শিরোনাম

বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - পোক ফিচারটি ফিরিয়ে আনছে ফেসবুক | বুধবার, ডিসেম্বর 13, 2017 - গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / লুটে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা

লুটে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা

পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ে তথ্য কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালকরা। কখনও আইপিও আসার সময় শেয়ারের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ তথ্য কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়িয়ে নিজেদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করেছে আগে থেকেই তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকরা। প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসব শেয়ার বিক্রির আগে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়াতে তৎপর ছিলেন তারা। এসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে যে কোনো কোম্পানির পরিচালকের জন্য শেয়ার বিক্রির সুযোগ থাকলে তথ্য কারসাজির এ প্রবণতা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। শেয়ারের দর বাড়াতে বোনাস ঘোষণা, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, অভিহিত মূল্য পরিবর্তন, রাইট শেয়ার ইস্যুসহ নানা পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। নিয়মিত বিরতিতে একটির পর একটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ঘোষণা করে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। এ সুযোগে দফায় দফায় বিক্রি করা হয়েছে পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ার।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া বিবরণী ও কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৬০টির শেয়ার বিভাজনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে। ২০০৯ সালের জুনের আগে এসব কোম্পানির পরিচালকদের হাতে যে পরিমাণ শেয়ার ছিল, বর্তমানে তা অনেক কমে গেছে। বাজারে শেয়ারের দরবৃদ্ধির সুযোগে পরিচালকরা এসব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তারা। এর পরপরই রয়েছে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল, প্রকৌশল, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দেড় বছরে বস্ত্র খাতের বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালকরা এক হাজার কোটি টাকার বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। ২০০৯ সালের মে মাসে আলহাজ টেক্সটাইলের মোট শেয়ারের ৯৯.১৬ শতাংশ ছিল পরিচালকদের হাতে। বর্তমানে কোম্পানিতে তাদের অংশীদারিত্ব মাত্র ২৭.৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে বেক্সটেক্স পরিচালকদের শেয়ার ৩৯.৪৭ শতাংশ থেকে বর্তমানে ২০.১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে ওই কোম্পানির পরিচালকরা তাদের ১৯.৩২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। মেট্রো স্পিনিংয়ের পরিচালকরা ১১ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। একই ভাবে ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের পরিচালকরা ৩৭.৭৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালকরা ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি শেয়ার বিক্রি করেছেন। ২০০৯ সালের জুনে এবি ব্যাংকের পরিচালকদের শেয়ার ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যাংকের পরিচালকদের শেয়ার ১৩.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে সিটি ব্যাংকের পরিচালকদের হাতে ২৯.১৬ থেকে বর্তমানে ১২.৫০ শতাংশে নেমে এসছে। আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালকদের শেয়ার ৪ শতাংশ কমে বর্তমানে ৮.৬২ শতাংশে নেমে এসেছে। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩৯.৫৬ থেকে বর্তমানে ২৮.১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ব্যাংক এশিয়ার পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা ৫১.৮৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। পরিচালকদের অংশের প্রায় অর্ধেক শেয়ার (২৬.৭৮ শতাংশ) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কিনে নিয়েছেন। উত্তরা ব্যাংকের ৯৫.৭৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাতে। এছাড়া ইউসিবিএল, এনসিসি, ডাচ্-বাংলাসহ কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার একই সময়ের মধ্যে বিক্রি করছেন।
আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা প্রায় হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে আইডিএলসি’র পরিচালকদের হাতে ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত ৪৭.৩৫ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৩৬.০১ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে ফার্স্ট লিজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালকদের শেয়ার ৩৫.৫৫ থেকে ১৮.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের পরিচালকরা ১২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পরিচালকরা ১৬.০৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। একই সময়ের মধ্যে লংকা-বাংলা ফাইন্যান্সের উদ্যোক্তাদের শেয়ার ৭০.৯১ থেকে ৫৮.৮৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একইভাবে আইপিডিসি’র পরিচালকরা ২৬.৪২ শতাংশ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অন্তত ১৩০ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ক্যাপিটালের উদ্যোক্তা শেয়ার ৬৯ থেকে ৬৩ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিডি ফাইন্যান্স) উদ্যোক্তাদের শেয়ার ৭৬.৯২ থেকে ৬৮.৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে, আইএলএফএসএল ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। অপরদিকে প্রকৌশল খাতের কয়েকটি কোম্পানির পরিচালকরা বিক্রি করেছেন ৮০০ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার। এর মধ্যে বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের পরিচালকদের শেয়ার ৮৬.২১ থেকে বর্তমানে ৬৫.৫২ শতাংশে এসেছে। একই সময়ে বাংলাদেশ থাই এলুমিনিয়ামের পরিচালকদের শেয়ার ৫৩.৬১ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৩৯.৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া গোল্ডেন সন কোম্পানির পরিচালকরা ৩৪.৭৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রি ও ন্যাশনাল পলিমারের পরিচালকরা ১১.৩১ শতাংশ শেয়ার ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। এছাড়া একই সময়ে জ্বালানি ও খাদ্য খাতের বিভিন্ন কোম্পানির পরিচালকরা বিক্রি করেছেন ৪৫০ কোটি টাকার শেয়ার। এর মধ্যে সামিট পাওয়ারের উদ্যোক্তা শেয়ার ৫৮.৬ শতাংশ থেকে বর্তমানে ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ের মধ্যে বিচ হ্যাচারির পরিচালকরা ১৭.০৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি ও ফাইন ফুডসের পরিচালকদের শেয়ার ৪৪.২৪ থেকে ৩২.২০ শতাংশে নেমে আসায় ৮ কোটি টাকা বাজার থেকে নিয়েছে। ২০০৯ সালে জুন মাসে বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালকদের শেয়ার ২০.৬৩ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১০.৯১ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে এ কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও তাদের হাতে থাকা ৯.৫৮ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। একই সময়ে বেক্সিমকো সিনথেটিকের পরিচালকরা ৬.৩২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। দেড় বছরে ইনফর্মেশন সার্ভিস নেটওয়ার্কের পরিচালকদের শেয়ার ৩১.৩১ থেকে ২১.৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিডিকম অনলাইনের পরিচালকদের ২৩.৩৮ থেকে ১৩.৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে, ইনটেক অনলাইনের ১২.২৮ থেকে ৩.৭৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
এছাড়া একই সময়ের মধ্যে শেয়ারের দরবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে পুঁজিবাজারের অন্যান্য খাতের কয়েকটি কোম্পানির পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অন্তত ৬০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে বীমা খাতের পিপলস ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকরা ১০২ কোটি টাকা, কর্নফুলী ইন্স্যুরেন্স ৪০ কোটি টাকা, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স সাড়ে ৮ কোটি টাকা, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৮৪ কোটি টাকা এবং মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকরা ১০৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। একই সময়ের মধ্যে বিবিধ খাতের বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালকদের শেয়ার ২৪.৮৮ থেকে ২১.২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ফু-ওয়াং সিরামিকসের পরিচালকরা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা বাজার থেকে নিয়ে গেছে। ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া সংবাদে (নিউজ আর্কাইভ) দেখা গেছে, প্রতিটি কোম্পানির ক্ষেত্রেই পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির আগে বাজারে দরবৃদ্ধির জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পরপর মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ঘোষণা করে শেয়ারের দর বাড়ানো হয়েছে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কারসাজির মাধ্যমে দর বাড়িয়ে পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির বড় উদাহরণ আফতাব অটোমোবাইল। গত দেড় বছরে একের পর এক গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির শেয়ার কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। এ সুযোগে বেশি দরে শেয়ার বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন কোম্পানির পরিচালকরা। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। এজিএমে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করে। ফলে কোম্পানির এজিএমে ঘোষিত লভ্যাংশের বড় অংশই পেয়েছেন পরিচালকরা। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি এ লভ্যাংশ বিতরণ শেষ হয়। এ সময় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়, আফতাব অটো কোনো প্রিমিয়াম ছাড়াই রাইট শেয়ার ইস্যু করবে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top