শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / টেলিকম / স্মার্টফোনে শীর্ষে দেশীয় ব্র্যান্ড
স্মার্টফোনে শীর্ষে দেশীয় ব্র্যান্ড

স্মার্টফোনে শীর্ষে দেশীয় ব্র্যান্ড

স্মার্টফোনের বাজারে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। বিশেষ করে গ্রাহক পর্যায়ে তৃতীয় প্রজন্মের তারহীন প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সেবা চালুর প্রাক্কালে বেড়ে গেছে স্মার্টফোন বিক্রি। আর এক্ষেত্রে সিম্ফনির সাফল্য আরও ঈর্ষণীয়। ভালো করছে ওয়ালটনও।

দেশে সেলফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। সেলফোনের গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হ্যান্ডসেট বিক্রির হার। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সূত্র মতে, গত জুলাই পর্যন্ত চলতি বছর ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য মতে, গত বছর মোট ১ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৭২টি হ্যান্ডসেট দেশে আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে দেশে আনা হয় ৯৮ লাখ ২৩ হাজার ৯৩০টি। ২০১০ সালে আমদানি করা হয় ৪৭ লাখ ৭১ হাজার ৮১৮টি এবং ২০০৯ সালে আমদানি হয় ৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৭টি হ্যান্ডসেট। তবে দেশে থ্রিজি চালুর প্রেক্ষাপটে গত জুলাই পরবর্তী তিন মাসে হ্যান্ডসেট বিক্রিতে যে কোনো সময়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। গত অক্টোবর মাসেই প্রায় ২০ লাখ হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ড সিম্ফনি। দেশের সেলফোন বাজারের ৫১ ভাগই এখন সিম্ফনির দখলে। বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এক সময়ের শীর্ষ জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নকিয়া ১০ ভাগ বাজার দখলে রেখে আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। এরপরেই আছে ভারতীয় ব্র্যান্ড মাইক্রোম্যাক্স [৮ ভাগ], তৃতীয় অবস্থানে যৌথভাবে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন এবং বর্তমানে মোবাইল ডিভাইসে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড স্যামসাং। চায়নাসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের দখলে বাজারের ২০ ভাগ।

