শিরোনাম

শুক্রবার, জানুয়ারী 19, 2018 - মোবাইল সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্জন করবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা | শুক্রবার, জানুয়ারী 19, 2018 - ক্যাসপারস্কি ল্যাবের আয়োজনে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা | শুক্রবার, জানুয়ারী 19, 2018 - হুয়াওয়ে নোভা টুআই এর সঙ্গে ২ বছরের ওয়ারেন্টি | শুক্রবার, জানুয়ারী 19, 2018 - এরা ইনফোটেক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - ওয়ান প্লাসের নতুন পাওয়ার ব্যাংক | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্প্যাম মেসেজ ঠেকাতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - যাত্রা শুরু করলো ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - নতুন স্মার্টফোন আনল হুয়াওয়ে অনার | বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 18, 2018 - স্বল্প মূল্যের গ্যালাক্সি সিরিজের ফোন ‘অন৭ প্রাইম’ | বুধবার, জানুয়ারী 17, 2018 - একত্রে কাজ করবে এটুআই এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প |
প্রথম পাতা / সাম্প্রতিক খবর / ফিচার পোস্ট / সূচক আশাজাগানিয়া তবু অর্থনীতি মন্থর

সূচক আশাজাগানিয়া তবু অর্থনীতি মন্থর

অর্থনীতির ক্ষেত্রে চাপের মধ্যে রয়েছে সরকার। পণ্যবাজারের অস্থিরতার মধ্যে দুই বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছিল সরকার। কিছুদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর সেই অস্থিরতা আরো বেড়েছে। ঘনীভূত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট। চলতি বছরটা শুরু হয়েছে শেয়ারবাজারের ভয়াবহ ধস দিয়ে। এসব চাপ সামলে দেশের অর্থনীতির গতিধারা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কোনো সহজ পথ বাতলাতে পারেননি অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতির মূল সূচকগুলো বেশির ভাগই ইতিবাচক থাকলেও মূল অর্থনীতিতে তেমন গতি নেই। বিনিয়োগের প্রস্তাব বাড়লেও বাস্তবায়ন কম। বিশ্বখ্যাত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি গোল্ডম্যান স্যাক্স ও মুডিস বাংলাদেশকে ভারতের পরেই এ অঞ্চলে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) পরিচালিত এক জরিপে ২৮তম অবস্থান থেকে ২০১০ সালে ১৫তম অবস্থানে এসেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের বড় বড় কম্পানি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের বিকল্প স্থান হিসেবে মনে করছে। কিন্তু কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আসেনি। এর মূল কারণ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট। এর সঙ্গে নতুন সমস্যা হিসেবে জমির অভাব। সমস্যাটি ভবিষ্যতে শিল্পায়ন, আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ৩০তম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বলে দাবি করছেন মন্ত্রীরা। কিন্তু এর জন্য যে উদ্যোগ প্রয়োজন, তা নেই। মন্ত্রীদের এমন দাবির ভিত্তি হচ্ছে গত ছয় মাসে রপ্তানি আয়ে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ নিবন্ধন বেশি হওয়া। কিন্তু এ কয়েকটি সূচক বাদে বাকি দিকগুলোতে দুর্বলতা রয়েই গেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা খারাপ হচ্ছে।
জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়া, বিদেশ থেকে লোক ফেরত আসা বেড়ে যাওয়া ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়ায় সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে মানুষকে সস্তায় খাদ্য দেওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আগামী গরমে লোডশেডিং নিয়ে মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে-এমন আশঙ্কা রয়েছে। শেয়ারবাজার ও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়েছে সরকার।
এসব বিষয়ে আগামী দিনে সরকারকে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান কালের কণ্ঠকে বলেন, অর্থনীতিতে যে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে, তা সরকারকে শক্তভাবে মোকাবিলা করতে হবে। শেয়ারবাজারের দরপতন যেমন একটি সমস্যা, তেমনি বিদ্যুৎ সংকটও একটি সমস্যা। কাজেই সমস্যাগুলো সঠিকভাবে মোকাবিলা করার ওপরই আগামী দিনে সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনয়ন ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের বিষয়ে নিঃসন্দেহে সরকার বেশ চাপেই আছে। শেয়ারবাজারে যা ঘটেছে, তা থেকে সরকারকে অবশ্যই সতর্ক হয়ে শিক্ষা নিতে হবে। পাশাপাশি এসইসি, বিনিয়োগকারী সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। ড. মোস্তাফিজ বলেন, বিশ্ববাজারের পাশাপাশি পণ্যের দাম স্থানীয় বাজারেও বাড়ছে। তবে সব কিছুর পরও নিত্যপণ্য স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়াতে হবে। রেশনিং অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সরকারি খাতে খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকির মতো বিষয়কেও মেনে নিতে হবে।
