শিরোনাম

সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - গুগলের এই এয়ারপড হেডফোন যখন ট্রান্সলেটর | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - কম্পিউটার গেমের আসক্তিতে হতে পারে ভয়াবহ পরিণতি | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ওটিসি ড্রাগ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ইউরোপ ও আমেরিকায় মেডিক্যাল পড়াশোনা | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ইউরোপ সাইপ্রাসে পড়াশোনা ও কাজ | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - আসুসের নতুন অষ্টম প্রজন্মের মাদারর্বোড বাজারে | সোমবার, অক্টোবর 16, 2017 - ক্লাউড কম্পিউটিং মেলায় অংশ গ্রহন করছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল | রবিবার, অক্টোবর 15, 2017 - পাতায়া ভ্রমনের স্বপ্ন পূরণ | রবিবার, অক্টোবর 15, 2017 - বৃৃটিশ কাউন্সিল আয়োজিত বই পড়া প্রতিযোগিতার চুড়ান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন | রবিবার, অক্টোবর 15, 2017 - ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ডিজিটাল মার্কেটিং সামিট ও অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / উদ্যোগ / বিপিওতে তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ
বিপিওতে তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ

বিপিওতে তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ

গত ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে শুরু হওয়া দেশের প্রথম বিপিও সামিট ২০১৫ শেষ হলো। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিন সেমিনার ও প্রদর্শণীতে তরুণ দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিলো আয়োজন প্রাঙ্গণ। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটের দ্বিতীয় দিন ১০ ডিসেম্বর সকালে ‘গ্লোবাল বিপিও ইন্ডাস্ট্রি বেস্ট প্রাক্টিসেস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

BPO-Summit-2015-2nd-Day-corporateসেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ তথ্য-প্রযুক্তিসহ সবক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ণমূলক কাজ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যৌথভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। বর্তমান সরকার ‘ভিশন ২০২১’ প্রকল্পের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করছে। সেই লক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ণ চলছে।

তিনি আরও বলেন, বিপিও সেক্টরে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার সকল সহযোগিতা করছে। আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির বলেন, সারা বিশ্বে বিপিও একটি বড় সেক্টর। এখানে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ বিপিও সেক্টর দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক সঙ্গে কাজ করলে বিপিও সেক্টরে অনেক এগিয়ে যাবে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন অগমেডিক্স এরর ভাইস-প্রেসিডেন্ট শ্রী দয়া সিং, এক্সচেঞ্চার জাপান’র সাবেক চেয়ারম্যান ক্লাইডি উনোসহ অনেকে।
‘বাংলাদেশ ইয়ুথ টু ড্রাইভ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। সেমিনারে বক্তা হিসেবে হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথম আলো’র যুব উন্নয়ন কমসূচীর সমন্বয়ক মুনির হাসান বলেন, তরুণরাই বাংলাদেশে শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ইউরোপকে অর্থনৈতিক ভাবে ছাড়িয়ে যাবে। পড়াশোনার ক্ষতি না করেও বিপিও সেক্টরে কাজ করা যায়। তাই শিক্ষার্থীদের বিপিও সেক্টরে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। তরুণদের নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিপিও সেক্টরে ভালো করতে হলে ইংরেজি ও কমিউনিকেশনে দক্ষ হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিপিও সেক্টরে সারা বিশ্বে ৫০০ মিলিয়ানের বাজার। এই খাতে আমাদের আয় বর্তমানে খুবই সামান্য। আগামীতে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণরা শুধু চাকরির পিছনে না ছুটে উদ্যোক্ত হতে হবে। আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হারুনুর রশীদ বলেন, আইসিটি বিভাগ থেকে তরুনদের তথ্য-প্রযুক্তি এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই লক্ষে তরুণদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর আইসিটি বিভাগ থেকে ৫০ হাজার তরুণ/ তরুনীকে তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিপিও সেক্টরে তরুণরা অনেক ভালো করছে।

সেমিনারে বাক্য সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিপিও সেক্টরে ২৫ হাজার লোক কাজ করছে। তরুণরা এই খাতে এগিয়ে আসলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এই খাতে ২ লাখ লোক কাজ করবে।

তিনি বলেন, বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বাক্য যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আমিনুল হক, তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার প্রমুখ।

এছাড়াও সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন দ্যা অপরচুনেটিজ ইন দ্যা ডোমেস্টিক মার্কেট ফর আউটসোর্সিং, অপরচুনেটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ব্যাংকিং আউটসোর্সিং, রাল অব হায়ার এডুকেশন ইন্সিটিউশনস ফর বিপিও ইন্ডাস্ট্রি এবং কানেক্টিং উইথ আনট্যাপড স্কিলস: পলিটেকটিক, ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল শীর্ষক সেমিনার অুনষ্ঠিত হয়।

সম্মেলন সম্পর্কে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইমন জাকারিয়ার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বিপিও সেক্টরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই আয়োজনে এসে বিপিও সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়েছি। যা ভবিষ্যতে কাজ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, বিপিও সামিটে এসে এই খাতে কাজ করার জন্য আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করি এই খাতে কাজ করলে ভালো করতে পারবো।

দুই দিনের সামিটে ১০ প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও কর্ম প্রদর্শন করছে। আইএসএসএল’র ম্যানেজার (বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ) নূর হোসেন বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা কলসেন্টার কাস্টমাইজ, কলসেন্টার সার্পোট, টেলি সার্ভিস, টেলি মার্কেটিংসহ বিভিন্ন সেবার কথা তুলে ধরছি। প্রতি বছর এ রকম আয়োজন করা উচিত। ফাইবার অ্যাট হোম’র ম্যানেজার (ব্যবসা উন্নয়ন) রেহেনা জাকিয়া বলেন, সারা দেশে আমরা ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছি। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা বিপিও সেক্টরকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।

আয়োজন সম্পর্কে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি আহমাদুল হক বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বিপিও সেক্টর থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করা, দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশী বিপিও সেক্টর সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেওয়া, বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে সাফল্যের গল্পগুলো বিশ্ববাসীকে জানানো এবং দেশের তরুণ সমাজের কাছে এই সেক্টরকে কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের বিপিও খাতকে এগিয়ে নিতে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আয়োজন।
সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে ছিলো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসাবে ছিলো এডিএন গ্রুপ, জিনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিসকো সিস্টেমস, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টেলিটক, এয়ারটেল এবং আইটি পার্টনার আমরা কোম্পানীজ ও নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার এট হোম।

দেশের প্রথম এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)। আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন www.bposummit.org.bd।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top