smartphone-market-bd
তবে স্মার্টফোনের বাজারে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো। বিশেষ করে গ্রাহক পর্যায়ে তৃতীয় প্রজন্মের তারহীন প্রযুক্তির নেটওয়ার্ক সেবা চালুর প্রাক্কালে বেড়ে গেছে স্মার্টফোন বিক্রি। আর এক্ষেত্রে সিম্ফনির সাফল্য আরও ঈর্ষণীয়। দেশের বাজারের ৬০ ভাগ দখলে রেখে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সাফল্য দেখাচ্ছে অন্য দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন। ইতিমধ্যে বাজারের ৪০ ভাগ নিজেদের আয়ত্বে নিয়েছে তারা। তবে স্মার্টফোন ক্যাটাগরিতে স্যামসাংও ভালো করছে। স্মার্টফোন বাজারে ১৪ ভাগ দখলে রেখে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কোরিয়ান এ কোম্পানিটি। এছাড়া অন্যান্য ব্র্যান্ডের মধ্যে নকিয়া এবং ম্যাক্সিমাস উভয় কোম্পানিই ৫ ভাগ করে এবং মাইক্রোম্যাক্সের দখলে রয়েছে ২ ভাগ। এদিকে ভারতভিত্তিক জরিপ প্রতিষ্ঠান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনে শীর্ষে সিম্ফনি থাকলেও দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ওয়ালটন।
দেশি ব্র্যান্ডের সাফল্যের নেপথ্যে :স্যামসাং, নকিয়ার মতো আন্তর্জাতিক দাপুটে ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলে সিম্ফনি, ওয়ালটনের মতো দেশীয় ব্র্যান্ডের সাফল্যের নেপথ্য গল্প কী? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী মূল্য এবং আন্তর্জাতিক মানের বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করায় দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো সফল হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজাইন এবং বহনযোগ্যতার দিক থেকেও পিছিয়ে নেই দেশীয় ব্র্যান্ড। চমৎকার ডিজাইনে রকমারি মডেল অনায়াসে গ্রাহক টানছে। আর দামের কারণে মার খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। ওয়ালটনের উপ-পরিচালক [সেলফোন ডিভিশন] এস এম রেজওয়ান আলম বলেন, আমরা হ্যান্ডসেট তৈরির সময় আমাদের গ্রাহকের চাহিদা, প্রয়োজন এবং ডিভাইস কেনার মানসিকতার ওপর জোর দিয়ে থাকি। ৪ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে একজন গ্রাহক তার কাঙ্ক্ষিত থ্রিজি ওয়ালটন থেকে কিনতে পারেন। সিম্ফনিও সর্বনিম্ন ৫ হাজার ৩০০ টাকায় দিচ্ছে থ্রিজি হ্যান্ডসেট। এ ধরনের দামে স্যামসাং কিংবা নকিয়ার পক্ষে থ্রিজি সমর্থিত স্মার্টফোন বিক্রি সম্ভব নয়। এ সম্পর্কে স্যামসাং বাংলাদেশের মোবাইল বিভাগের প্রধান হাসান মেহেদি সমকালকে জানান, আমাদের এক একটি ডিভাইস তৈরিতে গবেষণা ও উন্নয়ন [আরঅ্যান্ডডি] বিভাগ দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করে থাকে। ডিজাইন এবং সফটওয়্যারে মৌলিকত্ব নিশ্চিত করতে আরঅ্যান্ডডি পর্যায়ে আমাদের অনেক খরচ হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ সব দেশেই আমরা একই দামে পণ্য বিক্রি করে থাকি। দাম নির্ধারণে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা চাইলেও দাম কমাতে পারি না। তবে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখেও সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করে থাকি এবং বাংলাদেশের গ্রাহকদের পছন্দ এবং রুচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমরা এখানে হ্যান্ডসেট আমদানি করা হয়। সম্প্রতি বেশ কিছু হ্যান্ডসেটের দাম কমানোর কথা জানিয়ে হাসান মেহেদি বলেন, বর্তমানে হ্যান্ডসেটে আমদানি মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ হারে কর দিতে হচ্ছে। এটি কমানো গেলে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিভাইস বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে সব শ্রেণীর ব্যবহারকারীর হাতে থ্রিজি হ্যান্ডসেট পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে।
তবে স্মার্টফোন কতটা স্মার্ট_ এটি জানার উপায় এখনও সরকারিভাবে নেই। স্মার্টফোনের সংজ্ঞা কী কিংবা কী ধরনের ফিচার থাকলে হ্যান্ডসেটটিকে স্মার্টফোন বলা যাবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এক্ষেত্রে বিটিআরসির পক্ষ থেকেও তেমন উদ্যোগ নেই। পাশাপাশি স্মার্টফোনের কথা বলে যেসব ফিচারের কথা বলা হচ্ছে, তা কি সত্যিই ঠিক আছে কিনা তাও জানার উপায় নেই। গ্রাহকরা প্রায়ই ভোগেন এ ধরনের সমস্যায়। যেমন ক্যামেরা ম্যাগাপিক্সেল, স্মার্টফোনের স্ক্রিন, রেজ্যুলেশন কিংবা গ্গ্নাসের মান, প্রসেসর প্রভৃতি যেমনটি কোম্পানিগুলো বলে প্রকৃতই কি তাই_ এসব যাচাই করার সুযোগ নেই। ভারতে সরকারিভাবে স্মার্টফোনের প্রাথমিক এ বিষয়গুলো পরখ করা হলেও বিটিআরসি এক্ষেত্রে নীরব। স্মার্টফোনের বাজার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে হ্যান্ডসেটের ফিচার যাচাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাসান জাকির,সমকাল

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top