শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - গুগল ফটোসে যে ভাবে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও লুকাবেন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - মধ্যবিত্তের কথা ভেবে সস্তায় মাইক্রোম্যাক্সের নতুন ফোন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - নতুন ফিচারের ক্যামেরা নিয়ে উন্মুক্ত হলো নোকিয়া ৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - পেপালের ‘জুম’ উদ্বোধন করলেন সজীব ওয়াজেদ জয় | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - ম্যাক্সেল এর বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আইসিটি এক্সপোতে মেট্রো কভারেজ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - সিঙ্গাপুরের মাস্টারকার্ড গ্লোবাল রিস্ক লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - শুরু হলো এমসিসিআই অগ্রগামী ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - বিএমই দিচ্ছে আইসিটি এক্সপো উপলক্ষে তোশিবা পণ্যে বিশেষ অফার! | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপো তে আসুসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নোটবুক | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপোতে বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের অংশগ্রহন |
প্রথম পাতা / অর্থনীতি / স্বপ্নের ফ্ল্যাটের হোম লোন
স্বপ্নের ফ্ল্যাটের হোম লোন

স্বপ্নের ফ্ল্যাটের হোম লোন

খাদ্য, বস¿ ও বাসস্থান। এই তিনটি মৌলিক চাহিদা প্রতিটি নাগরিকের। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, বাসস্থান সমস্যার সমাধানতো হয়নি বরং দিন দিন সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।রাজধানী ঢাকায় প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস। এই নগরী এখন বিপর্যস্ত বাসস্থান সঙ্কটে। ঢাকামুখী মানুষের মিছিল ঢাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে।  অতি দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত এই শ্রেণীর মানুষের মাথা গোঁজার জন্য পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা এখনও গড়ে উঠেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে রাজধানীতে বসবাসকারী যেসব পরিবার মাসে ৫০ হাজার টাকার কম আয় করে তাদের মধ্যবিত্ত পরিবার হিসাবে বিবেচনা করে। এই শ্রেণীর মাথা গোঁজার জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে হলে নির্মাণ ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন। আবার দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি এবং সুদের হার কমানো গেলে অন্তত মধ্যবিত্তের মাথা গোঁজার ঠাই হবে।

home_loan

স্বাধীনতার পর বর্তমান সময়ে এই তিনটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে বাসস্থানের সঙ্কট অত্যন্ত প্রকট। বিশেষ করে ঢাকা শহরে মধ্যবিত্তের চরম বাসস্থান সঙ্কট দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ের মধ্যে যতগুলো সরকারই ক্ষমতায় ছিল সাধারণ মানুষের বাসস্থানের বিষয়টিকে ততটুকু গুরুত্ব দেয়া হয়নি। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে বেসরকারী সেক্টর এগিয়ে আসে আবাসন সঙ্কট মোকাবিলায়। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আজ সবচেয়ে বড় সেক্টর হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেট সেক্টর। রিয়েল এস্টেট সেক্টর যত বাড়ছে আবাসনে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাত্রা। প্রথমে উচ্চবিত্তের আবাসন চাহিদার কথা বিবেচনা করে ফ্ল্যাট বাড়ি নির্মাণ করা হতো। এসব ফ্ল্যাটের ক্রেতা ছিল উচ্চবিত্ত। মধ্যবি্ত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা নেই। এখন উচ্চবিত্তের পাশাপাশি নিম্নমধ্যবি্ত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ ফ্ল্যাট কিনতে পারছে। কারণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি নির্মাণ, পুরনো বাড়ি সংস্কার ও বর্ধিতকরণের জন্য নানান ধরণের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিচ্ছে। এতে আবাসন সঙ্কট কিছুটা হলেও লাঘবে বলে সাধারণ মানুষ মনে করেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে সুদের হারও কমিয়েছে। যার ফলে এখন মধ্যবিত্তেরও হাতের নাগালে চলে এসেছে একটি স্বপ্নের ফ্ল্যাট।

