শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / বাজারে নকল মোবাইল ফোনের স্ক্র্যাচ কার্ডে সয়লাব!
বাজারে নকল মোবাইল ফোনের স্ক্র্যাচ কার্ডে সয়লাব!

বাজারে নকল মোবাইল ফোনের স্ক্র্যাচ কার্ডে সয়লাব!

মোবাইল ফোনের অ্যাকাউন্ট রিচার্জে কার্ড ব্যবহার করেন বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। সম্প্রতি ২০ টাকা মূল্যের চারটি কার্ড কেনেন পাড়ার দোকান থেকে। একটি কার্ডের পিন নম্বর দিয়ে রিচার্জ করতে গিয়ে দেখেন নেটওয়ার্ক অপারেটরের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নম্বরটি গ্রহণ করছে না। পরে আরো দুটি কার্ডের ক্ষেত্রেও ঘটে একই ঘটনা। সমস্যা সমাধানে অপারেটরটির গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারেননি। পরামর্শ দেন, যেখান থেকে কার্ড কেনা হয়েছে, সেখানে অভিযোগ করতে। এদিকে কার্ড বিক্রয়কারীও জানান, তাদের কিছুই করার নেই। পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের কাছে এসব কার্ড সরবরাহ করেন সেলফোন অপারেটররা।

scars-card

শুধু মাহফুজুর রহমানের ক্ষেত্রেই নয়, স্ক্র্যাচ কার্ড নিয়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে কেনা কয়েকটি নকল স্ক্র্যাচ কার্ড প্রতিবেদকদ্বয় সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোনের স্ক্র্যাচ কার্ড নম্বর ৫৩৭৮৩৫১১৩০৫৮৮৪৯৩, ৯৪৭৯২৫৯৬৯৯৯০৯০১০, ৪৫১০৫৯৮৩০১০১-৭১৮৯ ও বাংলালিংকের কার্ডের নম্বর ৩৬০২৭-২২৬৪৪৯৩৭৬।

সেলফোনের অ্যাকাউন্ট রিচার্জের জন্য দেশে বেশ কয়েকটি পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে টপ-আপ, স্ক্র্যাচ কার্ড, অনলাইনে ও কিয়স্কের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট রিচার্জ করতে পারেন। দেশে চালু হওয়া রিচার্জের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো হলো, স্ক্র্যাচ কার্ড ঘষে পিন নম্বরের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট রিচার্জ করা। প্রায় দেড় দশক ধরে চলে আসা এ পদ্ধতির পর আরো বেশ কয়েকটি আধুনিক রিচার্জ ব্যবস্থা চালু হলেও গ্রাহকদের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জ করছেন। এ কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে রিচার্জ করা যায় বলেই গ্রাহকের কাছে এখনো এর জনপ্রিয়তা রয়ে গেছে।

প্রতিটি স্ক্র্যাচ কার্ডে ১৫ অঙ্কের (ডিজিট) একটি পিন নম্বর থাকে, যা অব্যবহূত কার্ডের ক্ষেত্রে আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। এ আবরণ ঘষে তোলার পরই কেবল পিন নম্বরটি দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি শনাক্তকরণের বারকোড, মেয়াদ ও ব্যবহারের নির্দেশনা মুদ্রিত থাকে প্রতিটি কার্ডেই।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্ক্র্যাচ কার্ডের পিন নম্বর সাধারণত ১৫ অঙ্কের হলেও নকল কার্ডগুলোয় তা থাকছে কম বা বেশি। এছাড়া কার্ডগুলোয় মুদ্রিত বারকোড অস্পষ্ট হওয়ায় তা বারকোড রিডারে পাঠযোগ্য নয়। নকল এসব কার্ড রিচার্জ করতে গেলে ‘ভুল অ্যাকটিভেশন নম্বর’— এমন মেসেজ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। এসব বিষয় নিয়ে গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গেলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন গ্রাহকরা।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন পলাশ বাংলালিংকের ২০ টাকা মূল্যের কয়েকটি স্ক্র্যাচ কার্ড কেনেন। এর মধ্যে একটি নকল স্ক্র্যাচ কার্ড পান। পরে বিষয়টি নিয়ে শ্যামলী রিংরোডে বাংলালিংকের গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর কিছুই করার নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। একই কথা বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যান খুচরা বিক্রেতাও।

এ বিষয়ে ইমরান হোসেন বলেন, এটি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ সেলফোন অপারেটররাই দোকানগুলোয় স্ক্র্যাচ কার্ড সরবরাহ করছে। অথচ এর কোনো দায়দায়িত্ব তারা নিচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার সময় এসেছে। নকল স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে এভাবে ঠকছেন গ্রাহকরা।

রাজধানীর ফার্মগেটে বিভিন্ন সেলফোন অপারেটরের রিচার্জ কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এশিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদুল হক জানান, কোম্পানিগুলোর পরিবেশকদের কাছ থেকে স্ক্র্যাচ কার্ড সংগ্রহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারাই এগুলো পৌঁছে দিয়ে যায়। নির্ধারিত কমিশনে কার্ড সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানগুলো। পরবর্তীতে গ্রাহকদের কাছে এসব কার্ড বিক্রি করেন খুচরা বিক্রেতা। এক্ষেত্রে কার্ডের নম্বর দেখার বা তা ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই বিক্রেতাদের। কার্ডগুলো ব্যবহার করা সম্ভব না হলে তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিরই দেখার দায়িত্ব, খুচরা বিক্রেতার নয়।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখবে গ্রামীণফোন। পরবর্তীতে এমন ঘটনার ফলে গ্রাহকদের যেন ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top