শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - বাংলাদেশেই তৈরি হবে সকল ডিজিটাল ডিভাইস : মোস্তাফা জব্বার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - যে কারণে অনলাইন অ্যাকাউন্টে কঠিন পাসওয়ার্ড দিবেন | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - ফিশিং জালিয়াতির শিকার হচ্ছেন জিমেইল ব্যবহারকারীরা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 19, 2017 - দেশের বাজারে লেনোভোর এইচডি ডিসপ্লের ল্যাপটপ | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - হিটাচি প্রজেক্টরে ম্যাজিক অফার | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - বাংলাদেশে ডি-লিংক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের অংশীদার কম্পিউটার সোর্স | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - অপ্পোর নতুন ২ স্মার্টফোনে গ্রামীণফোনের ফ্রি ইন্টারনেট | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল এর পার্টনার মিট | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - ইউটিউবের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে পর্নগ্রাফি ভিডিও | বুধবার, জানুয়ারী 18, 2017 - আসছে স্বল্প মূল্যের অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোন |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি

দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি হলেও মোবাইল সংযোগ আছে প্রায় ১৩ কোটি। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ মোবাইল সংযোগের সঠিক নিবন্ধনের তথ্য হালনাগাদ নেই। মূলত ভুয়া তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে, এমন মোবাইল সংযোগ ব্যবহার করে দেশে বিভিন্ন সময় নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হচ্ছে। আর তাই ব্যবহারকারীর সঠিক নিবন্ধন নিশ্চিত করতে গত বছর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মূলত এ পদ্ধতিতে নিবন্ধনের সময় ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজে থাকা আঙ্গুলের ছাপের সাথে মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
boimetric-sim২০১৫ সালের নভেম্বরে এই পাইলট প্রকল্পটি শুরু হয়। আর ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ থেকে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে ক’টি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ, রেটিনা কিংবা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। তবে এ তিনটি পদ্ধতির মধ্যে বহুল ব্যবহূত পদ্ধতি হলো আঙ্গুলের ছাপ।
আর তাই মোবাইল সংযোগ নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রথম দেশ হিসেবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কার্যক্রম হাতে নেয় পাকিস্তান। পরবর্তীতে একই কার্যক্রম শুরু হয় বাংলাদেশে। চলতি বছরের শুরুর দিকে সৌদি আরবে শুরু হয় বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন কার্যক্রম।
আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ নিয়ে বিভ্রান্তি
তবে বাংলাদেশে এই কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পরই শুরু হয় বিতর্ক। এ পদ্ধতির পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এটি বন্ধের দাবিতে ফেসবুকে খোলা হয়েছে বেশ কিছু ইভেন্টও। সেখানে অনেকেই বলছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করা হলে আঙ্গুলের ছাপ তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যেতে পারে। অনেকেই আবার বলছেন এসব আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো হতে পারে। কেউ কেউ আবার বলছেন এসব আঙ্গুলের ছাপ বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের পক্ষে বিপক্ষে অনেককেই কথা বলতে দেখা গেছে। আরাফাত আহমেদ নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের সময় আমার দেওয়া আঙ্গুলের ছাপ বিদেশের সংস্থার কাছে পাচার করে দেওয়া হবে। তাই আমার সিম বন্ধ করে দিলেও আমি নিবন্ধন করব না।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘুরে আরও একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর তা হলো অনেকেই এখনও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। রাকিবুল ইসলাম তেমনই একজন। তিনি এখনও বুঝতে পারছেন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করবেন কি না। তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘সরকারি নিয়ম মেনে আমি সিম নিবন্ধন করতে চাই। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েও রেখেছিলাম। তবে আমি শুনেছি নিবন্ধনের সময় দেওয়া আমার আঙ্গুলের ছাপ বেহাত হয়ে যেতে পারে। আর এতে করে নাকি আমার ভবিষ্যতে বিপদে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই আমি এখনও বুঝে উঠতে পারছি না নিবন্ধন করব কি না।’
তবে এ সব বিভ্রান্তি এড়িয়ে অনেকেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি এমনই এক জনের সাথে কথা হয়। সাব্বির আহমেদ নামের ওই গ্রাহক বলেন, ‘দেশের এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে এখন খুব সহজেই অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।’
এসব বিভ্রান্তি এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সিম নিবন্ধনের সময় একজন ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণের কোনো উপায় নেই। কারণ এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর আঙ্গুলের ছাপ শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা ডাটাবেজের সাথে শুধু মিলিয়ে দেখা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র ডাটাবেজে থাকা আঙ্গুলের ছাপের সাথে মিলিয়ে ভেরিফাই করার জন্যই আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে ছড়াতে থাকা অপপ্রচারের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করেন তারানা হালিম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন, বিটিআরসির মহাপরিচালক মো. এমদাদ উল বারী, সিআইডি পুলিশ সুপার রেজাউল হায়দার, অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম  অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির প্রমুখ। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি’র মহাপরিচালক মো. এমদাদ উল বারী জানান, যে পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনে আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে সেখানে কোনোভাবেই তা সংরক্ষণ করার উপায় নেই। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টি আই এম নুরুল কবির বলেন, ‘কোনো অপারেটর কোনো গ্রাহকের আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করছে না এবং তাদের কাছে এই ধরনের কোনো প্রযুক্তিও নাই। সিম নিবন্ধনে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তাতে অপারেটরদের নেপথ্য কোনো হাত নেই। বরং এ বিষয়ে অপারেটররা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে যাতে খুব দ্রুত এই কাজ শেষ হয়।’
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তির প্রেক্ষিতে বাংলালিংকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়, বাংলালিংক কারো আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করছে না। বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনে গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহে ব্যবহূত কোনো যন্ত্র বা এই কাজে সংশ্লিষ্ট কোনো খুচরা বিক্রেতা কোনো গ্রাহকের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে না। গ্রাহকের তথ্য খুচরা বিক্রেতাদের ডিভাইসে দেয়ার পর তা অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় পত্র সার্ভারে চলে যায়।
এদিকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন কর্মসূচি চালুর পর এখন পর্যন্ত ১ কোটির বেশি সিম নিবন্ধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। গ্রামীণফোন জানিয়েছে, তাদের মোট গ্রাহকের প্রায় ৪২ শতাংশ অর্থাত্ ২ কোটি ৩২ লাখ গ্রাহক ইতোমধ্যেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
কমছে গ্রাহক
বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে যে বিভ্রান্তি রয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির উপরও। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি মাসে মোবাইল গ্রাহক কমেছে ১৭ লাখ ৬৪ হাজার যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে মোবাইল গ্রাহক কমেছে ৮ লাখ ৭১ হাজার।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top