শিরোনাম

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - দেশের সবচেয়ে বড় গেমিং প্লাটফর্ম ‘মাইপ্লে’ চালু করলো রবি | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - রাজধানীতে টেকনোর আরও নতুন দুইটি ব্র্যান্ড শপের শুভ উদ্বোধন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে ল্যাপটপ মেলা | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - জরুরি সেবা ৯৯৯ এর উদ্বোধন করলেন জয় | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - নতুন অ্যাপ ‘ফাইলস গো’ চালু করেছে গুগল | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বাজারে এলো শাওমির নতুন দুই ফোন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - বিশ্ব বিখ্যাত পাঁচ রাঁধুনি রোবট | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর 12, 2017 - সনি’র দুর্দান্ত এক আপকামিং ফোনের তথ্য ফাঁস | সোমবার, ডিসেম্বর 11, 2017 - বিসিএস এর ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত |
প্রথম পাতা / ইন্টারভিউ / ২০২০ সালে আইসিটি বাজারের ৪০% এশিয়ার দখলে আনার প্রত্যয়
২০২০ সালে আইসিটি বাজারের ৪০% এশিয়ার দখলে আনার প্রত্যয়

২০২০ সালে আইসিটি বাজারের ৪০% এশিয়ার দখলে আনার প্রত্যয়

থাইল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩।

তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ব্যাংককের কুইন সিরিকিত জাতীয় কনভেনশন সেন্টারে। অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটের পাশাপাশি এই আয়োজনে চলে সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩।

kafiএ বছর অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব থাই আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি (এটিসিআই), সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এজেন্সি (ঝওচঅ) এবং থাইল্যাণ্ডের আইসিটি মন্ত্রণালয়। ২০টি দেশ থেকে প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে এশিয়ার আইসিটি সেক্টরের সম্ভাবনা, সমস্যা, ভবিষ্যৎ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, আলোচনা সভা, বিজনেস ম্যাচিংয়ের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা সমূহ দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরে সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩-এর মাধ্যমে।

অ্যাসোসিও সম্মেলনের নানা আয়োজন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এজেন্সি (ঝওচঅ)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুপাচাই ত্যাং-অং-শান, অ্যাসোসিয়েশন অব থাই আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি (এটিসিআই)-এর প্রেসিডেন্ট আদিরাক পাতিতাস এবং অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্যে কাফি বলেন, ‘সারা বিশ্বের আইসিটি সেক্টরের মাত্র ২৬% এশিয়ার দখলে অথচ বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বসবাস করেন মহাদেশে। তাই আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের আইসিটি সেক্টরের অন্তত ৪০% এশিয়ার দখলে নিয়ে আসার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’ তবে এ জন্য এশিয়ার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে উদ্ভাবনের দিকে এগুতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন থাইল্যান্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী গ্র“প ক্যাপ্টেন আনুদিত নাকর্নথাপ।
সম্মেলনে থাইল্যান্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী গ্র“প ক্যাপ্টেন আনুডিথ নাকর্নথাপকে অ্যাসোসিও আইসিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় থাইল্যন্ডের আইসিটি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য। ‘স্মার্ট থাইল্যান্ড’ গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া নাকর্নথাপ থাইল্যান্ডের প্রতিটি শিশুর হাতে ট্যাবলেট পিসি তুলে দেওয়া ছাড়াও ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৮০০ ধরনের সরকারি সেবা ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। নাকর্নথাপের সাথে সাথে ইনফোসিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান এনআর নারায়ণ মূর্তিকেও ভারত ও এশিয়ার আইসিটি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে সš§াননা প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনআর নারায়ণ মূর্তি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিরোতাকা তাকেউচি এবং ওয়ার্ল্ড টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (ডব্লিউআইটিএসএ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. জেমস এইচ পোয়েসান্ট।