সুদের হার

নাগরিকের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি চাহিদা হচ্ছে বাসস্থান। নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান সবার কাম্য। আর এই মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্য যে ঢাকা মহানগরীসহ বিভিন্ন মহানগরী যেমন পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেনি তেমনি নাগরিকের বাসস্থানের ব্যবস্থাও করেনি কোন সরকার। তাছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে যে মানুষ আবাসন সমস্যার সমাধান করবে তাও কঠিন। কারণ চড়া সুদেও হার। অথচ উন্নত বিশ্বসহ অন্যান্য দেশে গৃহঋণ অত্যন্ত সহজলভ্য এবং সুদের হার খুবই কম। আমাদের দেশে হালে হোম লোন কিছুটা কমলেও ১৩ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশেরও বেশি। আবার বিভিন্ন প্রসেসিং ফি, ভ্যাট অন্যান্য ম্যানেজমেন্ট কস্ট মিলে অনেক বেশি পড়ে যায়। আবার ৯ শতাংশ সুদের বাংলাদেশ ব্যাংকের হোম লোন সবার ভাগ্যে জোটেনা। তাই সাধারণ মানুষ মনে করে আসান সঙ্কট মোকাবিলায় সহজ ও স্বল্প সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির ব্যবস্থা করা খুবই জরুরি। এখানে উল্লেখ্য যে ইন্ডিয়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাংক (এনএইচবি) সে দেশে অল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আবাসন সঙ্কট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখছে।

৯০’-এর দশকের পর থেকে বাংলাদেশে যেভাবে রিয়েল এস্টেট সেক্টর এগিয়ে এসেছে সেভাবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের আবাসন সঙ্কটের জন্য হোম লোন সহজলভ্য ছিল না। কিন্তু বর্তমানে অনেকগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোম লোনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আর এতে করে কিছুটা হলেও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের একটি ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সুগম হচ্ছে। যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান হোম লোনের সুবিধা রয়েছে এমন কয়েক প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক

গতবছর থেকে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গৃহঋণের সুদেও হার নিম্নমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুসাওে অনেকেই শতকরা ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদেও হার কমিয়েছে। ফলে ফ্ল্যাটের ঋণগ্রহীতার জন্য গৃহঋণ কিছুটা হলেও সহজ এখন। তাই যার এক খণ্ড জমি আছে অথচ বাড়ি করতে পারছে না অর্থেও অভাবে সেও এখন গৃহঋণ নিয়ে বাড়ি বানাবার সাহস করছেন। মধ্যবিত্তরা এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কেনারও সুযোগ পাচ্ছেন। যা আবাসন সমস্যার সঙ্কট কমাতে অনেক সাহায্য করবে নি:সন্দেহে।

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে গৃহঋণ প্রদান করে থাকে। যেসব ফ্ল্যাট ক্রেতা সর্বোচ্চ ১২৫০ স্কয়ার ফিট কিনবে তারা কেবল এই স্কিমের আওতায় গৃহঋণ পাওয়ার যোগ্যতা রাখবেন। এই গৃহঋণ দেশের ৬টি করপোরেশন এবং গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গী ও সাভার পৌর এলাকার আওতাধীন এলাকায় পাওয়া যাবে। গৃহঋণ গ্রহীতাকে অবশ্যই ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা মাসিক আয়ের হতে হবে এবং যারা গৃহঋণের সুবিধা ভোগ করেছেন তারা এই গৃহঋণ পাবেন না। গৃহঋণ গ্রহীতা যে এলাকায় ঋণ নিতে চান সে এলাকায় তার স¿ী বা সন্তানদেও নামে কোন ফ্ল্যাট বা বাড়ি যদি থাকে তাহলে গৃহঋণ নিতে পারবেন না। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহঋণের সুদেও হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ শতাংশে করা হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন সমস্যার সমাধনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমাও রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ২০ বছর।

হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন

মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তের বাড়ি বা ফ্ল্যাটের জন্য গৃহঋণ দেয়া হয়ে থাকে। তবে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন ঢাকা মহানগরী এবং চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকার জন্য এই ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। ১ হাজার ৪শ’ ২৯ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের জন্য ৩ হাজার ৫শ’ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় ১ হাজার ৬শ’ ৬৭ বর্গফুট ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের নির্মাণের জন্য ৩ হাজার টাকা গৃহঋণ দিয়ে থাকে এবং ঋণের পরিমাণ ৪০ লক্ষ টাকা। ঋণের আবেদনকারীকে মোট বিনিয়োগের ২০% নিজস্ব বিনিয়োগ থাকতে হবে। বাকি ৮০% হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স বিনিয়োগ করে। সুদের হার ১২ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৫ বছর।

এইচএসবিসি ব্যাংক

ফ্ল্যাটের মূল্যের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হোম লোন দিচ্ছে এইচএসবিসি ব্যাংক। কোন ধরণের ব্যক্তিগত জামানত ছাড়াই ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা হচ্ছে চাকরিজীবী হলে মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকা হলে তাহলে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। আর ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে মাসিক ৫০ হাজার টাকা। পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

তিন বছরের মেয়াদের চাকরিজীবী, পেশাজীবী ও ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে হোম লোন নিতে পারেন। সহজ ডকুমেন্টশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ঋণ অনুমোদন করে।

ন্যাশনাল ব্যাংক

ফ্ল্যাট ও বাড়ি বর্ধিতকরণে ন্যাশনাল ব্যাংক গৃহঋণ রয়েছে। ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা রয়েছে। যা ১৫ বছরের কিস্তিতে শোধ করতে হবে। আর বাড়ি বর্ধিতকরণের জন্য স্মল হাউস বিল্ডিং লোনের আওতায় ১০ লক্ষ টাকা ঋণ যা ৫ বছওে পরিশোধ করার সুযোগ। সুদের হার ১৩ শতাংশ। উভয় ঋণগ্রহীতার বয়স ৫০ বছর হতে হবে।

প্রাইম ব্যাংক

প্রাইম ব্যাংকও দুই ধরণের হোম লোন দিয়ে থাকে ফ্ল্যাট কেনার জন্য এবং বাড়ি বর্ধিতকরণের জন্য। ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭০ লক্ষ টাকা এবং ঋণগ্রহীতার বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৫৫ বছর। বর্তমান সুদেও হার ১৩ শতাংশ। ১৫ বছরে পরিশোধ করা যাবে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংক

ডাচ-বাংলা ব্যাংক ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ৭০শতাংশ লোন দিয়ে থাকে। তবে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির সুবিধা নেই। ৩৬ কিস্তি এবং ৪৮ কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তাছাড়া যে সমস্ত গ্রাহক ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারাই কেবল এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তাদেও সুদেও হারও বেশি ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

ঢাকা ব্যাংক

চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের ফ্ল্যাট কেনার জন্য গৃহঋণের ব্যবস্থা রয়েছে ঢাকা ব্যাংকে। চাকরিজীবীদের মধ্যে যাদের মাসিক বেতন ৪০ হাজারের বেশি তাদের জন্য ৫ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণ সুবিধা দিচ্ছে ব্যাংকটি। আর ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ৭০ শতাংশ ঋণ সুবিধা রয়েছে। সুদের হার তুলনামূলক কম। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর।

ইস্টার্ন ব্যাংক

কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে ইস্টার্ন ব্যাংক অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তাদের অনেক প্রডাক্ট রয়েছে। তার মধ্যে জনপ্রিয় এডুকেশন লোন। গৃহঋণের ক্ষেত্রেও ইস্টার্ন ব্যাংকের রয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ঋণগ্রহীতার বয়স ২২ থেকে ৫৭ বছর। লোনের পরিমান ৫ লক্ষ থেকে ৭৫ লক্ষ পর্যন্ত। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩ থেকে ১০ বছরের মধ্যে হতে হবে। সুদের হার ১৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত এবং প্রসেসিং ফি ১.২৫ শতাংশ। তবে সুদের পরিবর্তন হতে পারে।

