শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - ফোরজির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে মার্চে | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - ড্যাফোডিলে জিডিজি বাংলার বাংলা চ্যালেঞ্জ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - বাগেরহাটে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে হুয়াওয়ের ‘লাভ ইন ফোকাস’ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - অনলাইনে কেনাবেচায় প্রতারণা রোধে বিক্রয় ডটকমের পদক্ষেপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে গ্রামীণফোনের সাশ্রয়ী ডাটা প্যাক | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - ‘গ্রীন অফিস’ স্বীকৃতি পেল বাংলালিংক | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - পেইজা ব্যবহারকারীদের জন্য ২১% মূল্য ছাড় | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 21, 2017 - মাইক্রোম্যাক্সের নতুন স্মার্টফোন কিউ৩৯৮ |
সিটিসেল বন্ধ

সিটিসেল বন্ধ

citycell-closeবৃহস্পতিবার সন্ধা পনে সাতটায় সিটিসেলের স্পেকট্রাম বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি। এরপর থেকে সিটিসেল নম্বরে কোন ইনকামিং বা আউটগোইং কল হচ্ছে না। এর আগে বিকেল ৩টায় বিটিআরসি থেকে একটি টিম রওনা হয় এবং বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বিটিআরসির পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) এয়াকুব আলী ভূইয়া রাজধানীর মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় প‌্যাসিফিক সেন্টারে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা ভেতরে ঢোকেন। স্পেকট্রাম বন্ধ করে প্রায় দুই ঘন্টা পর তারা বের হন।

এদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সন্ধ‌্যা ৬টায় একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। বিটিআরসি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম সিটিসেল বন্ধের তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম জানান, ‘আজ  ছিল সিটিসেলের টাকার পরিশোধ করার দিন। কিন্তু সেই টাকা পরিশোধে তারা ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য সিটিসেল বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা আসলে প্রাথমিকভাবে শুধু আপিল বিভাগের রায়টি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা বিটিআরসির ক্ষমতাবলে কতটুকু করতে পারছি, প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আইনসঙ্গতভাবে সেটুকু প্রয়োগ করেছি। পরবর্তীতে তরঙ্গের (স্পেকট্রাম) ব্যাপারে, পাওনা বকেয়া টাকা পরিশোধ করবে কিনা, সে ব্যাপারে পরে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম আরও বলেন, সিটিসেলের কাছে সরকারের ৪৭৭কোটি ৫১ লাখ টাকা পাওনা। এই পাওনা না পেয়ে, গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিলেও আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিটিসেলকে দুই মাস সময় দিয়েছিল। ইতিমধ্যে সিটিসেল ১৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও, ৩৮১ কোটি টাকার বকেয়া রয়ে যায়, তাই এই কোম্পানির তরঙ্গ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।

এদিকে সিটিসেল ইউনিয়নের সভাপতি মো. আশরাফুল করিম বলেন, বিটিআরসির সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে তারা শুধু স্পেকট্রাম বন্ধ করেছে। লাইসেন্স বাতিল করা দীর্ঘমেয়াদী ব্যাপার। আমরা আশা করছি, সিটিসেল বকেয়া পরিশোধ করে আবার অপারেশনে আসবে অন্যথায় আমাদের পাওনাসহ সকল ভেন্ডরের পওনা দ্রুত পরিশোধ করবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে সরকারের পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা পাওনা। এই পাওনা না পেয়ে গত জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ। পরের মাসে তাদের নোটিশ দেয়া হয়েছিল। ওই নোটিসের পর সিটিসেল আদালতে গেলে আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিটিসেলকে দুই মাস সময় দিয়েছিল। গত ২৯ আগস্ট আদালতের ওই আদেশ হয়।

বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ১৭ অগাস্টের আগ পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে বিটিআরসির পাওনা রয়েছে ৪৭৭ কোটি টাকা। এর দুই তৃতীয়াংশ এখন থেকে এক মাসের মধ্যে, আর এক তৃতীয়াংশ পরবর্তী এক মাসে পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া ১৭ আগস্টের পর থেকে প্রতিদিন বিটিআরসি আরও ১৮ লাখ টাকা করে পাওনা হচ্ছে। প্রতিদিনের এই টাকা অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, টাকা না পেলে বিটিআরসি যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে।

সিডিএমএ অপারেটর সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা কমতে কমতে এখন দুই লাখের চেয়ে কম। যেখানে বাংলাদেশে মোট মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি ১৩ লাখ। বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলেন, সিটিসেলের কাছে সরকারের পাওনা রয়েছে প্রায় ৪৭৮ কোটি টাকা। বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তারা এ পাওনা মেটানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বেসরকারি অনেক কোম্পানীও সিটিসেলের কাছে বিপুল অংকের টাকা পাওনা রয়েছে বলেও ভুক্তভোগিরা বিটিআরসিকে জানিয়েছে। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করায় এর আগে একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছেল সিটিসেলকে। কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেনি। তিনি বলেন, বন্ধ হওয়ার আগে অপারেটরটির গ্রাহকদেরও সময় দেয়া হয়েছে যাতে তারা অন্য অপারেটরে চলে যেতে পারেন। তিনি বলেন, একারণে কোন গ্রাহকের এখন আর ভোগানি্তর মুখে পড়তে হবে না।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। সিটিসেলের সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top