শিরোনাম

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বন্ধ হচ্ছে উইকিপিডিয়ার ডেটা ছাড়া তথ্যসেবা | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - বাজারে এলো সিউ কম্প্যাক্ট ডেস্কটপ নেটওয়ার্ক লেবেল প্রিন্টার | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - জুতা পরে হাঁটলেই চার্জ হবে ফোন | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - নতুন সংস্করণে আসুসের গেইমিং ল্যাপটপ | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - টাটা নিয়ে আসছে ড্রাইভারলেস গাড়ি | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - চার মোবাইল অপারেটর পেল ফোরজি লাইসেন্স | মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী 20, 2018 - স্যামসাংয়ের ক্ষতির কারন আইফোন ১০ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - নতুন কনফিগারেশনে আসছে নোকিয়া ৬ | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - স্যামসাং গ্যালাক্সি জে২ এলো ফোর-জি রূপে | সোমবার, ফেব্রুয়ারী 19, 2018 - এখনই ফোরজি সেবা পাবেনা টেলিটক গ্রাহকরা |
প্রথম পাতা / ফ্রিল্যান্সিং / ৫৬টি আন্তর্জাতিক ও ১৩টি অভ্যন্তরীণ কলসেন্টারে কাজ করছে ১৫ হাজার কর্মী

৫৬টি আন্তর্জাতিক ও ১৩টি অভ্যন্তরীণ কলসেন্টারে কাজ করছে ১৫ হাজার কর্মী

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্রেতাদের সহযোগিতা টেলিমার্কেটিং এবং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা, নতুন নতুন তথ্য জানানোই কলসেন্টারের কাজ। বহুল আলোচিত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হচ্ছে কলসেন্টার। গত দুই বছরে ৪৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে তিন শ্রেণীর কলসেন্টার লাইসেন্স দিয়েছে বিটিআরসি। বর্তমানে ৫৬টি আন্তর্জাতিক ও ১৩টি আভ্যন্তরীণ কলসেন্টার কাজ করছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কর্মীর। কলসেন্টার শিল্পে সমস্যা, সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

আউটসোর্সিং-এর সম্পর্কে প্রায় সবাই এখন কম বেশি খবর রাখেন। ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং-এ ঢাকার শীর্ষে অস্থানও তা জানান দেয়। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং-এর দুনিয়ায় বাংলাদেশ অনেক আগেই প্রবেশ করলেও অনেক ধীরগতিতে এগোচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। আউটসোর্সিং-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হলো কলসেন্টার। অনেকদিন ধরেই অনেকে কলসেন্টার ব্যবসা শুরুর চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও লাইসেন্সিং না থাকায় তা করতে পারেননি। অবশেষে ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল এই লাইসেসিং প্রক্রিয়া উন্মুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্¿ণ কমিশন (বিটিআরসি) এ পর্যন্ত ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে তিন ধরনের কলসেন্টারের লাইসেন্স দেয়। এই লাইসেন্সগুলোর মধ্যে বর্তমানে ৫৬টি আন্তর্জাতিক ও ১৩টি আভ্যন্তরীণ কলসেন্টার চালু রয়েছে যাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ হাজার কর্মী কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি’র সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম-এর কনসালটেন্ট মেজর এম এ কাশেম (অবঃ)। এম এ কাশেম বলেন, ‘বর্তমানে সারাবিশ্বে কলসেন্টার সেক্টরে ৭০ হাজার কোটি ডলারের বাজার রয়েছে। এই কলসেন্টার শিল্পে বাংলাদেশের রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। শিক্ষিত বেকার যুবক বা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ইংলিশ মিডিয়ামের ওলেভেলের শিক্ষার্থীরাও পড়ার পাশাপাশি এ কাজ করতে পারে। শিক্ষার্থীরা এ পেশাকে খন্ডকালীন হিসেবে নিলে এই সেক্টরে আরো এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েশন শেষ করতে ১২ সেমিস্টার প্রয়োজন। কিন্তু সে যদি কোন পড়াশোনার পাশাপাশি কলসেন্টারে কাজ করে তাহলে তার ব্যক্তিগত খরচ এমনকি পড়াশোনার খরচও আসে। তাতে যদি গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করতে ১৮ সেমিস্টারও লাগে তাতে তো আমি কোনো ক্ষতি দেখি না।’ মাত্র ১৫ সিটের একটি কল সেন্টারেই ৫০ জন লোকের কর্মসংস্থান হয় ৩ শিফটে। লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে সেবা কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় অনেকের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আবার অনেকে লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও শুরু করতে পারেনি কিংবা শুরু করেও বন্ধ হয়ে গেছে কেন?  এমন প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশনস এর সহকারী পরিচালক মোঃ মাহফুজ বিন খালেদ বলেন, ‘মাত্র পাঁচ হাজার টাকা লাইসেন্সের দাম হওয়ায় হুজুগের বশেও অনেকে লাইসেন্স নিয়েছেন। কিন্তু অনেকের দক্ষ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার না থাকায় তারা কাজ পাচ্ছে না। আর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ আসছে টেলিমার্কেটিং এর কাজ যাতে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেই। বিক্রয়কর্মী বিক্রয় না করতে পারলে কোন কমিশন পায় না। আর তখনই অনেককে এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।’

