শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - ওয়ান প্লাসের নতুন পাওয়ার ব্যাংক | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্প্যাম মেসেজ ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - যাত্রা শুরু করলো ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - নতুন স্মার্টফোন আনল হুয়াওয়ে অনার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্বল্প মূল্যের গ্যালাক্সি সিরিজের ফোন ‘অন৭ প্রাইম’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - একত্রে কাজ করবে এটুআই এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ল্যাপটপের সঙ্গে রাউটার ফ্রি! | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ‘অপো এশিয়ায় সর্বাধিক বিক্রীত স্মার্টফোন’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - চীনে চালু হচ্ছে গুগলের এআই ল্যাব | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - বৈদ্যুতিক গাড়িতে ১১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ফোর্ডের আগ্রহ প্রকাশ |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফেসবুক আসক্তির খেসারত
ফেসবুক আসক্তির খেসারত

ফেসবুক আসক্তির খেসারত

এস এম মুকুল:এত দিন মা-বাবা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে কথাটি বলতেন, এখন তার সঙ্গে একমত গবেষকরাও। সম্প্র্রতি একদল গবেষক জানালেন, যারা নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করে, পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্টে তারা এগিয়ে থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফেসবুকারদের পরীক্ষা হয় মারাত্মক খারাপ। ফলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে। অহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ২১৯ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর একটা কুইজ টেস্ট করেন। যেখানে দেখা যায়, ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন একাধিকবার তাদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লগ ইন করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কয়েক মিনিট করে ফেসবুকে বসে আবার উঠে যাচ্ছেন এবং অনেকে একটানা কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে দেন ফেসবুকে। তবে শেষে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, গড়পড়তায় সবার ফেসবুকে কাটানো সময়ের হার একই। পাশাপাশি সবার মধ্যেই এই মাধ্যম প্রীতি এবং পড়ালেখায় অনীহার প্রবণতাও এক।
facebook-addiction
চলতি সপ্তাহে আমেরিকান এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনে বার্ষিক সভায় এ গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণাটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর করা হলেও শিশু ও কিশোরের ক্ষেত্রেও এর ক্ষতিকর প্রভাব একই। তারাও সমানভাবে আসক্ত ফেসবুকে বন্ধুত্ব করা, পোক করা, অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা এবং গেমস খেলায়। তবে গবেষকরা শুধু জনপ্রিয় এ মাধ্যমকেই দোষারোপ করেননি। তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় খারাপ করার পেছনে ভূমিকা আছে সব ধরনের সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট আসক্তির। ফেসুবক ছিল তাদের গবেষণার বিষয়বস্তু। আরিন কারপিনস্কি নামের এ দলের এক গবেষক বলেন, যারা ফেসবুকে সময় বেশি দিচ্ছেন, তাদের পড়াশোনায় সময় কমে যাচ্ছে। অনেকে ১ মিনিট-১ মিনিট করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিচ্ছেন এখানে। ফলে পড়ার সময় আর তারা পাচ্ছেন না এবং এর পরিণতিতে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছেন। গবেষক বলেন, প্রতিটি প্রজন্মেই থাকে ধ্বংসাত্মক একটি কাল যন্ত্র। এ যুগে যা ফেসবুকে নামে এসেছে। এটা অন্যসব ধ্বংসাত্মক রূপ থেকে ভিন্ন রূপে এসেছে। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, কুইজে অংশ নেয়া ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর ফেসবুক আসক্তি এখন বাড়তির দিকে এবং তাদের পরীক্ষার গ্রেড পয়েন্ট কমতির দিকে। অন্যদিকে ব্রিটেনেও একই হাল। ব্রিটেনে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশই এখন পুরোপুরি ফেসবুক এবং মাইস্পেস ও মেসেঞ্জারের মতো সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে আসক্ত, যা তাদের পড়াশোনার প্রতি ইচ্ছাকে কমিয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া এখন ইউরোপের তরুণ প্রজন্ম বই পড়ার চেয়ে ব্লগ, নোট ও অনলাইন নিউজ পড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
ফেসবুক কেন মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা তৈরি করছে, সে বিষয়ে গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। তারা দেখেছেন, সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে বেশি সময় পার করা মানেই মনের বিষণ্নতা বেড়ে যাওয়া। গবেষক হু-জু গ্রেস চো এবং নিকোলাজ এজ ৪২৫ শিক্ষার্থীর ওপর জরিপ চালিয়ে এমন ফলই পেলেন। জরিপটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কতটুকু সময় ফেসবুকে ব্যয় করেন এবং তার সঙ্গে তাদের জীবনের পাওয়া না পাওয়ার মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন গবেষকরা। জরিপে করা প্রশ্নগুলো ছিল, তারা কতটা সুখী, জীবন সুন্দর কিনা ইত্যাদি। এছাড়া সম্পর্কের অবস্থা, লিঙ্গ, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং জাতীয়তা ইত্যাদিও ছিল। গবেষণার ফল বলছে, জীবন নিয়ে বেশির ভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারীই হতাশ। অধিকাংশের ধারণা, তাদের চেয়ে বন্ধুরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। এ কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন তারা। এ মনোভাব তাদের আরো বেশি করে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে উত্সাহ জোগায়। যাদের অনেককেই তারা চেনেন না, তাদের নিয়েই বেশি সময় কাটান। গবেষকরা বলছেন, ফেসবুকে দীর্ঘ সময় কাটানোর ফলে আনন্দের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু উল্টো তারা সতর্কভাবেই হাশিখুশি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে।
গবেষকদের পরামর্শ হচ্ছে, ফেসবুক বা যেকোনো সোস্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে কম সময় ব্যয় করে বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো উচিত। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। গবেষণা সংস্থা ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস’-এর তথ্য বলছে, ফেসবুক এবং অন্যান্য সোস্যাল নেটওয়ার্কে অধিক সময় কাটানো তরুণদের জন্য স্থায়ী হতাশা বা মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।
 টেক ওয়ার্ল্ড অনলাইন অবলম্বনে

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top