পূবালী ব্যাংক

প্রায় অর্ধশতাব্দী প্রাচীন পূবালী ব্যাংক। ব্যাংকটি ইতোমধ্যে চালু করেছে এএলএস (এ্যাপার্টমেন্ট লোন স্কিম) নামের একটি স্কিম। এই স্কিমের আওতায় ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হোম লোমের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকটি ৫ থেকে ৮ বছর মেয়াদী কিস্তির মাধ্যমে হোম লোন দিয়ে থাকে। সুদের হার ১৩ শতাংশ হলেও যদি ঋণগ্রহীতা সময় মতো ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ঋণপরিশোধের সময় বাড়িয়ে নেয়া যায় তবে সেক্ষেত্রে সুদের হারও বাড়বে।

ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক পরিচালিত এই ব্যাংকটি। ব্যাংকটি হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে থাকে। এই পদ্ধতিতে ব্যাংক দুই ক্যাটাগরিতে বিনিয়োগ করে থাকে প্রথম ব্যক্তি পর্যায় দ্বিতীয়ত প্রকল্পভিত্তিক। ঋণসুবিধার যোগ্যতা হিসাবে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ যেমন— প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারী, আধা-সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, গ্রাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবী এবং বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা, সাহায্যদাতা এজেন্সী ও খ্যাতনামা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কমকর্তা, প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, এ্যাকাউন্ট্যান্ট, শিক্ষকগণ ইসলামী ব্যাংকের হায়ার পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিল পদ্ধতির ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট বা নির্মিত বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বিনিয়োগ হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ যা ২০ লক্ষ টাকার বেশি হবে না। তবে গ্রাহকের নিজের জমির উপর বাড়ি নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বিনিয়োগ হবে মোট বিনিয়োগের ৬০ শতাংশ যা ৩০ লক্ষ টাকার বেশি হবে না।

দেশের বর্তমান আবাসন সমস্যা লাঘবে এবং সীমিত আয়ের চাকরিজীবীদেও গৃহায়নে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইসলাম ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের গৃহায়ণ বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করেছে। যেসব ব্যক্তি সুদ-ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করতে চান না, সে সব ব্যক্তির জন্য ইসলামী শরীয়াসম্মত বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

এনসিসি ব্যাংক

এনসিসি ব্যাংক চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদেও জন্য জন্য ফ্ল্যাট বাড়ি কেনার জন্য গৃহঋণের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাংকটির হাউজিং ঋণের পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। ঋণ পরিশোধের সময় ৫ বছর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। ১৩ শতাংশ সুদের হার (বাজার পরিস্থিতির উপর পরিবর্তনশীল)। কোন ধরণের প্রসেসিং ফি নেই তবে ডকুমেন্টশন চার্জ রয়েছে যা ঋণ গ্রহণের উপর ঋণের পরিমাণের ১ শতাংশ হারে দিতে হবে। ঋণের চূড়ান্ত সমন্বয়ের সময় আরোপিত মোট সুদের উপর ৫ শতাংশ রিবেট দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কিস্তিতে সুদ পরিশোধের সময় কোন বিরতি দেয়া হবে না।

