শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - যাত্রা শুরু করলো ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - নতুন স্মার্টফোন আনল হুয়াওয়ে অনার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্বল্প মূল্যের গ্যালাক্সি সিরিজের ফোন ‘অন৭ প্রাইম’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - একত্রে কাজ করবে এটুআই এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ল্যাপটপের সঙ্গে রাউটার ফ্রি! | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - ‘অপো এশিয়ায় সর্বাধিক বিক্রীত স্মার্টফোন’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - চীনে চালু হচ্ছে গুগলের এআই ল্যাব | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - বৈদ্যুতিক গাড়িতে ১১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে ফোর্ডের আগ্রহ প্রকাশ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - উইন্ডোজ ৮.১ এর বিদায় | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - স্যামসাংকে টপকে গেলো অ্যাপল |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের লাভ কমেছে ৭৫%
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের লাভ কমেছে ৭৫%

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের লাভ কমেছে ৭৫%

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিযোগাযোগ খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) মুনাফা বড় অঙ্কে সংকুচিত হয়েছে। বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাজার হারাচ্ছে কোম্পানিটি। ফলে আয় সংকোচনে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় ধস নেমেছে। মুনাফা সংকোচনের ফলে কমেছে ২০১৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য লভ্যাংশ দেয়ার হারও। এ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়, যেখানে আগের হিসাব বছরে ২০ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়া হয়।

কোম্পানিটির চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন গতকাল প্রকাশিত হয়। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফা ৭৫ শতাংশ কমেছে। এ তিন মাসে কোম্পানির মুনাফা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময় ছিল ১৪ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৪ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৯৫ পয়সা। এদিকে আয় সংকোচনের কারণে বিনিয়োগকারীরাও এ শেয়ারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। গত চার মাসে শেয়ারটির দর কমেছে ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে গতকাল মুনাফায় ধসের খবরে শেয়ারটির দর কমে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ বা ১১ টাকা ৩০ পয়সা। সর্বশেষ ১২৬ টাকা ১০ পয়সায় এর লেনদেন হয়। সমন্বয় শেষে দাঁড়ায় ১২৫ টাকা ৮০ পয়সায়, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর ইন্টারনেট সেবাদানকারী লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। এতে ২০১৩ সালে কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণার আগে এ শেয়ার ৩৩৫ টাকায়ও কেনাবেচা হয়। চলতি হিসাব বছরে আয় কমতে শুরু করলে শেয়ারদরও নিচে নামতে শুরু করে। প্রসঙ্গত, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প হিসেবে দেশে ছয় প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) লাইসেন্স দেয়া হয় ২০১২ সালের জানুয়ারিতে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চালু হলেও তুলনামূলক কম দামে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করায় মূল সংযোগ হিসেবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি গ্রাহক আগ্রহ বাড়ছে। এতেই বাজার হারাচ্ছে বিএসসিসিএল।

জানা গেছে, গ্রাহক পর্যায়ে আইটিসিগুলো প্রতি মেগাবিটস পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করছে গড়ে ২ হাজার টাকার কমে। অন্যদিকে বিএসসিসিএল একই ব্যান্ডউইডথ বিক্রি করছে সরকার নির্ধারিত ৪ হাজার ৮০০ টাকায়। গত ছয় বছরে দেশে bsccl চাহিদা বেড়েছে ১০ গুণ। ২০০৮ সালে এ চাহিদা ছিল ৭ দশমিক ৫ গিগাবিটস পার সেকেন্ড (জিবিপিএস)। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জিবিপিএসে। এর মধ্যে আইটিসিগুলো সরবরাহ করছে ৫০ জিবিপিএস। আর বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথ ব্যবহার হচ্ছে ৩৫ জিবিপিএস। গত বছরের অক্টোবরেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যান্ডউইডথের চাহিদা ছিল ৪২ জিবিপিএস। অর্থাত্ আইটিসিগুলো চালু হওয়ার পর বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইডথের চাহিদার প্রবৃদ্ধি কমছে।

বর্তমানে একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ হিসেবে সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-ফোরের (সি-মি-উই-৪) সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ। এ ক্যাবলের বাংলাদেশ অংশটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বিএসসিসিএল। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এ ক্যাবলের মাধ্যমে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রায় ১৩টি দেশের ১৫টি ল্যান্ডিং পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ। তবে বিভিন্ন সময়ে সাবমেরিন ক্যাবলের সংযোগ কাটা পড়া বা এটি মেরামতের জন্য বন্ধ রাখা হলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে ইন্টারনেট সেবার গ্রাহকদের। কোনো কারণে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও বিকল্প ব্যবস্থায় ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আইটিসির লাইসেন্স দেয়া হয়।

আইটিসিগুলোর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হওয়ায় কল সেন্টার ও বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার এবং চাহিদাও বাড়ছে। তবে বিকল্প ইন্টারনেট ব্যবস্থা হিসেবে আইটিসি সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়া হলেও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই একে মূল সংযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। ২০১৪ সালে ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১২৪ কোটি ৮৩ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এতে প্রতিষ্ঠানটির আয় আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ কমেছে।

বিএসসিসিএলের আয়ের বড় অংশ আসে ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিজড সার্কিট (আইপিএলসি) ভাড়া থেকে। ২০১৪ হিসাব বছরে খাতটি থেকে এসেছে ৬৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২২ কোটি ৪৩ লাখ ৬ হাজার টাকা। এ খাত থেকে বিএসসিসিএলে আয় কমেছে ৪৫ শতাংশ। তবে এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আয়ের নতুন দুটি খাত সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো হলো— আইপি ট্রানজিট সার্ভিস ও কো-লোকেশন চার্জ। আইপি ট্রানজিট সার্ভিস থেকে বিএসসিসিএলের আয় হয়েছে ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অন্যদিকে কো-লোকেশন চার্জ থেকে আয় হয়েছে ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির নেট মুনাফা হয়েছে ৪৮ কোটি ৮১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, যা আগের বছরে ছিল ১০৯ কোটি ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমেছে ৫৫ শতাংশ। কোম্পানটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৫ টাকা ৮২ পয়সা।

দৈনিক বণিক বার্তার সৌজন্যে 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top