4
২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হংকংয়ের আইএসআইএ এক বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হংকং সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি জেফরি ল্যাম, আইএসআইএ-এর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, অ্যাসোসিও’র বেশ কয়েকজন সাবেক চেয়ারম্যান এবং আরও অনেকে। এ সংবর্ধনায় অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘হংকংয়ের আইসিটি সেক্টর শুধু এশিয়াু নয় বরং সারা পৃথিবীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই অ্যাসোসিও’র অন্যান্য দেশগুলোর হংকংয়ের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। এ বছরের মার্চ নাগাদ হংকংয়ে মোবাইল সার্ভিস পেনিট্রেশনের হার ছিল ২২৮% যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। হংকং এখন পৃথিবীর দ্রুততম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি।’ অ্যাসোসিও’র দেশগুলোর দিকে হংকংয়ের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অ্যাসোসিও’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাসোসিও’র ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। ১৯৮৪ সালে মাত্র পাঁচ সদস্য নিয়ে অ্যাসোসিও যাত্রা শুরু করে। ৩০ বছরে পরে ২০১৩ সালে অ্যাসোসিও এখন এশিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আইসিটি সংগঠন। ২০টিরও বেশি দেশের আইসিটি প্রতিষ্ঠান এখন অ্যাসোসিও’র সদস্য। ১০ হাজারেরও বেশি আইসিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে অ্যাসোসিও।
অ্যাসোসিও’র ৩০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংককে গালা ডিনারের আয়োজন করা হয়। অ্যাসোসিও’র সদস্যদের প্রতিনিধিবৃন্দ এই ডিনারে অংশগ্রহণ করে। উক্ত অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিওতে অবদান রাখার জন্যে অ্যাসোসিও সদস্য, ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অ্যাসোসিও ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তিনজন ব্যক্তিকে তাদের অসামান্য অবদানের জন্যে ‘অ্যাসোসিও আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এ সময়ে ১২ জন ব্যক্তিকে ‘অ্যাসোসিও স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের মোস্তাফা জব্বার।
গালা ডিনারে আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘আমি সুদীর্ঘ দেড় দশক ধরে অ্যাসোসিও’র সাথে যুক্ত এবং এ দেড় দশকে প্রায় সবগুলো আইসিটি সামিটে অংশগ্রহণ করেছি। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে এটিসিআই কর্তৃক আয়োজিত অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং আমাদের সকলের জন্যে একটি অত্যন্ত স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।’ এবারের চমৎকার আয়োজনের জন্য কাফি এটিসিআইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আইসিটি সামিটের দ্বিতীয় দিনে অ্যাসোসিও জেনারেল অ্যাসেম্বলি এবং বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এ দুটি সভায় অ্যাসোসিও’র বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অ্যাসোসিওকে আরও গতিশীল করে তোলার জন্য কিছু ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয় এবং বেশ কয়েকটি সদস্য সংস্থাকে সেদিকে কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
থাইল্যাণ্ডের ঝওচঅ আয়োজন করে সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩। সিপা’র প্রেসিডেন্ট ত্রায়রাত চাতকিউ সাংবাদিকদের জানান, দেশি-বিদেশি তিন শতাধিক আইসিটি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। চাতকিউ বলেন, ‘এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য শুধু পণ্য ও সেবা প্রদর্শন নয়, বরং দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করা এবং ব্যবসার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা।’
পণ্য এবং সেবা প্রদর্শনী ছাড়াও সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়াতে কনফারেন্স, আলোচনা সভা, নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বিজনেস ম্যাচমেকিং। বর্তমান যুগ হলো কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের যুগ। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন সারা বিশ্ব মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির ধারায় সফটওয়্যার এক্সপো ২০১৩-এর প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের এবং বিদেশের আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগসাধন তৈরি করে নতুন উদ্ভাবন এবং ব্যবসাক্ষেত্র সৃষ্টি করে দেশের আইসিটি সেক্টরকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলা। সফটওয়্যার এক্সপো ২০১৩-এর মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘টহরঃব অঝওঅ ওহহড়াধঃরড়হ’।
দ্বিতীয় দিনেও বেশ কয়েকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী গ্র“প ক্যাপ্টেন আনুডিথ নাকর্নথাপ থাইল্যাণ্ডের আইসিটি সেক্টরের উপরে বক্তব্য রাখেন।
দ্বিতীয় দিনের শেষে সন্ধ্যাবেলায় অনুষ্ঠিত হয় ক্রুজ ট্রিপ। ব্যাংককের নদীতে এক বিশাল ক্রুজ জাহাজে অ্যাসোসিও’র সদস্যবৃন্দ আনন্দ এবং আড্ডায় মেতে ওঠেন। ক্রুজে নৈশভোজের পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ জনের মতো অংশ নেয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর নেতৃত্বে ছয়টি কোম্পানির স্টল ছিল।
অ্যাসোসিও তাদের ৩০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করে। এই স্মারকগ্রন্থে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আইসিটি সেক্টরের সাম্প্রতিকতম তথ্য, পরিসংখ্যান, ছবি এবং বেশকিছু প্রবন্ধ রয়েছে। এই স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশের নেতৃত্ব দেন আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। বইটির সকলের কাছেই সমাদৃত হয়।
অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট অ্যাসোসিও’র সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান। গত বছর অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটের আয়োজন করেছিল ফেডারেশন অব ইনফরমেশন টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি সার্ভিসেস শ্রীলংকা (এফআইটিআইএস)। অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩ সফলভাবে আয়োজন করে এটিসিআই। কাফি আশা করেন, আগামী বছরগুলোতে যারা এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করবেন তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।

Comments

comments



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top