আইডিএলসি

মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আইডিএলসির রয়েছে হোম লোন। আইডিএলসি হোম লোন বিতরণে ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গৃহঋণ রয়েছে। আইডিএলসি হাউজিং লোন কার্যক্রম ‘আইডিএলসি হোম লোন’ নামে বেশ সুপরিচিত। প্রতিষ্ঠান বাড়ি ও এ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়, বাড়ি তৈরি এবং জমি কেনার জন্য সর্বোচ্চ বছরের জন্য ঋণ প্রদান্ করে। ২ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা অথবা প্রস্তাবিত সম্পত্তির মুল্যেও ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এবং বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নির্মাণ খরচের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হোম লোন দিয়ে থাকে। ঋণগ্রহীতার চাহিদামাফিক সম্পূর্ণ লোন একসাথে অথবা কিস্তিতে বিতরণ করা হয়। আইডিএলসির হোম লোন গ্রাহকদেও জন্য রয়েছে হোম লোন শীল্ড নামের কার্যক্রম। এটি আইডিএলসি হোম লোনের বিপরীতে একটি আকর্ষণীয় বীমা নিরাপত্তা সুবিধা। হোম লোনের বিপরীতে এ ধরণের বীমা সুবিধা দেশে এটিই প্রথম। আইডিএলসি হোম লোনের সঙ্গে প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি এই বীমা নিরাপত্তা সুবিধা দিচ্ছে।

ডিবিএইচ

ফ্ল্যাট ক্রয়ে ডিবিএইচের রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রডাক্ট। তারা ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে হোম লোনের ব্যবস্থা করেছে। ডিবিএইচ ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত লোন দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং সেক্টরে অত্যন্ত অল্প সময়ে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তাদের চৌকস ব্যবস্থাপনার জন্য। ইতোমধ্যে মধ্যে তাদের হোম লোন অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ ঋণগ্রহীতার ঋণ অনুমোদনের  সক্ষমতা এবং ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ হিসাবে প্রদেয় সম্পত্তির আইনগত ও কাঠামোগত বৈধতা থাকার বিষয়টি জরুরী। ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা অর্জনকারী খুবই দ্রুত হোম লোন পায় এবং এক্ষেত্রে ডিবিএইচ প্রসেসিং ফি নেয় ০.৫ শতাংশ।

ন্যাশনাল হাউজিং

ন্যাশনাল হাউজিং এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লি: এ্যার্টমেন্ট কেনা, বাড়ি তৈরি, বাড়ি সংস্কার তথা বর্ধিতকরণ, হাউজিং প্লট কেনার জন্য ২৫ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ৭০ শতাংশ অর্থ যোগান দেয়।

রিয়েল এস্টেট ফিন্যান্স

নতুন ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৭০ শতাংশ ঋণ দিচ্ছে রিয়েল এস্টেট ফিন্যান্স। অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হোমলোন দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। রিয়েল্ট এস্টেট ফিন্যান্স বাড়ি নির্মাণ ও পুরনো বাড়ি সংস্কারের জন্য ৬০ শতাংশ হোম লোন দিয়ে থাকে। ঋণ পরিশোধ সময়সীমা সর্বোচ্চ ১৫ বছর। প্রসেসিং ফি ১.৫ শতাংশ এবং সুদের পরিমাণ ১৫ শতাংশ।

ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য হোম লোনের সুদের হার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। একদিকে যেমন আবাসন সঙ্কট প্রকট হচ্ছে তেমনিভাবে আবার ডেভেলপার বাড়ছে। তাই প্রতিযোগিতাও বাড়ছে কিভাবে কম দামে ফ্ল্যাট বিক্রি করা যায়। আবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতামূলকভাবে হোম লোন দিচ্ছে। তাই হোম লোন নিতে আগ্রহীদের একটু যাচাই-বাছাই করে দেখে শুনে হোম লোনের জন্য আবেদন করা উচিত। কি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হোম লোন দেয়া হয় এবং সুদের হার কেমন এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া। আবার ফ্ল্যাট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি থাকে। যেসব ডেভেলপারের সঙ্গে হোম লোন প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পর্ক রয়েছে সে সব কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট কিনলে হোম লোনের ব্যবস্থাও তারা করে দেয়।

নোট : প্রতিটি কোম্পানির লগো যাবে

কনটেন্টওয়াইজ লেখা

  1. পর্যটন
  2. গ্রীন ব্যাংকিং
  3. ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন শিল্পনীতি
  4. কর্পোরেট ল’ফার্ম
  5. সফল যারা কেমন তারা : সাক্ষাতকারভিত্তিক ক্যারিয়ার পার্সোনালিটি : হেড ফাইন্যান্স [মেট্রোসেম গ্রুপ]

৬.