মেজর (অবঃ) এম কাশেম বলেন, ‘এই কলসেন্টার শিল্পকে এগিয়ে নিতে বিটিআরসি তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। গত তিন বছর ধরে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে কল সেন্টার এক্সপোতে আমরা বাংলাদেশী প্যাভিলিয়ন নিয়ে যাচ্ছি প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে। বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেয় আর কলসেন্টার কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বিশ্ববাজারে জানান দেয়ার জন্য বিটিআরসি’র কর্মকর্তারাও এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। আমরা মনে করি বর্তমানে কল সেন্টার স্থাপনের জন্য অবকাঠামোগত কোন জটিলতা নেই। বিদ্যুত্ সমস্যা ছাড়া এই সেক্টরে আমাদের জানামতে কোন অসুবিধা নেই। বরং কলসেন্টারগুলো দক্ষ লোকবল পাচ্ছে না।’

ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর সরকারের কোন পরিকল্পনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সরকারের রয়েছে। দ্বিতীয় প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবলটি আসলে ব্যান্ডউইথ-এর দাম আরো কমবে। এখন নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।’

তিন তিনটি কলসেন্টার এক্সপোতে অংশগ্রহণ করেও কেন কোন সরাসরি অর্ডার পায়নি বাংলাদেশ।  এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন এই সেক্টরটি অনেক নবীন। আমরা অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আস্তে এগিয়ে যেতে পারব।

আমরা বিভিন্ন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ বোর্ডকে বলেছি এক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতে।’

বিশাল বাণিজ্যিক সম্ভাবনার এই সেবাখাত নিয়ে অনেক বছর আগে থেকেই ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা আর প্রস্তুতি চলছিল। সরকারের আশা ছিল সারাবিশ্বের কোটি ডলারের কলসেন্টার ব্যবসার এক শতাংশ পেলেও বাংলাদেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা কামাতে পারবে। সেই স্বপ্ন আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি। এখন দেখার বিষয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এই সেক্টরকে আরো এগিয়ে নিতে কতটুকু সাহায্য করে।

সাব্বির রহমান তানিম

সিইও, উইন্ডমিল

উইন্ডমিল ২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ দুটি ভিন্ন অবস্থান থেকে পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক কলসেন্টারটি ৩০ সিটের। আভ্যন্তরীণ কলসেন্টার ৭০ সিটের, আমাদের আভ্যন্তরীণ ক্লায়েন্টদের মধ্যে রয়েছে, ইউনিলিভার, মারিকো, স্যামসাং, রবি প্রভৃতি।

কলসেন্টারের প্রসারে আমরা নিয়ন্¿ণ কমিশন থেকে অনেক সাপোর্ট পাচ্ছি। দক্ষ জনবলের অভাব আমরা তেমন দেখি না। কারণ যাদেরকে আমরা নিচ্ছি তাদেরকে ট্রেইন্ড করে নেই। অন্য সব শিল্প যেভাবে প্রথমে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত থাকে তেমনি কলসেন্টারে তেমন সমস্যা নেই। এই শিল্পটির অফিসিয়াল বয়স মাত্র ২ বছর হলো। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ২০১৫ সালের মধ্যেই কলসেন্টার শিল্প একটি ভাল পর্যায়ে যাবে।

শাকিল জোয়াদ রহিম

সিইও, ওয়ান কল সলিউশন লিঃ

সম্ভাবনাময় এই খাত নিয়ে আমরা অনেক আশাবাদী। বিদ্যুত্ সংকট কেটে গেলে এটি অনেক এগিয়ে যাবে। সরকার ও বিটিআরসি এই বিষয়ে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের খরচে আমাদের বার্মিংহাম এর মতো সেরা কল সেন্টার এক্সপো’তে নিজেদের পরিসেবা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সহায়তা করছে। কলসেন্টারগুলোকে এক জায়গায় আনলে অবকাঠামো ও নিরিবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সেবা সরকার এক স্থানে ভালোভাবে দিতে পারতো। সরকার কলসেন্টার ভিলেজ করারও পরিকল্পনা করছে যেটি খুব ভাল উদ্যোগ।

Comments

comments



One comment

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। Required fields are marked *

*

Scroll To Top