শিরোনাম

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - গুগল ফটোসে যে ভাবে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও লুকাবেন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - মধ্যবিত্তের কথা ভেবে সস্তায় মাইক্রোম্যাক্সের নতুন ফোন | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - নতুন ফিচারের ক্যামেরা নিয়ে উন্মুক্ত হলো নোকিয়া ৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - পেপালের ‘জুম’ উদ্বোধন করলেন সজীব ওয়াজেদ জয় | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - ম্যাক্সেল এর বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আইসিটি এক্সপোতে মেট্রো কভারেজ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - সিঙ্গাপুরের মাস্টারকার্ড গ্লোবাল রিস্ক লিডারশিপ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - শুরু হলো এমসিসিআই অগ্রগামী ২০১৭ | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - বিএমই দিচ্ছে আইসিটি এক্সপো উপলক্ষে তোশিবা পণ্যে বিশেষ অফার! | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপো তে আসুসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির নোটবুক | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 19, 2017 - আইসিটি এক্সপোতে বিভিন্ন প্রোডাক্ট নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের অংশগ্রহন |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ৩ হাজার বাংলাদেশি আইটি কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি দিয়েছি
৩ হাজার বাংলাদেশি আইটি কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি দিয়েছি

৩ হাজার বাংলাদেশি আইটি কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি দিয়েছি

আমাদের দেশে প্রযুক্তিবিদদের জন্য এখনও ভালো কোনো সুযোগ গড়ে ওঠেনি। তারপরও মাইক্রোসফট, ইউটিউব, গুগলের মতো বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন আমাদের দেশের অনেক মানুষ। তবে আইটি কর্মীদের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তুলতে অনেকেই এগিয়ে আসছেন।

abu-hanipএমনই একজন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আমেরিকা প্রবাসী আবু হানিপ। তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে ২০০৪ সালে তিনি আমেরিকায় শুরু করেন একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যার নাম পিপল এন টেক। এর লক্ষ্য ছিল অন্তত ১০ হাজার বাঙালিকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, তাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি করা। নিজের এই উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেছেন।

পিপল এন টেকের যাত্রা শুরুর কথা একটু বলুন

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এই সময়ে চাকরি পাওয়া অনেকটাই সহজ। কিন্তু কীভাবে এই সহজটাকে অর্জন করতে হয় সেটা আমাদের দেশের অনেকেই জানে না। আমি অর্জন করেছি এবং সেই সহজ পথটা সবাইকে দেখিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পিপল এন টেকের সৃষ্টি। আমি নিজ উদ্যোগে কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ১০০ ডলার বেতনে চাকরিও দিয়েছি। এখান থেকেই মূলত পিপল এন টেক সৃষ্টির আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই এখন নিউইয়র্ক, কানাডা, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পিপল এন টেকের শাখা খোলা হয়েছে।

পিপল এন টেকের উদ্দেশ্য কী?

আমাদের দেশের তরুণদের অনেক মেধা রয়েছে, কিন্তু এই মেধাকে উপযুক্ত স্থানে ব্যয় করার সুযোগ পায় না তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল জীবনযাপনের স্বপ্ন অনেকেরই আছে। কিন্তু দেশটিতে অনেকেই গেলেও সেখানে গিয়ে সেই স্বপ্নের বিলাসবহুল জীবন অর্জন করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়ে ট্যাক্সি চালায়, গ্যাস স্টেশনে কাজ করে, রেস্টুরেন্টে কাজ করে—এমন মানুষ কম নেই। এতে যা আয় হয় তা দিয়ে মোটামুটি দিন চলে যায়। কিন্তু এটা তো আসলে জীবন নয়, এটা তাদের কারও স্বপ্নও নয়। তারা ওই মোটামুটি জীবনযাপনই করতে থাকে। কিন্তু একই ট্যাক্সি ড্রাইভারকে আমরা একটা বড় অফিসে চাকরি দিব, যেখানে তিনি মাসে ৭০ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবে অনায়াসে।

AwardDrYunus

আপনাদের পরিচালিত প্রশিক্ষণগুলো সম্পর্কে বলুন

পিপল এন টেক প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ওরাকল, প্রোগ্রামিং, উইন্ডোজ স্টোর অ্যাপস ডেভেলপিং, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপিং, জাভা, পিএইচপি, মাইএসকিউএল, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, এইচটিএমল এবং এমন অনেক কোর্স। আমাদের এই মুহূর্তে লক্ষ্য হলো ১০ হাজার লোককে আমরা এই প্রশিক্ষণ কোর্স করিয়ে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। আমরা তাদের বিনা খরচেই শেখাব, যাদের মেধা রয়েছে কিন্তু যথার্থ সামর্থ নেই।

