শিরোনাম

শুক্রবার, জুলাই 28, 2017 - ভিসি ও ডিন্স সার্টিফিকেট পেলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির ২৪০শিক্ষার্থী | শুক্রবার, জুলাই 28, 2017 - দারাজের গ্রোসারি পণ্যে ৩৫% পর্যন্ত ছাড়! | শুক্রবার, জুলাই 28, 2017 - মনিটর কিনলেই পাচ্ছেন আর্কষনীয় টি-শার্ট  | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - রবি ও ট্রমা ইনস্টিটিউটের মধ্যে কর্পোরেট চুক্তি সই | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - দেশের বাজারে হুইনের তারবিহীন কিউ১১কে গ্রাফিক্স ট্যাবলেট উন্মোচন | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে ফক্সকন | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - স্মার্ট টেকনোলজি ও সিভিল এভিয়েশনের চুক্তি সই | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - ফিরে আসছে সিটিসেল | বৃহস্পতিবার, জুলাই 27, 2017 - আসছে স্মার্ট রিং |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / সরকারি টাকায় আইসিটি এক্সপোতে কম্পিউটার সোর্সের কারসাজি!
সরকারি টাকায় আইসিটি এক্সপোতে কম্পিউটার সোর্সের কারসাজি!

সরকারি টাকায় আইসিটি এক্সপোতে কম্পিউটার সোর্সের কারসাজি!

সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচে আগামী ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৬। মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কম্পিউটার সমিতিকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছে সরকার। তবে মূলত তা খরচ করা হচ্ছে সমিতির সভাপতি মাহফুজুল আরিফের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্সের প্রয়োজনে! বিদেশি যেসব অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদের অনেকেই কম্পিউটার সোর্সের বিদেশি পার্টনার প্রতিষ্ঠানের লোক। তবে এখানে যারা আসছেন তারা সিইও পর্যায়ের না। আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই সেলস ম্যানেজার কিংবা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার!

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনের খ্যাতিমান দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক ও হার্ডওয়্যার পণ্য নির্মাতাদের এ মেলায় এনে ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ এবং অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে আইসিটি বিভাগ। এ লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি  খাতের বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিবর্গকে মেলায় বিভিন্ন সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ প্রদানের দায়িত্ব পায় বিসিএস।

তবে এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে সংগঠনটি। আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন একে আন্তর্জাতিক আয়োজন বলে সরকারি খরচে বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, পলিসি মেকার, হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের আনার কথা থাকলেও আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ১৯ জনের চূড়ান্ত একটি তালিকা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, তালিকায় প্রায় কারোরই এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের একটি আয়োজনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নেই। আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই সেলস ম্যানেজার কিংবা অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি তদারকিতে প্রায় সময় বাংলাদেশ ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের মধ্যে আবার একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছেন একাধিক কর্মকর্তা।

ICT-Expo-02_0

১৯ জনের তালিকায় ইলেক্টো সেভালের রয়েছেন তিন কর্মকর্তা, প্রোলিংক-এর দুই জন, এক্সওয়ার্ল্ড টেক দুই কর্মকর্তা, ফায়ারআইয়ের তিন কর্মকর্তা! তালিকায় রয়েছেন অলওকাকোক বিভি’র দুই জন অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, এপসন ইন্ডিয়ার বাংলাদেশ অংশের বিক্রয় কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা, মাইক্রোস্টারের বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, লজিটেক থেকে আসছেন বাংলাদেশে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, আসছেন ট্রেন্ড মাইক্রো ইন্ডিয়ার বিক্রয় ব্যবস্থাপক! আমন্ত্রিত এসব অতিথিরা সরকারি খরচে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সোনারগাঁওয়ে মেলা চলাকালীন অবস্থানের সুযোগ পাবেন।

তবে আইটি দুনিয়ায় অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এসব কোম্পানির নিচের সারির এসব কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক মানের এ আয়োজনে অংশ নিয়ে কী ভূমিকা রাখবেন এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার একই কোম্পানি থেকে একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিরা যেসব কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছেন এর মধ্যে প্রোলিংক, ট্রেন্ড মাইক্রো, সিসকো, পলোঅল্টো, ডি-লিংক, ফায়ারআই, লজিটেক ব্র্যান্ডের পণ্যের বাংলাদেশি পরিবেশকের দায়িত্বে রয়েছে বিসিএস সভাপতি এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফের মালিকানাধীন কোম্পানি কম্পিউটার সোর্স।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে বলছেন, যেখানে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের কথা বলা হচ্ছে সেখানে এত বড় আয়োজনে যেনতেন কর্মকর্তা এনে কৌশলে নিজের ব্যবসা গুছিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বিসিএস সভাপতি।

