শিরোনাম

সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নির্বাচন ১০ মার্চ | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - ইন্দোনেশিয়ার ইউএসএম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊদ্যোক্তা বিষয়ে বক্তব্য দিলেন মোঃ সবুর খান | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - মোবাইল ডেটা ব্যবহারে এগিয়ে গ্রামীণফোন | সোমবার, ডিসেম্বর 18, 2017 - বিদেশ থেকে এখন ৮টি মোবাইল ফোন আনা যাবে | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - গুগল-ফেসবুকের বিজ্ঞাপনে ডলার পাচার-রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ‘ডাকো’র প্রথম যাত্রী আশরাফুল | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - বাংলাদেশে এলো মোবাইল এ্যাপস ‘ফ্ল্যাশট্যাগ’ | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - আগামী বছর ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা : রাশেদ খান মেনন | রবিবার, ডিসেম্বর 17, 2017 - ‘ল্যাপটপ ফর অল’ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে এটুআই ও সিঙ্গারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক | শুক্রবার, ডিসেম্বর 15, 2017 - শুরু হলো আসুস আরওজি জেফ্রাস গেমিং ল্যাপটপের প্রি-বুকিং |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / সচেতনতা বাড়লে জনপ্রিয় হবে ই-কমার্স – আশীষ চক্রবর্তী
সচেতনতা বাড়লে জনপ্রিয় হবে ই-কমার্স – আশীষ চক্রবর্তী

সচেতনতা বাড়লে জনপ্রিয় হবে ই-কমার্স – আশীষ চক্রবর্তী

ashisবর্তমান সময়ে ই-কমার্স ব্যবসা অনেক জনপ্রিয়। আমাদের দেশে এই ব্যবসা শুরু হয় প্রায় এক যুগ আগে। তবে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছে মাত্র কয়েক বছর হলো। আর এই কয়েক বছরের মধ্যেই অনেকগুলো ই-কমার্স সাইট যাত্রা শুরু করেছে।নতুন ও পুরাতন যতোগুলো ই-কমার্স সাইট আছে তার মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হলো এসএসএল ওয়্যারলেস। ২০১০ সাল থেকে এসএসএল ওয়্যারলেস যাত্রা শুরু করে। ই-কমার্সের বর্তমান, আগামীসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এসএসএল ওয়্যারলেসের সিওও আশীষ চক্রবর্তীর সাথে।

ই-কমার্সের সংজ্ঞা নিয়ে অনেকের মধ্যেই মতোভেদ আছে এই সম্পর্কে এসএসএল ওয়্যারলেসের সিওও আশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘ই-কমার্স আসলে ইলেকট্রনিক কমার্স। আমরা ই-কমার্স বলতে যা বুঝি বা বুঝাই তাতে একটু অন্য মত আছে আমার। ক্যাশ অন ডেলিভারি ই-কমার্স মধ্যে পরে না। কারন, পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধ করলে তো অনলাইন লেনদেন হলো না শুধুমাত্র অনলাইনে অর্ডার করা হলো। যখন কোনো অর্ডার ও লেনদেন অনলাইনের মাধ্যমে হবে তখন আমরা তাকে ই-কমার্স বলতে পারি।’

অনেকের মনে ধারনা যে ই-কমার্স ব্যবসার নামে মানুষের সাথে প্রতারনা করে এই বিষয়ে আশীষ চক্রবর্তী বলেন,‘ই-কমার্স ব্যবসায়িক সাইটগুলো মানুষের ধারনাকেই পাল্টে দিয়েছে। আস্তে আস্তে তাদের মনে আস্থা আসতে শুরু করেছে। আগে মানুষের মনে ভ্রান্ত ধারনা ছিলো যে, ই-কমার্স সাইটগুলো মনেহয় মানুষের সাথে প্রতারনা করে। তারা মনেহয় একটি পণ্য দেখিয়ে অন্য পণ্য নিতে বাধ্য করে। আবার পণ্য হাতে পাওয়ার আগে মূল্য পরিশোধ করলে পণ্য না পাওয়ার চিন্তাও করেন অনেকে।’