এটি কীভাবে সম্ভব একটু ব্যখ্যা করুন

আমি যখন একটা কিছু অফার করব তখন আমি কী দিচ্ছি এটা নিয়ে পরিস্কার ধারণা থাকা উচিত। আমাদের দেশের অনেকেই কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছে, অনেকে আবার বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাচেলর করছে। কিন্তু সার্টিফিকেট অর্জনের পর বিভিন্নজন বিভিন্ন পেশায় যাচ্ছে, যাদের অধিকাংশই একটা চাকরির জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে থাকে। নানা লবিং মেইন্টেন করতে হয়, তাও চাকরি জুটে না। জুটলেও কতই বা বেতন পায়। তার ওই সার্টিফিকেটর তুলনায় কিছুই না। আমি তাদের সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব অবশ্যই দেব, সার্টিফিকেটের বাইরেও তাদের মেধাকে প্রাধান্য দেব বেশি করে। তারা সার্টিফিকেট অর্জন করার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ খুঁজে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে কেন খুঁজবে? এর উত্তর হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই একজন লোক নিয়োগ দেওয়ার পিছনে কিছু বিষয়ের চাহিদা রাখে। এর মধ্যে মূল চাহিদা হলো আপনি যেই পেশায় থাকবেন ওই পেশায় আপনার অভিজ্ঞতা। আমাদের বুয়েটের শিক্ষার্থীদের কথাই ধরুন না। তারা কিন্তু অনেক মেধাবী। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য হয়তো অনেকের ক্যারিয়ারই থমকে যাচ্ছে। আমি সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাটাই সবার আগে দেব। আমি একজন শিক্ষার্থীকে মাত্র ৪ মার্সের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে আমরা নিজেরাই চাকরির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, যাতে থাকছে প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা বা তার চেয়েও বেশি আয়ের নিশ্চয়তা। কারও যদি এসব কোর্সের সব জ্ঞান থাকেও, তারপরেও দেখা যায় এই ১ লক্ষ টাকা আয় করতে তার ৪ থেকে ৫ বছর ব্যয় হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা কীভাবে শুরুতেই তাকে এই টাকা আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছি, সেটা বুঝতে হবে। আমরা আমাদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়েই বাস্তবসম্মত বেশ কিছু প্রজেক্ট তাদের দিয়ে করিয়ে নিচ্ছি। আমাদের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের প্রজেক্টগুলো তাদের দিয়েই আমরা তৈরি করাব। তাতে করে তাদের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ করতে করতেই বাজারে বড় বড় কোম্পানির কাজগুলো তাদের হাত দিয়ে বের হচ্ছে। এই অভিজ্ঞতার নিশ্চয়তটা আমরা বিভিন্ন কোম্পানিকে দিচ্ছি বলেই তারা আমাদের স্টুডেন্টদের এই সম্মানি দিচ্ছে। ১ লক্ষ টাকা হলো একটা গড় হিসাব। তার চেয়েও অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। তথ্যপ্রযুক্তিতে আমরা তাদেরকে দক্ষ করে তুলছি। ওই পর্যায়ে যদি ওই শিক্ষার্থী নিজেও নিজের কাজের ডক্যুমেন্টগুলো নিয়ে কোথাও আবেদন করে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানে অনায়াসেই তার চাকরি হয়ে যাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার সম্পূর্ণ দায়িত্বটি আমরাই নিচ্ছি। আবার কেউ আউটসোর্সিং করতে চাইলে তার জন্য সেই সুযোগও আমরাই তৈরি করে দিচ্ছি।

প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটু শেয়ার করুন

আমি যেই কোর্সগুলো করাচ্ছি, এগুলো বিভিন্ন জায়গায় ৪ বছরেও করানো হচ্ছে। এই দীর্ঘমেয়াদী কোর্সটাই আমি মাত্র ৪ মাসে সম্পন্ন করে দিচ্ছি। নিশ্চিত চাকরি দিচ্ছি। প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বলি আমার এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক গৃহিণীও এখন মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছে। অনেকই এখন বড় বড় কোম্পানিতে চাকরি করছে। তাদের কাজের উপর সন্তুষ্ট হয়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো আমার কাছ থেকে আরও লোক চাচ্ছে। আমার এখান থেকে প্রশিক্ষণ করে যারা কাজে এ পর্যন্ত গিয়েছে সব জায়গা থেকেই প্রশংসা পেয়েছি। এমনকি দেখা গেছে কখনো সাধারণত একটি পদের জন্য ডেকে তাকে ম্যানেজার পোস্টে চাকরিও দিয়ে দিয়েছে এবং আমার প্রতিষ্ঠান থেকে আরও লোক নেওয়ার জন্য ওই কোম্পানি আবেদন করেছে।

