শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ‘জিপি লাউঞ্জ’ উদ্বোধন করল গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - ল্যাপটপ মেলায় আই লাইফের ফ্রী গিফট! | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - শপ আপের নতুন অ্যাড প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - গ্লোবাল ব্র্যান্ড নিয়ে এলো এস সিরিজের নতুন অষ্টম প্রজন্মের নোটবুক | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - অ্যান্ড্রয়েডে আসছে আইফোনের জনপ্রিয় গেম | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - জিপি ওয়াওবক্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা আনল পাঠাও |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ভরসা রাখুন মেঘে
ভরসা রাখুন মেঘে

ভরসা রাখুন মেঘে

ধুর, ছাতা গেল কোথায়? সকালে বাড়ি বসে অফিসের কাজ সেরে রেখে ছিলেন। পেন ড্রাইভে কপিও করেছেন। কিন্তু তার পরে? ব্যাগে আঁতিপাঁতি করে খুঁজেও তার দেখা মিলল না। একই কাজ আবার করতে হল। এ বিপদ হত না যদি মেঘে ভরসা রাখতেন।

গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজই হার্ডডিস্কে সেভ করে রেখেছিলেন। হঠাৎ করে সে দেহ রাখল। এ বার? সারাতে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াবেন। সারলেও সব কিছু ফিরে পাবেন এমন নিশ্চয়তা নেই। এ বিপদেও সাহায্য মিলত, যদি ভরসা রাখতেন মেঘে।

শুরু হয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং। ছবি- ক্লাউড।

কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের দুনিয়া ক্রমেই মেঘের উপরে ভরসা রাখতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে ‘ক্লাউড কম্পিউটিং’।

ব্যবস্থাটিকে মোটামুটি দু’টি ভাগে ভাগ করা যায়— ফ্রন্ট এন্ড ও ব্যাক এন্ড। ফ্রন্ট এন্ড-এ থাকবেন আমার, আপনার মতো ব্যবহারকারী। তাঁর কম্পিউটারে শুধু ওয়েব ব্রাউজারের মতো প্রোগ্রাম থাকবে। যাতে ক্লাউডে লগ-ইন করা যাবে। অনেকটা জি-মেল, ইয়াহু মেল বা হট-মেলের মতো। আর ব্যাক এন্ড তৈরি হবে অসংখ্য সার্ভার এবং তথ্য জমা রাখার জায়গা নিয়ে। নানা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সংস্থা একে নিয়ন্ত্রণ করবে। এই দুই ভাগের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য থাকবে নেটওয়ার্ক, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট।

নানান সুবিধা মিলবে এতে। যেমন আলাদাভাবে কোনও সফটওয়্যার কিনতে হবে না। ক্লাউডে সব ধরনের সফটওয়্যার রাখা সম্ভব। প্রত্যেকটি সফটওয়্যারের জন্য আলাদা সার্ভার থাকবে। ইন্টারনেটে বসে লগ-ইন করে আপনার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারে কাজ করতে পারবেন। শুধু সময় মতো ভাড়া দিয়ে যেতে হবে। সফটওয়্যারের কোনও আপডেট হলে বা নতুন ভার্সান বেরোলে তা-ও ক্লাউডে পাওয়া যাবে। এতে খরচ অনেক কমবে বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। কমবে রক্ষণাবেক্ষণের খরচও। সব কাজ ক্লাউডে থাকায় যে কোন জায়গা থেকে পিসি, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট বসে কাজ করতে পারবেন। পেন ড্রাইভ, সিডি, ডিভিডি বা এক্সটারনাল হার্ড ডিস্ক থেকেও মিলবে মুক্তি।

অসংখ্য কম্পিউটারের মধ্যে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ‘মিডিলওয়্যার’ ব্যবহার করা হয়। ব্যাক এন্ড-এ দেখাশোনার জন্য থাকবেন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটর। সে যে নিয়মে চলবে তাকে ‘প্রোটোকল’বলে। এর তথ্য জমা রাখার জায়গাটিও বিশাল। রয়েছে ব্যাকআপের ব্যবস্থা। ফলে তথ্য নষ্ট হওয়ার ভয় কম।

খরচ কমবে হার্ডওয়্যারেরও। কারণ বেশিরভাগ প্রসেসিং হবে ক্লাউডের সার্ভারে। পিসিতে মনিটর, কি-বোর্ড, মাউস এবং মিডিলওয়্যার চালানোর মতো ক্ষমতার প্রসেসর থাকলেই হল।

ভাবছেন এ অনেক দূরের কথা? না, একটু নজর রাখলে দেখবেন ক্লাউড কম্পিউটিং কিন্তু শুরু হয়ে দিয়েছে। হাতের কাছেই তো রয়েছে গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স বা এভারনোটে বা আই-ক্লাউড। কেমন করে কাজ করে এরা?

ধরুন গুগল ড্রাইভ। গুগল সার্চে গিয়ে গুগল ড্রাইভ খুঁজলে সহজে পেয়ে যাবেন। জি মেল আইডি দিয়েই লগ-ইন করতে পারবেন। এর পরেই গুগল ড্রাইভ সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করার অপশন আসবে। কোনও ড্রাইভে তথ্য জমা থাকবে তা জানিয়ে শুধু হ্যাঁ করলেই হবে। ডাউনলোডের পরে গুগল ড্রাইভের ওয়েব সাইটের বাঁদিকে ফাইল বা ফোল্ডার আপলোড করার অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করে পিসি, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ থেকে তথ্য তুলে নিতে পারবেন। মজা হল এক বার আপলোড হয়ে গেলে যেকোনও পিসি, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে সব সময়ই তথ্যগুলি দেখতে বা তা নিয়ে কাজ করতে পারেবন। এখানে ৫ জিবি মতো জায়গা বিনা পয়সায় পাওয়া যায়। এর পরে পয়সা দিলে তথ্য রাখার জায়গা বাড়বে।

অবশ্য গুগল ড্রাইভে জায়গা না বাড়িয়ে আপনি ড্রপবক্সেও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এখানেও একইভাবে ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খোলার পরে একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে বলবে। তার পরে গুগল ড্রাইভের মতোই তথ্য আপলোড করা বা তথ্য নিয়ে কাজ করা যায়। কেউ অ্যাপল ব্যবহার করলে তাঁর জন্য আছে আই-ক্লাউড। এ ছাড়াও এভারনোটও প্রায় একই কায়দায় কাজ করে। রয়েছে আরও কিছু সাইটও। একটু খুঁজলেই হদিশ পাবেন। সব তথ্য এক জায়গায় না রেখে এদের মধ্যে ছড়িয়েও রাখতে পারেন।

তবে সব ব্যবস্থার মতো এতেও কিছু সমস্যা রয়েছে। এই ব্যবস্থা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের উপরে নির্ভরশীল। তাই নেটওয়ার্কে কোনও সমস্যা হলে কাজ করা যাবে না। প্রশ্ন আছে তথ্যে সুরক্ষা নিয়েও। তবে যাঁরা ব্যবস্থাটির দেখাশোনা করেন, তাঁরা এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল; ফলে বিপদের আশঙ্কা কম।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top