শিরোনাম

সোমবার, জুলাই 24, 2017 - লেনোভোর আকর্ষনীয় নোটবুক আইডিয়াপ্যাড ৩২০ | সোমবার, জুলাই 24, 2017 - রাজধানীর ১৩টি এলাকায় নেটওয়ার্ক সমন্বয়ের কাজ করবে রবি | সোমবার, জুলাই 24, 2017 - জনপ্রশাসন পদক পেল বিসিসি | সোমবার, জুলাই 24, 2017 - হুয়াওয়ে ওয়াইসিক্স টু প্রাইম উন্মোচনের দিনে সাকিবের সঙ্গে সেলফি উৎসব | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - কম দামে স্যামসাং এর স্মার্টফোন | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - ফেসবুকে চাকরি পেতে পারেন ৫ উপায়ে | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - ড্রাইভিংয়ে ঘুম তাড়াবে যে ডিভাইস | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া’ এর উদ্বোধন | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - শক্তিশালী ব্যাটারির সাশ্রয়ী স্মার্টফোন আনল ওয়ালটন | রবিবার, জুলাই 23, 2017 - তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরী করছে বর্তমান সরকার -জুনাইদ আহমেদ পলক |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / ব্র্যান্ডের তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য
ব্র্যান্ডের তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য

ব্র্যান্ডের তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য

বর্তমান সময়টাকে বলা হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। বিশ্বব্যাপী এখন সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে চলেছে প্রযুক্তি। আর সে কারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বিশ্বব্যাপী উঠে এসেছে আলোচনার শীর্ষে। পণ্য বা সেবার ব্র্যান্ড হিসেবেও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন প্রভাব বিস্তার করে চলেছে বিশ্বজুড়ে। এর ছোঁয়া লেগেছে ইন্টারব্র্যান্ডের করা বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ব্র্যান্ডের তালিকাতেও। শীর্ষ দুই ব্র্যান্ডসহ গোটা তালিকাতেই রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জয়জয়কার। বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোই নিজেদেরকে সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে, তারই প্রতিফলন ইন্টারব্র্যান্ডের এই তালিকা।
1444318683

টানা তিন বছর শীর্ষে অ্যাপল

বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়কে বিবেচনায় নিলে দুইটি প্রতিষ্ঠানের অবদানকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এই দুইটি প্রতিষ্ঠান হলো অ্যাপল এবং গুগল। স্টিভ জবসের হাত ধরে অ্যাপল শুরু থেকেই চেষ্টা করেছে মানুষের হাতে সময়ের চাইতে এগিয়ে থাকা সব প্রযুক্তি পণ্য পৌঁছে দিতে। সেই শুরুর অ্যাপল-১ ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে শুরু করে আইম্যাকের মতো অল-ইন-ওয়ান ডিজাইনের কম্পিউটার অ্যাপলের কর্মীদের সৃজনশীলতা আর উদ্ভাবনীরই প্রমাণ। বর্তমান সময়কে যে পিসি-পরবর্তী যুগ মনে করা হচ্ছে, তার সূচনাতেও ছিল ওই অ্যাপল। তাদের আইফোনের মাধ্যমেই বিশ্ব দেখা পায় প্রথম সফল স্মার্টফোনের। হাতের মুঠোয় কম্পিউটিংয়ের সূচনা ওই আইফোনের মাধ্যমেই। এর পরে বিশ্ববাসী প্রথম সফল ট্যাবলেট পিসিরও দেখা পায় অ্যাপলের আইপ্যাডের হাত ধরে। কম্পিউটিংকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার সাথে সাথে একে নিছক ব্যক্তিগত ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সব ধরনের কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার ধারণা বাস্তবায়িত হয় এই আইপ্যাডের মাধ্যমে। বর্তমান বিশ্বে স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট পিসিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। ক্রমাগত উত্কর্ষের ধারাবাহিকতায় অ্যাপল বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যই শুধু নয়, যেকোনো পণ্যের তালিকাতেই বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এর প্রতিফলন রয়েছে ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকাতেও। ২০১৩ সাথে প্রথমবারের মতো কোকা-কোলাকে হটিয়ে ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে অ্যাপল। গত বছরের তালিকার শীর্ষস্থানটিও তারা দখলে রাখতে সমর্থ হয়েছিল। চলতি বছরেও অ্যাপলকে হটাতে পারেনি অন্য কোনো ব্র্যান্ড। বরং গেল বছরে তাদের ব্র্যান্ডের মূল্যমান ৪৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৭০.২৭৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে শীর্ষ ব্র্যান্ড হিসেবে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিন বছর ধরে দ্বিতীয় স্থানে গুগল

