শিরোনাম

সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইটি চাকুরি মেলা | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - আসছে নকিয়া ২ | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - ব্লু হোয়েলের পর ফেসবুকে থাবা বসাচ্ছে নতুন এক ভয়ঙ্কর গেম | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - ফটোগ্রাফারদের মন জয় করতে ফুজিফিল্ম এর মিররলেস ক্যামেরা | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - টেলিটক দিচ্ছে বিনামূল্যে নারীদের জন্য ২০ লাখ সিম | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - ১৭ লেন্সযুক্ত 3D ক্যামেরা নিয়ে এলো স্যামসাং | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - কানাডায় ইমিগ্রেশনের সুযোগ করে দিচ্ছে ভিসা সেন্টার | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - হোয়্যাটসঅ্যাপের নতুন চমক | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - ২৯০০ টাকায় সিম্ফোনির স্মার্টফোন | সোমবার, অক্টোবর 23, 2017 - মুহূর্তেই ট্রাফিকের জরিমানা পরিশোধ করা যাবে ভিসা-মাস্টার কার্ড দিয়ে |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে:প্রধানমন্ত্রী
সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে:প্রধানমন্ত্রী

সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে:প্রধানমন্ত্রী

pm-dw2016প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সাইবার নিরাপত্তায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধ কার্যক্রম চালাতে না পারে সে ব্যবস্থাও আমাদের নিতে হবে। বিশেষ করে আর্থিক খাত এবং গোপনীয় বিষয়ের নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আর এ লক্ষ্যে জনসম্পদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৬ প্রণয়ন করতে যাচ্ছি। এ আইনের আওতায় বাংলাদেশে বিশ্বমানের ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি গঠন, সাইবার ইন্সিডেন্স রেসপন্স টিম (সিইআরটি) প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চ পর্যায়ের ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠন করা হবে।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় দেশের সর্ববৃহত্ তথ্য প্রযুক্তি মেলা ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

‘নন স্টপ বাংলাদেশ’ থিমকে সামনে রেখে সরকারের আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উড্ডয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ২০১৭ সালে এর যাত্রা শুরুর পর নিজস্ব চাহিদা পূরণের সাথে সাথে আমরা স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করতে পারবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তার সরকার শিক্ষাখাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭টি টেক্সট বইকে ডিজিটাল টেক্সটবুক বা ই-বুকে রূপান্তর করেছি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে আমরা সারাদেশে ৩০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছি। সারাদেশে ২ হাজার ১টি ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন করেছি। আরও ৯০০টি ল্যাব প্রতিষ্ঠার কাজ শেষের পথে। ৬৪ জেলায় ৬৫টি ল্যাংগুয়েজ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে সাড়ে ৫ হাজারেরও অধিক ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করেছি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে আরও ১০ হাজার ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিতে অবদানের জন্য ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্যতম কারিগর আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ওর কাছ থেকেই আমি কম্পিউটার চালানো শিখেছি। মা হিসেবে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ পুরস্কারে আমি সম্মানিত বোধ করেছি। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ কৃতিত্ব দেশের জনগণের।’

দেশের আইসিটি শিল্পের বিকাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের সরকার বিগত সাড়ে সাত বছরে আইসিটি খাতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি উপার্জনের পথ সুগম করতে ‘বাড়ি বসে বড়লোক’ কর্মসূচির আওতায় ১৪ হাজার ৭শ ৫০ জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী।

প্রধানমন্ত্রী আলোচনা পর্ব শেষে মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও অ্যাক্সেস টু ইনফর্মেশন (এটুআই) কর্মসূচির পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নারীদের কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ৬টি স্মার্ট বাসেরও উদ্বোধন করেন।

প্রসঙ্গত, এবারের মেলায় ৪০টি মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে কি কি সেবা দিচ্ছে তার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হবে। মেলায় শীর্ষস্থানীয় শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল কার্যক্রম তুলে ধরবে। তিন দিনব্যাপী আয়োজনে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, একসেন্সার, বিশ্ব ব্যাংক, জেডটিই, হুয়াওয়েসহ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের ৪৩ বিদেশি বক্তাসহ দুই শতাধিক বক্তা ১৮টি সেশনে অংশ নেবেন। এছাড়া নেপাল, ভুটান, সৌদি আরবসহ ৭টি দেশের ৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে অংশ নেবেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বর্তমানের জনশক্তি দ্বিগুণ করে ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের তথ্য-প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি বাড়িয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন করার লক্ষ্যও রয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ও দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন মোস্তফা জব্বার। এছাড়া দেশীয় উত্পাদকদের উত্সাহ দিতে বিদেশ থেকে কম্পিউটার আমদানির উপর শুল্ক আরোপেরও প্রস্তাব করেন মোস্তফা জব্বার।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top