শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ‘জিপি লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করল গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ল্যাপটপ মেলায় আই লাইফের ফ্রী গিফট! | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - শপ আপের নতুন অ্যাড প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - গ্লোবাল ব্র্যান্ড নিয়ে এলো এস সিরিজের নতুন অষ্টম প্রজন্মের নোটবুক | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - অ্যান্ড্রয়েডে আসছে আইফোনের জনপ্রিয় গেম | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - জিপি ওয়াওবক্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা আনল পাঠাও |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / ব্র্যাক ব্যাংকে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রাহকের
ব্র্যাক ব্যাংকে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রাহকের

ব্র্যাক ব্যাংকে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ গ্রাহকের

জালিয়াতির অভিনব ঘটনা ঘটেছে বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংকে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, ব্র্যাক ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ চক্র গ্রাহকের অর্থ তুলে নিয়ে গেছে। পরপর এমন দুটি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রাহকদের ধারণা, এসব জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত।

অর্থ হারানো এসব গ্রাহক মনে করছেন, ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং গ্রাহকদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের অর্থ জালিয়াতির ঘটনা ঘটতে পারে। এমন একজন ভুক্তভোগী গ্রাহক ওবায়দুর রহমান। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা তিনি। ব্র্যাক ব্র্যাংকের মিরপুর-১১ শাখায় তাঁর ব্যক্তিগত হিসাব। হিসাবটি তিনি যুক্ত করেছেন অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে।

ওবায়দুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, গত ২৭ তারিখে তাঁর হিসাব থেকে কে বা কারা ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছে। লেনদেনকারীর নাম বলা আছে, শুভ। তবে শুভ নামে কাউকে তিনি শনাক্ত করতে পারছেন না। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগও করেছেন ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে। ব্র্যাক ব্যাংক বলছে, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

brak

ওবায়দুর রহমানের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ‘গত ২৭ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ফ্ল্যাক্সিলোড হওয়ার একটি বার্তা আসে। তিনি ওই সময়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। রাতে ব্যস্ততা সেরে সন্দেহ থেকে চেক করেন নিজের ব্যাংক হিসাবটি। তখনই তার মাথায় বাজ পড়ে। তিনি জানান, অনলাইনে হিসাব চেক করতে গিয়ে দেখি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপর আমি ব্যক্তিগত ই-মেইলটি লগ অন করতে গিয়ে দেখি তারও পাসওয়ার্ড কয়েক ঘণ্টা আগে পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের অনলাইন শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ না থাকলে এটি সম্ভব হতো না। কারণ আমার অনলাইন ব্যাংকিংসংক্রান্ত তথ্য ও কিভাবে আমি হিসাব পরিচালনা করি তা ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষই কেবল জানে।’

সূত্র মতে, জালিয়াত চক্রটি প্রথমে তার সিমটি তুলে নেয় ফ্ল্যাক্সির তথ্য দিয়ে। ব্যবহৃত সিমটি তুলে দিয়ে চক্রটি তাঁর ই-মেইল পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করেন। কারণ তাঁর সিমটি দিয়েই কেবল ই-মেইলটি হ্যাক করা সম্ভব। তারা ব্র্যাক ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে কথা বলে। পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের আবেদন করে। এটি করতে গেলে কাস্টমার কেয়ার তার হিসাবসংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে চাওয়ারও কথা। তবে তারা সব তথ্য দিয়ে আমরা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে নেয়। এরপর ২৫ হাজার টাকা সরিয়ে নিয়েছে। এর বেশি লেনদেন করার সুযোগ ছিল না বলে অল্পতে রক্ষা হয়েছে তাঁর।’

এই গ্রাহক বলেন, ‘আমি ওই দিন ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা লেনদেন করি। এক দিনে অনলাইনে যেহেতু ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন করা যায় না তাই বেশি অর্থ চক্রটি লুট করতে পারেনি।’

জানা গেছে, ওবায়দুর রহমান বুথে গিয়ে অর্থ লুট করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এরপর তিনি টেলিফোনে গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বলেন, এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে তিনি কর্তৃপক্ষকে তাঁর অনলাইন হিসাবটি বন্ধ রাখতে বলেন।

এরপরের দিন ২৮ নভেম্বর এই গ্রাহক তাঁর শাখায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ফেসবুক পেজে ঘটনাটি পোস্ট করে কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, ব্র্যাক ব্যাংক বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখার কথা বলেছে।

জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এর সুরাহা করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপর দুদিন চলে গেলেও ব্যাংক কোনো জবাব দেয়নি।

ওবায়দুর বিষয়টি সুরাহার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমারই আরেক পরিচিতি মো. আবু বকর সিদ্দিকির হিসাবের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে। তার মানে, ব্র্যাক ব্যাংকের অনলাইন সেবা কোনোভাবেই গ্রাহকের জন্য নিরাপদ নয়।’

জানতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের যোগাযোগ ও সেবা মান বিভাগের প্রধান জিসান কিংশুক হক বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমরা দুই স্তরে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। গ্রাহকের ই-মেইল পাসওয়ার্ড চুরি বা ফাঁস হলেই কেবল জালিয়াতির ঘটনা ঘটতে পারে। অন্যথায় কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আগেও এমন কিছু অভিযোগ পেয়েছি। তবে তদন্ত করে দেখা গেছে, আমাদের কোনো ত্রুটি নেই। গ্রাহকের ই-মেইল পাসওয়ার্ড তাঁর নিকট কেউ বা কর্মচারীরা জানেন। আর সিম তুলে নেওয়ার বিষয়ে আমরা টেলিফোন কম্পানিগুলোকে লিখিতভাবে বলেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। একজনের সিম কার্ড আরেকজন তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেটি বন্ধ হওয়া উচিত। তবে গ্রাহকের আনীত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।’

বাংলানিউজ

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top