দ্রব্যমূল্যে নাকাল : ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ। সরকারের মেয়াদ দুই বছর পার হওয়ার পর এখনো এক নম্বর সমস্যা হিসেবেই তা রয়েছে। সম্প্রতি পৌরসভা নির্বাচন ও কয়েকটি আসনে উপনির্বাচনে বিরোধী দল প্রচারণার ক্ষেত্রে দ্রব্যমূল্য ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসে। ২০১০ সালে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে ৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সরকারি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তালিকায়ও দেখা যায়, আগের বছরের তুলনায় পণ্যের দাম অনেক বেশি। টিসিবির সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, গত এক বছরে চারটি প্রধান পণ্য-মোটা চালের দাম ৩৩.৩৩ শতাংশ, আটার দাম ৪৩.৭৫ শতাংশ, সয়াবিন তেলের দাম ৩৬.৪৯ শতাংশ ও পেঁয়াজের দাম ২৪.৫৬ শতাংশ বেড়েছে। সরকারের মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন, দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। তবে তাঁদের ভাষ্য, প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য কম।
আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন কমে যাওয়া ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে এ অস্থিরতার হাওয়া লাগবে বাংলাদেশেও। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ‘খাদ্য পূর্বাভাস’ নামের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার ৬ শতাংশ কম খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে আসবে। আর সরবরাহ কমায় এরই মধ্যে খাদ্যের দাম ৪.২ শতাংশ বেড়েছে। এফএওর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, খাদ্যমূল্য বাড়ায় বাংলাদেশসহ ৭৭টি খাদ্য ভর্তুকির দেশকে অতিরিক্ত ১২ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হবে।
বাড়ছে মূল্যষ্ফীতিও। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক গড় হিসাবে নভেম্বরে মূল্যষ্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.১৪ শতাংশ। মূল্যষ্ফীতির ভয়ের দিক হলো, খাদ্যপণ্যে মূল্যষ্ফীতির হার বেশি এবং শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যষ্ফীতি বাড়ছে বেশি হারে। এরই মধ্যে সরকার মূল্যষ্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারে টাকার সরবরাহ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
গ্যাস-বিদ্যুতে আলো জ্বলছে না : বিগত দুই বছরে ১০২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ও ২০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করেছে দাবি করছে সরকার। তবে ১০২১ মেগাওয়াটের মধ্যে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বর্তমান সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে। বাকি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সব কাজ করেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
মহাজোট সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রথম বছর পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয় বছর সিদ্ধান্ত ও চুক্তি করতেই পার করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ২৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ১৬টি কুইক রেন্টালসহ ৩৩টি চুক্তি করা হয়েছে। এর অধিকাংশ হয়েছে ২০১০ সালে। এ ছাড়া ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনতে চুক্তি, ২৬০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতীয় এনটিপিসির সঙ্গে চুক্তি এবং বৃহৎ ও মাঝারি আকারের বেশ কয়েকটি গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজের অগ্রগতি হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত তিনটি ছাড়া বেশির ভাগ কেন্দ্র নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে আসতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস উৎপাদন বাড়লেও বর্তমানে মোট উৎপাদনের পরিমাণ আগের চেয়ে কমেছে। গত বছর এ সময়ে দৈনিক ১৯৭ থেকে ১৯৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও তা এখন নেমে এসেছে ১৯৪ থেকে ১৯৬ কোটি ঘনফুটে। নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন, ক্ষেত্র উন্নয়ন ও সংস্কারে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় গ্যাস ঘাটতি আগের চেয়ে বেড়েছে। প্রথম বছরে সরকার ফার্স্ট ট্র্যাক কর্মসূচি নিলেও তা যথাসময়ে বাস্তবায়নে হাত দিতে পারেনি। এতে চলতি বছরেও চটজলদি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ শিল্প খাতে বিনিয়োগ হতে হবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এ পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে সক্ষম। এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে কাজ করতে হবে।
