শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - টাকা না পেলে টেলিটক মারা যাবে : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ইউনিক বিজনেস সিস্টেমস লিমিটেড পরিদর্শনে হিটাচি এক্সক্লুসিভ টিম | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী’র ‘অ্যাসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এয়ারটেল’র ‘ইয়োলো ফেস্ট’ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় নতুন দেশি অ্যাপ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ড্যাফোডিলে ‘সমন্বিত শিক্ষণ পদ্ধতিতে গুগল ক্লাসরুমের ব্যবহার’ শীর্ষক লেকচার সেমিনার অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ভারতে গুগলের মোবাইল পেমেন্ট অ্যাপ ‘তেজ’ উন্মুক্ত | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিল এসএপি | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 21, 2017 - ২০১৭ টিভি লাইন-আপ উদ্বোধনের মাধ্যমে টিভি পিকচার ও ডিজাইনে নতুনত্ব নিয়ে এলো স্যামসাং | বুধবার, সেপ্টেম্বর 20, 2017 - ৩ দিন বন্ধ থাকবে প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল |
প্রথম পাতা / টেলিকম / রাজনৈতিক আবরণে বেড়েই চলেছে অবৈধ ভিওআইপি
রাজনৈতিক আবরণে বেড়েই চলেছে অবৈধ ভিওআইপি

রাজনৈতিক আবরণে বেড়েই চলেছে অবৈধ ভিওআইপি

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সম্প্রতি অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) বেড়ে গেছে। দেশে প্রতিদিন ৮ কোটি মিনিট বৈদেশিক কল ঢুকছে।এর মধ্য ৪ কোটি ২০ লাখ (কখনো ৩০ লাখ) মিনিট কল আসছে বৈধ পথে। অবশিষ্ট প্রায় ৪ কোটি মিনিট কল আসছে অবৈধ পথে।
অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে সরকার প্রতিদিন (৪ কোটি মিনিট কলে) রাজস্ব হারাচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার (প্রতি কলে ৩ সেন্ট হিসেবে ২ টাকা ৪০ পয়সা), মাসে ৩০০ কোটি আর বছরের হিসেবে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধ করা না গেলে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কল টার্মিনেট করে নেট কালোবাজারীদের পকেটে চলে যাবে হাজার কোটি টাকারও বেশি।voip_2-edi
গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে বৈধ পথে দেশে আসা আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা আড়াই থেকে পৌনে তিন কোটি মিনিটে নেমে গিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের নতুন মন্ত্রী এসে কড়াকড়ি আরোপ করলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। অক্টোবর-নভেম্বরে বৈধ পথে আসা কলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে মোট কল ৫ কোটি মিনিট পেরিয়েও যায়। ২০১১ সালের একই সময়ে দেশে বৈধ পথে আসার কলের পরিমাণ ছিল সাড়ে পাঁচ থেকে পৌনে ৬ কোটি মিনিট। ওই সময় প্রায় ২ কোটি মিনিট কল অবৈধ পথে আসত।
যদিও গত ২ বছরে আর কলের সংখ্যা ৬ কোটি মিনিট পার হয়নি। সম্প্রতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বৈধ পথে আসা বৈদেশিক ইনকামিং কল ৬ কোটি মিনিটে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে। অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি এ সুপারিশ করে।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জনিয়েছে, দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে অবৈধ ভিওআইপি হচ্ছে। রাঘব বোয়ালরা এর সঙ্গে জড়িত থাকায় সরকার, বিটিআরসি তাদের টিকিটিও ছুঁতে পারছে না। অবৈধ ভিওআইপিতে সরকারের প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে সূত্র উল্লেখ করে। সূত্র জানায়, তারা এতোটাই শক্তিশালী এবং সরকারের আস্থাভাজন যে, তাদের দিকে কেউ সন্দেহের আঙুলও তোলার সাহস করবে না। আর এরই ফাঁক গলে অবৈধ ভিওআইপির কারবার চলছে। আগামীতে তা ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। জানান, ‘অবৈধ ভিওআইপি করে আগামী নির্বাচনের ‘নির্বাচনী ফান্ড’ তৈরিতে ব্যস্ত অনেকে।’
সরকারের শেষ সময়ে এসে অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যাওয়ায় এর সঙ্গে জড়িতদের ‘আখের গোছানো’ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক জাকারিয়া স্বপন। তিনি বলেন, ‘অবৈধ ভিওআইপি আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তবে সম্প্রতি তা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশে কথা বলার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অবৈধ ভিওআইপির পরিমাণও বেড়ে গেছে।’
বিটিআরসির এক মহাপরিচালক জানিয়েছেন, এখন প্রতিদিন ৪ কোটি ২০ থেকে ৩০ লাখ মিনিট কল বৈধ পথে আসছে। ছুটির দিনে তা বেড়ে সাড়ে চার কোটি মিনিটে পৌঁছায়। তিনি বলেন, ‘অবৈধ ভিওআইপি করতে কত যে নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। সে সবের সঙ্গে আমাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিটিআরসির একাধিক টিম অবৈধ ভিওআইপি শনাক্তে কাজ করছে। মনিটরিং অব্যাহত আছে।’
তবে বিটিআরসির মনিটরিং ব্যবস্থাকে পাশ কাটাতে ‘টানেলিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন অবৈধ কল টার্মিনেশনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। টানেলিং করায় বিটিআরসিতে স্থাপিত সিম ডিটেকশন বক্সে আর অবৈধ কল ধরা পড়ছে না। এ কারণে বিটিআরসির পক্ষে অবৈধ কল হিসাব করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব ঠেকাতে এবং নজরদারি বাড়াতে বিটিআরসি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সচেষ্ট হচ্ছে। এর মাধ্যমে সব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক সবসময় পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
অবৈধ ভিওআইপি বেড়ে যাওয়ায় এবং বৈধ পথে পথে কল-মিনিট বাড়াতে গত ১৫ মে দেশের ছয় মোবাইলফোন অপারেটরের অফিসে অভিযান চালায় বিটিআরসির ৬টি বিশেষজ্ঞ দল। এ সময় বিশেষজ্ঞ দল ৬ অপারেটরের ৫৩ হাজারের বেশি সিম জব্দ করে তা বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা ধারণা, ওই সব সিম দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি হচ্ছিল। অবৈধ ভিওআইপি বন্ধে বিটিআরসি এর মধ্যে ব্যান্ডউইথের আপস্ট্রিম ৭৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল। জানা যায়, এখন থেকে মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি অবৈধ ভিওআইপি বন্ধে এ ধরনের কার্যক্রম চালাবে।
তবে অবৈধ ভিওআইপির জন্য খ্যাত যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) সেই বিটিসিএলে বিটিআরসি এখনো অভিযান চালায়নি। দেশে অবৈধ কলের বেশির ভাগই আসে বিটিসিএল’র মাধ্যমে।

রুশো রহমান

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top