শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - জেমসক্লিপ এবং অ্যাডকম লিমিটেড-এর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - টানলেই ইলাস্টিকের মতো বাড়বে এই ব্যাটারি,দাবি গবেষকদের | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - টাকার চিন্তায় ডুবে থাকা মানুষই ফেসবুকে বেশি অ্যাক্টিভ:গবেষণা | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - হোয়াটস অ্যাপে নতুন ফিচার,গ্রুপ থেকেই ব্যক্তিগত মেসেজ | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / বাংলাদেশে ব্যাংকের ৪০% আইটি বিশেষজ্ঞ জালিয়াতি করে
বাংলাদেশে ব্যাংকের ৪০% আইটি বিশেষজ্ঞ জালিয়াতি করে

বাংলাদেশে ব্যাংকের ৪০% আইটি বিশেষজ্ঞ জালিয়াতি করে

টিএম, প্লাস্টিক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতির যেসব ঘটনা ঘটছে, তার সিংহভাগের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রাহকের অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যাংকার, এমনকি ব্যাংকে যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী (ভেন্ডার) ও সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও জড়িত থাকেন।

KeyCard

‘অনলাইন ফ্রডস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যুজ ইন ব্যাংকস: বাংলাদেশ পারসপেকটিভ’ শীর্ষক বিআইবিএমের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, এটিএম, প্লাস্টিক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে জালিয়াতির ৪০ শতাংশই সংঘটিত হয় ব্যাংকে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে। আর ১৮ শতাংশ জালিয়াতিতে জড়িত সাধারণ ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তারা। আবার ব্যাংক কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও ভেন্ডার একত্র হয়ে ৯ শতাংশ জালিয়াতির ঘটনা ঘটান। ব্যাংকের ভেন্ডার ও সেবা দানকারীর মাধ্যমে ঘটে ৭ শতাংশ জালিয়াতি। ব্যাংকের বাইরের তথ্যপ্রযুক্তিবিদরা প্রতারণার ১১ শতাংশ ঘটান। এছাড়া অননুমোদিত ব্যবহারকারীর মাধ্যমে ১৫ শতাংশ জালিয়াতি হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংগঠন চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) ফোরামের সভাপতি ও এনসিসি ব্যাংকের সিটিও তপন কান্তি সরকার এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, চাকরি ছেড়ে দেয়া বা চাকরিচ্যুত সাবেক ব্যাংককর্মীদের কাছে থাকা কার্ডের মাধ্যমে এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনা বেশি ঘটছে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। এটিএম বুথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যেসব কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়, তারা চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় তাদের কাছে রক্ষিত প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ডসহ রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন কার্ড বা যন্ত্রপাতি রয়ে যায়। বেশির ভাগ সময় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাছ থেকে এসব কার্ড বা যন্ত্রপাতি ফেরত নেয় না। চাকরি ছেড়ে দেয়া বা চাকরিচ্যুত কর্মীরা সেসব কার্ড ব্যবহার করে এটিএম মেইনটেন্যান্সের নামে বুথে প্রবেশ করে জালিয়াতির ঘটনা ঘটান। মূলত একশ্রেণীর ব্যাংক কর্মকর্তার সহায়তায় এসব প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এটিএম মেশিনের অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেন।

বিভিন্ন ব্যাংকারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যাংক যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে এটিএম কেনে, তাদের কাছ থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে হয়। ক্রয়চুক্তি অনুযায়ীই বিক্রয়োত্তর সেবার অংশ হিসেবে এটিএম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন ওইসব প্রতিষ্ঠান। সেবা দানকারী ওইসব প্রতিষ্ঠানের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি পরিবর্তন করে এসব জালিয়াতির ঘটনা ঘটান।

বিআইবিএমের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে এটিএম ও প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমে ৪৩ শতাংশ জালিয়াতি হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে এ হার ২৫ শতাংশ। অটোমেটেড চেক প্রসেসিং সিস্টেম (এসিপিএস) ও ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ১৫ শতাংশ জালিয়াতি সংঘটিত হয়। ইন্টারনেট ব্যাংকিং মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয় ১২ শতাংশ জালিয়াতির ঘটনায়। সুইফট ও অন্যান্য মাধ্যমে ২ শতাংশ জালিয়াতি হয়।

২০১৩ সালে পরিচালিত গবেষণাটির জন্য এটিএম, প্লাস্টিক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের ৫০টি জালিয়াতির ঘটনা আমলে নেয় বিআইবিএম। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অভিযোগের পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত জালিয়াতির ঘটনাসহ বিভিন্ন গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিযোগ।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে এক্ষেত্রে জালিয়াতি কমে আসবে। দেশে আর্থিক খাতের প্রতারণা ধরার তেমন কোনো যন্ত্রপাতি নেই। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আইসিথ্রি সেন্টারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের এ ধরনের জালিয়াতি শনাক্ত, প্রতিরোধ ও মনিটরিং করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে অনেক ব্যাংকই এখন অনলাইনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করছে।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব কমিউনিকেশন ও সার্ভিস কোয়ালিটি জীশান কিংশুক হক বলেন, ‘অনলাইন জালিয়াতি কমাতে আমরা এখন দুই স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গ্রাহক যখন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনলাইনের মাধ্যমে প্রবেশ করবে, তখন সঙ্গে সঙ্গে তার রেজিস্টার্ড সেলফোনে আরেকটি পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। এক্ষেত্রে জালিয়াতি অপেক্ষাকৃত কঠিন হয়ে পড়বে। আবার অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকে সেলফোনে একটি স্বয়ংক্রিয় বার্তা পাঠানো হয়; যাতে তিনি সে মুহূর্তে সচেতন হতে পারেন। এক্ষেত্রে সেলফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।’

দেশে এখন পর্যন্ত অনলাইনে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। তবে ধারণা করা হয়, জালিয়াত চক্র প্রতি বছর এটিএম, প্লাস্টিক কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিংকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। এ পর্যন্ত গ্রাহকের কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, তার সঠিক হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা অন্য কোনো ব্যাংকের কাছে নেই। সবার মধ্যে নৈতিকতার বিষয়টি জাগিয়ে তুলতে পারলে জালিয়াতির ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করেন গবেষণা পরিচালকদের একজন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জালিয়াতি রোধে গ্রাহকদের সচেতন করে তুলতে হবে। পাশাপাশি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ে আরো কঠোর হতে হবে।

জেসমিন মলি, বণিক বার্তা

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top