শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - জিপি অ্যাক্সেলারেটরের চতুর্থ ব্যাচের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - বিসিএস-এ ‘ব্যবসা সাফল্যে প্রচার এবং প্রসার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে দারাজের ফিউচার লিডারশীপ প্রোগ্রাম | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ফাঁস হল নকিয়া ৯ এর ফিচার | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ এর সেরা পাঁচে বাংলাদেশের দুই প্রকল্প | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - স্মার্টফোনে চার্জ না থাকার জন্য দায়ী যে সকল অ্যাপ | বৃহস্পতিবার, মে 25, 2017 - ফেসবুকে ভিডিও আপলোডে পুরস্কার | বুধবার, মে 24, 2017 - গ্রাহকের হাতে পণ্য তুলে দিতে সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় মাধ্যম বিক্রয় ডট কম | বুধবার, মে 24, 2017 - জেডটিই এবং বাংলালিংক নিয়ে এলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভার্চুয়াল এসডিএম | বুধবার, মে 24, 2017 - ৩৩১০ সহ নকিয়ার তিনটি স্মার্টফোন জুন থেকে দেশের বাজারে পাওয়া যাবে |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ত্রয়ী থেকে মেট্রো রেলের ই-টিকেটিং
ত্রয়ী থেকে মেট্রো রেলের ই-টিকেটিং

ত্রয়ী থেকে মেট্রো রেলের ই-টিকেটিং

13346450_10209252398805065_5059561728227730336_n

দেশীয় সফটওয়ারই তার ধ্যান-জ্ঞান। স্বপ্ন-পরিকল্পনার পুরোটাই জুুড়ে দেশীয় বাজার নিয়ে। প্রায় এক দশক আগেই একজন সাধারন উদ্যোক্তা হিসেবে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তির বাজারে বীজ বপন করেছিলেন উত্তম কুমার পাল। দেশের সবেচেয় জনপ্রিয় অ্যাকাউন্টিং সফটওয়ার ‘ত্রয়ী’ দিয়ে শুরু করে এখন  তিনি চতুর্থ প্রজন্মের এনএফসিভিত্তিক রেলওয়ে ই-টিকেটিংয়ের সফটওয়ার বানাচ্ছেন। ঢাকায় বাস্তবায়নাধীন মেট্রেরেলের এই সফটওয়ার তৈরীর কাজ জুনেই শেষ হবে। খুব সাদা নরম মনের মানুষটি চান দেশীয়ভাবেই সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পের তথ্যপ্রযুক্তি সমাধান দিতে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিসে তিনি দুই মেয়াদে নেতৃত্ব দিয়ে দেশীয় সফটওয়ারের বিকাশে কাজ করেছেন। আসন্ন বেসিস নির্বাচনে তিনি দেশীয় সফটওয়ারের পক্ষে কাজের দুড় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই অভিজ্ঞ সফটওয়ার নির্মাতা।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় নামার আগে ১১ বছর চাকরি করেছেন উত্তম কুমার পাল। বিভিন্ন খাতে তার এই অসামান্য অভিজ্ঞতা ব্যবসার গোড়াপত্তনেও সহায়তা করে। চাকরির গৎবাধা জীবন ছেড়ে ২০০১ সালে ব্যবসা শুরুর প্রয়াসে গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) মনোনিবেষ করেন। ২০০৫ সালে স্বল্প মূলধন নিয়েই খুলে বসলেন নিজের কম্পানি ‘বেস্ট বিজনেস বন্ড লিমিটেড (থ্রিবিএল)’। শুরুতেই উন্মোচন করলেন বিশ্বমানের অ্যাকাউন্টিং ইনভেন্টরি প্যাকেজ সফটওয়ার ‘ত্রয়ী’।

