শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - ইউনিক বিজনেস সিস্টেমস লিমিটেড ডিলার সেলিব্রেশন ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, নভেম্বর 23, 2017 - এলো ডেলের নতুন ইন্সপাইরন এন৭৩৭০ ল্যাপটপ | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - আবার স্মার্টফোনে ফিরছে ইন্টেল | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - উবারের ৫ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরি হয়েছিল | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - ৫০০০মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি সহ বাজারে আসতে চলেছে নোকিয়া’র নতুন ফোন | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - অনলাইন শপিংয়ে সিম কার্ড | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - রেকর্ড গড়ছে বিটকয়েন | বুধবার, নভেম্বর 22, 2017 - প্রধানমন্ত্রীর নিকট অ্যাসোসিও ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর | মঙ্গলবার, নভেম্বর 21, 2017 - ‘ডাকছে থাইল্যান্ড’ নামে মেগা ক্যাম্পেইন রবি’র | মঙ্গলবার, নভেম্বর 21, 2017 - ডিজিটালাইজেশনে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো এখনো পিছিয়ে |
প্রথম পাতা / কর্পোরেট স্পেশাল / সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের দাপটে আটকে আছে আরো লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া
সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের দাপটে আটকে আছে আরো লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া

সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের দাপটে আটকে আছে আরো লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া

হিটলার এ. হালিমঃনিজেদের এনটিটিএন ব্যবসার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে দোর্দণ্ড দাপট দেখিয়ে সামিট কমিউনিকেশন ও ফাইবার অ্যাট হোম আটকে দিয়েছে সরকারের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে নতুন লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া। ফলে আপাতত আসছে না নতুন লাইসেন্স। এতে করে সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের এনটিটিএন (নেশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক) নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসার পথ আরো প্রশস্ত ও দীর্ঘ হলো।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সব ধরনের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়। ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় এনটিটিএন’র আরো লাইসেন্স প্রদানের। যা পাওয়ার কথা দেশের ৬ মোবাইলফোন অপারেটর ও দুই ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে বিটিআরসির ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত পৌঁছার আগেই মাঝ পথে আটকে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, দুই এনটিটিএন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের চক্রান্ত ও প্রভাবের কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে নতুন এনটিটিএন লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া।
সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর পারিবারিক প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশন। অন্যদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে ফাইবার অ্যাট হোমের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুসম্পর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা দুই প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে বিটিআরসির সিদ্ধান্ত এখনো বিটিআরসিতেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান ব্যক্তিদ্বয়ের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় তাদের কণ্ঠে ‘নতুন লাইসেন্স না দেয়া হোক’ বিষয়ে তাদের অবস্থান দৃঢ়।
প্রসঙ্গত, সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোম প্রতিষ্ঠান দু’টি দেশের একমাত্র লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান যারা ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে দেশের সব টেলিকম অপারেটরের কাছে লিজ বা ভাড়া দেয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর ফাইবার অ্যাট হোমের বিরুদ্ধে ক্যাবলের উচ্চ ভাড়া নিতে থাকে। পরে সামিট কম খরচে সেবাদান শুরু করলে ফাইবার অ্যাট হোম ক্যাবল ভাড়া কমায়। মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় দেশের বিশাল টেলিযোগাযোগ খাতে একচেটিয়া ব্যবসা করতে থাকে সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোম।
সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং সরকার ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ভাড়া নির্ধারণ করে না দেয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করে ব্যবসা করে আসছিল। লাইসেন্সপ্রাপ্তির প্রায় চার বছর পরেও সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক তৈরি করতে না পারায় নতুন লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মোবাইল এবং ওয়াইম্যাক্স অপারেটররা অবকাঠামো তৈরির লাইসেন্স পেলে সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। শুরু হবে প্রতিযোগিতা যা এখন একদমই নেই। জানা গেছে, এনটিটিএন অপারেটর দুটির নিজস্ব নেটওয়ার্কের পরিমাণ খুবই অল্প। অপারেটর দুটি বিভিন্ন মোবাইলফোন অপারেটর, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) এর নেটওয়ার্ক ভাড়া/লিজ নিয়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। মোবাইল অপারেটররা নিজেরা লাইসেন্স পেলে তারা বিদ্যমান দুই এনটিটিএন অপারেটরের কাছ থেকে আর সেবা নেবে না। এ কারণে এনটিটিএন অপারেটর দু’টি ব্যবসা হারানোর আশঙ্কায় নতুন লাইসেন্স দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আরিফ আল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই এনটিটিএন’র নতুন লাইসেন্স দেয়া না হোক।’ তিনি জানান, অবকাঠামোগত লাইসেন্স কম দেয়া হলে বিদ্যমান অপারেটরের অবকাঠামো বেশি শেয়ার হবে। লাইসেন্স বেশি দেয়া হলে শেয়ারিং কমবে। ফলে তা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান দু’টিকে ব্যবসায়িক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। তিনি বলেন, ‘বিটিআরসি চায় ২/৩ বছরের মধ্যে আমরা যেন পুরো নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলি। কিন্তু তা সম্ভব নয়।’
সামিট কমিউনিকেশন এবং ফাইবার অ্যাট হোম এনটিটিএন লাইসেন্স নিয়ে মাটির নিচে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ভূগর্ভস্থ বিতরণ লাইনের (ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল লাইন) নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। এই একই ক্যাবল দিয়ে ইন্টারনেট, ডিশ সংযোগ ও টেলিফোন সেবা দেয়ার কথা। বিটিআরসি একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব টেলিযোগাযোগ অপারেটরকে এই দুই এনটিটিএন অপারেটরের কাছ থেকে সেবা নেয়ার জন্য ‘ফোর্স’ করে। আর এই সুযোগটাই নেয় প্রতিষ্ঠান দুটি।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে লাইসেন্স পেয়ে সামিট কমিউনিকেশন মাত্র ৬৮০ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল বসাতে পেরেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট শহরে। তৈরি করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম ফাইবার অপটিক লাইন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের (পিজিসিএল) ১ হাজার ৯শ’ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল লিজ নিয়েছে। অল্প নেটওয়ার্ক তৈরি করেও প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামো ভাড়ার ব্যবসা করছে।
অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের ১ হাজার ২শ’ কিলোমটিার নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে যা দেশের ২৫টি জেলা ও ৯০টি উপজেলা কভার করেছে। এ প্রতিষ্ঠানটিও পিজিসিএল’র কাছ থেকে ১ হাজার ৯শ’ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল লাইন লিজ নিয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের শুধু ঢাকা শহরেই রয়েছে ৫শ’ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক।
এদিকে লাইসেন্সিং গাইডলাইনে লাইসেন্স পাওয়ার প্রথম বছরে দেশের মোট উপজেলার ৫, দ্বিতীয় বছরে ১০, তৃতীয় বছরে ২০, চতুর্থ বছরে ৩০ শতাংশ এবং ১০ বছরের মধ্যে সব উপজেলায় নেটওয়ার্ক স্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্তির প্রথম তিন বছরে সামিট ও ফাইবার অ্যাট হোমের নেটওয়ার্ক কাভারেজ পর্যাপ্ত নয়। প্রতিষ্ঠান দুটি লাইসেন্সিং গাইডলাইন অনুসারে নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।
এনটিটিএন’র নতুন লাইসেন্স দেয়ার আগে বিটিআরসি একটি প্রস্তাবিত গাইডলাইন তৈরি করেছে। ওই গাইডলাইনে কিছু শর্ত, অবকাঠামো নির্মাণের সময়, লাইসেন্স ফি ও ব্যাংক গ্যারান্টির পরিমাণ কমানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রাজস্ব ভাগাভাগাভাগির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ছাড়ের কথা উল্লেখ রয়েছে।
নতুন লাইসেন্সের বিষয়ে ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল হক সিদ্দিকী বলেন, আরো লাইসেন্স দেয়া হলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবে। দেশী বিনিয়োগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। ফলে বিদেশী কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, কোন যুক্তিতে গাইডলাইনে এই পরিবর্তন আসছে তা তাদের জানা নেই। সরকারই যদি তার গাইডলাইন রক্ষা করতে না পারে তাহলে কে পারবে।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top