AwardDanMozena

কোর্সের সুবিধাগুলো সম্পর্কে বলুন

শুধু যে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ছে এমন শিক্ষার্থীদের আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এমনটা নয়। আবার যাদের বিভিন্ন ডিগ্রি রয়েছে তাদেরই শুধু প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এমনটাও নয়। যাদের ডিগ্রিও নেই, এসএসসি-এইচএসসির পরও যারা নিজেকে একজন প্রযুক্তিবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী, তাদের সবাইকেই আমরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। দক্ষ প্রশিক্ষকদের দিয়ে আমরা এই প্রশিক্ষণটা দেওয়াই। আমাদের এখানেও বাংলাদেশের অনেক প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা অনেক উচ্চ বেতনে চাকরি করছে। আমাদের মূল প্রশিক্ষণটি ৪ মাসের। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ পুরো প্রশিক্ষণটি আমাদের চাহিদানুযায়ী আয়ত্ত করতে না পারে তাহলে তাকে প্রশিক্ষণটা পুনরায় করাই। এই পুনরায় করানোর জন্য তার কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। অর্থাত্ যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের একটা স্টুডেন্ট পরিপূর্ণ তৈরি না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাই। প্রশিক্ষণ পূর্ণ হলে আমরাই সিদ্ধান্ত নেই যে তাকে এখন চাকরি দেওয়া যায়। তাকে সম্মান ও সম্মানীনির্ভর একটি চাকরি দিই। এই হলো আমাদের পিপল এন টেকে কোর্স করার সুবিধা।

এ পর্যন্ত কতজনকে আপনারা চাকরি দিয়েছেন?

পিপল এন টেক থেকে এ পর্যন্ত আমরা ৩ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে চাকরি দিয়েছি, যাদের গড় আয় এক হাজার ডলার। আমাদের টার্গেটে শিক্ষার্থীরা সেখানে চাকরি করে ওই আয়ের ২০ শতাংশও যদি বাংলাদেশে পাঠায় তাহলে বছরে ৪৮০ কোটি টাকা আসছে বাংলাদেশে। বিশাল টাকা আসছে শুধুমাত্র আমার একার চেষ্টাতেই। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো তার লাইফস্টাইলটাই পরিবর্তন করে দিচ্ছি আমরা, মেইনস্ট্রিমে কন্ট্রিবিউট করতে পারছে তারা।

সামর্থ্যহীন মেধাবীদের ফ্রি প্রশিক্ষণটা প্রসঙ্গে একটু বলুন

সবাইকে ফ্রিতে শেখানোর তো আমার ক্ষমতা নেই। তারপরও আমি টার্গেট নিয়েছি প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীদেরকে আমরা ফ্রি প্রশিক্ষণ দেব এবং চাকরি দেব। যারা প্রকৃতই মেধাবী, যাদের আসলে কোর্সগুলো করার মতো সামর্থ্য নেই, শুধুমাত্র তাদেরকেই এই ফ্রি প্রশিক্ষণটা দেব আমরা। এতে আমার প্রায় ৬০ কোটি টাকা কন্ট্রিবিউশন। এর পেছনে উদ্দেশ্য একটাই—দেশের অস্বচ্ছল মেধাবীরা যেন সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে।

নতুন একটি বিষয়ের উপরেও পড়াচ্ছেন আপনি। এটা একটু ব্যখ্যা করুন

আমরা নতুন একটি বিষয় যুক্ত করেছি আমাদের প্রশিক্ষণে, যা বাংলাদেশের কেউই করায় না, এর নাম ‘Big Data – Hadoop’। আমি এরইমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আমার প্রশিক্ষণগুলো নিয়ে সেমিনার করছি। যেমন ইউল্যাবেও আমার কোর্সগুলো নিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছি, যাতে করে পরবর্তী ব্যাচ থেকে সেখানকার শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়গুলো অপরিহার্য হয়ে যায়। এখনও আমাদের দেশে প্রযুক্তির বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না অনেকেই। কিন্তু ক’দিন পরেই এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠবে সবার কাছে।

Comments

comments



2 comments

  1. Dhaka (BD) Office:
    Good Luck Center, 7th Floor
    151/7 Green Road
    Dhaka, Bangladesh
    Phone: +8801611446699
    Email: jobs@piit.us

  2. Bangladesh e apnader branch kothay? Amake address ta dile khub upokrito hobo.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top