এডিপি বিশাল, বাস্তবায়ন কম : চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ৩৮ হাজার কোটি টাকা। আকারে বিশাল হলেও বাস্তবায়ন হার গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম। ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে ২৭ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ২৯ শতাংশ। এ সময়ে ৯১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ১১ হাজার ২০৭ কোটি টাকা ছাড় করা হলেও ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মাত্র এক-চতুর্থাংশ এডিপির বাস্তবায়ন হওয়ায় বাকি সময়ে অবশিষ্ট ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। এমনকি কাজ না হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগও থমকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজ এডিপির বাস্তবায়ন হার নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন যথাসময়ে না হলে তা মানসম্পন্ন হবে না। অনেক প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আর তা হলে সরকারি উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি নেই : গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে বিনিয়োগ পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ছে না। এর সঙ্গে বিভিন্ন শিল্পে অস্তিরতার কারণে শ্রমিকরাও কর্মহীন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য মতে, দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ লোক শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। এর বিপরীতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে ১০ লাখ। ফলে ১০ লাখ লোক নতুন করে বেকারত্বের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে দারিদ্র্য কমাতে বেশকিছু অঙ্গীকার করেছিল। এর মধ্যে ছিল প্রতি পরিবারে একজনকে কাজ দেওয়া। এটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি হাতে নেয়। এখনো এটি কুড়িগ্রাম ও গোপালগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারাবাহিকতায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিলুপ্ত হওয়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের সময় বন্ধ থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনবল নিয়োগ বর্তমান সরকারের সময় চালু করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কৃষিতে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কঠিন। মানুষকে কাজ দিতে শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ নিবন্ধন বাড়লেও গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে কারখানা চালু হচ্ছে না।
বিনিয়োগ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের জানুয়ারি-নভেম্বর এই ১১ মাসে মোট এক হাজার ৬২৭টি প্রকল্পে ৬২ হাজার ৫৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করেছেন উদ্যোক্তারা। এতে মোট চার লাখ ১২ হাজার কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নে গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা নেই এখনো।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, প্রতিবছর দেশে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে। দেশে বর্তমান দুই কোটি ৭০ লাখ বেকার ছাড়াও কর্মবাজারে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ যুক্ত হচ্ছে। ফলে বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
রেমিট্যান্স-প্রবাহ ধীরগতি, জনশক্তি রপ্তানি কমেছে : জনবল রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিও গতি হারিয়েছে। ২০১০ সালের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সময়জুড়ে দেশে মোট প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলার। এটি আগের বছরের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ বেশি। রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে গেল বছরটি সরকার স্বস্তিতে কাটিয়ে দিলেও চলতি বছর বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকরা। কারণ বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানি দু-তিন বছর ধরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে নেমে এসেছে। এসব দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ফেরতও এসেছে।
অবকাঠামোর বাধা ভূমি : অবকাঠামোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে সরকার। জমি হারিয়ে বিক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে। আর সরকারের জন্য তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরো প্রকট হতে পারে।
মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বঙ্গবন্ধু সিটি নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার একর জমি প্রয়োজন সরকারের। কিন্তু ওই এলাকার জনগণ এরই মধ্যে বিক্ষোভ শুরু করেছে। ঢাকার অদূরে রূপগঞ্জে সেনা আবাসন প্রকল্পের জমি নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। বিনিয়োগ বোর্ড ও বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন্স অথরিটির (বেপজা) কর্মকর্তারা জানান, শিল্প স্থাপনের জায়গা দিতে পারলে গত বছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজেডে কমপক্ষে সাত হাজার কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ আসত। জমি না পেয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফিরে গেছেন।
ভূমি অধিগ্রহণ সরকারের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. বিনায়ক সেন। টাটার গাড়ি তৈরির কারখানার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ভূমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও এমন অবস্থা তৈরি হতে পারে। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ নিয়ে নতুনভাবে চিন্তার পরামর্শ দেন।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top