ব্যবসা শুরুর সেই দিনের স্মৃতি মনে করে বেসিসের সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘আসলে তখনই আমি গবেষণার মাধ্যমে জেনেছিলাম, দেশের বিশাল বাজারের পুরোটাই এখন বিদেশী কম্পানিগুলোর দখলে। সেই দিনই প্রতিজ্ঞা করেছি, কাজ করবো দেশীয় বাজার নিয়ে। শুরুতে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি। দেশীয় সফটওয়ার ভালো সফটওয়ার, বিক্রেয়োত্তর সেবাও হাতের নাগালে পাওয়া যায়-এই ধারণা বাজারে দিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। ত্রয়ী এখন দেশের সবচেয়ে সফল অ্যাকাউন্টিং সফটওয়ার।’

বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে পুরো মেট্রো রেলের অটোমেশনের কাজের দায়িত্ব পেয়েছে দুটি জাপানি প্রতিষ্ঠান। আর ই-টিকিটিংয়ের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে মেট্রো রেলের যাত্রীদের টিকিট কাটার জন্য ‘র‌্যাপিড পাস’ কার্ড তৈরির কাজ শুরু করেছে জাপানি ইলেকট্রনিক জায়ান্ট সনি করপোরেশন। জুনের মধ্যে ই-টিকিটিং সফটওয়্যারের কাজ শেষ হবে বলে জানালেন ‘বেস্ট বিজনেস বন্ড লিমিটেডের (থ্রিবিএল)’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার পাল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘মেট্রো রেলের সফটওয়্যার অটোমেশনের কাজ করছে জাপানি প্রতিষ্ঠান খাতাহিরা এবং এনইসি। তাদের সঙ্গে থ্রিবিএলের আগে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় আরেকটি কম্পানি ইসিএলের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করে কাজটি পাই। শেষ পর্যন্ত তারা দুটি কম্পানিকে নির্বাচিত করে। একটি আমাদের জয়েন্ট ভোর কম্পানি এবং আরেকটি ডাটা সফট। প্রায় ১৪ মাস আগে আমরা এই কাজটি শুরু করি, যা জানুয়ারিতে শেষ করার কথা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু সংশোধনী আসায় আমরা চলতি জুনের মধ্যে এই কাজটি শেষ করে হস্তান্তর করতে যাচ্ছি।’

মেট্রো রেলের ই-টিকিটিংয়ে মেশিন এমবেডেড এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এই প্রযুক্তির ই-টিকিটিং জাপান, হংকং এবং সিঙ্গাপুর ব্যবহার করে। মেট্রো রেলের টিকিটের পেমেন্টের জন্য জাপানের সনি করপোরেশনের সেলিকা কার্ড বাংলাদেশে আসবে। এই কার্ডের নামও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে এই কার্ডের নাম ‘র‌্যাপিড পাস’। এই কার্ডে আটটি পকেট থাকবে, যা ডেবিট কার্ডের মতো মেট্রো রেলের টিকিট ক্রয় থেকে কেনাকাটসহ নানা কাজে ব্যবহার করা যাবে। এই কাজের লেনদেনের জন্য ব্যাংক নির্বাচিত হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। পরবর্তী সময়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে কার্ডে টাকা রিচার্জ করে দেবে। লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য এই সফটওয়্যারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় হবে। এটা ভবিষ্যতে এনএফসি সমৃদ্ধ মোবাইলেও ব্যবহার করা যেতে পারে।”
দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাজারের ত্রয়ী সফটওয়ার দিয়ে সুনাম অর্জন করেছে থ্রিবিএল। ত্রয়ী সফটওয়্যারে ব্যবসায়ের ধরণ যাই হোক না কেন এটি ব্যবহারে ব্যবসায়ী তার ক্রয়-বিক্রয়, লাভ-লোকসান, রিসিভ-পেমেন্ট, ট্রায়াল ব্যালেন্স, ব্যালেন্স-সীট সব রিপোর্ট তৈরি করতে পারবে ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান। ডিজিটালাইজেশনের এ যুগে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতা যাতে বৃদ্ধি পায় সে লক্ষ্যেই ত্রয়ী তৈরী করা হয়েছে বলে জানান উত্তম কুমার পাল।

এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিন চালু করেছে ওষুধ কেনা-বেচার বা ফার্মেসির ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী করে ‘ত্রয়ী-ফার্মা’ নামে একটি নতুন সংস্করণ। ২১০টি ওষুধ কম্পানির ১৪ হাজার ওষুধের নাম, ইউনিট (মাল্টিপল ইউনিট-বক্স, কার্টুন ও পিস), ফরমুলেশন, ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য ইত্যাদি সন্নিবেশিত রয়েছে এ সফটওয়্যারে। ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্যতার জন্য বিক্রয় কর্মীদের আইডি বা পাসওয়ার্ড তৈরি করা, তৈরি করা বিল মুছে ফেলতে না পারা, প্রয়োজনে বিক্রীত ওষুধ ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা, দিন শেষে সরবরাহকৃত মজুদ অনুযায়ী প্রাপ্ত টাকার হিসাব করা, কম্পানিগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি বিদ্যমান মজুদের অবস্থা দেখে নতুন করে অর্ডার দেওয়া ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

থ্রিবিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার পাল বলেন, ‘অন্য অনেক ব্যবসা থেকে আলাদা ওষুধের ব্যবসা। প্রতিনিয়ত ক্রমবর্ধমান বিভিন্ন রোগ চিকিৎসা ও প্রতিরোধের জন্য দেশী-বিদেশী ওষুধ কম্পানিগুলোর রয়েছে অনেক ধরনের ওষুধ। হাজার হাজার ওষুধের ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদের সঠিক হিসাব রাখা কষ্টসাধ্য। মজুদ থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বা স্বল্পমেয়াদের ওষুধ খুঁজে বের করে সরিয়ে ফেলা আরো কষ্টসাধ্য। এক্ষেত্রে সফটওয়্যারের মাধ্যমেই এসব হিসাব রাখা অনেক সহজ। এজন্য ত্রয়ী ফার্মা নিয়ে এসেছি।’

দেশে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সেবা (আইটিইএস) খাতের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে দেড় হাজারের বেশি। এর মধ্যে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান ১০৭৫। সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকেই দেশীয় সফটওয়্যারের বাজার ধরতে ব্যবহারকারীদের উপযোগী করে বিভিন্ন নতুন নতুন সফটওয়্যার নিয়ে আসছে। দেশে সফটওয়্যার ও আইটিইএস খাতের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি বাজার রয়েছে বলে জানলেন উত্তম কুমার পাল। তিনি বলেন, ‘এই বাজারের বেশিরভাগই এখন বিদেশী কম্পানির দখলে। দেশীয় কম্পানিগুলোর যথেষ্ট সক্ষমতা সত্বেও তাদের টেন্ডারের ও ক্রয় নীতিমালার নানা বেড়াজালে বড় বড় সফটওয়ার সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা বেসিসের পক্ষ থেকে সরকারের সাথে বারবার কথা বলেছি, লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আশ্বাস দিয়েছেন এ বিষয়টি সমাধানের। আশা করছি, বেসিসের নতুন কমিটি এ বিষয়টি বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। তাহলে দেশে স্থানীয় সফটওয়ারের বাজার আরো প্রসারিত হবে।’

স্থানীয় বাজারে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার বাজার সম্প্রসারণে, ব্যক্তি খাতের ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারের জন্য নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বেসিসের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগের কথা জানান বেসিসের সাধারন সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সচেতনতা তৈরীতে নানা সম্মেলনের আয়োজন করেছি। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইক, কানেক্টিং স্টার্টআপসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আইসিটি খাতের জন্য জন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স রহিতকরণ, ই-কমার্স থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার, ভে ার ক্যাপিটাল পলিসি, সাইবার সিকিউরিটি পলিসি, আইসিটি কম্পানির আইপিওতে অংশগ্রহণের জন্য স্মল ক্যাপ পলিসিসহ বেশ কিছু পলিসি তৈরিতে বেসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। নতুন নির্বাচিত বেসিস নেতারা দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তির বাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মাজহারুল ইসলাম তানিম 

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top