ashis2ই-কমার্সের নিজস্ব ওয়েবসাইট ছাড়া ফেইজবুকে পণ্য বেচাকেনার পেইজ দেখা যায়। ফেইজবুকের মাধ্যমে বেচাকেনার প্রক্রিয়া এফ-কমার্স সম্পর্কে তিনি বলেন,‘আমরা লক্ষ্য করলে ফেইজবুকে হাজার এফকমার্স দেখতে পাবো। এফকমার্স আসলে জনমনে আশংঙ্খার সৃষ্টি করে। সাধারন নিয়ম অনুযায়ী কোনো ই-কমার্স সাইট খুলতে গেলে আপনাকে অনেক নিয়ম মেনে আসতে হবে। যেমন ধরুন- ট্রেড লাইসেন্স, অফিস, আয়কর সনদসহ অনেক অফিসিয়াল নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু এফ-কমার্সের ক্ষেত্রে তেমন কিছু দরকার পরে না। আর জনগন তাতে প্রতারিত হলেও এফ-কমার্সের কিছু করতে পারে না। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ই-কমার্স ব্যবসা অনেক বাধার সম্মুখীন হয়।’
তিনি আরও বলেন,‘ই-কমার্স খাতের সফল দিকগুলো হলো, মানুষ অনলাইনে লেনদেন অনেক বৃদ্ধি করেছে।ই-কমার্সের মাধ্যমে পার্সেস ও সেবা নিতে শুরু করেছে। অনেকগুলো ব্যাংক তাদের লেনদেনে সহায়ক কার্ডগুলো ই-কমার্স লেনদেনের অনুমোতি দিতেছিলো না। তার এখন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। তাদের মনে হয়েছে ই-কমার্সের মাধ্যমে অনেক লেনদেন হয় যা জিডিবিতে দারুন ভূমিকা রাখে।আরএকটি দিক হলো ই-কমাস ব্যবসার কারনে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। কোন এক উদ্যোগক্তা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করে তা ধীরে ধীরে তা বড় আকারে করলে অনেক লোক সেখানে নিয়োজিত হবে। ই-কমার্স হলো একটি ডায়নামিক খাত যেখানে অতিদ্রুত পরিবর্তন সম্ভব।’
ssl-wirelessই-কমার্স মার্কেট প্লেসকে সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ঘোষনা দিয়েছে তাদের সমস্ত সেবাগুলোকে অনলাইনের আওতায় আনান জন্য। এতে করে শহর ও গ্রামের মানুষগুলো অনলাইন সেবা নিতে বাধ্য হবে। আর এই প্রাকটিসই ই-কমার্সের জন্য সহায়ক হবে।এবং ই-কমার্সের গ্রোথ বাড়তেই থাকবে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রনালয় ই-কমার্স খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে। তারা জনগনকে উৎসাহিত করছে। ই-কমার্সের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও সরকারের ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান বাস্তবায়নে সহায়তা করছে।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন যাবৎ ই-কমার্সের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীরা একটি সমস্যার ভিতরে ছিলাম এখনও আছে। আবাসিক এলাকাতে ই-কমার্সের কোনো অফিস থাকতে পারবে না। এমন একটি সিদ্ধান্ত তাদেরকে হতাশ করেছে। এ বিষয়ে বেসিস ও রাজউকের মধ্যে সম্প্রতি একটি বৈঠকও হয়। রাজউক কর্তৃক তাদেরকে আস্বস্ত করা হয়ে তারা এই বিষয়টি নিয়ে ভাববেন। ই-কমার্স যদি কমার্শিয়াল এরিয়াতে চলে আসে তা হলে এই খাতটি হুমকির মুখে পরবে। কারন, এতো টাকা অফিস খরচ দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

ই-কমার্স খাতকে একটি ভালো অবস্থানে পৌছানো সম্পকে এসএসএল ওয়্যারলেসের সিওও আশীষ চক্রবর্র্তী বলেন,‘ই-কমার্স খাতকে একটি শক্ত অবস্থানে দেখতে চাইলে গার্মেন্টস শিল্পের মতো আমাদের কেও আরও ১০ বছর সময় দিতে হবে। আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে চাই তবে, একটি সহনীয় মাত্রায় নিলে আমরা দ্রুত দাড়াতে পারবো।’

তিনি জানান, এই খাতকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রথমেই দরকার সরকারের তরফ হইতে কিছু নিয়ক তৈরি করা দরকার। বিদেশি বিনোয়োগকারীরা কি পরিমান বিনিয়োগ করতে পারবে। তাদের জন্য কি সুযোগ সুবিধা থাকবে। এবং যারা অনলাইনে অর্ডার করবে তাদের অস্বস্তের জন্য একটি সুযোগ চালু করা দরকার তা হলো- পণ্যটি প্রাপ্তির পর যদি তার গুনগত মান সঠিক না থাকে তালে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সে ফেরৎ দিতে পারবে এবং যে প্রতিষ্ঠান থেকে অর্ডার করা হয়েছে সে প্রতিষ্ঠান ঔ পণ্যটি পরিবর্তন বা মূল্য ফেরৎ দিতে বাধ্য থাকবে।
অর্ডার করা পণ্য সঠিক স্থানে যথা সময়ে পৌছে দিতে তারা যে মাধ্যম ব্যবহার করেন সে সম্পর্কে আশীষ চক্রবর্তী বলেন, ‘পণ্য সরবরাহের জন্য আমরা সাধারনত কুরিয়ার সার্ভিস গুলো ব্যবহার করে থাকি। তারা এই পণ্যগুলো যতœ সহকারে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌছে দেয় না। অনেক ক্ষেত্রে বহনের সময় তারা পণ্যগুলো নষ্ট করে। এর দ্বায়ভার তারা নিতে চায় না । যদি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য পরিবহন ইন্সুরেন্স করা হয় তাহলে গ্রাহক ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো সম্পর্ক স্থাপন হবে।,

ই-কমার্স খাতকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিতে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন,‘ই-কমার্স খাতকে আরও জনপ্রিয় করতে হলে এর প্রচার প্রচারনাকে আরও বাড়াতে হবে। জনগনের কাছাকাছি আমাদের যেতে হবে। বানিজ্য মেলার মতো ই-কমার্স মেলার আয়োজন করা দরকার। এতেকরে মানুষ বুঝতে শিখবে ই-কমার্স কি এবং এ থেকে কি সুবিধা পাওয়া যায়, দেশের জন্য ই-কমার্স কতোটা প্রয়োজন, অর্থনিতিতে কি প্রভাব ফেলে। এই বিষয়গুলো মানুষ বুঝতে পারলেই ই-কমার্স খাত আরও দ্রুত এগিয়ে সফলতার ডায়নামিক রুপ পাবে।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top