দেশে বাড়ছে গৃহঋণের পরিধি

দেশের দ্রুত সমপ্রসারিত খাতগুলোর মধ্যে আবাসন অন্যতম। দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে আবাসন খাতের অবদান। গত কয়েক বছরের তুলনায় আবাসন খাতে বেসরকারী গৃহঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুরোর ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। সংশ্লিষ্ট খাতের এক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় বিগত তিন বছর ২০০৬-২০০৭ থেকে ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে বেসরকারী পর্যায়ে গৃহঋণের পরিমাণ বছরে গড়ে ২৬ ভাগ হাওে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পায় ২০০৬-২০০৭ অর্থ বছরে, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৯ ভাগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যানুসারে বিশ্ব অর্থনেতিক মন্দার প্রভাব আবাসনখাতে পড়াসত্ত্বেও উক্ত দুই বছর যথাক্রমে ১৭.৬ এবং ২১ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রধানত ঢাকাকেন্দ্রিক গৃহনির্মাণ, গৃহ সংস্করণ এবং বাড়ি/ফ্ল্যাট কেনার জন্য বেসরকারী পর্যায়ে বেশকিছু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গৃহঋণ নিয়ে কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ডেল্টা-ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (ডিবিএইন), আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং ন্যাশনাল হাউজিং ফাইনান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। ২০০৯ সালের৩০ জুন বেসরকারী পর্যঅয়ে গৃহঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডেল্টা-ব্রাক হাউজিং ফাইন্যান্সের ঋণের পরিমাণ ছিল ১২২০ কোটি টাক,যা এই খাতে মোট ঋনের প্রায় ৭০ ভাগ। একই সময়ে আইডিএলসি এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের গৃহ ঋণের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩৯০কোটি এবং ১৭০ কোটি টাকা। সামপ্রতিক সময়ে গৃহঋণ খাতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)’ একচেটিয়া ব্যবসা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে দিনদিন গৃহঋণের বাজার ভাগাভাগি হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। ২০০৯-০৯ অর্থবছরের শেষ নাগাদ বিএইচবিএফ-এর গৃহঋণের পরিমাণ ছিল ২৪৯০ কোটি টাকা, যা ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ছিল ২৬৩০ কোটি টাকা এবং ২০০৬-০৭ অর্থবছরেছিল২৫২০ কোটি টাকা। গৃহঋন-প্রদানে সরকারী বেসরকারী বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও ব্যাংকসমূহ অর্থলগ্নীপ্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে বাড়ছে সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ প্রদানের পরিমান। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই খানে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮,১৮০ কোটি টাকা, যা তার আগের বছরে ছিল ১০,০৯০ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো গৃহঋণ পদানে অগ্রণী ভূমিকা পালনে মহাপরিকল্পনা করছে এবং অনেকেই ‘এগ্রোসিভ মার্কেটিং পলিসি’ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো এখন অনেকাংশে বিশেষায়িত গৃহঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবেও কাজ করছে। ২০০৯ সালের জুন মাসের মেষ দিকে এই খাতে প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর মার্কেট শেয়ার ৪১ভাগ অতিক্রম করে, যা আগের বছর ছিল ৩৫ ভাগ। বেসরকারী ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ঝামেলামুক্ত এবং সহজ নীতিমালার কারণে গৃহঋণ গ্রাহকদের আকৃস্ট করছে। ডিবিএইচ-এর একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, ‘গৃহঋণের ক্ষেত্রে আমাদের অফিসে একবার কোন কলই যথেষ্ট যাবতীয় তথ্যসেবার জন্য।’

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top