শিরোনাম

মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস ইউপের যাত্রা শুরু | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হুয়াওয়ে মেট ১০ এ যা আছে | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - শাওমির নতুন ফোন রেডমি ৫এ | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - ফাঁস হয়ে গেল নোকিয়া ৯ এর গোপন সমস্ত তথ্য | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - হ্যাকারদের লক্ষ্য বাংলাদেশসহ অন্যান্য এশিয়ার দেশগুলোর ব্যাংকগুলো | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - এডিএন ইডু সার্ভিসেস এর উদ্দেগে এজাইল বিষয়ক কর্মশলা অনুষ্ঠিত | মঙ্গলবার, অক্টোবর 17, 2017 - প্রথম ডিজিটাল মার্কেটিং অ্যাওয়ার্ডসে গ্রামীণফোনের ব্যাপক সাফল্য | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - গুগলের এই এয়ারপড হেডফোন যখন ট্রান্সলেটর | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - কম্পিউটার গেমের আসক্তিতে হতে পারে ভয়াবহ পরিণতি | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ওটিসি ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / বাড়ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার
বাড়ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার

বাড়ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার

zakir-hossainদেশে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তি পণ্যের ব্যাবহার বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশে ইতোমধ্যে এর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। সম্প্রতি কিছু ঘটনা আমাদের প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারে বাধ্য করেছে। দেশের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানই সিকিউরিটি পণ্য নিয়ে কাজ করছে। যতোগুলো কোম্পানি কাজ করছে তার মধ্যে অন্যতম কোম্পানি হচ্ছে জেডএম ইন্টারন্যাশনাল।

কর্পোরেট ম্যাগাজিন এর সাথে কথা বলেন জেডএম ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির উদ্দিন আহম্মেদ। ১৯৯২ সালে প্রথম সায়েন্স ফেয়ারে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এর পর থেকে প্রতিবছরই এই ফেয়ারে অংশগ্রহণ করা হতো তার। একটানা ৮ বছর তিনি বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেন। সায়েন্স ফেয়ারে তার সফল প্রজেক্টগুলো এখনো বেশ জনপ্রিয়। ২০০০ সালে তার একটি প্রজেক্ট বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল তা হলো- বায়োগ্যাস উত্পাদনের জন্য যে বর্জ ব্যবহার করা হতো ঐ বর্জকে আবার জৈব সার বানানোর প্রক্রিয়া করন। সেই মেশিনটি তৈরি করেছিলেন তিনি। ইলেকট্রনিক্স পণ্য নিয়েও কাজ করতেন জাকির উদ্দিন আহম্মেদ। ইলেকট্রনিক্স পণ্য নিয়ে কাজ করতে করতেই তার ধ্যানে-জ্ঞানে চলে আসে সিসিটিভির ধারণা। প্রথম ব্যবসা চালু করার সময় তারা মাত্র দুই জন ছিলেন। বর্তমানে স্থায়ী অস্থায়ী মিলে শতাধিক কর্মী রয়েছে তার। তিনি সব সময় অত্যাধুনিক পণ্য সরবরাহ করে আসছে ২০১০ সাল থেকে সেফটি ও সিকিউরিটি বিষয়ক পণ্য ও সেবা বিপনন কার্যক্রম করছে তার প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন,‘সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি বিষয়টি অনেক বড়। সাধারন মানুষ মনে করতে পারে সিসিটিভি শুধুমাত্র মনিটরিং এর কাজ করে, আসলে তা না। সিসিটিভি দিয়ে মনিটরিং, রেকর্ডিং, পেনিক বাটন, ফায়ার অ্যালার্ম, অটোমেটিক ভিডিও সেন্ড, সারভাইংসহ অনেক অনেক কাজ করা যায়। সম্প্রতি ডাটা সেন্টার সামিট অনুষ্ঠিত হয়েগেলো এই সামিতে প্রযুক্তি নির্ভর পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তর ধারনা দেওয়া হয়েছে। মানুষ চাইলেও প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহার না করে থাকতে পারবে না। আমাদের প্রতিষ্ঠান সব সময় অত্যাধুনিক পণ্য নিয়ে কাজ করে।’ বর্তমানে তিনি ফায়ার সার্ভিসের সাথে কাজ করছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিস হলো নীতি নির্ধারক। আইন অনুযায়ী সবকিছু চললে বাংলাদেশের সব কল-কারখানা, বাসা-বাড়ি, সমস্থ স্থাপনা চলে আসবে ফায়ার সার্ভিসের আওতায়। এর বাইরে কেউ সেফটি বা সিকিউরিটি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না। ১২ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পার্যন্ত একটি মেলা হয়েছে যা শুধু মাত্র সিকিউরিটি পণ্যের ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছ। এই মেলাতে বাংলাদেশসহ ৩০টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। সরাসরি ১৫ টি দেশ থেকে প্রযুক্তি পণ্য সববরাহকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের এই মেলায় যোগ দিয়েছিল। এই মেলাতে জেডএম ইন্টারন্যাশনাল স্টল নিয়েছিল এবং জনসাধারনকে সিকিউরিটি পণ্য ব্যবহারের বিভিন্ন সুফল লাইভ দেখিয়েছে।

বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা পণ্যের ব্যবহার সম্পর্কে তিনি জানান, নিরাপত্তার সকল প্রযুক্তিসহ ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা এখন হাতের নাগালে যা এখনকার সময়ে আধুনিক বিশ্বে সময় উপযোগী প্রযুক্তি। পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলো সর্বশেষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করেছে। যা আমাদের বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের উপকারে এসে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে। অগ্নি দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ সামাজিক নানা প্রকার সমস্যা সমাধানে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সমাধান মিলবে।

zmব্যাংকিং সেক্টরে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যাংক ইলেকট্রনিক্স কার্ড হোল্ডার ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাবে যদি ব্যাংকে মিনি এটিএম পিওএস এনভিআরসহ সেন্ট্রাল সল্যুশন থাকে। মিনি এটিএম ও পিওএস এমন একটি প্রযুক্তি যা এটিএম বুথের মধ্যে স্থাপনযোগ্য এবং চেইন সুপার শপের ক্যাশ কাউন্টার মেশিনের সমস্ত লেনদেনের সকল প্রকার তথ্য মনিটরিং করা যায়। যা প্রত্যেকটি কার্ড হোল্ডারের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদানে সহায়ক। এর মাধ্যমে প্রতিটি কার্ড হোল্ডারের লেনদেনের সম্পূর্ণ তথ্য ভিডিওসহ নির্দিষ্ট সার্ভারে সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সাথে সাথে অপরাধী শনাক্ত করা সম্ভব হয় যা ব্যাংক ও সুপারশপগুলো অনায়াসে তথ্যসহ ভিডিও ফুটেজ দিতে পারে। বিশেষ করে এটিএম বুথের নিরাপত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ ব্যাংকের এটিএম বুথের জন্য মিনি ডিভিআর থেকে ২টি ভিডিও ক্যামেরা সংযোগ করা যায়। যা একটি সামনে এবং একটি পিছনে স্থাপন করতে হয়। যার মাধ্যমে কার্ড হোল্ডারকারী বুথের টাকা প্রদানকারীর সকল তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদস্যরা যখন মেশিনে কাস্টমারদের জন্য টাকা লোড করেন তার সকল ডাটা ভিডিওসহ সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা আছে এই প্রযুক্তিতে। তিনি আরো জানান, এই সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংকের হেড অফিস, শাখা অফিস, এটিএম বুথসহ টাকা বহনকারী গাড়ীর সমস্ত তথ্য সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য প্রদানে সম্পূর্ণ উপযোগী।’

তার সাথে আলাপ হয়েছিল মোবাইল এনভিআর সম্পর্কে। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, মোবাইল এনভিআর এমন একটি নতুন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল প্রকার পরিবহনের গতি ও তাত্ক্ষণিক অবস্থানের সকল ডাটাসহ লাইভ ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ ও মনিটরিং করা যায়।

এই সিস্টেমের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের পরিবহনকে নজরদারীর মধ্যে রাখা সম্ভব। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি সড়ক, নৌ ও রেলপথের যেকোনো প্রকার দূর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে তা সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এই ডিভাইসটির ডাটা কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে যেকোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের থ্রিজি অথবা ফোরজি সিম দ্বারা সম্ভব। যার মধ্যে আরও রয়েছে ওয়াইফাই ল্যান কানেক্টিভিটি সুবিধা। যা পৃথিবীতে নতুন উদ্ভাবন।

zm-webতিনি আরো জানান, অগ্নি দূর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্ব বার্তা প্রেরণে সফলভাবে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান। যা আধুনিক ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেমসহ জিএসএম মডিউল নামে পরিচিত। যার মাধ্যমে যেকোনো প্রকার অগ্নি দূর্ঘটনা রোধে পূর্ববর্তী সতর্কতা প্রদান ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বাহিনী এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক সেবা দিতে পারবে।

ব্যাংকিং সেক্টরে সিকিউরিটি পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি আরও বলেন,‘ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য মজার চমত্কার প্রযুক্তি পণ্য এনেছি। প্রতিটি গ্রাহক চায় তার লেনদেনের সঠিক ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কার্ড অর্থাত্ ডেবিট কার্ড বা কেডিট কার্ড ব্যবহার করছে। তাদের অজান্তেই অনেক তথ্য হাকারকে সহযেই দিয়ে দিচ্ছে। আবার সিস্টেমের কারণেও অনেক সময় থেকে যাচ্ছে অনেক তথ্য। আবার কখনো যদি কোনো ব্যবহারকারী তার কার্ডটি হারিয়ে ফেলে তাহলে সাধারন নিয়ম মেনে প্রথকে ব্যাংককে ফোন করে বলে কার্ডের লেনদেন স্থগিত করার জন্য।

কোন বুথ থেকে এই কার্ডটি হারিয়েছে বা সর্বশেষ কোন বুথে পাঞ্চ করা হয়েছে তা জানার জন্য গ্রাহককে থানায় জিডি করে আবেদন করতে হয়। এর পর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭ থেকে ১০ দিন পর তাকে একটি ডাটা দেওয়া হয় যা কোনো কাজেই আসে না। আমি এমন একটি সিস্টেম নিয়ে এসেছি যাতে ৭ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অপনাকে আপনার ডাটা দেওয়া যাবে। এতো দ্রুত সিস্টেম আগে কখনোই ছিল না।’ এই সিকিউরিটি সিস্টেম স্থাপন ও এর কার্যক্রমের জন্য কেমন খরচ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি জানান, একটি বুথের জন্য ২ লক্ষ টাকা, একটি ব্রাঞ্চের জন্য ৫ লক্ষ টাকা এবং ্একটি হেড কোয়াটারের জন্য ব্যকআপ সারভারসহ ২০ লক্ষ টাকাই যথেষ্ট। তিনি আরও বলেন এই সিস্টেমের ডাটা ১৮০ দিন পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে। আপনি চাইলে অন্য কোথাও এই ডাটা রেখে দিতে পারেন। আর একটি বিষয় হলো সমস্ত জিনিসগুলোই পাচ্ছেন লাইসেন্স প্রাপ্ত যা কখনোই হ্যাক হবার ভয় থাকবে না।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top