অ্যাপলের মতোই আরেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল এখন বিশ্বব্যাপী মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে যাত্রা শুরু করা গুগল এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের কাছেই অনলাইনে তথ্য সন্ধানের সবচাইতে নির্ভরযোগ্য নাম। এমনকি, অনলাইনে তথ্য সন্ধানের প্রতিশব্দেই পরিণত হয়েছে গুগল শব্দটি। সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ক্রমশ নিজেদের পরিধি বিস্তৃত করতে শুরু করে গুগল। ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জনপ্রিয় সেবা ইউটিউবও তাদেরই অধীনে পরিচালিত। একটা সময় পর্যন্ত ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে মাইক্রোসফটের ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের বিকল্প সন্ধান করেননি কেউ। মজিলার ফায়ারফক্স বা অপেরার মতো ব্রাউজার কিছুটা জনপ্রিয়তা পেলও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ছিল একাধিপত্য। সেই আধিপত্য প্রথমবারের মতো সফলভাবে ভেঙ্গে দেয় গুগলের ব্রাউজার ক্রোম। এখন বিশ্বের সব থেকে বেশি ব্যবহূত ব্রাউজারের নাম ক্রোম। স্মার্টফোনের যুগে এসে গুগল অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে আরেক বিপ্লবের সূচনা করে। বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী এই অপারেটিং সিস্টেম এখন বিশ্বের ৮০ শতাংশ স্মার্টফোনে ব্যবহূত হয়ে আসছে। পরবর্তী সময়ে হার্ডওয়্যারের বাজারেও প্রবেশ করেছে গুগল এবং তাদের সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। এভাবে বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে এক নামে পরিচিত হয়ে ওঠা গুগল ২০১৩ সালের ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকায় উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। এর পরের দুইটি বছরেও সেই স্থানটি সফলভাবেই ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে গুগল। গেল বছরে তাদের ব্র্যান্ডের মূল্যমান ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২০.৩১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

শীর্ষ দশের মধ্যে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ছয়টি

তালিকার শীর্ষ দুইটি স্থান দখলে রাখা ছাড়াও শীর্ষ ১০টি ব্র্যান্ডের তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও চারটি। এর মধ্যে মাইক্রোসফট উঠে এসেছে চার নম্বরে যা ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকায় তাদের সর্বোচ্চ অবস্থান। গেল বছরে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ১১ শতাংশ বেড়ে ৬৭.৬৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে গেলে তারা এই চতুর্থ স্থান দখল করে নেয়। অন্যদিকে গেল বছরে ব্র্যান্ড ভ্যালু ১০ শতাংশ কমে গিয়ে ৬৫.০৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ালে মাইক্রোসফটের চাইতে এক ধাপ পিছিয়ে পঞ্চম স্থানে জায়গা হয় শতবর্ষী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমের। অন্যদিকে গেল বছরের তুলনায় ব্র্যান্ড ভ্যালুতে (৪৫.২৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) কোনো পরিবর্তন না আসায় সপ্তম স্থানটি ধরে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসং। আর গেল বছরের তুলনায় ব্র্যান্ড ভ্যালু ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭.৯৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ালে আইবিএম বা মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে দশম স্থানে উঠে আসে অ্যামাজন

তালিকায় আধিপত্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের
কেবল শীর্ষ দশেই নয়, প্রযুক্তি ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য রয়েছে গোটা তালিকাতেই। মোট ১৭টি ক্যাটাগরির ব্র্যান্ড এই তালিকায় স্থান পেলেও এতে নিখাদ প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের সংখ্যা ১৩। এই ১৩টি ব্র্যান্ডের মধ্যে আবার আইবিএম, অ্যামাজন, পেপ্যাল, ইবে বা অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক্স ব্র্যান্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত নেই; যদিও বর্তমান সময়ে এগুলো সবই প্রযুক্তি ব্র্যান্ড হিসেবেই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এককভাবে কেবল ১৫টি ব্র্যান্ড নিয়ে অটোমোটিভ খাতই এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে আবার অটোমোটিভ খাতের সাথেও প্রযুক্তির ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়ে পড়েছে। তবু অটোমোটিভ খাতকে বাদ দিয়ে ইলেক্ট্রনিক্স এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্র্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করলে তালিকায় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় তালিকার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে ১৪, ১৫ এবং ১৬তম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্টেল, সিসকো এবং ওরাকল। পরবর্তী স্থানে থাকা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে এইচপি (১৮তম), ফেসবুক (২৩তম), এসএপি (২৬তম), ইবে (৩২তম), ক্যানন (৪০তম), ফিলিপস (৪৭তম), সনি (৫৮তম), প্যানাসনিক (৬৫তম), অ্যাডোবি (৬৮তম), জেরক্স (৭১তম), লেগো (৮২তম), হুয়াওয়ে (৮৮তম), পেপ্যাল (৯৭তম) এবং সর্বশেষ অবস্থানটি দখল করে নিয়েছে চীনের লেনোভো। এই তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পেয়েছে ফেসবুকের (৫৪ শতাংশ)। আর তালিকায় প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে গেমিং ব্র্যান্ড লেগো, অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পিসি নির্মাতা চীনের লেনোভো।
ইন্টারব্র্যান্ডসহ প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আসছে বছরগুলোতে বিশ্বের সেরা সব ব্র্যান্ডের মূল্যমান নিয়ে তৈরি করা ইন্টারব্র্যান্ডের তালিকায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আধিপত্য আরও বাড়বে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top