষতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনায় অন্য যেসব সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, সেগুলো তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও বেসরকারি খাতে আউটসোর্স প্রথা চালু হয়েছে। প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সরকারও এর আইনগত সুরক্ষা দিয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়ন যেমন হচ্ছে, একই সঙ্গে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে সাশ্রয়ী ও কার্যকর সেবা।

আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচনের পাশাপাশি নিজস্ব কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ওপর যেসব দায়বদ্ধতা বর্তায়, তা থেকে মুক্ত থাকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে অপারেটররা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেলফোন অপারেটরের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও জড়িত।

ইউএনআই বাংলাদেশ অ্যাফিলিয়েটস কাউন্সিলের (ইউএনআইবিএসি) উপসভাপতি ও গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ বলেন, জনবল আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অপারেটররা ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যে দায়ভার থাকে, তাও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। জনবল আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যয়সংকোচনের পাশাপাশি এটিও কাজ করছে অপারেটরদের মধ্যে।

বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দ্বিতীয় শীর্ষ সেলফোন অপারেটর বাংলালিংক। তাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ১৫ লাখ ১৫ হাজার। নিজস্ব ২ হাজার ৩০০ কর্মীর পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে অপারেটরটি সেবা নিচ্ছে আরো দুই হাজার কর্মীর।

জানতে চাইলে বাংলালিংকের মানবসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে বাংলালিংক। জনবল আউটসোর্সিংয়ের মূল লক্ষ্যই হলো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা। এছাড়া বিশেষায়িত সেবার ক্ষেত্রেও তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এতে সেবার মানও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সব মিলিয়ে আউটসোর্সিংয়ের ফলে প্রতিষ্ঠান যেমন লাভবান হয়, তেমনি সমাজের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রবির নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছেন ২ কোটি ৬৪ লাখ গ্রাহক। এ কার্যক্রম পরিচালনায় নিজস্ব ১ হাজার ৬২৫ জনবলের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আড়াই হাজারজনের সেবা নিচ্ছে অপারেটরটি।

রবির পরই সবচেয়ে বেশি গ্রাহক যুক্ত রয়েছেন এয়ারটেলের নেটওয়ার্কে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার। নিজস্ব ৭৫০ কর্মীর বাইরেও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার কর্মী কাজ করছেন এয়ারটেলের হয়ে।

দেশের সবচেয়ে পুরনো সেলফোন অপারেটর সিটিসেল। ১৯৮৯ সালে কার্যক্রম শুরু করা অপারেটরটির গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ১২ লাখ ৬৩ হাজার। নিজস্ব এক হাজার কর্মীর পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী সিটিসেলের হয়ে কাজ করছেন। একইভাবে জনবল আউটসোর্সিংয়ের নীতি অবলম্বন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটকও। তাদের নিজস্ব কর্মী বাহিনী ৭০০ জনের।

উল্লেখ্য, গ্রামীণফোন তাদের নিজস্ব কর্মী কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে ২০১১ সালে। ওই বছর প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাদ দেয়া হয় বেশকিছু কর্মী। এছাড়া রবির কল সেন্টর আগে নিজস্ব কর্মী দিয়ে পরিচালিত হলেও এখন তা তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অপারেটরটি।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top