এদিকে গত বছরের আইসিটি এক্সপোকেও “কম্পিউটার সোর্সের মেলা” হিসেবে অবিহিত করে সংবাদ মাধ্যমগুলো। প্রকাশিত সংবাদে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, “এবারের কথিত মেলা আসলে কম্পিউটার সোর্সের মেলা বললেই ভাল হতো। কারণ বাংলাদেশে যেসব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে মেলার আয়োজক কম্পিউটার সমিতির সভাপতির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার সোর্স ব্যবসা করছে, মূলত তাদের আধিক্যতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শুধু কম্পিউটার সোর্সের স্টল রয়েছে সর্বাধিক ৮টি। বাকি যারা আছেন তারা আইডিবি বা মাল্টিপ্ল্যানের খুচরা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বিক্রেতা অংশ নিয়েছেন।”

এক্সপোর ওয়েবসাইটে তথ্য শূন্য

৫ কোটি ব্যায়ে এই আয়োজনের শ্লোগান ‘মিট ডিজিটাল বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখুন হলেও নেই ডিজিটাল এর ছোঁয়া। খোদ এক্সপোর ওয়েবসাইট http://ictexpo.com.bd/ ঘুরে ৪টি ছবি ছাড়া আর কোন তথ্য নেই ওয়েবসাইটে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান কোন কোন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য নিয়ে হাজির হচ্ছে তার নেই কোন তথ্য। এক্সপোতে কতগুলো সেমিনার ও ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে তারও কোন তথ্য আয়োজক কমিটি দিতে পারেনি।

ict-expo-presentationমেলার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরার জন্য সরকার, স্পন্সর, স্টল ভাড়ার জন্য যে প্রেজেন্টেশনটি দেয়া হয়েছে বিসিএস এর ওয়েবসাইটে, তাতে উপরে লেখা রয়েছে “techshohor.com leptop fair 2015.” আন্তর্জাতিক মান বলে ৫ কোটি টাকা খরচ করে এমন আয়োজনের কি প্রয়োজন আছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) ও সরকারের আইসিটি বিভাগ যৌথভাবে ৩ দিনব্যাপী এ প্রদর্শণীর আয়োজন করছে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের পর তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মেলা হিসেবে গণ্য করা হয় আইসিটি এক্সপোকে।

আইসিটি এক্সপো নিয়ে নানান অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ও কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কে বলেন, “এখনও বিদেশি অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। তবে ৪০/৪৫ জন আসতে পারেন।”

আমাদের কাছে আসা ১৯ জনের তালিকায় সেলস ম্যানেজার, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারসহ দ্বিতীয় স্তরের কর্মকর্তাদের নাম দেখা যাচ্ছে, এরাই কি বাংলাদেশের আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথি? উত্তরে আরিফ বলেন, “এ সম্পর্কে আমার ধারণা নেই।” অভিযোগ রয়েছে যেসব অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তারা মূলত কম্পিউটার সোর্সের ব্যবসায়িক পার্টনার; কম্পিউটার সোর্সের ব্যবসার জন্যই কি তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে? উত্তরে মাহফুজুল আরিফ বলেন, “যারা বাংলাদেশে আসতে পারে তাদের একটি তালিকা আমি মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে। এরপর কারা আসবে আর কারা আসবে না তা মন্ত্রণালয় ঠিক করেছে।”

গত বছর আইসিটি এক্সপোতে কম্পিউটার সোর্সের আধিপত্য বেশি ছিল, এবারও কি তাই হবে? আরিফ বলেন, “গত বছর জুন মাসে দেশে ব্যবসা খারাপ ছিল। অনেকের ৮টি স্টলের বরাদ্দ দিয়ে ৪টি নিয়েছে। আমি সুযোগ পেয়েছি বলে বরাদ্দ নিয়েছি। গতবারের ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি।” দেশে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড হওয়ার পরে একই ধাঁচের বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ করে সরকারের টাকা খরচ করার অর্থ কি? উত্তরে এ এইচ এম মাহফুজুল আরিফ বলেন, “আমরা আগেও বলেছি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড হচ্ছে সফটওয়ার ভিত্তিক মেলা। তাদের সাথে আমাদের মেলার ধরণ যায় না। আমরা মূলত ডিভাইস নিয়ে কাজ করছি। আমরা যদি ডিভাইস নিয়ে কাজ না করি তাহলে সফটওয়ার ইন্সটল করবো কোথায়? ডিভাইসের প্রতি গুরুত্ব দিতেই আইসিটি এক্সপোর আয়োজন করা হয়েছে।”

সুত্র - প্রিয় টেক

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top