শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভুতুড়ে আচরণ
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভুতুড়ে আচরণ

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভুতুড়ে আচরণ

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট http://www.ecs.gov.bd ভুতুড়ে আচরণ শুরু করেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে এই ওয়েবসাইট থেকে প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণীসহ ব্যক্তিগত তথ্যের হলফনামা স্বাভাবিক নিয়মে ডাউনলোড করা সম্ভব হচ্ছে না।
যদিও গতকাল নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামার প্রকাশ ও প্রচার অব্যাহত রাখবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই এটি করা হয়েছে।
গত রোববার আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন সমন্বয় উপকমিটির আহ্বায়ক মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হলফনামা প্রকাশ ও প্রচারের ব্যাপারে আপত্তি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টির আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ecs
এরপর গতকাল থেকে কমিশনের ওয়েবসাইটের হলফনামার ডাউনলোডের গতি অস্বাভাবিক মন্থর হয়ে পড়েছে। ‘প্রার্থীদের প্রদত্ত ব্যক্তিগত তথ্যাদি’র ওপর ক্লিক করলে প্রার্থীদের নাম ও আসনের নাম দ্রুত উন্মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ‘হলফনামা’র ওপর ক্লিক করলে তা আর সহজে নামানো বা ডাউনলোড হচ্ছে না। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের হলফনামার ক্ষেত্রেও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশন সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সারা দেশে হলফনামার ব্যাপারে আগ্রহীরা ঘন ঘন ইসির ওয়েবসাইটে ঢুকছেন। এতে ওয়েবসাইটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যে কারণে হলফনামার পাতাটি উন্মুক্ত হচ্ছে না।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে জানার জন্য গতকাল বিকেলে কমিশন থেকে আইটি শাখার কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে তলব করা হয়। সেখানেও তিনি একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে কমিশন সচিবালয়ের অনেকের মতে, আইটি শাখার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, ইসির ওয়েবসাইটের অন্যান্য তথ্য সহজে পাওয়া যাচ্ছে।
হলফনামার বিষয়ে গতকাল কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন হলফনামার তথ্য প্রচার বন্ধে আইনের ফাঁকফোকর খুঁজছে বলে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সত্য নয়। বরং প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়ার ব্যাপারে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এসব হলফনামা রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রচার করে থাকেন এবং ইসির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামা প্রকাশ ও প্রচার করা হয়েছিল। এবারও করা হচ্ছে।
এদিকে প্রার্থীরা হলফনামায় সম্পদ বাড়ার যে বিবরণ দিয়েছেন, তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করে দেখতে পারে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক সবার হলফনামা ও প্রাসঙ্গিক তথ্য জোগাড়ে কাজ শুরু করেছে। পরে খতিয়ে দেখা হবে। পাঁচ বছরের আগের সম্পদের হিসাব ও বর্তমানের সম্পদ হিসাবের মধ্যে যতটুকু সম্পদ বাড়তে পারে, সেটাকে বিবেচনা করা হবে। এর বাইরের সম্পদকে অস্বাভাবিক সম্পদ বলে ধরা হবে।
বিশিষ্টজনের উদ্বেগ: অন্যদিকে হলফনামার প্রকাশ ও প্রচার বন্ধে নির্বাচন কমিশন অশুভ তৎপরতা শুরু করেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের নয়জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁরা বলেন, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মন্ত্রী-সাংসদদের অনেকেরই অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ার সংবাদ প্রকাশ গণতান্ত্রিক জবাবদিহির সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। উল্টোদিকে প্রভাবশালী মহলের দাবিতে প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য লোকানো এবং প্রকাশ বন্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অশুভ তৎপরতার সংবাদ উদ্বেগজনক। সম্পদ বিবরণী প্রকাশের ফলে যেভাবে তাঁরা বিব্রত ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাতেই এরূপ সম্পদ আহরণের বৈধতা আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য প্রকাশ বন্ধ করা হলে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির পথে অন্তরায় সৃষ্টি হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা, প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এরোমা দত্ত এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top